05/12/2024
৬ ডিসেম্বর ফেনী মুক্ত দিবস আমাদের গৌরবময় ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়। এই দিনে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ফেনী শত্রুমুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়েছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ এবং অসীম সাহসিকতায় শত্রু মুক্ত হয় ফেনী।
এই ঐতিহাসিক দিনে, আমরা শহীদদের স্মরণ করছি এবং তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের প্রেরণা দেয় দেশপ্রেম, একতা এবং উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলার।
আসুন, আমরা সবাই মিলে ফেনীর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অটুট রাখি এবং আমাদের আগামী প্রজন্মকে এই গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করি। সবাইকে ফেনী মুক্ত দিবসের শুভেচ্ছা!
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয় ফেনী। সেই থেকে এ দিনটি ফেনী মুক্ত দিবস হিসেবে পরিচিত। এক টুকরো পতাকা আর স্বতন্ত্র পরিচয়ের জন্য এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার এক ঐতিহাসিক দিবস ফেনী মুক্ত দিবস।
জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভোর থেকে সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধারা ফেনীর পূর্বাঞ্চল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ২ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন জাফর ইমামের নেতৃত্বে ফেনী শহরে প্রবেশ করতে থাকে। পরে শহরের রাজাঝির দীঘির পাড়ে ডাকবাংলোর সামনে স্বাধীন বাংলাদেশের ফেনীতে প্রথম পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেখানে জড়ো হওয়া মুক্তি সংগ্রামীরা মিছিল থেকে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানে শ্লোগানে শহর প্রকম্পিত করে।
মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই ফেনী প্রেসক্লাবের সামনে মিছিল দেখে উৎফুল্ল হয়ে উঠেন। বিকেল নাগাদ সেখানে বিএলএফ কমান্ডার জয়নাল আবেদিনের নেতৃত্বে যুক্ত হন মুক্তিযোদ্ধারা। সেখানে ফেনীর খাজা আহম্মদ সব মুক্তিযোদ্ধাদের দেশ গড়ার কাজে নেমে পড়তে আহ্বান জানিয়ে দিক নির্দেশনা দেন।
একপর্যায়ে সাধারণ মানুষ মিছিলে অংশ নিতে শুরু করেন। স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধের লক্ষণ দেখে পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাক বাহিনী আর তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী ফেনীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ফেনী শহর হয়ে চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যায়। এভাবেই দীর্ঘ নয় মাসের বজ্রকঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুক্তিকামীরা লাল-সবুজের এক টুকরো পতাকা ফেনীর জমিনে ওড়ান।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য ফেনীর ৩১ জন মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত করা হয়। খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চারজন বীর উত্তম, সাতজন বীর বিক্রম এবং ২০ জন বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হন।
সেদিনের বিবরণ দিতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা সকালেই ফুলগাজীর বন্দুয়া থেকে এসে ফেনী সার্কিট হাউজে (বর্তমান ফেনী সড়ক ও জনপথ বিভাগের রেস্ট হাউজ) প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। বিকালের মধ্যেই মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক জয়নাল আবেদীন ভিপির নেতৃত্বে মুজিব বাহিনী রাজাপুর, কোরাইশ মুন্সী ও সোনাগাজীর নবাবপুর থেকে ট্রাংক রোডে চলে আসেন। সন্ধ্যায় সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা সমাবেশ করেন।
ফেনী মুক্ত দিবস সম্পর্কে বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন ভিপি বলেন, ডিসেম্বরের শুরুতেই গেরিলা যুদ্ধের নীতি ‘হিট অ্যান্ড রান’ প্রয়োগ করে যুদ্ধ করতে করতে আমরা পাঁচগাছিয়া এলাকার কাছাকাছি চলে আসি। রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এদিকে এসে হিট (হামলা) করে আবার চলে যাই। ৫ ডিসেম্বর আমরা ঠিক ফেনীর কাছাকাছি যখন আসি তখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রণভঙ্গ দিয়ে শেষ রাতের দিকে শুভপুর ও বারইয়ারহাট হয়ে চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যায়।