Al-Jameatul Qurania Talimudden তালীমুদ্দীন মাদ্রাসা ফটিকছড়ি

  • Home
  • Bangladesh
  • Chittagong
  • Al-Jameatul Qurania Talimudden তালীমুদ্দীন মাদ্রাসা ফটিকছড়ি

Al-Jameatul Qurania Talimudden তালীমুদ্দীন মাদ্রাসা ফটিকছড়ি বেসরকারি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

জামিয়া কোরআনিয়া তা'লিমুদ্দীন

স্থাপিত:
১৩৫৭ হিজরী মোতাবেক ১৯৩৯ ঈসায়ি
ভৌগলিক অবস্থান:
বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে চট্টগ্রাম—খাগড়াছড়ি রোডে ২৮ কিলোমিটার উত্তরে ফটিকছড়ি পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।

প্রতিষ্ঠাতা:
কুতুবুল আলম মোনাজেরে জামান আল্লামা শাহ নুর আহমদ রহ.

বর্তমান মুতাওয়াল্লী ও পরিচালক:

মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ উসমান দা.বা.

বার্ষিক মাহফিলের সুন্দর সমাপ্তিতে জামিয়া প্রধান-এর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আলহামদুলিল্লাহ!মহান আল্লাহ তাআলার অসীম অনুগ্রহ ও অফু...
01/11/2025

বার্ষিক মাহফিলের সুন্দর সমাপ্তিতে
জামিয়া প্রধান-এর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

আলহামদুলিল্লাহ!

মহান আল্লাহ তাআলার অসীম অনুগ্রহ ও অফুরন্ত করুণায়,
চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আল-জামিয়াতুল কুরআনিয়া তালীমুদ্দীন-এর ৮৭তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল সফলতার সঙ্গে সমাপ্ত হয়েছে।

এই মাহফিল ছিল ইলম, আমল ও তাজকিয়ার এক অনন্য সমাবেশ—
ছিল ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের সুবাস,
ছিল দ্বীনি চেতনা ও আখলাকের নবজাগরণ,
ছিল দাওয়াত ও হিদায়াতের আলোকরশ্মি।

এই মাহফিলের সাফল্য কোনো একক ব্যক্তির নয়; এটি আমাদের জামিয়া, এলাকার জনগণ এবং দ্বীনের খেদমতে আত্মনিয়োগকারী সকল শুভানুধ্যায়ীর সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। এজন্য আমি হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি সকল শিক্ষক, ছাত্র, মুতাআল্লেকিন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি।

আমাদের সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলী যে নিষ্ঠা, ত্যাগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে এই মাহফিলের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দূরদর্শিতার কারণেই মাহফিল সুশৃঙ্খল, মর্যাদাপূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রিয় ছাত্রসমাজের প্রতিও রইল অফুরন্ত দোয়া ও স্নেহ। অতিথি আপ্যায়ন, পার্কিং, শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁদের কর্মদক্ষতা ও নিষ্ঠা মাহফিলকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

এলাকাবাসী, হিতাকাঙ্ক্ষী ও শুভানুধ্যায়ী ভাই-বোনদের প্রতিও জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। মাহফিলের প্রস্তুতি থেকে সমাপ্তি পর্যন্ত আপনাদের শ্রম, সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সহায়তা ও দুআ আমাদের প্রেরণার উৎস হয়েছে। এই মাহফিল প্রকৃতপক্ষে আপনাদের ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি।

বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও প্রবাসী ভাইদের, যারা দূরদেশে থেকেও জামিয়ার সঙ্গে আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ থেকে আর্থিক সহায়তা, শুভেচ্ছা ও দোয়া পাঠিয়েছেন। আপনাদের এই বন্ধনই জামিয়ার চিরন্তন শক্তি।

আমাদের মাহফিলের প্রধান বক্তা ও অতিথিবৃন্দ—বিশেষত হাকীমুন নফস আল্লামা মুফতী মুশতাকুন নবী কাসেমী (হাফিযাহুল্লাহ) এবং অন্যান্য সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম, যাঁদের জ্ঞানগর্ভ বয়ান শ্রোতাদের অন্তর জাগ্রত করেছে, ঈমানের উষ্ণতা নবায়ন করেছে—তাঁদের প্রতিও জানাই হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা ও দোয়া।

সবশেষে, মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে বিনীত প্রার্থনা—

এই মাহফিলের প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি পরিশ্রম, প্রতিটি নিয়ত যেন তিনি কবুল করেন।
এই মাহফিলের বার্তা যেন আমাদের সমাজে দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা, ঐক্য ও নৈতিক জাগরণের স্রোত বইয়ে দেয়।

আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের জামিয়াকে দ্বীনের খেদমতে আরও সমুন্নত করেন,
ইলম ও আমলের মিশাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন,
এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ঈমানের দীপ প্রজ্বলিত রাখেন—

آمين يا رب العالمين

والله ولي التوفيق

আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ উসমান কাসেমী (হাফিযাহুল্লাহ)
মুতাওয়াল্লী ও পরিচালক
আল-জামিয়াতুল কুরআনিয়া তালীমুদ্দীন, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।

📢 আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৫ইং, রোজ জুমাবারফটিকছড়ি পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আল-জামিয়াতুল কুরআনিয়া তালীমুদ্দীন- এর  ৮৭...
22/10/2025

📢 আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৫ইং, রোজ জুমাবার
ফটিকছড়ি পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আল-জামিয়াতুল কুরআনিয়া তালীমুদ্দীন- এর ৮৭তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ।

এ বছরের মাহফিলের প্রধান আকর্ষণ:
খতিবে ইসলাম আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী (হাফিযাহুল্লাহ)
বাদে জুমা হযরতের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা হবে, ইনশাআল্লাহ।
এতে দেশবরেণ্য আরো বহু ওলামায়ে কেরাম ও বুজুর্গানে দ্বীন তাসরিফ আনবেন। আপনারা সবান্ধবে আমন্ত্রি।

নিবেদক :
জামেয়া-প্রধান, আল্লামা মুফতী মুহাম্মদ উসমান কাসেমী হাফি.

#ওয়াজমাহফিল #তালীমুদ্দীন #আল্লামা_নুরুল_ইসলাম_ওলিপুরী #ইলমের_আলো #দাওয়াত_ইলাল্লাহ 🌙

📢 আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ইং রোজ শুক্রবারবন্দরনগরী চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে উপস্থিত আল-জামিয়াতুল কু...
17/08/2025

📢 আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ইং রোজ শুক্রবার
বন্দরনগরী চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে উপস্থিত
আল-জামিয়াতুল কুরআনিয়া তালীমুদ্দীন-এর
৮৭তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।

মাওলানা মনসুরুল হক জিহাদীর ইন্তেকালে জামিয়া প্রধানের শোক বার্তা  চট্টগ্রাম-ফটিকছড়ি পাইন্দং তালীমুল ইসলাম মাদ্রাসার মুহ...
16/07/2025

মাওলানা মনসুরুল হক জিহাদীর ইন্তেকালে জামিয়া প্রধানের শোক বার্তা


চট্টগ্রাম-ফটিকছড়ি পাইন্দং তালীমুল ইসলাম মাদ্রাসার মুহতামিম, আমাদের প্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তি , দ্বীনের এক নিবেদিতপ্রাণ খাদেম, মুহতারাম মাওলানা মনসুরুল হক জিহাদী সাহেব (রহ.)-এর ইন্তিকালের সংবাদে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

তিনি ছিলেন একজন নির্লোভ, একনিষ্ঠ, সহজ-সরল এবং মেহনতী আলেমে দীন। দ্বীন ও মাদ্রাসার খিদমতে তিনি সযত্নে জীবন ব্যয় করেছেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি জামিয়া তালীমুদ্দীন, ফটিকছড়ি-তে শিক্ষা লাভ করেন । চট্টগ্রাম-ফটিকছড়ি পাইন্দং তালীমুল ইসলাম মাদ্রাসার দীর্ঘ ১৭ বছর পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।

اللهم اغفر له وارحمه وعافه واعف عنه وأكرم نزله ووسع مدخله واغسله بالماء والثلج والبرد، ونقه من الخطايا كما نقيت الثوب الأبيض من الدنس، وأبدله داراً خيراً من داره، وأهلاً خيراً من أهله، وأدخله الجنة وأعذه من عذاب القبر ومن عذاب النار، اللهم أسكنه الفردوس الأعلى من الجنة۔ آمين يا رب العالمين۔

আমি জামিয়া তালীমুদ্দীন ফটিকছড়ির পক্ষ থেকে মারহুমের পরিবার, স্বজন, ছাত্রবৃন্দ, এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ পাক মারহুমকে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সবর করার তাওফিক দান করুন—আমিন।

মুফতি উসমান
পরিচালক, জামিয়া তালীমুদ্দীন, ফটিকছড়ি

ঈদের নামায : জরুরি মাসায়েল✍ মাওলানা তাহের বিন মাহমুদআল্লাহ তাআলা মুসলিমদের দুটি ঈদ দান করেছেন; ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। মু...
06/06/2025

ঈদের নামায : জরুরি মাসায়েল

✍ মাওলানা তাহের বিন মাহমুদ

আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের দুটি ঈদ দান করেছেন; ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। মুসলিমদের ঈদ ও উৎসব অন্যান্য জাতি-গোষ্ঠীর উৎসব থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম এবং অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। আল্লাহর যিকির ও তাঁর বড়ত্বের ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয় মুসলিমদের ঈদ। ঈদের দিনে মুসলিমদের প্রথম ও প্রধান আমল হল ঈদের নামায। ঈদুল আযহার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

إِنّ أَوّلَ مَا نَبْدَأُ بِهِ فِي يَوْمِنَا هَذَا أَنْ نُصَلِّيَ، ثُمّ نَرْجِعَ، فَنَنْحَرَ...

আজকের দিনে আমরা সর্বপ্রথম ঈদের নামায আদায় করব। এরপর কুরবানী করব...। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৬৮

আজকের নিবন্ধে ঈদের দিনের প্রধান আমল ঈদের নামায-এর কিছু জরুরি মাসআলা আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

ঈদের নামায কাদের উপর ওয়াজিব
==========================

মাসআলা : যাদের উপর জুমার নামায ফরয, তাদের উপর ঈদের নামায ওয়াজিব। অর্থাৎ, প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, যেসকল মুসলিম পুরুষ, জামাতে উপস্থিত হয়ে ঈদের নামায আদায়ের সক্ষমতা রাখে তাদেরকে ঈদের নামায পড়তে হবে। -আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৭৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৭; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৬৫

মাসআলা : মহিলাদের উপর ঈদের নামায ওয়াজিব নয়। অনুরূপ এমন অসুস্থ পুরুষ, যে ঈদগাহে উপস্থিত হয়ে ঈদের নামায আদায়ের সক্ষমতা রাখে না, তার উপরও ঈদের নামায ওয়াজিব নয়। -কিতাবুল আছল ১/৩২৩; মাবসূত, সারাখসী ২/৪০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৮৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৭

মাসআলা : মুসাফির তথা যে ৪৮ মাইল বা ৭৮ কি. মি. দূরত্বে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে- এমন ব্যক্তির উপর ঈদের নামায ওয়াজিব নয়। তবে সে যদি ঈদের নামায পড়ে তাহলে তা সহীহ হবে এবং এর সওয়াবও পাবে। -আততাজরীদ, কুদুরী ২/৯৮১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৭; আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ২/৩৯৬

মাসআলা : হজ্বের সফরে থাকা লোকদের জন্য ঈদুল আযহার নামাযের বিধান নেই। -আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ২/৩৯৪

ঈদের নামাযের ওয়াক্ত
=================

মাসআলা : ঈদের নামাযের ওয়াক্ত হচ্ছে- সূর্য উদিত হয়ে (নামাযের) নিষিদ্ধ সময় শেষ হওয়ার পর থেকে শুরু করে যাওয়াল তথা সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার আগ পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যেই ঈদের নামায পড়তে হবে। যাওয়ালের পর আর ঈদের নামায সহীহ হবে না। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১১৩৫; আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া, পৃ. ৬৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৭৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৯

মাসআলা : ঈদুল আযহার নামায ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর দেরি না করে একটু তাড়াতাড়ি পড়া মুস্তাহাব। যাতে কুরবানীর কাজ দ্রুত শুরু করা যায়। আর ঈদুল ফিতরের নামাযও ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি আদায় করে নেবে। -মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, বর্ণনা ৫৬৫১; আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া, পৃ. ৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া; ১/১৫০

ঈদের নামাযের স্থান
===============

মাসআলা : ঈদের নামায ঈদগাহে ও খোলা মাঠে পড়া সুন্নত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং খোলাফায়ে রাশেদীন সকলেই ঈদের নামায ঈদগাহে পড়তেন। হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَخْرُجُ يَوْمَ الفِطْرِ وَالأَضْحَى إِلَى المُصَلّى.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন (ঈদের নামাযের জন্য) ঈদগাহে যেতেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৬৫

হযরত আলী রা. বলেন-

الْخُرُوجُ إِلَى الْجَبّانِ فِي الْعِيدَيْنِ مِنَ السّنّةِ.

দুই ঈদে (ঈদের নামাযের জন্য) খোলা মাঠে যাওয়া সুন্নত। -আলমুজামুল আওসাত, তবারানী, হাদীস ৪০৪০

মাসআলা : মাঠে ঈদের নামায পড়ার ব্যবস্থা থাকলে বিনা ওযরে মসজিদে ঈদের জামাত করবে না। তবে কোথাও বিনা জরুরতে এমনটি করা হলে ঈদের নামায আদায় হয়ে যাবে।

প্রকাশ থাকে যে, বর্তমানে শহরে ঈদগাহ কম, বিধায় অধিকাংশ মসজিদে ঈদের জামাত হয়। জায়গা সংকুলান না হওয়া বা বৃষ্টি ইত্যাদির কারণে মসজিদে ঈদের নামায পড়লে সুন্নতের খেলাফ হবে না। ওযরের সময় মসজিদে পড়া হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

أَصَابَهُمْ مَطَرٌ فِي يَوْمِ عِيدٍ، فَصَلّى بِهِمُ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ صَلَاةَ الْعِيدِ فِي الْمَسْجِدِ.

কোনো এক ঈদের দিন বৃষ্টি তাঁদেরকে পেয়ে বসে। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে মসজিদে ঈদের নামায আদায় করেন। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১১৫৩

ঈদের নামাযে তায়াম্মুম
=================

মাসআলা : নামাযে শরীক হওয়ার আগ মুহূর্তে কারো ওযু না থাকলে এবং ওযু করতে গেলে জামাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হলে তায়াম্মুম করে ঈদের নামায আদায় করা যাবে।

হযরত আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিম রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

يَتَيَمّمُ وَيُصَلِّي إِذَا خَافَ.

(ঈদের নামায) ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হলে তায়াম্মুম করে নামায পড়ে নেবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা ৫৮৬৯)

হযরত ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন-

يَتَيَمّمُ لِلْعِيدَيْنِ وَالْجِنَازَةِ.

ঈদ ও জানাযার ক্ষেত্রে (ছুটে যাওয়ার আশঙ্কায়) তায়াম্মুম করা যাবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা ৫৮৬৮) -কিতাবুল আছল ১/৩২০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫০২

তবে জুমা ও ওয়াক্তিয়া নামাযে জামাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কায় তায়াম্মুমের উক্ত বিধান প্রযোজ্য নয়।

ঈদের নামাযে আযান-ইকামত নেই
=========================

মাসআলা : ঈদের নামাযে আযান-ইকামতের বিধান নেই। হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

صَلّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ الْعِيدَيْنِ، غَيْرَ مَرّةٍ وَلَا مَرّتَيْنِ، بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ.

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একাধিকবার ঈদের নামায পড়েছি এবং আযান-ইকামত ছাড়া পড়েছি। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৭৮

তবে কেউ অজ্ঞতাবশত ইকামত দিয়ে দিলে এর কারণে নামায মাকরূহ হবে না। -কিতাবুল আছল ১/৩১৯; আলহাবীল কুদসী ১/২৪২; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৬৭

নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা
==================

মাসআলা : ঈদ বা যে কোনো নামায, রোযা বা অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রে অন্তরের সংকল্পই নিয়ত হিসাবে যথেষ্ট। মুখে উচ্চারণ করে বলা জরুরি নয় এবং এর প্রয়োজনও নেই। তবে অন্তরের নিয়তের সাথে মুখে উচ্চারণ করা নিষেধও নয়। কেউ ইচ্ছার দৃঢ়তার জন্য মুখেও উচ্চারণ করে নিলে তা দূষণীয় হবে না। মুখে নিয়ত উচ্চারণ করলে নিজের মাতৃভাষায়ই করবে। প্রচলিত আরবী নিয়তের পেছনে পড়ার দরকার নেই। -উমদাতুল কারী ১/৩৩; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ২৫৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪১৫

ঈদের নামাযের নিয়ম
================

মাসআলা : ঈদের নামায দুই রাকাত। নিয়ত করে তাকবীরে তাহরীমা বলে নামায শুরু করে ছানা পড়বে। ছানা পড়ার পর ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ বলে আরো তিনটি তাকবীর বলবে। প্রথম দুই তাকবীর বলার সময় উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠিয়ে হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। তৃতীয় তাকবীর বলার সময় কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠিয়ে বেঁধে নেবে। অতঃপর সূরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাবে। দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে সূরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে আগের নিয়মে তিনটি তাকবীর বলবে। তবে দ্বিতীয় রাকাতে তৃতীয় তাকবীর বলার সময়ও হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। অতঃপর চতুর্থ তাকবীর বলে রুকু করবে। এরপর অন্যান্য নামাযের ন্যায় যথারীতি নামায শেষ করবে। -কিতাবুল আছল ১/৩১৯; আলহাবীল কুদসী ১/২৪৩

ঈদের নামাযের কেরাত
=================

মাসআলা : ঈদের নামাযে প্রথম রাকাতে ‘সূরা আ‘লা’ এবং দ্বিতীয় রাকাতে ‘সূরা গাশিয়াহ’ বা প্রথম রাকাতে ‘সূরা কফ’ এবং দ্বিতীয় রাকাতে ‘সূরা কমার’ পড়া সুন্নত। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাযে এ সূরাগুলো পড়তেন। তবে অন্য যে কোনো সূরাও পড়া যেতে পারে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৭৮; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ১৫৬৭; কিতাবুল আছল ১/৩২১; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫০০

মাসআলা : জুমার নামাযের ন্যায় ঈদের নামাযের কেরাতও উচ্চৈঃস্বরে পড়া ওয়াজিব। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَجْهَرُ بِالْقِرَاءَةِ فِي الْعِيدَيْنِ وَفِي الِاسْتِسْقَاءِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদ ও ইস্তেসকার নামাযে কেরাত উচ্চৈঃস্বরে পড়তেন। (সুনানে দারাকুতনী, হাদীস ১৮০৩) -জামে সগীর, পৃ. ১১৪

তাই ইমাম সাহেব উভয় রাকাতেই কেরাত উচ্চৈঃস্বরে পড়বেন।

ঈদের দ্বিতীয় রাকাতের রুকুর তাকবীর
============================

মাসআলা : ঈদের দ্বিতীয় রাকাতে রুকুর তাকবীরও অন্যান্য নামাযের রুকুর তাকবীরের মতো সুন্নত।

এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা দেখার জন্য মাসিক আলকাউসার জানুয়ারি ২০১১ সংখ্যায় প্রকাশিত ‘দৃষ্টি আকর্ষণ’ শিরোনামের লেখাটি পড়া যেতে পারে।



ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর সংক্রান্ত মাসায়েল
======================================

তাকবীরের সংখ্যা

মাসআলা : অন্যান্য নামাযের চেয়ে ঈদের নামাযে আরো কিছু বেশি তাকবীর রয়েছে। এ তাকবীরগুলোর সংখ্যা কতটি- এ ব্যাপারে হাদীস-আছারে একাধিক সংখ্যার কথা এসেছে। কোনো কোনো বর্ণনায় যেমন দুই রাকাতে মোট বারো তাকবীরের কথা এসেছে, অন্য বর্ণনায় দুই রাকাতে মোট ছয় তাকবীরের কথা এসেছে। এ দুটি ছাড়াও আরো দু-একটি সংখ্যার কথা কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে। হাদীসে বর্ণিত এসব সংখ্যার সবগুলোই সঠিক ও আমলযোগ্য। বারো তাকবীরের নিয়ম যেভাবে হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, তেমনি ছয় তাকবীরের নিয়মও হাদীস ও আছার দ্বারা প্রমাণিত। একাধিক জলিলুল কদর সাহাবী এই পদ্ধতির উপর আমল করছেন। ইমাম আহমাদ রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

اخْتَلَفَ أَصْحَابُ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي التّكْبِيرِ وَكُلّهُ جَائِزٌ.

তাকবীরের সংখ্যা নিয়ে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। (সাহাবীদের থেকে প্রমাণিত এ) সবগুলো সংখ্যাই জায়েয ও আমলযোগ্য। -আলফুরুউ, মাকদিসী ৩/২০১

সুতরাং আমাদের দেশে ফিকহে হানাফীর অনুসরণে যে ছয় তাকবীরে ঈদের নামায পড়া হয় সেটাকে কোনো কোনো গায়রে মুকাল্লিদ ভাই কর্তৃক খেলাফে সুন্নত ও ভিত্তিহীন আখ্যা দেয়া হাদীস ও আছারের স্বল্প পড়াশোনাকেই প্রমাণ করে। এ সম্পর্কে দলীলভিত্তিক বিস্তারিত জানার জন্য মাসিক আলকাউসার অক্টোবর-নভেম্বর ২০০৫ সংখ্যা অথবা মাকতাবাতুল আশরাফ কর্তৃক প্রকাশিত ‘সহীহ হাদীসের আলোকে তারাবীর রাকাত সংখ্যা ও সহীহ হাদীসের আলোকে ঈদের নামায’ পুস্তিকাটি পড়া যেতে পারে।

মাসআলা : ঈদের অতিরিক্ত তাকবীরের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হলে কম সংখ্যা ধরে বাকি তাকবীর আদায় করবে। যেমন, তিন তাকবীর হয়েছে, নাকি দুই তাকবীর- এ নিয়ে সন্দেহ হলে দুই তাকবীর ধরে অবশিষ্ট একটি তাকবীর বলে নেবে।

মাসআলা : ইমাম যদি প্রথম রাকাতে ভুলে অতিরিক্ত তাকবীর না বলে কেরাত শুরু করে দেয় তাহলে কেরাত অবস্থায় তাকবীরের কথা স্মরণ হলে কেরাত ছেড়ে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলে নেবে। অতঃপর পুনরায় কেরাত পড়ে নেবে। কেরাত শেষ হওয়ার পর তাকবীরের কথা স্মরণ হলে তাকবীর বলে রুকুতে চলে যাবে। -আততাজরীদ, কুদুরী ২/৯৮৪; আলমুহীতুর রেযাবী ১/৪১৭; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৭২

মাসআলা : ইমাম ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর ভুলে রুকুতে চলে গেলে (চাই প্রথম রাকাতের তাকবীর হোক বা দ্বিতীয় রাকাতের) তাকবীর বলার জন্য আর রুকু থেকে ফিরে আসবে না। এবং বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী রুকুতেও তাকবীর বলবে না। এক্ষেত্রে নামায শেষে সিজদায়ে সাহু করে নেবে। (যদি জামাত ছোট হয়) -আততাজরীদ, কুদুরী ২/৯৮৬; আলমুহীতুর রেযাবী ১/৪১৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬১; মিনহাতুল খালিক ২/১৪৭; রদ্দুল মুহতার ২/১৭৪

মাসআলা : ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর ভুলে রুকুতে চলে যাওয়ার পর তাকবীর আদায়ের জন্য রুকু থেকে ফিরে আসলে যদিও কোনো কোনো ফকীহ নামায ফাসেদ হয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন তবুও বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী কাজটি ভুল হলেও এ কারণে নামায নষ্ট হবে না। -রদ্দুল মুহতার ২/১৭৪

মাসআলা : হানাফী মাযহাবের কেউ অন্য মাযহাবের ইমামের পেছনে নামায পড়লে (এবং ইমাম সাহেব বারো তাকবীর বা অন্য কোনো সংখ্যা অনুযায়ী নামায পড়ালে) ইমামের অনুসরণে সেও অতিরিক্ত তাকবীর ইমামের মতোই বলবে। -কিতাবুল আছল ১/৩২৪; মাবসূত, সারাখসী ২/৪২; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৭২



ঈদের নামাযে মাসবুক হওয়া সংক্রান্ত মাসায়েল
=================================

মাসআলা : কেউ প্রথম রাকাতে ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর বলার পর ইমামের সাথে শরীক হলে সে তাকবীরে তাহরীমা বলে নামাযে শরীক হওয়ার পর নিজে নিজে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলে নেবে; চাই এক্ষেত্রে ইমাম সাহেব কেরাত পড়া অবস্থায় থাকুন না কেন। সুফিয়ান ছাওরী রাহ. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন-

وَلَوْ وَجَدَ الْإِمَامَ يَقْرَأُ كَبّرَ كَمَا يُكَبِّرُ الْإِمَامُ.

ইমামকে কেরাত অবস্থায় পেলে সে (নিজে নিজে) ইমামের ন্যায় তাকবীর বলে নেবে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, বর্ণনা ৫৭১৪)

কিন্তু এক্ষেত্রে নামাযে শরীক হওয়ার পর দাঁড়ানো অবস্থায় (রুকুর আগে আগে) তাকবীর আদায়ের সুযোগ থাকা সত্তে¡ও যদি আদায় না করে তাহলে পরে আর রুকুতে তাকবীর বলবে না। -আলবাহরুর রায়েক ২/১৬১; রদ্দুল মুহতার ২/১৭৪

মাসআলা : ইমামকে রুকুতে পেলে সেক্ষেত্রে যদি প্রবল ধারণা হয়, দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বললেও ইমামের সাথে রুকুতে শরীক হতে পারবে তাহলে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলে ইমামের সাথে রুকুতে শরীক হবে।

আর যদি প্রবল ধারণা হয়, দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত তাকবীর বলতে গেলে ইমামকে রুকুতে পাওয়া যাবে না, তাহলে তাকবীরে তাহরীমা বলে রুকুতে চলে যাবে। রুকুতে গিয়ে ছুটে যাওয়া অতিরিক্ত তাকবীরগুলো হাত উঠানো ছাড়া বলে নেবে। এরপর যদি সময় থাকে তাহলে রুকুর তাসবীহ আদায় করবে। -আততাজরীদ, কুদুরী ২/৯৮৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৮৮-৮; আলহাবীল কুদসী ১/২৪৩; আলবাহরুর রায়েক ১/১৬১; আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ২/৪০০; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৭২

মাসআলা : ইমামের সাথে রুকুতে শরীক হওয়ার পর অতিরিক্ত তাকবীর বলার মত সময় না পেলে আর তাকবীর বলতে হবে না। ইমামের সাথে রুকু পাওয়ার কারণে সে ঐ রাকাত পেয়েছে এবং সাথে সাথে তাকবীরও পেয়েছে বলে ধর্তব্য হবে। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৬১৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫১

মাসআলা : কেউ দ্বিতীয় রাকাতে ইমামের সাথে শরীক হলে ইমামের সালাম ফেরানোর পর ছুটে যাওয়া রাকাত আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে প্রথমে সূরা-কেরাত পড়ে তারপর রুকুর আগে অতিরিক্ত তাকবীর বলবে। অর্থাৎ ছুটে যাওয়া রাকাতেও দ্বিতীয় রাকাতের ন্যায় রুকুর আগে অতিরিক্ত তাকবীর বলবে। হাসান বসরী রাহ. বলেন-

يكَبِّرُ فِيهَا مِثْلَ تَكْبِيرِ الْإِمَامِ فِي الرّكْعَةِ الثّانِيَةِ.

ঈদের নামাযে মাসবুক ব্যক্তি ছুটে যাওয়া রাকাত আদায়ের সময় ইমামের দ্বিতীয় রাকাতের ন্যায় তাকবীর বলবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা ৫৮১৩

অবশ্য যদি কেউ এক্ষেত্রে সূরা-কেরাতের আগে অতিরিক্ত তাকবীর বলে নেয় তাহলেও তার নামায আদায় হয়ে যাবে। -কিতাবুল আছল ১/৩২২; আলহাবীল কুদসী ১/২৪৪

মাসআলা : দ্বিতীয় রাকাতের রুকুর পর এমনকি শেষ বৈঠকের তাশাহহুদের পরও কেউ জামাতে শরীক হলে সে ঈদের জামাত পেয়েছে বলে ধর্তব্য হবে। এক্ষেত্রে ইমামের সালাম ফেরানোর পর দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই উভয় রাকাত আদায় করবে। অর্থাৎ প্রথম রাকাতের পর দাঁড়িয়ে কেরাতের পূর্বে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলবে। আর দ্বিতীয় রাকাতে কেরাতের পর অতিরিক্ত তাকবীর বলবে। -কিতাবুল আছল ১/৩২২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫০০

ঈদের নামাযে সাহু সিজদা
===================

মাসআলা : অন্যান্য নামাযের ন্যায় ঈদের নামাযেও জামাত ছোট হলে এবং বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা না থাকলে ওয়াজিব ছুটে গেলে সিজদায়ে সাহু দিতে হয়। তবে যেহেতু ঈদের জামাতে সাধারণত অনেক বড় জমায়েত হয়ে থাকে, অনেক মানুষ সিজদায়ে সাহুর নিয়ম-কানুন সম্পর্কে জ্ঞাত থাকে না, তাই সিজদায়ে সাহু আদায় করতে গেলে অনেক সময় বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। এজন্য কোনো কোনো ফকীহের মতে ঈদ, জুমা বা এরকম বড় কোনো জামাতের ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব সিজদায়ে সাহু করতে গেলে যদি মুসল্লীদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা হয় তাহলে সেক্ষেত্রে সিজদায়ে সাহু মাফ হয়ে যাবে। ইমাম স্বাভাবিক নিয়মে নামায শেষ করবে। -কিতাবুল আছল ১/৩২৪ ; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫০১

ঈদের নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক
============================

মাসআলা : ঈদুল আযহার নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক বলা যেতে পারে। তবে ফরয নামাযের মত ঈদের নামাযের পর তাকবীর বলা ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় নয়। -আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২; রদ্দুল মুহতার ২/১৮০



ঈদের খুতবা সংক্রান্ত মাসায়েল
======================

মাসআলা : ঈদের নামাযের পর খুতবা দেয়া সুন্নত। আর উপস্থিত মুসল্লীগণের জন্য তা শ্রবণ করা ওয়াজিব। মুসল্লীগণ মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনবেন। -কিতাবুল আছল ১/৩১৮; আলহাবীল কুদসী ১/২৪২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৮; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৬৬

মাসআলা : জুমার নামাযের ন্যায় ঈদের নামাযেও দুই খুতবা। এবং দুই খুতবার মাঝে বসাও সুন্নত। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে উতবা রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

السّنّةُ أَنْ يَخْطُبَ الْإِمَامُ فِي الْعِيدَيْنِ خُطْبَتَيْنِ يَفْصِلُ بَيْنَهُمَا بِجلُوسٍ.

সুন্নত হচ্ছে, ইমাম ঈদে দুটি খুতবা দেবে। দুই খুতবার মাঝখানে বসার দ্বারা একটিকে আরেকটি থেকে আলাদা করবে। (সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদীস ৬২১৩) -মাবসূত, সারাখসী ২/২৬২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৯

কোনো কোনো গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা যে বলে থাকেন- ‘দুই ঈদে একটি করে খুতবা হবে’ তাদের এ কথা সহীহ হাদীস ও মুসলিম উম্মাহর যুগ পরম্পরায় চলে আসা আমলের পরিপন্থী।

মাসআলা : ঈদের খুতবার আগে আযানের কোনো বিধান নেই।

মাসআলা : খুতবার সময় ইমাম তাকবীর বললে মুসল্লীগণ চুপ থেকে খুতবা শুনবেন। নিজেরা তাকবীর বলবেন না। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

وَجَبَ الْإِنْصَاتُ فِي أَرْبَعَةِ مَوَاطِنَ: الْجُمُعَةِ، وَالْفِطْرِ، وَالْأَضْحَى، وَالِاسْتِسْقَاءِ.

চারটি স্থানে চুপ থাকা ওয়াজিব। জুমা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং ইসতিসকার খুতবার সময়। -মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, বর্ণনা ৫৬৪২

ঈদের নামায ছুটে গেলে
=================

মাসআলা : ঈদের নামাযে কাযার বিধান নেই। তাই কারো ঈদের নামায ছুটে গেলে সে আশপাশের অন্য কোনো ঈদের জামাতে শরীক হওয়ার চেষ্টা করবে। এমনটি সম্ভব না হলে তওবা-ইস্তেগফার করবে। -শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ২/১৬১; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৯৮; আলহাবীল কুদসী ১/২৪৪

ঈদের নামাযের আগে-পরে নফল পড়া
===========================

মাসআলা : হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন-

أَنّ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ صَلّى يَوْمَ الفِطْرِ رَكْعَتَيْنِ لَمْ يُصَلِّ قَبْلَهَا وَلاَ بَعْدَهَا.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন দুই রাকাত ঈদের নামায পড়ছেন। ঈদের নামাযের আগে বা পরে কোনো নামায পড়েননি। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৬৪)

এজাতীয় হাদীসের আলোকে ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, ঈদের নামাযের আগে বাড়িতে বা ঈদগাহে/মসজিদে পুরুষ মহিলা সকলের জন্যই নফল নামায পড়া মাকরূহ। তাই এসময় কেউ ইশরাক বা অন্য কোনো নফল নামায পড়বে না। -কিতাবুল আছল ১/৩২৮; আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ২/৩৮১-৩৮২; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৬৭



বিবিধ মাসায়েল
============

ঈদ ও জুমা একই দিনে হলে
====================

মাসআলা : জুমার দিন ঈদ হলে ঈদ ও জুমা উভয়টিই পড়তে হবে। ঈদের নামায পড়লে জুমা পড়তে হবে না- এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কেননা ঈদের নামায ও জুমার নামায দুটি পৃথক পৃথক আমল। অন্যদিকে ঈদের নামায ওয়াজিব আর জুমার নামায ফরয। সুতরাং একটি আদায় করে আরেকটি বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর স্বপক্ষে হাদীসের অনেক সুস্পষ্ট প্রমাণও রয়েছে। জুমার দিন ঈদ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় নামাযই পড়তেন। সহীহ হাদীস দ্বারা এটিই প্রমাণিত। এক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে জুমার নামায না পড়ার কোনো প্রমাণ নেই। (দেখুন : সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫৭২; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৭৮; মুসনাদুশ শাফেয়ী, হাদীস ৫০০; শরহু মুশকিলিল আছার ৩/১৮৭; আততামহীদ ১৪/২৭৪)

এ সম্পর্কে মাসিক আলকাউসার মে ২০২২ (প্রশ্ন নং ৫৬৭৯)-এ একটি বিস্তারিত ফতোয়া প্রকাশিত হয়েছে। আগ্রহী পাঠকগণ চাইলে তা দেখে নিতে পারেন ।



ঈদের জামাতে মহিলাদের উপস্থিতি মাসআলা
=================================

ঈদের নামায প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন পুরুষের উপর ওয়াজিব। মেয়েদের উপর ঈদের নামায ওয়াজিব নয়। এবং মেয়েরা ঈদের নামাযের জন্য ঈদগাহে যাবে না। সাহাবায়ে কেরাম অনেকেই মেয়েদের ঈদগাহে যেতে নিরুৎসাহিত করেছেন।

عَنْ نَافِعْ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أنَّهُ كَانَ لَا يُخْرِجُ نِسَائَهُ فِي الْعِيْدَيْنِ.

অর্থাৎ নাফে রাহ. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর পরিবারের নারীদেরকে দুই ঈদে ঈদগাহে যেতে দিতেন না। -আলআওসাত ৪/৩০১

অন্য বর্ণনায় এসেছে-

عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنّهُ كَانَ لَا يَدَعُ امْرَأَةً مِنْ أَهْلِهِ تَخْرُجُ إِلَى فِطْرٍ، وَلَا إِلَى أَضْحَى.

উরওয়া তাঁর পিতা (যুবাইর রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নিজ পরিবারের নারীদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযাহাতে যেতে দিতেন না। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস ৫৮৪৬

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আলআনসারী রাহ. বলেন-

لَا نَعْرِفُ خُرُوْجَ الْمَرْأةِ الشَّابَّةِ عِنْدَنَا فِي الْعِيْديْنِ.

আমাদের সময়ে দুই ঈদের জন্য যুবতী নারীদের বের হওয়ার প্রচলন ছিল না। -আলআওসাত ৪/৩০২; উমদাতুল কারী ৩/৩০৫

ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন-

يُكْرَهُ خُرُوجُ النِّسَاءِ فِي الْعِيدَيْن.

উভয় ঈদে মহিলাদের (নামাযের জন্য) বাইরে যাওয়া মাকরূহ। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস ৫৮৪৬

সৌদি আরবে ঈদ করে ঐ দিনই দেশে চলে এসে দেশে ঈদের জামাত পেলে

মাসআলা : কেউ যদি এক দেশে ঈদের নামায পড়ার পর পূর্ব দিকের কোনো দেশে গিয়ে পরের দিন ঈদের জামাত হতে দেখে যেমন, কেউ সৌদি আরবে ঈদ করে ঐ দিনই বাংলাদেশে চলে আসে এবং এখানে পরের দিন ঈদ হয় তাহলে ঐ ব্যক্তির জন্য দ্বিতীয়বার দেশের ঈদের জামাতে শরীক হওয়া আবশ্যক নয়। -ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ১৮
[ মসিক আলকাউসার || যিলহজ্ব ১৪৪৩ || জুলাই ২০২২ ]
াসিক_

🌙 সকাল ৬ টায় ঈদের নামাজ 🌙ইনশাআল্লাহ, পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক🕌 ঈদুল আযহার প্রধান জামাআত –🕕 সকাল ৬ টায় |📍 ফটিকছড়ি জামিয়া ক...
06/06/2025

🌙 সকাল ৬ টায় ঈদের নামাজ 🌙

ইনশাআল্লাহ, পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক
🕌 ঈদুল আযহার প্রধান জামাআত –
🕕 সকাল ৬ টায় |
📍 ফটিকছড়ি জামিয়া কুরআনিয়া তালীমুদ্দীন–এর মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো যাচ্ছে।

— জামিয়া কর্তৃপক্ষ

🔵
#ফটিকছড়ি
#ফটিকছড়ি_পৌরসভা
#জামিয়া_কুরআনিয়া_তালীমুদ্দীন
#ঈদুল_আযহা
#ঈদের_জামাত
#ঈদের_নামাজ
#মাদ্রাসা_মাঠ



োবারক

📢 ঈদুল আযহার নামাজ সংক্রান্ত জরুরি বিজ্ঞপ্তি🕌 ফটিকছড়ি পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জামিয়া কোরআনিয়া তালীমুদ্দীন-মাঠ প্...
03/06/2025

📢 ঈদুল আযহার নামাজ সংক্রান্ত জরুরি বিজ্ঞপ্তি
🕌 ফটিকছড়ি পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত
জামিয়া কোরআনিয়া তালীমুদ্দীন-মাঠ প্রাঙ্গণে
পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে:
🕕 সকাল ৬:০০ ঘটিকায় ইনশাআল্লাহ।
📝 ইসলামী শরিয়তের আলোকে ঈদুল আযহার নামাজ সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত আদায় করাই মুস্তাহাব।
তাই নির্ধারিত সময়েই জামাত শুরু হবে।
🤝 ধর্মপ্রাণ মুসলিম ভাইদের প্রতি যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন— জামিয়া-প্রধান মুফতি মুহাম্মদ উসমান (হাফিজাহুল্লাহ)

📢 ছুটির ঘোষণাআল জামিয়াতুল কোরআনিয়া তালীমুদ্দীন-র সকল বিভাগ পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে আজ ০২ জুন ২০২৫ ইং সোমবার থেকে ১৬ জ...
02/06/2025

📢 ছুটির ঘোষণা
আল জামিয়াতুল কোরআনিয়া তালীমুদ্দীন-র সকল বিভাগ
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে আজ ০২ জুন ২০২৫ ইং সোমবার থেকে ১৬ জুন ২০২৫ ইং সোমবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

ইনশাআল্লাহ, নির্ধারিত সময় পর জামিয়ার সকল কার্যক্রম যথারীতি চালু হবে।

🕋 সবাইকে পবিত্র ঈদুল আযহার আগাম মুবারকবাদ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের ঈদ কবুল করুন এবং তাকওয়ার বাস্তব রূপ লাভের তাওফিক দান করুন—আমীন।

إِنَّا لِلّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعونَচট্টগ্রাম-ফটিকছড়ির বরেণ্য আলেমে দ্বীন,ধর্মপুর এমদাদুল উলুম মাদ্রাসার সিনিয়র ম...
16/05/2025

إِنَّا لِلّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعونَ
চট্টগ্রাম-ফটিকছড়ির বরেণ্য আলেমে দ্বীন,
ধর্মপুর এমদাদুল উলুম মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস,
ফটিকছড়ি তালিমুদ্দিন মাদ্রাসার সাবেক সিনিয়র শিক্ষক,
মাওলানা ইমরান কাসেমী (রহঃ)
আজ ইন্তেকাল করেছেন।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন।

আল্লাহ তাআলা তাঁর আত্নাকে মাফ করে দিন, রহম করুন, জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান—ফিরদাউস নসিব করুন।

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ ، وارْحمْهُ ، وعافِهِ ، وأعْفُ عنْه ، وَأَكرِمْ نزُلَهُ ، وَوسِّعْ مُدْخَلَهُ ، واغْسِلْهُ بِالماءِ والثَّلْجِ والْبرَدِ ، ونَقِّه منَ الخَـطَايَا كما نَقَّيْتَ الثَّوب الأبْيَضَ منَ الدَّنَس ، وَأَبْدِلْه دارا خيراً مِنْ دَارِه ، وَأَهْلاً خَيّراً منْ أهْلِه ، وأدْخِلْه الجنَّةَ ، وَأَعِذْه منْ عَذَابِ القَبْرِ وَمِنْ عَذَابِ النَّار، اللهم أسكنه الفردوس الأعلى من الجنة

উম্মাহর এই ক্ষতিকে আল্লাহ তাআলা সহজ করুন, তাঁর ইলমী খেদমতকে কবুল করে উম্মাহর জন্য সদাকায়ে জারিয়া বানিয়ে দিন।
আমিন।

আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার  দীর্ঘ ৬২ বছরের সবচেয়ে প্রবীণ সাবেক মুহাদ্দিস ও সদরে মুহতামিম এবং জামিয়াতুন নূর আল আলামিয়্য...
26/04/2025

আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার দীর্ঘ ৬২ বছরের সবচেয়ে প্রবীণ সাবেক মুহাদ্দিস ও সদরে মুহতামিম এবং জামিয়াতুন নূর আল আলামিয়্যাহ বাংলাদেশ-এর শীর্ষ মুরব্বী, সদরে মুহতামিম ও মুহাদ্দিস, ফকিহুল মিল্লাত শাহ মুফতি আব্দুর রহমান রহ- এর সুযোগ্য খলিফা আল্লামা শাহ আমিনুল হক চৌধুরী সাহেব রহি. এই মাত্র ইন্তিকাল করেছেন।

আল্লাহ হুযুরকে জান্নাতবাসী করুন।

শোক প্রকাশ বরেণ্য শিক্ষাবিদ, কবি ও সাহিত্যিক আল্লামা আব্দুল মান্নান দানিশ রহ. এর ইন্তিকালে জামিয়া প্রধানের গভীর শোক প্র...
25/04/2025

শোক প্রকাশ

বরেণ্য শিক্ষাবিদ, কবি ও সাহিত্যিক আল্লামা আব্দুল মান্নান দানিশ রহ. এর ইন্তিকালে জামিয়া প্রধানের গভীর শোক প্রকাশ....

আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার সাবেক সিনিয়র উস্তাদ, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, কবি ও সাহিত্যিক হযরত আল্লামা আব্দুল মান্নান দানিশ রহ. এর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ফটিকছড়ি জামিয়া কোরআনিয়া তালীমুদ্দীনের পরিচালক মুফতি মুহাম্মদ উসমান হাফিযাহুল্লাহ।
শোকবার্তায় তিনি বলেন,
আল্লামা দানিশ রহ. ছিলেন একাধারে ইলম ও আখলাকের বাহক—যাঁর লেখনীতে প্রকাশ পেয়েছে দ্বীনি জ্ঞানের সৌন্দর্য, আর হৃদয়ে ছিল খাঁটি আল্লাহভীতি। তিনি ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের উপর অটল ও অবিচল একজন আল্লাহর খাঁটি বান্দা। ১৩৮৮ হিজরিতে তিনি আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া থেকে দাওরায়ে হাদীস অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেন। এরপর চার দশকেরও অধিক সময় তিনি জামিয়া পটিয়ায় শিক্ষকতা করে জাতিকে উপহার দিয়েছেন আলোকিত মনীষা, আদর্শবান ছাত্র এবং অমূল্য সাহিত্যভাণ্ডার। আরবি, উর্দু, ফার্সি সাহিত্যের জগতে তিনি রেখে গেছেন অসামান্য অবদান। তাঁর বিদায়ে কওমী অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা কখনো পূরণ হবার নয়।

পবিত্র জুমার দিনে তাঁর ইন্তিকাল নিঃসন্দেহে আল্লাহর বিশেষ রহমতের নিদর্শন।

আল্লাহ তাআলা হযরতের তামাম খেদমত কবুল করুন, তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন এবং তাঁর পরিবার, সন্তান ও ভক্তদের অন্তরে সবর দান করুন।

উল্লেখ্য, বরেণ্য শিক্ষাবিদ, কবি ও সাহিত্যিক আল্লামা আব্দুল মান্নান দানিশ রহ. আজ ২৫/০৪/২৫ইং জুমার নামাজের পর ঢাকা জামিয়া ইবনে আব্বাস এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আগামীকাল বেলা 11 টায় ফটিকছড়ি রাবার বাগান মাদ্রাসায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

Address

হোল্ডিং ২৬, ওয়ার্ড ৫, ফটিকছড়ি পৌরসভা
Chittagong
4350

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Al-Jameatul Qurania Talimudden তালীমুদ্দীন মাদ্রাসা ফটিকছড়ি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The University

Send a message to Al-Jameatul Qurania Talimudden তালীমুদ্দীন মাদ্রাসা ফটিকছড়ি:

Share