30/05/2026
**দিন দিন যত বড় হচ্ছি, ততই বুঝতে পারছি—আমার বাবা-মায়ের স্ট্রিক্টনেস, শাসন আর নিষেধগুলো আসলে আমার জীবনের বড় আশীর্বাদ ছিল।**
এখন প্রায়ই কোনো ঘটনা ঘটলে মনে মনে বলি, *"থ্যাংক ইউ আব্বু, থ্যাংক ইউ আম্মু।"*
ছোটবেলায় বন্ধুদের সাথে ট্যুরে যেতে চাইলে আম্মু বলতেন, *"আরেকটু বড় হও, এখন না।"* তখন খুব খারাপ লাগত। মনে হতো, সবাই কত স্বাধীন, শুধু আমিই বঞ্চিত।
কলেজে উঠে আমিও স্বাধীনতা পেয়েছিলাম, তবে সেটা ছিল সীমিত। আড্ডা, খেলা কিংবা কোনো অনুষ্ঠান—সন্ধ্যার মধ্যে বাসায় ফেরার একটা অলিখিত নিয়ম ছিল। সেকেন্ড ইয়ারে এসে রাত আটটা পর্যন্ত বাইরে থাকার অনুমতি মিলেছিল, তাও সপ্তাহে তিন দিন, শুধু কোচিংয়ের কারণে।
সত্যি বলতে, সেই সময় আব্বুর শাসন আমাকে এতটাই বিরক্ত করত যে মনে মনে তার উপর প্রচণ্ড রাগ পুষে রেখেছিলাম। মনে হতো, পৃথিবীর সবাইকে ক্ষমা করলেও তাকে কখনো ক্ষমা করব না।
কিন্তু আজ বড় হয়ে বুঝি, আমি শুধু পথের আলোটুকু চিনতাম, আর আমার বাবা-মা চিনতেন পথের চোরাবালিগুলো। আমার ছিল সাহস নামের বোকামি, আর তাদের ছিল সাবধানতা নামের ভালোবাসা।
তাদের সতর্কতাকে আমি অহেতুক ভয় ভাবতাম, আর নিজের অপরিণত সিদ্ধান্তগুলোকে সাহস মনে করতাম। আজ বুঝি, পাগল তারা ছিলেন না—পাগল ছিলাম আমি। আগুনে ঝাঁপ দিতে যাওয়া একটা ছেলেকে তারা তাদের শাসন আর অভিজ্ঞতা দিয়ে বারবার বাঁচিয়ে দিয়েছেন।
আজ তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা আর শ্রদ্ধা ছাড়া আর কিছুই নেই।
যারা এখনও বাবা-মায়ের নিষেধে অভিমান করে আছেন, ট্যুরে যেতে না পারার কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছেন, সন্ধ্যার পর বাইরে থাকতে না দেওয়ায় রাগ করছেন—তাদের বলব, আরেকটু সময় দিন। আরেকটু বড় হন। পৃথিবীটাকে আরেকটু দেখুন, মানুষকে আরেকটু চিনুন।
দেখবেন, বাবা-মায়ের অনেক কথার অর্থ ধীরে ধীরে নিজেই বুঝতে শুরু করেছেন।
একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন—
**স্ট্রিক্ট বাবা-মা অনেকটা ওষুধের মতো। খেতে তিতা, বিরক্তিকর এবং কষ্টদায়ক মনে হয়। কিন্তু দিন শেষে এই তিতকুটে ওষুধটাই আমাদের জীবনকে অনেক বড় বিপদ আর হাজারো অনুশোচনা থেকে রক্ষা করে।** ❤️
#বাবা_মা #উপলব্ধি #কৃতজ্ঞতা #জীবনের_শিক্ষা