06/09/2026
কুমিল্লা সার্কিট হাউসের সব কক্ষ পরিষ্কারের নির্দেশ ও চার কর্মীকে শোকজ।। ---(ফলোআপ)
জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, কুমিল্লা | ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুমিল্লা সার্কিট হাউসের একটি কক্ষে আলমারিতে রাখা কম্বলের মধ্যে উইপোকা পাওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর এর সকল কক্ষের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সার্কিট হাউসের চারজন কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জেলা প্রশাসনের নেজারত শাখা থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ, প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও পৃথক কারণ দর্শানোর নোটিশগুলো জারি করা হয়।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৪ সেপ্টেম্বর বিরোধীদলীয় উপনেতার আগমন উপলক্ষে সার্কিট হাউসের সম্প্রসারিত নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার ‘রাধাচূড়া’ (২০২ নম্বর) কক্ষটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। উক্ত কক্ষে অবস্থানকালে তিনি কম্বলের মধ্যে উইপোকার উপস্থিতি দেখতে পান। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কক্ষ পরিবর্তন করে পার্শ্ববর্তী কৃষ্ণচূড়া কক্ষে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং নেজারত ডেপুটি কালেক্টরকে সার্কিট হাউসে পাঠানো হয়। তবে এর আগেই সংসদ সদস্য সার্কিট হাউস ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ০৭:০০ টায় জেলা প্রশাসক সার্কিট হাউসে গিয়ে সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতকালে উক্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং সমস্যা সমাধানে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ ও উদ্যোগ সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়।
উক্ত ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে সার্কিট হাউসের চারজন কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শোকজপ্রাপ্ত কর্মচারীরা হলেন- সার্কিট হাউস নাজির ও সার্টিফিকেট সহকারী মো. সুমন মিয়া, জারীকারক সুমন বড়ুয়া, জারীকারক (ইনসিটু) রুবেল মিয়া এবং নিরাপত্তা প্রহরী ইব্রাহীম খলিল।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) এবং ৪ ধারা অনুযায়ী কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না— তা পত্র প্রাপ্তির ৩ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সার্কিট হাউসের কক্ষ, স্টোর রুম এবং আসবাবপত্র সরেজমিনে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে উপযুক্ত প্রতিনিধি মারফত লিখিত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গণপূর্ত বিভাগ, কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলীকে পত্র পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর সার্কিট হাউসের সব কক্ষের ফ্যান, লাইট, দরজা-জানালা, পর্দা, আলমারি, টেবিল, চেয়ার, খাট, ম্যাট্রেস ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ সামগ্রী যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন কর্মচারী কোন তারিখে ও কোন সময়ে কোন কক্ষ পরিষ্কার করলেন তা নির্দিষ্ট ছকে প্রতিদিন সার্কিট হাউস নাজিরের নিকট জমা দিতে হবে এবং কোনো সমস্যা থাকলে তা লিখিত বা কম্পিউটারে টাইপ করে জানাতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে কর্মচারীদের কাছ থেকে লিখিত প্রত্যয়ন নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অতিথিদের অভিযোগ লিপিবদ্ধ করার জন্য অভ্যর্থনা টেবিলে একটি অভিযোগ রেজিস্টার রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সার্কিট হাউসে অবস্থানকালীন যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি অ্যাপ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এ বিষয়ে এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার দৈনিক আনন্দবাজার’ সহ বিভিন্ন পত্রিকায় ‘উইপোকা দেখে কুমিল্লা সার্কিট হাউস ছাড়লেন বিরোধীদলীয় উপনেতা’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। উক্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১১ দলীয় লং মার্চ উপলক্ষে শুক্রবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে পৌঁছান বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এমপি। তার রাত্রিযাপনের জন্য সার্কিট হাউসের ‘রাধাচূড়া-২০২’ কক্ষটি বুকিং করা হয়। রাত ১০টার দিকে তিনি ওই কক্ষে বিশ্রাম নিতে গেলে আলমারিতে রাখা কম্বলের মধ্যে উইপোকা দেখতে পান। এতে তিনি অসুবিধাবোধ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কক্ষ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করতে বলেন এবং একটি কম্বল চান। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কক্ষ পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও তিনি কক্ষ ছেড়ে চলে যান।