04/09/2026
আমার জীবনের সবচেয়ে পরম শ্রদ্ধেয় মানুষ!
আমার অভিভাবক "জনাব ঈমান হোসেন স্যার",
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের "অধ্যক্ষ" হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
আমার বাবা-মায়ের পর যদি এমন কেউ থাকেন যিনি আমার জীবনের পুরো গতিপথটা বদলে দিয়েছেন, তিনি আমার ইমান হোসেন স্যার। আজ একটা অদ্ভুত সুন্দর অনুভূতি হচ্ছে- ঠিক কয়েক বছর আগে আমার বাবা যখন এই এক-ই চেয়ারে বসেছিলেন, সেদিন সন্তান হিসেবে মনের ভেতর যে গর্ব আর আনন্দ হয়েছিল, আজ স্যারের এই অর্জনে ঠিক একই অনুভূতি আমার মন ভরিয়ে দিচ্ছে। গতকাল স্যারকে যখন এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হচ্ছিল বারবার আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছিলো,আমাকে যখন কিছু বলতে বলা হয়েছিল আমি পারিনি কিছু বলতে। চারপাশে আমার সকল সন্মানিত শিক্ষকবৃন্দ ছিলেন। শুধু একটা বিষয় মনে আসছিলো আমি সত্যি খুবই সৌভাগ্যবান। আলহামদুলিল্লাহ।
আমার মাধ্যমিকের দিনগুলো থেকে শুরু করে আজকের এই পিএইচডি (Ph.D.) পর্যন্ত পৌছানোর পিছনে আমার স্যারের অবদান আমার কাছে সর্বোচ্চ শিখরে। আমার জীবনের যত সাফল্য, যত প্রাপ্তি কিংবা ভবিষ্যতে যতদূর যেতে পারব, তার সবটুকু বাবা-মায়ের পর আমার ঈমান হোসেন স্যারকে উৎসর্গ করলাম।
শিক্ষক তো আসলেই এমন হওয়া উচিত যিনি মানুষটা শূন্যের মাঝে দাঁড়িয়েও কুইন্টিলিয়নের বড় স্বপ্ন দেখতে শেখায় এবং দিনশেষে সেই স্বপ্নটা বাস্তবে রূপ দিয়ে ছাড়ায়। যিনি ঢাকঢোল না পিটিয়ে নিরবে-নিভৃতে কাজ করে যান, আর পরিবারের একজন বটবৃক্ষের মতো সবাইকে পরম আগলে রাখেন।
আমার স্যার খুবই স্ট্রাগল করা একজন মানুষ, ওনার ভেতরে যে কী অসাধারণ সব গুণাবলি আর ব্যক্তিত্ব লুকিয়ে আছে, তা কাছ থেকে না দেখলে বোঝা যায় না। আমি স্যারের গুনাবলি নিজের মধ্যে ধারণ করতে সেই ২০০৭ সাল থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং এটা সময় আমি ঠিক তা অর্জন করবোই ইনশাআল্লাহ।
আমার ইমান হোসেন স্যারের শীষ্য হতে পেরে আমি আজীবন নিজের কাছে নিজে সম্মানিত বোধ করব।
আলহামদুলিল্লাহ।
সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল, কনফুসিয়াস, আল-ফারাবি, ইবন সিনা, বিদ্যাসাগর-এমন অসংখ্য কিংবদন্তি শিক্ষকের কথা আমি ইতিহাসের পাতায় পড়েছি। তাঁদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ব্যক্তিত্ব ও আদর্শের গল্প শুনেছি।
কিন্তু আমি তো তাঁদের কাউকেই দেখিনি। তবে আমি দেখেছি আমার শিক্ষককে-আমার ইমান হোসেন স্যারকে। কিংবদন্তিদের আমি ইতিহাসে পড়েছি আর ইমান হোসেন স্যারকে দেখেছি নিজের চোখে। তাই একজন আদর্শ শিক্ষক কেমন হতে পারেন তার বাস্তব উদাহরণ আমার কাছে শুধু বইয়ের পাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়,আমার চোখের সামনেই আছেন,আমার গুরু "ইমান হোসেন স্যার।"
 আর একজন মানুষের এমন দীর্ঘ ও গৌরবময় পথচলার পেছনে তাঁর নিজের মেধা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি থাকে একজন নীরব সহযাত্রীর অবদানও। ইমান হোসেন স্যারের সাফল্য ও অর্জনের নেপথ্যে স্যারের সহধর্মিণী,সহযোদ্ধা আমার প্রিয় আন্টির ত্যাগ, ভালোবাসা, সহযোগিতা ও নিরন্তর প্রেরণার কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হয়। ওনার এই নীরব অবদান স্যারের জীবনে সাফল্যের গল্পে এর মূল্য অপরিসীম।
একজন শিক্ষক হিসেবে আমার স্যার যেমন সফল, তেমন একজন বাবা হিসেবেও অনুকরণীয়। তিনি এই যুগে তাঁর দুই সন্তানকে বড় করেছেন সুশিক্ষা, শৃঙ্খলা ও আলাদা মূল্যবোধের মাধ্যমে সত্যিকারের সুসন্তান হিসেবে মানুষ করেছেন। স্যারের বড় ছেলে পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের উচ্চ মাধ্যমিক ২য় বর্ষের ছাত্র আর ছোট ছেলে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ছাত্র।
আল্লাহর কাছে একটাই প্রার্থনা, তিনি যেন আমার আদর্শ প্রিয় স্যারকে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করেন এবং সবসময় পূর্ণ সুস্থ রাখেন। স্যার, আপনার এই নতুন সন্মানজনক পথচলা আরও অনেক সুন্দর আর সফল হোক। আমার দোয়া আপনার সাথে সময় ঢাল হয়ে থাকবে স্যার।
ইনশাআল্লাহ।
-মীম।