03/10/2014
"সিইআই পলিটেকনিক, চাঁদপুর"
প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত
হয়েছিলো ২০০৯ সালে। এক বছর পরই
সেটি কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক
পেল পাঠদানের অনুমোদন। তারপর শুরু
হলো দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর পথ চলা।
প্রথমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির
শিক্ষার্থী ছিলো মাত্র ১২ জন। কেউ
কেউ বলেন, সরকারি পলিটেকনিক
আর
বেসরকারি পলিটেকনিকে বিস্তর
তফাৎ। কেউ কেউ বলেন,
পলিটেকনিকে পড়লে চাকুরি মিলবে না।
আরও বিভ্রান্তিমূলক নানা কথা।
আসলে সরকারি ও
বেসরকারি পলিটেকনিকের
কারিকুলাম এক। কোনো ফারাক
নেই। এখনকার সময়ে টেকনিক্যাল
পড়ুয়াদের চাকুরির ব্যাপক
চাহিদা আছে। তাই স্বল্প
শিক্ষার্থী আর উদ্দীপনা নিয়ে শুরু
হলো একটি প্রতিষ্ঠানের যাত্রা। এ
বছর ৪র্থ বর্ষে পা দিলো সেই
প্রতিষ্ঠানটি। যার নাম সিইআই
পলিটেকনিক চাঁদপুর। এটিই জেলার
প্রথম বেসরকারি পলিটেকিনিক
ইনস্টিটিউট। সিআইআই পলিটেকনিক
চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান
অধ্যক্ষ মোঃ শাহ আলম।
নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান
সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
শুরুতেই কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিলো।
এখন সব
প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে আমাদের
শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১২০ জন।
আমাদের ১২জন শিক্ষক সবসময়ই
চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীদের
ভালোভাবে পাঠদান করাতে। এ
সময়ে এসে মানুষ
কিছুটা বুঝতে শেখেছে পলিটেকনিকে পড়লে সহজে চাকুরি পাওয়া যাবে।
আর এই শিক্ষা শুধু দেশে নয়, বিদেশেও
যথেষ্ট মর্যাদা পায় এবং এ
শিক্ষাকে সাধুবাদ জানায়। সরকার
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ২য়
শ্রেণির মর্যাদায় অনেক আগেই
অধিষ্ঠিত করেছে।
প্রযুক্তিগত বিশ্বমানের
কারিগরি শিক্ষা প্রসারের
লক্ষ্যে ১৯৯০ সালে চাঁদপুর জেলায়
আমরাই কারিগরি শিক্ষার রূপকার।
সেটা সম্ভব
হয়েছে চাঁদপুরে মাইক্রো কম্পিউটার
স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। এরই
ধারাবাহিকতায় ২০০৯
সালে সিইআই পলিটেকনিক চাঁদপুর
প্রতিষ্ঠা করি। পলিটেকনিক
ইনস্টিটিউটটি জেলার
ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের
দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদার
কথা মাথায়
রেখে আগামী দিনে বিএসসি-ইন-
ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স খোলার
মাধ্যমে প্রথম শ্রেণির নাগরিক
হিসেবে শিক্ষার্থীদের
গড়ে তোলার জন্য অভিপ্রায় ব্যক্ত
করছি। চাঁদপুরে প্রযুক্তিগত
কারিগরি শিক্ষা ধারাবাহিকতা রক্ষা করার
স্বার্থে সর্বস্তরের জনসাধারণের
সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।
আমরা বিশ্বাস করি, সকলের
সহযোগিতা পেলে আমরা দ্রুত
সাফল্যের
শীর্ষে পৌঁছতে পারবো।
চার বছর
মেয়াদী কোর্সে ভর্তি হওয়া সিইআই
পলিটেকনিক চাঁদপুরের প্রথম ব্যাচ
শিক্ষার্থী পাস করে বের হবে ২০১৫
সালে।
১৬টি শ্রেণি কক্ষে চলে বিদ্যানিকেতনটির
পাঠদান কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানটির
রয়েছে ৯ সদস্য বিশিষ্ট
শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদ। যার
বর্তমান সভাপতি বিশিষ্ট
শিক্ষানুরাগী মোঃ নজরুল ইসলাম
পাটওয়ারী। তিনি প্রতিষ্ঠান
সম্পর্কে বলেন, 'চাঁদপুরের
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর
মধ্যে সিইআই পলিটেকনিক চাঁদপুর
অন্যতম বাস্তবমুখী অনন্য প্রতিষ্ঠান।
প্রথমে পলিটেকনিক
সম্পর্কে মানুষজনের মনে সঠিক
ধারণা না থাকলেও এখন মানুষের
মনে বিভ্রান্তি কেটে সঠিক
ধারণা জন্মেছে। তাই
আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ
থেকে প্রচুর সাড়া পাচ্ছি।
আশা করি, এই
ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
মানুষজন বর্তমানে পলিটেকনিক
শিক্ষার দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
আমাদের শিক্ষকরা বেশ আন্তরিক।
তারা পরিশ্রম করছে।
এমনিতে আমাদের প্রতিষ্ঠানের
উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা নেই।
সবার সহযোগিতা পেলে এই
বিদ্যানিকেতনটি আরো সমৃদ্ধশালী হবে,
সফলতার শীর্ষে পৌঁছবে, চাঁদপুরের
'মডেল' শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
হিসেবে পরিচিত
হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ
কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের
অধীনে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত এ
প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারবে তিনটি বিষয়ে।
বিষয়গুলো হলো : ডিপ্লোমা-ইন-
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং,
ডিপ্লোমা-ইন-কম্পিউটার
ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা-ইন-
ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং।
ভর্তির যোগ্যতার
ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে হতে হবে এসএসসি/
দাখিল/ভোকেশনাল পরীক্ষায়
সর্বনিম্ন জিপিএ-২.৫০ ধারী।
মাধ্যমিক পরীক্ষার পর পর সিইআই
পলিটেকনিক চাঁদপুরের
ভর্তি প্রক্রিয়া শরু করা হয়।
সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রম সক্রিয় এ
প্রতিষ্ঠানটির
সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির
শিক্ষকরা জানান, চলতি বছরই
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের
চাহিদা অনুযায়ী আমরা আমাদের
কোর্স সংখ্যা বৃদ্ধি করবো।
পাশাপাশি জেলার গুরুত্বপূর্ণ
স্থানে শাখা সম্প্রসারণ করবো।
তবে আমাদের লক্ষ্য
আগামীতে বিএসসি-ইন-
ইঞ্জিনিয়ারিং শাখা খোলার। এই
শাখাটি খোলা হলে এখানকার
শিক্ষার্থীদের দেশের দূর-
দূরান্তে গিয়ে পড়তে হবে না।
কেমন লাগছে এ প্রতিষ্ঠানে পড়তে?
জানতে চাইলে ইনিস্টিটিউটের
ডিপ্লোমা-ইন-কম্পিউটার
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র
মোঃ মুসলিম উদ্দিন বলেন,
এখানে পড়তে ভালো লাগছে।
বিশেষ করে এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার
সুযোগ-সুবিধা, স্যারদের
আন্তরিকতা আমাদের মুগ্ধ করে।
তাছাড়া এখানে ভর্তির
আগে শুনেছি পলিটেকনিকে ঠিকমতো ক্লাস
হয় না। কিন্তু এখানে আমি খুব
গৌরববোধ করি আমাদের
কোনো ক্লাস মিস্ হয় না।
তিনি আগামীতেও এ
প্রক্রিয়া অব্যাহত
থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত এ
প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার
আলো ছড়িয়ে দিবে চাঁদপুরবাসীর
মাঝে, আলোকিত করবে শত শত
শিক্ষার্থীকে এমন
প্রত্যাশা সকলের। #প্রতিষ্ঠানটির
অন্যান্য শিক্ষকরা হলেন :
ইঞ্জিঃ ফয়সাল আহমদ, হযরত
আলী, সমর চন্দ্র দাস,
মামুন হোসেন, ইঞ্জিঃ কোরবান
আলী, ইঞ্জিঃ শরীফ হোসেন,
ইঞ্জিঃ আবু জাহের,
ইঞ্জিঃ সালাউদ্দিন, ইঞ্জিঃ আবু
মোঃ ভুট্টু,
ইঞ্জিঃ গিয়াস উদ্দীন, মোঃ রাফী ও মিসেস তানিয়া আক্তার।