29/05/2026
কুরবানীর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, চামড়া সিন্ডিকেট ও কারসাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া—এগুলো আজ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা দেখছি, কেউ কেউ সে প্রশ্নগুলো পাশ কাটিয়ে উল্টো মাদ্রাসার পক্ষ থেকে কুরবানীর চামড়া সংগ্রহের বিষয়টিকেই “গায়রতহীনতা” ও “লজ্জাহীনতা” বলে সমালোচনায় মুখর হচ্ছেন।
আমি ব্যক্তিগতভাবে এতে গায়রতহীনতার কিছুই দেখি না; বরং দেখি আত্মমর্যাদা, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা-কর্মী, স্থানীয় ব্যবসায়ী কিংবা বিভিন্ন প্রভাবক গোষ্ঠী যখন কুরবানীর চামড়ার ব্যবসায় জড়িত থাকেন, তখন সেটিকে কেউ লজ্জাজনক মনে করেন না। অথচ গরীব, এতিম ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল তালিবুল ইলমদের সহযোগিতার জন্য একটি দ্বীনী প্রতিষ্ঠান যদি মানুষের দুয়ারে যায়, সেটিকেই কেউ কেউ অপমানজনক হিসেবে উপস্থাপন করেন! এটি মূলত দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতা ছাড়া আর কিছু নয়।
বাস্তবতা হলো, কওমী মাদ্রাসাগুলো কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এগুলো মুসলিম সমাজের ঈমান, দ্বীনী চেতনা ও ইসলামী ঐতিহ্যের প্রাণকেন্দ্র। এসব প্রতিষ্ঠানের পেছনে রাষ্ট্রীয় বিলাসী অনুদান নেই, করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতার চাকচিক্যও নেই। জনগণের ভালবাসা, দান, সদকা, যাকাত, ফিতরা ও কুরবানীর চামড়ার মতো সহযোগিতার মাধ্যমেই যুগের পর যুগ এ প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে আছে এবং দ্বীনের খেদমত করে যাচ্ছে।
কুরবানীর চামড়া সংগ্রহকে আমি কেবল অর্থসংগ্রহ হিসেবে দেখি না; বরং এটি জনগণ ও মাদ্রাসার মধ্যকার আত্মিক সম্পর্কের এক জীবন্ত প্রতীক।
যখন একজন মানুষ নিজের কুরবানীর চামড়া একটি মাদ্রাসায় দান করেন, তখন তিনি শুধু একটি চামড়াই দান করেন না; তিনি নিজের হৃদয়ের ভালবাসা, আস্থা ও সমর্থনেরও প্রকাশ ঘটান।
আর মাদ্রাসাও তখন কেবল একটি প্রতিষ্ঠান থাকে না; সেটি হয়ে ওঠে মানুষের নিজের প্রতিষ্ঠান—“আমাদের মাদ্রাসা”।
আমরা প্রায়ই দেখি, কেউ চামড়া দিতে না পারলে লজ্জিত কণ্ঠে বলেন—“এবার মাফ করবেন, আগামী বছর ইনশাআল্লাহ দিব।” এই বাক্যগুলো শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভাষা নয়; এগুলো জনগণের সাথে মাদ্রাসার হৃদ্যিক সম্পর্কের ভাষা।
রমযানে সদকা-ফিতরা সংগ্রহ, মৌসুমী সহযোগিতা, মাহফিলের জন্য গণমানুষের অংশগ্রহণ কিংবা কুরবানীর চামড়া সংগ্রহ—এসবের মধ্য দিয়েই কওমী মাদ্রাসাগুলোর সাথে সমাজের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সম্পর্কই কওমী মাদ্রাসাকে সত্যিকার অর্থে “জনগণের মাদ্রাসা” হিসেবে প্রতিষ্ঠ