08/07/2023
https://www.facebook.com/100064113662534/posts/667577732056010/?mibextid=Nif5oz
হজ্জ খুতবা ২০২৩
---------------
Ceadit:- কুরআন শিক্ষালয়
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
তিনি সেই পবিত্র সত্তা যিনি দল উপদলের ঐক্য, কথার ঐক্য এবং ঐক্যবদ্ধ ভাবে মিলেমিশে থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এবং যা কিছু বিভক্তি ও মতানৈক্য সৃষ্টি করে তেমন সবকিছু থেকে বিরত করেছেন।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ তায়ালা ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই, যাকে আমরা আশা করি, যাকে আমরা ভালোবাসি এবং যার অসন্তুষ্টি ও আযাবকে আমরা ভয় করি। যিনি বলেছেন, তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোন সত্য ইলাহ নেই। তিনি পরম করুনাময়, অত্যন্ত দয়ালু।
আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম আল্লাহর বান্দা এবং রাসুল। যিনি পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিতভাবে সমাজবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পারস্পরিক সংঘাত ও ঝগড়া বিবাদ থেকে নিষেধ করেছেন। ফলে তার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা হৃদয় সমূহ একত্রিত করেছেন এবং তার দ্বারা অবস্থানসমূহ সংশোধন করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাকে রিসালাতের সংবাদ পৌঁছাতে এবং আমানত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যাকে বলতে বলা হয়েছে,
'বলুন হে মানুষ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত রাসুল। যিনি আসমান সমূহ ও জমিনের সার্বভৌমত্বের অধিকারী। তিনি ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। তিনিই জীবিত করেন তিনিই মৃত্যু ঘটান।'
আল্লাহ তাআলা তার পরিবার-পরিজন তার সাহাবীগণের উপর এবং তার অনুসারীগনের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন ।
অতঃপর হে মুসলিমগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য ও তার শরীয়তের পূর্ণ অনুসরন এবং তার সীমারেখা রক্ষার মাধ্যমে আপনারা আল্লাহকে ভয় করো। যাতে তোমরা দুনিয়া এবং আখিরাতে সৎ কর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত ও বিজয়ী হতে পারেন। আল্লাহ বলেছেন,
'এগুলো আল্লাহর সীমারেখা, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে,আল্লাহ তাদেরকে এমন সব জান্নাত সময়ে প্রবেশ করাবেন,যার তলদেশে লহরসমূহ প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। আর এটাই বিরাট সাফল্য।'
আল্লাহ সীমারেখা মধ্যে অন্তর্ভুক্ত - গাইরুল্লাহর কোন ইবাদত না করা।
আল্লাহতালা বলেন, 'প্রতিদান দেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহ তালার। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন তাকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করা যাবে না। এটাই শ্বাশত দিন কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা জানে না।'
সুতরাং যে ব্যক্তি তৌহিদের অনুসারী, সে-ই হেদায়েতের অনুসারী, তার জন্যই রয়েছে নাজাত এবং প্রশংসনীয় পরিণাম আল্লাহর কাছে।
আল্লাহ আরো বলেছেন, 'আর অবশ্যই আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসুল পাঠিয়েছিলাম এ নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাগুদকে বর্জন করবে।'
অতঃপর তাদের কিছু সংখ্যককে আল্লাহ হিদায়েত দিয়েছেন আর তাদের কিছু সংখ্যক এর উপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছিল। কাজেই তোমরা জমিনে পরিভ্রমণ কর, আর দেখে নাও মিথ্যারোপকারীদের পরিণাম কি হয়েছিল।
'আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই', তাওহীদের এই সাক্ষ্যের নির্দেশ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
'আর আপনি আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহকে ডাকবেন না। তিনি ছাড়া অন্য কোন সত্য ইলাহ নেই। আল্লাহর সত্য ছাড়া অন্য সবকিছুই ধ্বংসশীল। প্রতিদান তারই আর তারই কাছে তোমরা ফিরে যাবে।'
অনুরূপভাবে নবী করিম সঃ এর রিসালতের সাক্ষের বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন, 'মুহাম্মদ সা: আল্লাহর রাসূল' ।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, 'মুহাম্মদ সাঃ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নন। বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী আর আল্লাহ সব কিছু সম্পর্কে অত্যন্ত অবগত।'
'তোমরা সালাত কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো।'
আল্লাহতালার নির্দেশের মধ্যে আরও রয়েছে রমাদানের সিয়াম পালনও বায়তুল্লাহ হজ্জ করা প্রসঙ্গে। তিনি কুরআনে বলেছেন,
'কাজেই তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে।'
'আর মানুষের মধ্যে যাদের সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য রয়েছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সে ঘরে হজ করা তাদের আবশ্যক।'
আর এগুলোই হল ইসলামের মূল আরকান বা মূল স্তম্ভ।
রাসুল করীম সাল্লাল্লাহু সালাম বলেছেন,
ইসলাম হচ্ছে এই যে, তুমি সাক্ষ্য দিবে আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নাই এবং মুহাম্মদ সাঃ আল্লাহর রাসূল। সালাত আদায় করা, যাকাত আদায় করা, সওম পালন করা, যদি পথ অতিক্রম করার সামর্থ হয় তবে বায়তুল্লাহ হজ করবে।
আর ঈমান এই যে, তুমি আল্লাহর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূ্হ, তার প্রেতিত নবীগণ, শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে, তুমি তাকদিরের ভালো-মন্দের প্রতিও ঈমান রাখবে।
আর ইহসান এই যে ,তুমি এমনভাবে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ইবাদত করবে যেন তুমি তাকে দেখতে পাচ্ছ অথবা তিনি তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন।
ওহে যারা ঈমান এনেছ, তোমরা পবিত্র বাইতুল্লাহর হাজিগন তোমাদের জন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বিদায় হজের খুতবার অংশবিশেষ হল:-
হে লোক সকল, তোমাদের রব এক, তোমাদের পিতা আদম আলাইহিস সাল্লাম এক।
শুনে রাখ আরবের উপর অনারবের অথবা অনারবের উপর আরবের অথবা কালোর উপর সাদা অথবা সাদা সাদার উপর কালো তাকওয়া ব্যতিত মানদণ্ড ছাড়া আর বেশি কোনো মর্যাদা নেই।
আমি আমার কাছে থাকা দায়িত্বগুলো তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।
আল্লাহ তাআলা তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ, তোমাদের মান-সম্মান, তোমাদের পরস্পরের মধ্যে তেমন ভাবে সম্মানিত করেছেন, যেমনভাবে তিনি এই মাসকে, এই শহরকে, এই দিনকে সম্মানিত করেছেন।
কাজেই ভাষা, বর্ণ, জাতিগত পার্থক্য এসব কোন প্রকার বিভেদ দ্বন্দ্ব তৈরী করার জন্য যুক্তি-যুক্ত নয়। বরং এগুলো হলো মহাবিশ্বে আল্লাহতালার নিদর্শন সমূহের অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ আরো বলেন, 'আর তার নিজস্ব মধ্যে রয়েছে আসমান সমূহ ও জমিনের সৃষ্টির তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য । এতে অনেক বই নিদর্শন রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য।'
আল্লাহ আরো বলেন, 'তোমরা সকলে আল্লাহর রশিকে মজবুত করে ধারণ কর, এবং পরস্পরে বিভক্ত হয়ো না। আর তোমাদেরকে দেওয়া আল্লাহর নিয়ামতকে স্মরণ করো। যখন তোমরা পরস্পরের শত্রু ছিলে, তারপরে আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ভালোবাসা সঞ্চার করেছেন, অতঃপর তারই অনুগ্রহ করে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে।'
আর রাসুল সাঃ বলেছেন, তোমরা কোন প্রকার শিরক না করে আল্লাহর ইবাদত করবে। এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়ে আল্লাহর রশিকে শক্তভাবে ধারণ করলে, আল্লাহ তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন।
এজন্য আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রিয় বন্ধুকে একতাবদ্ধ সঙ্গী সাথী দিয়ে অনুরূপ অনুগ্রহ করেছেন।
আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেছেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আপনার জন্য যথেষ্ট। তিনি তো তার স্বীয় সাহায্য এবং মুমিনদের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন। তাদের অন্তরে ভালোবাসা তৈরি করেছেন। আপনি দুনিয়ার সমস্ত ধন-সম্পদ, ব্যয় করল তাদের অন্তরে জোড়া লাগাতে পারবেন না। অথচ আল্লাহ তাদের অন্তরগুলো এক করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী অতি প্রজ্ঞাময়।'
আল্লাহতালা বিভক্তি ও বিচ্ছন্নতার ব্যাপারে নিষেধবাণী উচ্চারণ করেছেন।
তিনি বলেছেন, 'নিশ্চয়ই যারা তাদের দ্বীনকে খন্ড-বিখন্ড করে, দলে-উপদলে বিভক্তি হয়েছে, তাদের কোন ব্যাপারে আপনার দায়িত্ব নেই। তাদের বিষয়টি তো আল্লাহর নিকটে। তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন।'
তাদের বিষয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, 'তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা সুস্পষ্ট প্রমাণাদি আসার পরেও মতবিরোধ করে, বিভক্ত হয়ে পড়ে, আর এইসব লোকদের জন্য রয়েছে কঠোর আজাব।'
যখনই সমাজে কোন অনৈক্য ও বিভেদ সৃষ্টি হয়, তখন মানুষের অন্তরে খারাপ প্রকৃতি হিংসা বিদ্বেষ ও ভিন্ন ভিন্ন উচ্চ বিলাসের জন্ম হয় । যার ফলে রক্তপাত ও অন্যায় ভাবে মানুষের সম্পদ লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটে। মান ইজ্জত সম্মান ভুলুন্ঠিত হয়। আর তা উম্মতের উন্নতির পথে অন্তরাল হয়ে দাঁড়ায়। আল্লাহর বিধান পালনে বিঘ্নতার সৃষ্টি হয়।
এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন, ভালোবাসা মিল মহব্বত দয়া অনুগ্রহ প্রকাশের ক্ষেত্রে ঈমানদারেরা একটি দেহের মতন। যার একটি অঙ্গ অসুস্থ হলে সমস্ত দেহ অসুস্থ হয়, অনিদ্রা ও জ্বরে ভোগে।
তিনি আরো বলেছেন, একজন মুমিনের জন্য অন্য মুমিন যেন একটি শক্ত প্রাচীর। যার একটি অংশ অন্য অংশকে শক্তিশালী করে।
আল্লাহ তায়ালার সাহায্য তো তাদের সাথেই যারা ঐক্যবদ্ধ। আর শয়তান সেই ব্যক্তির সাথে থাকে যে দল থেকে বিভক্ত হয়, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ব্যক্তি পরিবার ও সমাজে বিভক্তির যে নির্মম প্রভাব ও চিহ্ন আজ পরিলক্ষিত হচ্ছে, তার ভিত্তিতেই যে কোন একটি সমাজকে যথাযথ মূল্যায়ন করা যায়।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, 'আর নিশ্চয়ই যারা এই কিতাবের ব্যাপারে বিরোধে লিপ্ত হয়েছে, নিঃসন্দেহে তাদের এই বিরুদ্ধে চারণ সুদূরপ্রসারী'
আর এই লক্ষ্যে আল্লাহ তা'আলা কোনো বিরোধ ও মতপার্থক্যের সময়ে কুরআন ও সুন্নাহর কাছে ফিরে যাওয়ার আদেশ করেছেন।
তাই তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তিগত মতবিরোধ দেখা দিলে সে বিষয়টি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের কাছে নিয়ে যাও। যদি প্রকৃতপক্ষে তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের উপরে বিশ্বাস স্থাপন করে থাকো। এটি অতি উত্তম ও সুন্দর সমাধান।
আল্লাহ সুবানাতালা বলেছেন, 'তোমরা যে বিষয়েই মতবিরোধ করো না কেন, তার ফয়সালা আল্লাহর কাছেই রয়েছে। বলুন তিনিই আমার রব তিনিই আমার আল্লাহ তার উপরে আমি নির্ভর করি। তার দিকেই ফিরে যেতে হবে।'
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'তোমার কাছে কিতাব নাজিল করেছে শুধু এজন্য যে, তারা যে বিষয়ে মতভেদ করে তুমি তাদের জন্য সে বিষয়সমূহ স্পষ্ট করবে, আর তা মুমিনদের জন্য পথ নির্দেশ ও রহমত স্বরূপ।'
অনুরূপভাবে তিনি উত্তম চরিত্র ধারণ ও অতি সুন্দর ব্যবহার, পারস্পরিক দয়া ও অনুগ্রহের পরিচয় দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'আর আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের সাথে কোমল ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছেন। আপনি যদি রূঢ় বা কর্কশ হতেন বা খারাপ হৃদয়ের অধিকারী হতেন তারা আপনার চারপাশ থেকে সরে পড়তো। অতঃপর আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন। তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের সাথে পরামর্শ গ্রহণ করুন।'
এছাড়াও তিনি তাদের সাথে ধৈর্যধারণ, মানুষের ভুল ত্রুটি ক্ষমা করার গুণেও অলংকৃত হতে উৎসাহিত করেছেন। বলেছেন,
'আর তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, এবং পরস্পরের ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হবে না, যদি তা করো তবে তোমরা সাহস হারা হয়ে যাবে। এবং তোমাদের শক্তি চলে যাবে, আর ধৈর্য ধারণ করবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ধৈর্য ধারণকারীদের সাথেই আছেন।'
আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেন, 'তোমরা দ্রুত আল্লাহর জান্নাত ও ক্ষমা লাভে অগ্রসর হও। যে জান্নাতের বিস্তৃতি আসমানসমূহ ও জমিনের সমান। এসব কিছুই মুক্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যারা সুখে দুখে ব্যয় করে, রাগ সংবরণ করে, অন্যদের ভুলত্রুটির ক্ষমা করে, আর আল্লাহ মহসিনদের ভালোবাসেন।'
ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ইসলাম সামাজিক, পারিবারিক, ঈমানি বন্ধনকে মজবুত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। আর সেজন্যই নিকট আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
এবং স্বামী-স্ত্রী পিতা-মাতা ছেলে মেয়ে ইত্যাদির পারস্পরিক অধিকার ও হক সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিবরণ পেশ করেছেন। এবং সকল আত্মীয় মিসকিন অভাবী, ও প্রতিবেশীর সাথে দয়া ও অনুগ্রহ প্রদর্শন করার নির্দেশ দিয়েছেন ।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তার সাথে কাঊকে শরিক করবে না । আর পিতা মাতার সাথে উত্তম ব্যবহার কর, ইয়াতিম মিসকিন আত্মীয় প্রতিবেশী অনাত্মীয় ঘনিষ্ঠ সহচর মুসাফির ও তোমাদের অধীনস্থদের সাথে উত্তম আচরণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারী ও দাম্ভিকদের ভালোবাসবেন না।'
হাদিসে এসেছে, তোমাদের মধ্যে কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবেনা যতক্ষণ না সে ভাইয়ের জন্য সেটা পছন্দ করে যা সে তার নিজের জন্য পছন্দ করে।
ইসলামিক শরীয়ত ভাল কাজে পারস্পরিকদের সহযোগিতা করার আদেশ দিয়েছে। যেভাবে আল্লাহ সুবাহানাতালা বলেছেন,
'তোমরা কল্যাণ তাকওয়ার পথে পরস্পরকে সহযোগিতা করো, পাপ ও শত্রুতার পথে নয়।'
ইসলামী শরীয়ত আমাদেরকে নিষেধ করে যে, ঐক্য নষ্ট করার পাঁয়তারা নিয়ে অপপ্রচার ও গুজরের পিছনের ছুটে না যাওয়ার জন্য।
আল্লাহ তাআলা বলেন, 'ওহে যারা ঈমান এনেছ, যদি কোন ফাসেক ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা না জেনে কাউকে আক্রমণ করার আগেই, যাচাই করে নাও। অন্যথায় কৃতকর্মের জন্য তোমাদের লজ্জিত হতে হবে।'
এখন থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভিন্ন উপায়ে ঐক্য বিনষ্টকারী, সমাজের একাংশকে অন্য অংশের উপর উসকে দেওয়ার মত উদ্দেশ্যমূলক আক্রমণ থেকে মুমিনদের সতর্ক থাকতে হবে।
আল্লাহতালা বলেছেন, 'ওহে যারা ঈমান এনেছো, আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দান করেছি, তোমরা তা থেকে ব্যয় কর, সেই দিন আসার পূর্বেই, যেদিন থাকবে না কোন বেচাকেনা, বন্ধুত্ব ও সুপারিশের সুযোগ, আর কাফিরাই হলো প্রকৃত জালিম। '
এজন্য ইসলামী শরীয়তে পরস্পর বিবাদে লিপ্ত না হয়ে একে অপরকে ভাই হিসেবে সম্বোধন করতে বলআ হয়েছে এবং তাদের মাঝে বিবাদ সৃষ্টি হওয়ার বিষয়ে সংশোধনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'মুমিনরা পরস্পর পরস্পরের ভাই ভাই, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের মাঝে সংশোধন কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, আশা করা যায় যে, তোমরা রহমত প্রাপ্ত হবে।'
তাই উম্মার উপর কর্তব্য হলো তার সদস্যদের উপর ঐক্য তৈরির কার্যকর প্রশিক্ষণ দেওয়া।
আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেন, 'তোমাদের এই উম্মত একই উম্মত, আর আমি তোমাদের রব সুতরাং তোমরা আমার ইবাদত কর । আর এটি আমার সরল পথ সুতরাং তোমরা তারা অনুসরণ কর আর তোমরা বিভিন্ন পথের পিছনে পড়না। তাহলে সেগুলো তোমাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। তিনি তোমাদের এই উপদেশ দিচ্ছেন আশা করা যায় যে, তোমরা তাকওয়াবান হবে'
এমনিভাবে ঐক্য বাস্তবায়নের জন্য শাসকের আনুগত্য আবশ্যক। বলা হয়েছে,
'ওহে যারা ঈমান এনেছো, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং আল্লাহর রাসূল ও তোমাদের মাঝে দায়িত্বশীলদের আনুগত্য কর।'
শাসকদের আনুগত্যের মাঝে আরও রয়েছে, মানুষের অন্তর তাদের প্রতি অনুরাগীকরণ, তাদের আনুগত্যের ব্যাপারে মানুষদেরকে উদ্বুদ্ধ করন, জনগণ ও দেশের কল্যাণে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের জন্য দোয়া করা ইত্যাদি।
আর যখন সকল অবস্থাতে ঐক্যবদ্ধতার আদেশ দেওয়া হয় এবং বিচ্ছিন্নতাকে নিষেধ করা হয়, তখন হজ্জের মৌসুম ও বিভিন্ন নির্দেশনাবলীর স্থানে তা বজায় রাখা আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে এখানে হজ আদায়কারী ব্যক্তি এমন কোন কাজ করবে না, যা তার ইবাদতে বিঘ্ন ঘটায়। বরং সে আল্লাহর ইবাদতের জন্য যেন নিজেকে সবকিছু থেকে মুক্ত রাখবে, ভাতৃপ্রতিম আল্লাহর মেহমানদের শান্তি নষ্ট হয়, এমন কোন কাজে নিজেকে জড়াবে না।
হে মুসলিমগণ, ওহে প্রভাব প্রতিপত্তির অধিকারীগন, উম্মতের মাঝে ঐক্য সৃষ্টিতে ফিতনার আগুন নিভাতে এবং সেটার দিকে আহ্বানকারীদের চুপ করাতে - আল্লাহকে ভয় করুন।
আপনারা স্মরণ রাখুন, রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর বাণী:- তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না। সুসংবাদ শোনাও, মানুষকে দূরে ঠেলে দিও না।
অন্যত্র তিনি বলেন, তোমরা একে অপরের আনুগত্য করো, মতভেদ করো না। বিবাদে লিপ্তগণ যেন আল্লাহকে ভয় করে। মানব রক্ত সংরক্ষণ করার মাধ্যমে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাও ।
আল্লাহ তাআলার আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, যদি মুমিনদের দুই দল পরস্পর লড়াইয়ে লিপ্ত হয় তাহলে তাদের মাঝে সংশোধন করে দাও।
সত্যি কর্মী হওয়া মিথ্যার নেতা হওয়ার চাইতে অনেক উত্তম। যে আল্লাহর জন্য কোন কিছু ত্যাগ করে, আল্লাহ তাকে এর চাইতে ভালো কিছু বিনিময় হিসেবে দান করেন।
হে সম্মানিত বায়তুল্লাহ হাজীগণ, রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম অরাফার খুতবা সমাপ্তির পর বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আযান দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
অতঃপর ইকামতের পরে যুহরের সলাতকে দুই রাকাতের মাধ্যমে কসর করলেন, আবার পরবর্তী ইকামতের মধ্য দিয়ে আসরের সলাতকে দুই রাকাতের মাধ্যমে কসর করলেন।
অতঃপর উটের পিঠে চড়ে জিকর আযকারের মাধ্যমে আরাফায় অবস্থান করলেন। এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত দুআ অব্যাহত রাখলেন।
তারপর মুজদালিফার দিকে রওনা দিলেন।
এবং সাহাবাদেরকে সহমর্মিতা ও কোমল আচরণ করার নির্দেশনা দিয়ে বলেন,
হে মানব সকল, তোমরা ধীরেসুস্থে চলো। কেননা তাড়াহুড়ার মাধ্যমে কল্যাণ অর্জিত হয় না।
এরপর তিনি মুজদালিফায় পৌঁছে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। তিন রাকাতে মাগরিব ও দুই রাকাতে ইশাকে কসর করে একই সাথে আদায় করলেন।
অতঃপর মুজদালিফা রাত্রি যাপন করে, প্রথম ওয়াক্তে সেখানে ফজরের সালাত আদায় করেন। অতঃপর সকালের শুভ্রতা স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর দরবারে দুআ অব্যাহত রাখেন।
তারপর মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সূর্য উদয়ের পর জামাতুল আকাবায় সাতটি পাথর নিক্ষেপ করেন। এরপর কুরবানী পশু জবাই করে মাথামুন্ডন করেন।
অতঃপর তাওয়াফে ইফাদা সম্পন্ন করেন। তারপর তাশরিক এর দিনগুলোতে মিনাতে অবস্থান করেন। সেখানে জিকির অব্যাহত রাখেন ।
সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে যাওয়ার পর তিনি জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করেন। এ সময় ছোট ও মধ্যম জামাতে দুআ করেন।
ওজরগপ্ত ব্যক্তিদের মিনাতে রাত্রি যাপন না করার অনুমতি দেন।
১৩ তারিখ পর্যন্ত মিনাতে থাকা রাসূলের সুন্নাহ। আর এটি হল সর্বোত্তম। যদিও তিনি ১২ তারিখে মিনা ত্যাগের অনুমতি দিয়েছেন।
হজের সমস্ত কার্যক্রম শেষ করে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলে, তিনি বায়তুল্লায় বিদায় তওয়াফ সম্পাদন করেন।
হে বাইতুল্লাহর হাজীগণ, নিশ্চয়ই আপনারা পাপ ও পঙ্কিলতা থেকে ক্ষমাপ্রার্থনা করছেন, দুআ কবুলের সময়গুলোতে দুআ করেছেন। আশা করা যায় আপনারা এক সম্মানিত দেশে এবং উত্তম এক সময় উপস্থিত হয়েছেন।
এজন্যই রাসুল সঃ হজ্জের সময় আরাফার দিনে জিকির ও দুআয় লিপ্ত থাকার জন্য সিয়াম পালন করেননি।
অতএব হাজীগণ আপনারাও আপনাদের রবের দরবারে দুআয অব্যাহত রাখুন। নিজের জন্য, প্রিয়জনদের জন্য, যাদের জন্য আপনার দুআর হক রয়েছে সে সমস্ত মুসলিম উম্মার জন্য দুআ করুন। যাতে আল্লাহ তা'আলা তাদের অবস্থার পরিবর্তন করেন এবং সত্যের উপর সকলকে ঐক্যবদ্ধ করেন। আর তাদের জন্য দুআ করতে ভুলবেন না যারা আপনাদের প্রতি ইহাসান করেছেন।
হাদিসে এসেছে, যে তোমার প্রতি ইহসান করেছে তাকে প্রতিদান দাও। আর যদি না পারো তবে তার জন্য দুআ করো ।
যারা মুসলিমদের প্রতি ইহসান করেছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, যারা হারামাইন এর খেদমতের মধ্য দিয়ে আল্লাহর ঘরের মেহমানদের স্বস্তির জন্য নির্ঘুম সময় অতিবাহিত করছেন। আর এ শ্রেণীর প্রথমেই রয়েছে হাদিমুল হারামান এর প্রধান এবং ক্রাউন প্রিন্স । সেই সাথে তাদের সহযোগীবৃন্দ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে তাদের জন্য দুআ করুন।
হে আল্লাহ, হে চিরঞ্জীব, চিরঅক্ষয়, ইয়াজাল জালালি ওয়াল ইকরাম, আমরা আপনার কাছে আরজি পেশ করছি, আপনি হাদিমুল হারামাইন বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজকে সার্বিক কল্যাণময় বিষয়ে তার সাহায্যকারী হন।
হে আল্লাহ, মুসলিম উম্মার ঐক্যের বিষয়ে তিনি যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তার জন্য উত্তম প্রতিদান দান করুন।
হে আল্লাহ বারকা দান করুন, আমির মোহাম্মদ বিন সালমানকে, তার হাতকে শক্তিশালী করুন। তাকে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে সাব্যস্ত করুন।
হে আল্লাহ, হাজীদের হজকে কবুল করুন। সকল বিষয় সমূহ সহজ করে দিন। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর বিষয় চিন্তাকারীদের বিরুদ্ধে আপনি যথেষ্ট হয়ে যান।
হে আল্লাহ, এমন অবস্থায় তাদেরকে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার তৌফিক দিন যখন তারা গুনাহ মুক্ত। আপনি তাদের সকল চাহিদা পূরণ করুন।
হে আল্লাহ, মুসলিম নর নারী এবং মুমিন নর নারীদেরকে আপনি ক্ষমা করে দিন। তাদের পরস্পরের মাঝে ভালোবাসার বন্ধন তৈরি করে দিন। তাদের অন্তরে ইসলাহ দান করুন।