12/12/2021
💠প্রশ্ন:-
১.আলিফে মাকসুরাহ ও মামদুদাহ কাকে বলে ?
২.ইসমে মাকসুর কাকে বলে?
৩. ইসমে মাকসুরে যে ياء টি আসে এটা কিসের ياء এবং কখন আসে?
💠১. উত্তর:-
আলিফে মাকসুরাহ:- ঐ আলিফকে বলে যা শব্দের শেষাক্ষরে ফাতহার পরে পতিত হয়। যেমন:- هدٰى، عصا
আলিফে মামদুদাহ:- ঐ হামযাকে বলে যা শব্দের শেষাক্ষরে আলিফের পরে পতিত হয়। যেমন:- صحراء، بيضاء । এটাকে আলিফ বলে নামকরণ করা হয় কেননা তার আসল হল আলিফ। কিন্তু লিখতে হামযা আসে।
💠২. উত্তর:-
ইসমে মাকসুর:- ঐ ইসিমকে বলে যার শেষে আলিফে মাকসুরাহ হয়। যেমনঃ- حبلى
🔻প্রশ্ন- عصا শব্দের মূল মাদ্দাহ কী? এটা কি গাইরে মুনসারিফ নাকি মুনসারিফ?
এটাতে যে আলিফ আছে তা কি মাকসুরাহ না কি অন্যকিছু?
মাকসুরা হলে গাইরে মুনসারিফ হবে না কেন?
🔻উত্তর- শব্দ (عصا) মূল মাদ্দা হল عصو । এটা মুনসারিফ।
এটাতে যে আলিফ আছে তা মাকসুরাহ।
মাকসুরা হলেও গাইরে মুনসারিফ হবে না। هدًى এর মতো।
কারণ, আমরা জানি আলিফে মাকসুরাটি মুআন্নাসের আলামত হওয়ার জন্য শর্ত হল তিনাক্ষরের বাহিরে হওয়া।
এখানে তিনাক্ষরের ভিতরে হয়েছে। তাই সেটা মুজাক্কার। আর যেহেতু মুআন্নাস হয় নাই। সেজন্য গাইরে মুনসারিফও হবেনা।
কারণ আলিফে মাকসুরাহ যুক্ত শব্দিটি গাইরে মুনসারিফ হওয়ার জন্য শর্ত হল মুআন্নাসের আলামত হওয়া। আর তখনই সেটা এক সববে দুই সববের قائم مقام হবে।
🔺প্রশ্ন:- واو বা ياء থেকে পরিবর্তিত আলিফ কি মাকসুরা হতে পারে?
আমরা তো জানতাম, আলিফে মাকসুরাহ মাদ্দার অতিরিক্ত আলিফ....
🔺উত্তর:- জি, ঐটাকেও আলিফে মাকসুরাহ বলে।
المقصور ـ هو اسم معرب مختوم بـألف لازمة ، نحو ملهى ، عصًا... و في بعض الكتب ألف ثابتة،
আলিফে মাকসুরাহ মাদ্দার অতিরিক্ত আলিফেই হবে এ কথাটি সঠিক নয়। মুল মাদ্দাহ হতে পারে আবার মাদ্দাহ হতে পরিবর্তন হয়ে আসতে পারে। বা অতিরিক্তও হতে পারে।
যদি মাদ্দাহ উদ্যোশ্য তাহলে عصا و هدى এগুলোকে আলিফে মাকসুরাই ধরা যাবেনা। কারণ عصا এর আলিফটি واو থেকে পরিবর্তন হয়ে আসছে। আর هدى এর আলিফটি ياء থেকে পরিবর্তন হয়ে আসছে।
🔸প্রশ্ন- যদি حبلى শব্দে ح ب ل মাদ্দা হয় তাইলে আলিফ লাজিমা হয় কীভাবে?
🔸উত্তর- এখানে لازمة ও ثابتة দ্বারা উদ্যোশ্য হল স্থায়ী হওয়া। যাতে করে দ্বীতিয়বার অন্য কাহারো দ্বারা পরিবর্তন না হয়। চাই সেটা কাহারো থেকে পরিবর্তন হয়ে আসুক অথবা আসলী হোক। অথবা মাদ্দার অতিরিক্ত হোক। এখানে حبلى তে আলিফটি মাদ্দাহ অতিরিক্ত।
যেমন দেখুন ইসমে মানকুসের সংজ্ঞার ক্ষেত্রেও ياء لازمة বা ثابتة বলা হয়েছে। যদি এর দ্বারা ياء أصلية অর্থাৎ মাদ্দার ياء উদ্যোশ্য হয় তাহলে داعي ও مبتدي এর ইরাব কীভাবে দিবেন?
তখন এগুলোকে اسم منقوص এর ইরাব দেয়া সম্ভব হবেনা। অথচ এগুলোকে اسم منقوص এর ইরাব দেয়া হয়।
সুতরাং لازمة বা ثابتة দ্বারা উদ্যোশ্য হল স্থায়ী হওয়া। চাই সেটা واو থেকে পরিবর্তন হয়ে আসুক অথবা ياء থেকে পরিবর্তন হয়ে আসুক । অথবা অতিরিক্ত হোক।
♦️নোট:-
ক. আলিফে মাকসুরাহ আইন কালিমায় চলে আসে। যেমন:- هدى । লাম কালিমা ও তার পরেও হতে পারে। যেমন:- قصوى ، حيارى
খ. আলিফে মাকসুরাহ ইসম, ফেইল ও হরফ সবগুলোর মধ্যে হতে পারে। যেমন:- لدى، على، مضى
গ. আলিফ কখন মুল মাদ্দাহ হতে পারে না। সে واو অথবা ياء থেকে পরিবর্তন হয়ে আসে।
💠৩. উত্তর:-
ইসমে মাকসুরে যে ياء টি আসে। সেটা رسم خط এর ياء। যেমন:- رمى ، مضى ইত্যাদির মধ্যে হয়ে থাকে। জেনে রাখা ভালো যে رسم خط এর ياء এর মধ্যে নুকতা হয় না। আর নুকতা হলে সেটা رسم خط এর ياء নয়। এবং সেটা সাকিন হওয়ার দালালত করে। যেমনঃ- تقضي
🔴রসমে খতের ইয়া কয়েকটি জায়গায় আসে।
(১). আলিফ ও ফাতহার উপর দালালত করার জন্য। যেমন:- فضلى
(২). আলিফটি ياء থেকে পরিবর্তন হয়ে আসে। যেমন:- مدى আর واو থেকে পরিবর্তন হয়ে আসলে আলিফ দ্বারা লিখা হবে। যেমনঃ- دعا
(৩). যে সমস্ত اسم তিনাক্ষরের বেশি হয় এবং اسم এর পূর্বাক্ষরে ياء না হয়। যেমন:- قتلى ، حيارى । আর যদি তার পূর্বে ياء হয় তাহলে আলিফ দ্বারা লিখা হবে। যেমনঃ- دنيا ، ريا، محيا، ثريا ، قضايا
(৪). চারটি অনারবী নাম ياء দিয়ে হয়। যেমনঃ- موسى ، عيسى ، كسرى ، بخارى । আর বাকীগুলো আলিফ দিয়ে হবে। যেমনঃ- زليخا، دارا ، أقليما
(৫). চারটি أسماء مبنية ইয়া দিয়ে হয়। যেমনঃ- لدى، أنى ، متى ، أولى ، الأولى । আর বাকীগুলো আলিফ দিয়ে লিকতে হবে। যেমনঃ- مهما ، أنا ، إذا
(৬). চারটি حروف য়ে ইয়া আসে। যেমন:- إلى ، على ، حتى ، بلى। আর বাকীগুলো আলিফ দিয়ে হয়। যেমন:- ألا ، هلا ، لولا، لوما
▪️কায়েদা:- যে শব্দগুলোতে رسم خط এর ياء আসে সেগুলো অন্যের সাথে মিলিত হয়ে আসলে আলিফ হয়ে যায়। যেমন:- أعلى ، رعى মিলিত হয়ে আসলে أعلاكم ، رعاكم হবে।
النحو و الصرف و الإعراب ص ٦٤٥
جامع الدروس العربية ج١ ص ١٠٢
المعجم المفصل في الإملاء ص ٥٨-٦٨