06/08/2024
বিশ্বাস করুন বা না করুন গতকাল রাতের মত দেশ নিয়ে এত চিন্তা কখনো আমার মাথায় আসেনি। কারন দেশটা এখন কোন রাজনৈতিক দলের হাতে না, দেশটা এখন আমার আপনার মত সাধারন জনগনের হাতে। আমার আপনার কর্মকাণ্ডই বদলে দেবে আগামীর বাংলাদেশ।
জনরোষে সরকার পতনের বিষয়টা অনেকেই ভালভাবে নিতে পারছেন না। আমি বলব, দেখুন শেখ হাসিনা দেশ ছেড়েছেন। তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতসহ, ইংল্যাণ্ড, কানাডা, চেষ্টা করলে আমেরিকাতেও বাকী জীবন আরাম আয়েশে কাটিয়ে দিতে পারবেন। কিন্তু আমার আপনার কী হবে? আমাদেরতো অনেকের পাসপোর্টও নেই। পাসপোর্ট যাও আছে ভিসা নেই। আর ভিসার আবেদন করলে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের ভিসাই সহজে পাওয়া যায় না আর কোথায় ইউরোপ-আমেরিকা।
ভাই, আমাদেরকে এই দেশেই থাকতে হবে। সকল দল, সকল মতের মানুষকে নিয়েই থাকতে হবে। তাই হানাহানি, মারামারি বাদ দিয়ে আসুন এক হয়ে কাজ করি। প্রথমেই আসা যাক জনগনের জান-মালের নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও পরবর্তীতে রূপ নেয়া জনআন্দোলনে আমরা দেখেছি পুলিশের মারদাঙ্গা ভূমিকা। পুলিশের বিভিন্ন প্রশ্নবিদ্ধ এ্যাকশানের ভিডিও ফুটেজ ঘুরছে জনগনের মোবাইলে মোবাইলে।। আন্দোলন সময়ে দেশজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে। তা থেকে বোঝা যায় বিগত বছরে পুলিশে কী রকম দলীয়করণ করা হয়েছে। পুলিশকে যদি এমনভাবে দলীয়করন না করা হত। দলমত নির্বিশেষে আপামর জনসাধারনের সকলেই যদি সহসাই (ঘুষ ছাড়া ও সরকার দলীয় লোক ছাড়) পুলিশে নিয়োগ হত, তাহলে আজকে এই দিন দেখতে হত না। গত দুদিনে আমরা দেখেছি সারা দেশে কীরকম ভীষণ লুটপাট আর অরাজকতা চলেছে। এমনকি পুলিশের আচরণে বিক্ষুদ্ধ জনতা থানাতে হামলা করে পুলিশ হত্যা করতেও দ্বিধা করে নি। পুলিশ যদি জনগনের আস্থা ধরে রাখতে পারত তাহলে সরকার পতনের পরও পুলিশ সবাই যার যার কর্মস্থলে ডিউটি করতে পারত। সংসদ ভবন, গনভবনসহ অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনগনের জানমাল নিরাপত্তা পেত।
জনমনে আওয়ামী লীগে দলের মত পুলিশেরও মারাত্মক ইমেজ সংকট তৈরি হয়েছে। এটা কাটিয়ে উঠাটা এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরী বিষয়। প্রয়োজনে তাদের ড্রেস কোড পরিবর্তন করে দেয়া যেতে পারে। খাকি রংয়ের পোশাক দেয়া যাবে না তাহলে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর চিত্র ফুটে উঠবে জনমনে। একটা সুন্দর কালার কম্বিনেশন করে ড্রেস কোড তৈরি করতে হবে। আর এখনি পুলিশের নিয়োগ চালু করতে হবে যাতে দলমত নির্বশেষে সবাই নিয়োগ পেতে পারবে। নিয়োগে কোন দলের সমর্থক সেটার চেয়ে দেশপ্রেম আর বিবেকবোধ কতটুকু আছে সেটা যাচাই জরুরী।
আশা করছি পারিবারিক রাজনীতি ছেড়ে সব দল-মত নির্বিশেষে এক বৈষম্যবিরোধী সমন্বয়ক সরকার আসবে। যেখানে সকল দলের যোগ্য লোকেরা উঠে আসবে। তাদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে দেশ।
তারুণ্যের হাতে দেশ, গড়বো মোরা আগামীর বাংলাদেশ।