25/07/2026
আপনার সন্তান—আপনার আমানত
সন্তান মহান রব্বুল আলামীন প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ নিয়ামতসমূহের অন্যতম। তাই আল্লাহ তাআলা শুধু সন্তান দানই করেননি; বরং নেক সন্তান লাভের জন্য তাঁর কাছেই দোয়া করতে শিখিয়েছেন।
رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ
“হে আমার রব! আমাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন।” — (সূরা আস-সাফফাত: ১০০)
আবার তিনি মুমিনদের দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন—
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
“হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদেরকে আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন।” — (সূরা আল-ফুরকান: ৭৪)
সন্তান কেবল ভালোবাসার উৎস নয়; তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের নিকট অর্পিত একটি আমানত। তাই তাদের সঠিকভাবে লালন-পালন, দ্বীনি শিক্ষা এবং উত্তম চরিত্র গঠনের দায়িত্ব পিতা-মাতার ওপর অর্পিত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
“তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।” — (সহিহ বুখারি, ৮৯৩; সহিহ মুসলিম, ১৮২৯)
প্রথম দায়িত্ব—সন্তানকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করা
সন্তানকে কেবল দুনিয়াবি শিক্ষায় নয়; সর্বপ্রথম ঈমান, কুরআন, সুন্নাহ, আদব-আখলাক ও ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে গড়ে তোলা একজন মুসলিম পিতা-মাতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।” — (সূরা আত-তাহরীম: ৬)
আরও ইরশাদ করেন—
وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا
“তোমার পরিবারকে সালাতের আদেশ দাও এবং নিজেও এর ওপর অবিচল থাকো।” — (সূরা ত্ব-হা: ১৩২)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ
“তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও।” — (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৫)
দ্বিতীয় দায়িত্ব—সঠিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন
সন্তানকে দ্বীনি শিক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং কোথায়, কাদের কাছে এবং কী পরিবেশে সে শিক্ষা গ্রহণ করবে—এটিও একজন সচেতন অভিভাবকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
একজন শিশুর চরিত্র, আদব, আখলাক ও ব্যক্তিত্ব গঠনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে হবে বিচক্ষণতার সঙ্গে।
মানুষ হিসেবে আমাদের মধ্যে মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে। কিন্তু এমন একটি প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়া উচিত, যেখানে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষা, সুশৃঙ্খল পরিবেশ, নির্ধারিত নীতিমালার বাস্তবায়ন, অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল উস্তাদে কেরামের তত্ত্বাবধান এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও চারিত্রিক গঠনের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
যেখানে আপনার সন্তান থাকবে নিরাপদ
প্রত্যেক অভিভাবকের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা—তার সন্তান যেন নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও দ্বীনি পরিবেশে বেড়ে ওঠে।
আলহামদুলিল্লাহ, জামিয়া ইসলামিয়া এমদাদুল উলুম ও এতিমখানা এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, দ্বীনি পরিবেশ, নিয়মিত তত্ত্বাবধান এবং উত্তম চরিত্র গঠনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এখানে আপনার সন্তান কেবল পাঠ্যজ্ঞানই অর্জন করবে না; বরং কুরআন-সুন্নাহর আদর্শে গড়ে উঠবে একজন আদর্শ, সুশিক্ষিত ও নৈতিক মানুষ হিসেবে।
আপনার সন্তান আমাদের কাছে শুধু একজন শিক্ষার্থী নয়; বরং একটি আমানত। তাই তার নিরাপত্তা, সুশিক্ষা, আদব-আখলাক ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
আপনার সন্তানের দ্বীনি শিক্ষা, সুন্দর চরিত্র ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য আস্থার ঠিকানা—
জামিয়া ইসলামিয়া এমদাদুল উলুম ও এতিমখানা
চন্নাপাড়া, ২ নং সি অ্যান্ড বি বাজার, শ্রীপুর, গাজীপুর।