23/04/2024
কেয়ামতের আলামত পর্ব-৫ (সিনেমা ও অশ্লীলতায় ইসলামকে ব্যাঙ্গ করা)
রসুল (সাঃ)-এর বহু ভবিষ্যৎবানী সত্যে পরিণত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ বাকীগুলোও সত্যে পরিণত হবে।
উমর বিন সাঈদ বিন আস (রা.) একদা পিতা বরাবর খুবই পাণ্ডিত্য ও সাহিত্য-পূর্ণ ভাষায় একটি আবেদন পেশ করলেন। আবেদন পাঠ শেষ হলে ছেলেকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন- তোমার কথা কি শেষ হয়েছে? ছেলে বলল- জ্বি হ্যাঁ… পিতা বললেন (ওহে বৎস! ভেবো না যে, তোমাকে আমি অবহেলা করছি অথবা তোমার আবেদন পূরণে আমি অসম্মত।
তবে শুনে রাখ- নবী করীম (সা.)-কে আমি বলতে শুনেছি- “অচিরেই এমন জাতির আবির্ভাব হবে, যারা গরু-গাভীর মত মুখ ব্যবহার করে উপার্জন করবে।” (মুসনাদে আহমদ)
বর্তমানে দেখবেন- টকশো, মিডিয়াসহ বহু জায়গায় সত্য না বলে যে যার মতো বক্তব্য, অযৌক্তিক তর্ক, নাটক সিনেমায় অশ্লীল কথা, গালি দ্বারা অর্থ উপার্জন করে চলছে।
আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেন- “কেয়ামত ঘনিয়ে আসার অন্যতম নিদর্শন হচ্ছেঃ
দেখবেন- গরিব সৎ দিনমজুরকে সম্মান করা হয় না অথচ ঘুষখোর, সুদখোর, দুর্নীতিবাজরা সমাজে সম্মানিত।
কেয়ামতের অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে, মানুষ প্রচুর পরিমাণে বই-পুস্তক পড়বে। বিভিন্ন বিষয়ের বই দিয়ে ঘরোয়া লাইব্রেরী সাজিয়ে তুলবে। কোরআনের জ্ঞান অবহেলা করে পার্থিব জ্ঞানকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
আবু মালেক আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেন- “অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে একদল লোকের আবির্ভাব হবে, যারা মেয়েদের সাথে অবাধ মেলামেশা, রেশমী কাপড় পরিধান, মদ্য পান এবং গান-বাজনাকে হালাল মনে করবে।
আরেক দল উঁচু পাহাড়ের পাদদেশে মেষপাল নিয়ে অবতরণ করবে, তাদের কাছে ফকির এসে সাহায্যের আবেদন করলে তারা বলবে আগামীকাল এসো! এসকল ব্যক্তিকে আল্লাহ ধ্বংস করে দিবেন, সুউচ্চ পাহাড় (ধ্বসে) তাদের উপর আপতিত হবে। অপর দলকে আল্লাহ (কেয়ামত পর্যন্ত) শুকর-বানরের আকৃতিতে পরিবর্তন করে দেবেন।” (বুখারী)
বর্তমানে অনেকে অশ্লীল চলচ্চিত্র, নাটক ব্যবসা সফল করার জন্য দোয়া করে, একে হালাল বলে প্রচার করে। অনেক নাটক, সিনেমায় ইসলাম , নিয়ে উপহাস করা হয়।
শয়তান ও তার অনুসারীরা পাঠ্যপুস্তক, নাটক, চলচ্চিত্র সবখানে প্রচার করলো বাল্যবিবাহ অবৈধ ও ঘৃণিত।
আমাদের অনেকে তা গ্রহণ করলো – তারপর তারা প্রচার করলো এই ঘৃণিত কাজটাই রসুলল্লাহ’(সাঃ) করেছেন। নাউজুবিল্লাহ। প্রাথমিক অবস্থায় এসব অপপ্রচারে তীব্র প্রতিরোধ করা প্রয়োজন ছিল!!
জারীর বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে পাপাচার হতে থাকে এবং তাদের প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তাদের পাপাচারীদের বাধা দেয় না, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের উপর ব্যাপকভাবে শাস্তি পাঠান। [৩৩৪১]
[আবু দাউদ ৪৩৩৯, আহমাদ ১৮৭৩১,১৮৭৬৮)
তারা ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ডকে প্রচার, সমাজে প্রসারের চেষ্টা চালায়।যখন তারা জনপ্রিয়তা,অর্থনৈতিকর ক্ষতির সম্মুখীন হয় তখন অনেকের দাবি আমরা তো বিনোদন হিসেবে করেছি।
তারা যেন আল্লাহর হুকুম-আহকাম নিয়ে উপহাস করে চলছে। জাহেলী যুগেও মুনাফেকের আচরন অনুরুপ ছিল।
অথচ আল্লাহ বলেন,
“আর যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, তাহলে তারা নিশ্চয় বলবে যে, ‘আমরা তো শুধু আলাপ-আলোচনা ও হাসি-তামাশা করছিলাম।’ তুমি বলে দাও, ‘তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ এবং রসূলকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছিলে? ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে অবশ্য কিছু লোককে আযাবও দেব। কারণ, তারা ছিল গোনাহগার।”
সুরা তওবা ৬৫-৬৬
আর একদল মানুষ পাবেন যারা প্রচার করবে-শুধু
যুক্তি, তর্ক,বয়কট দিয়ে ওদের মুখ বন্ধ করে দিবে, হয়তো তারা ভুল হতে ফিরে আসবে। এর বাহিরে মুসলিমরা কোন ব্যবস্হা নিলে এসব আলেমরা উগ্রবাদ বলে!!
আপনারা কাদের যুক্তি দিয়ে বুঝাবেন যাদের অধিকাংশ জেনেশুনে দুনিয়ার লোভে বিভ্রান্ত হয়েছে!? আবুবকর (রাঃ), উমর (রাঃ), উসমান(রাঃ), আলী (রাঃ) এর মত সাহাবীরা যদি জীবিত থাকতো তাহলে তারা জেনেশুনে এতটা নিরব থাকতেন ? যেখানে রসুলের (সাঃ) চরিত্র, ইসলাম ও ইসলামী বিরোধী প্রচারণা করা হবে!! তখন কারও সাহসই হতো না!!?
বিশ্বের প্রায় সবদেশে শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাখার পাশাপাশি কারাগার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন রাখা হয়!?
কারণ তারা জানে যতই সৎ উপদেশ ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হোক না কেন অনেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, নীতি নৈতিকতা মানবে না। সেজন্য তাদের উপর আইনের প্রয়োগ করতে হবে। নাহলে সমাজে অরজাকতা ছেয়ে যাবে।
আজ পর্যন্ত কেউ কি বলেছে আইন তৈরি করা উগ্রবাদ আর যারা এই আইনে বিচার করে বা চায় তারা উগ্রবাদী!?
তেমনি ইসলামের নৈতিক দাওয়াত সবার জন্য হলেও সবাই তা গ্রহণ করবে না বরং কিছুলোক ফেতনা ফ্যাসাদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ইসলাম ও নবীর সমালোচনা করবে। তাদের একমাত্র ইসলামী আইন দ্বারা ঠিক করতে হবে। এজন্য ইসলামী আইন ও নিয়মনীতি করতে হবে।
আহ! " আমাদের দ্বীন ইসলাম কায়েম করা কতটা জরুরি! "
নাহয় জাতি ধ্বংসে পতিত হবে।