01/09/2024
রাসূলের ভালোবাসায় বিমোহিত একজন যুবককে চারজন পুলিশ মিলে আটক করল নবী করিম সা.-এর রওদ্বা শরীফের পাশ থেকে। এরপরের ঘটনা ছিল হৃদয় বিদারক.................................................................................................................................................................................................................................................................................
পুলিশ কোনো কথা না বলেই সাথে সাথে যুবকের পিঠের পেছনে দড়ি দিয়ে তার হাত বেঁধে ফেলল। যুবক পুলিশদের বলতে লাগল তোমাদের কি হয়েছে? আমিতো চোরও নই , ডাকাত ও নই , তবে কেন আমার সাথে এই আচরণ?!
দূর থেকে এক বৃদ্ধ মুরব্বী এই অবস্থা অবলোকন করছিলেন। মুরব্বী কাছে এসে পুলিশদের বললেন আমি এই যুবককে চিনি।
পুলিশরা মুরব্বিকে বলল: আপনি তাকে কীভাবে চিনেন?
মুরব্বী বললেন: আমি তাকে দেখি সে সবসময় রাসূলুল্লাহ সা.- এর রওজার সামনে দাঁড়িয়ে বসে দুরূদ পড়ে, সালাম দেয়, কান্নাকাটি করে । তোমরা তাকে আটোক করেছ কেন? সে কি চোর?
যুবকটি ছিল আলবেনিয়ার , বয়স ৩৫ অথবা ৩৬ হবে, ঘন বাবরি চুল, মুখে হালকা দাড়ি।
পুলিশ বললো: না, সে চোর নয়। এই যুবক আলবেনিয়ার অধিবাসী, সে মদিনায় ৬ বছর ধরে বসবাস করছে এবং এখানে তার কোনো বসবাসের কাগজপত্র নেই। আমরা তাকে ধরে আলবেনিয়ায় পাঠিয়ে দিতে চাচ্ছি ৬ বছর যাবৎ কিন্তু প্রতিবারই তাকে ধরার পর সে আমাদের থেকে পালিয়ে যায় । আমরা তাকে প্রতিবারই রাসূল সা. এর মসজিদ থেকে ধরি। এবারও তাই হলো। তাকে এবার পাওয়া মাত্রই সাথে সাথে দড়ি দিয়ে বাঁধা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিলনা!
মুরব্বী পুলিশদের বললেন: এখন তোমরা তাকে নিয়ে কি করবে ?
তারা বললো: রাষ্ট্রিয় আইন প্রয়োগ করবো। আমরা তাকে এখন ধরে নিয়ে প্লেনে উঠিয়ে দিবো এবং তারপর সে আলবেনিয়ায় .....
যুবকটি তখন কাঁদছিল আর ভাবছিল এবার মনেহয় তাকে সত্যি সত্যিই রাসূল সা. -এর মসজিদ ছেড়ে যেতে হবে! রাসূল সা.- এর স্মৃতি বিজড়িত মদিনার শহর ছেড়ে যেতে হবে ! কিছুক্ষণ ভেবে যুবকটি পুলিশদের বলতে লাগলো: দেখুন ভাই, আমি এখানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও কারো সাথে প্রতারণা করি না। আমি এখানে এসেছি আল্লাহর রাসূল সা. -এর ভালোবাসার টানে এ ছাড়া অন্য কোনো দুনিয়াবি উদ্দেশ্য আমার নেই!
পুলিশরা বলল: না, এটা গ্রহণযোগ্য কথা নয়, আপনাকে অবশ্যই দেশে ফিরে যেতে হবে।বহিরাগতদের রাষ্ট্রীয় আইন এখানে থাকার সুযোগ নেই।
পুলিশরা যুবককে নিয়ে মসজিদে নববী থেকে বের হয়ে গেল। যুবক পথিমধ্যে তাদের বললেন: আমার একটি শেষ অনুরুধ রাখবেন? পুলিশরা তার অনুরুধ শুনলেন এবং সুযোগ দিলেন।
যুবকটি তখন সবুজ গম্বুজের দিকে তাকিয়ে আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলল:
هل هكذا كان الإتفاق بيننا ؟!
"ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের মধ্যে চুক্তিটা কি এমন হয়েছিল!"
হে রাসূল সা.! আপনার প্রতিবেশী হবো, তাই আমি আমার দোকান, ব্যবসা, মা-বাবাকে ছেড়ে এখানে এসেছি ! কিন্তু তারা আমাকে আর থাকতে দিচ্ছে না! এই কথা বলতে বলতে যুবক মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।
পুলিশরা বলেছে: আমরা ভাবলাম, যুবক ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে, সে জ্ঞান হারানোর ভান করছে , হয়তো আবার পালানোর পাঁয়তারা।
পুলিশ সদস্যরা কিছুক্ষণ পর যুবককে মাটি থেকে টেনে উঠালো, দেখল সে সত্যিই অচেতন ! মুখে পানি ঢেলে দিলেও যুবক আর নড়ছে না !
তাদের একজন বলল: তার হয়তো স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, এক্ষুনি অ্যাম্বুলেন্স আনো ।
অ্যাম্বুলেন্স এসেছিল এবং যুবককে হাসপাতালেও নেয়া হয়েছিল, ডাক্তার তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর বললেন: আরো দেড় ঘণ্টা আগে যুবক এই পৃথিবী থেকে চলে গেছে ! সে বেঁচে নেই।
পুলিশ সদস্যরা তখন কান্নায় ভেঙে পড়েছিল এবং বলছিল: আল্লাহর শপথ! আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন কালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার নমুনা অনুভব করতে পারিনি !
এরপর, গোসল ও জানাযা শেষে যুবককে অ্যাম্বুলেন্সে করে জান্নাতুল বাকিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দাফন করা হয়।
আলবেনিয়ার পথে রওনা দেয়া যুবক, জান্নাতুল বাকিতে চলে গেলেন । রেখে গেলেন পৃথিবীবাসীর জন্যে রাসূল সা.-এর প্রতি মহব্বতের অনন্য দৃষ্টান্ত !
[রাসূলুল্লাহ সা. -এর প্রতি মহব্বত]
{صلى الله عليه وسلم}
সংগৃহিত।