17/04/2026
ছেলে হারানোর কষ্টে মাতম করতে থাকা পিতাকে সান্ত্বনা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই
চট্টগ্রাম থেকে সকাল ৭ টায় রওনা দিয়ে মহানগর গ্রামে যখন পৌঁছালাম আমরা তখন ৯ টা বেজে ৫ মিনিট।
কালেমা শাহাদাত পড়তে পড়তে,'আল্লাহু রাব্বি' 'মোহাম্মদ নবী' তকবির দিতে দিতে বাড়ির গলি থেকে খাটিয়া এগিয়ে আসছে জানাজার মাঠের দিকে।সেখানে অগ্রভাগে ছিল সায়েমের কান্নারত পিতা আমার সহকর্মী ছায়েফ।
আমাদেরকে দেখে এগিয়ে এলো বিলাপ করতে করতে।তাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে সান্ত্বনা দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করলাম।তার বিলাপে,কথার আবেগে আমাদের চোখেও পানি এলো।মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ধৈর্য্য ধরার কথা বলছিলাম বারবার।
সায়েমের খাটিয়া নিয়ে জানাজার মাঠে উপস্থিত হলাম।মনে হলো মহানগর গ্রামের শিশু-যুবক-বুড়ো সকলেই হাজির হয়েছে তাদের মেধাবী সন্তানটিকে শেষ বিদায় জানাতে।
জানাজা শুরুর আগে বক্তব্যে এলাকার লোকজন সায়েম এর বিনয়ী ও আন্তরিক আচরণের স্মৃতিচারণ করছিলেন।
জানাজা শেষে একইভাবে কালেমা শাহাদাত আর তকবির পড়তে পড়তে কবরস্থানে ফিরলাম।
সীতাকুন্ড উপজেলার মহানগর গ্রামের পুকুরপাড়ের বৃক্ষরাজির ছায়ার নিচে চিরনিদ্রায় শায়িত হলো আমাদের সায়েম।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সায়েমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।
সকালে সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম পরিবারের বহরের সাথে যুক্ত হলাম আমি।শ্রদ্ধেয় প্রফেসর মনজুরুল হক স্যার,শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক ব্যাচমেট ইকবাল ভাই,পদার্থবিদ্যার সহযোগী অধ্যাপক সাইদুজ্জামান,শিক্ষক ক্লাব সম্পাদক বিশ্বজিৎ,তরুণ সহকর্মী ইমাম হোসাইন, আবদুল্লাহ আল মামুন,মিজান (ইস. ই ও সংস্কৃতি),
শামসীর (গ্রন্থাগারিক),কফিল(কম্পিউটার অপারেটর),এমএলএসএস সালাউদ্দিন,জাবেদ এক গাড়িতে। অন্য গাড়িতে আরো ১১/১২ জন কর্মচারীসহ ২৫ জনের মতো সদস্য সিটি কলেজ পরিবার থেকে জানাজায় শরীক হলেন।
জানাজা,দাফন শেষে ঘরে গিয়ে সাক্ষাৎ করলাম।এতো বিপর্যয়ের মধ্যেও আমাদের আপত্তিকে এড়িয়ে মেহমানদারি করতে ( শরবত,বিস্কুট)
ছাড়লেন না ছায়েফ।তখন ঘরভর্তি সায়েমের ১৫/২০ জন বন্ধু।ছায়েফকে বুঝিয়ে বিদায় নিয়ে বের হলাম।
কবরের পাশ দিয়ে আসার সময় জেয়ারত ও দোয়া শেষে চট্টগ্রামের পথে রওনা হলাম আমরা।পেছনে পড়ে রইল সায়েমের কবর আর তার পিতার ব্যথায় ডুকরে ওঠা কান্নারত মুখ।
© মুহাম্মদ ইলিয়াস স্যার