উপন্যাসী

উপন্যাসী "কল্পনার কল্পলোকে কল্পিত কল্পনারা কল্পনাতেই কাল্পনিক "

30/08/2026

♥️♥️♥️

 #প্রেমরুদ্ধ পর্ব:১৪লেখিকা: নিপা সরকার [ অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]সন্ধ্যা ৭:০০ টা বাজে ইশায়াত বাড়ি ফিরে...
26/08/2026

#প্রেমরুদ্ধ
পর্ব:১৪
লেখিকা: নিপা সরকার

[ অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]

সন্ধ্যা ৭:০০ টা বাজে ইশায়াত বাড়ি ফিরে নিজের রুমে যাওয়ার জন্য দুইটা সিঁড়িতে পা বাড়িয়েও থেমে গেল তারপর

"বাবার সাথে একটু কথা বলে আসি" বলেই সিঁড়ি থেকে নেমে নিচে মা বাবার রুমের দিকে গেল। রুমের দরজায় নক করল। মাহিরা বেগম দরজাটা খুলে দিলেন। আশিক শেহজাদ খাটের সাথে বালিশে হেলান দিয়ে বসে আছেন। ইশায়াতকে রুমে ঢুকতে দেখে বললেন____

"মাহিরা ওকে চলে যেতে বলো।"

ইশায়াত সামনে দাঁড়িয়ে অনেক আকুতি মিনতি করে বলল____

"ড্যাড আমার কথাটা একটু শোনো প্লিজ"

আশিক শেহজাদ উল্টো দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বললেন____

"আমার কোনো ছেলে নেই আমি কারো ড্যাড ন‌ই"

তারপর মাহিরা বেগম ইশায়াতের কাঁধে হাত রেখে বললেন বাবা তুই এখন যা। তোর বাবার রাগ কমলে তখন কথা বলিস। ইশায়াত আর কথা না বাড়িয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

______________________________

পরেরদিন নিরব ইনায়াকে নিয়ে নিজের বাড়ি ফিরে গেল।চৌধুরী বাড়ির‌ কেউ জানেনা যে তাদের ছেলে একটা মেয়েকে পালিয়ে নিয়ে এসে বিয়ে করেছে। বাড়িতে ঢুকতেই নিরবের মা ফারিয়া বেগম ও বাবা আদনান চৌধুরী সোফায় বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন। নিরবের সাথে একটা মেয়েকে দেখে তারা অবাক হলো। তারপর আদনান চৌধুরী জিজ্ঞেস করলেন_____

"তোমার সাথে মেয়েটা কে নিরব??"

নিরব আর ইনায়া চুপ করে ড্রয়িং রুমের মাঝে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আদনান চৌধুরী আবার জিজ্ঞেস করলেন ____

"মেয়েটা কে??"

নিরব থতমত খেয়ে বলল_____

"ড্যাড আ...আমরা বিয়ে করেছি ও... ও আমার ব‌উ"

"ওয়াট!!"

"তোমার এতো বড় সাহস তুমি কাউকে না জানিয়ে রাতারাতি বিয়ে করে চলে এসেছো।"

ফারিয়া বেগম একটু অবাক হলেও বললেন____

"মাশাআল্লাহ আমার বউমা তো অনেক সুন্দর হয়েছে।"

আদনান চৌধুরী চিৎকার দিয়ে ফারিয়া বেগমকে বললেন_____

"থামো তুমি, তোমার ছেলে না জানিয়ে বিয়ে করে এসেছে আর তুমি তাকে সাপোর্ট করছ"

এমন সময় আদনান চৌধুরীর বড় ছেলে সিজান চৌধুরী সিঁড়ি দিয়ে নামছে। নামতে নামতে জিজ্ঞেস করছে_____

"কী হয়েছে নিচে এতো চিৎকার কিসের?"

আদনান চৌধুরী রেগে গিয়ে বললেন_____

"দেখো তোমার আদরের ছোট ভাই কি করেছে"

"নিরব আবার কী করেছে, আর এই মেয়েটা কে??" ইনায়ার দিকে ইশারা করে জিজ্ঞেস করল সিজান।

"ওই মেয়েটাকে তোমার ভাই বিয়ে করেছে "

"ওয়াট, কী করেছিস তুই এভাবে কেন বিয়ে করলি সবাইকে জানিয়ে বিয়ে করলে আমরা একটু চিল করতে পারতাম বলে নিরবের দিকে তাকিয়ে এক চোখ টিপে ইশারা দিল সিজান।

দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট থেকেই অনেক ভালো বন্ডিং।সব সময় দুইজন দুইজনকে সাপোর্ট করে।সিজানের চোখ টেপা দেখে নিরব একটু চিন্তা মুক্ত হলো এই ভেবে যে বড় ভাই সামলে নিবে।

আদনান চৌধুরী সিজানের কথা শুনে আরও রেগে গেলেন। রেগে গিয়ে সিজানকে বললেন_____

"তুমি বড় ভাই থাকতে তোমার ছোট ভাই বিয়ে করে চলে আসছে আর তুমি তাকে প্রশ্রয় দিচ্ছ।"

"ও কাম অন ড্যাড একদিন তো বিয়ে করতোই কয়দিন আগে করে নিয়েছে সো হোয়াট। আর তাছাড়া সারাজীবন ও কার সাথে কাটাবে সেটা সম্পূর্ণ ওর ব্যাপার।"

এটা শুনে ফারিয়া বেগম বললেন_____

"আমিও তো এটাই বলতে চাচ্ছি, তাছাড়া দেখ আমার বউমা খুব সুন্দর হয়েছে"

সিজান আদনান চৌধুরীর কাছে গিয়ে বলল_____

"মম যখন মেনে নিয়েছে তখন তুমি আর ঝামেলা করোনা ড্যাড"

নিরব আদনান চৌধুরীর কাছে এসে বলল____

" প্লিজ ড্যাড "

সবার রিকুয়েস্ট শুনে আদনান চৌধুরী মুচকি হাসলেন। ইনায়া একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সবাইকে সালাম করল। তারপর সবাই বসে নতুন ব‌উকে নিয়ে গল্প করছে। আদনান চৌধুরী ইনায়াকে জিজ্ঞেস করল_____

"তোমার বাবার নাম কি??"

এটা শুনে নিরব ভয় পেয়ে গেল। তারপর ইনায়া কিছু বলার আগেই নিরব বলল____

"ওর বাবার নাম আবরার খান "

এটা শুনে ইনায়া একটু অবাক হলো নিরব মিথ্যা কথা কেন বলছে? তারপর ইনায়া আবার কিছু বলতে যাবে নিরব মাথা নেড়ে না ইশারা দিল। ইনায়া আর কিছু বলল না। কিছুক্ষণ গল্প করার পর সিজান বলল_____

"তোরা গল্প কর আমি তোদের বাসরের ব্যবস্থা করি " বলেই মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেল।

____________________________

সকাল সকাল সুবহা আজ ভার্সিটি গিয়েছে। ভার্সিটিতে ফ্রেন্ডদের সাথে ক্লাস শেষে আড্ডা দিচ্ছে। সবাই সবার মতো কথা বলছে। কিন্তু সজীব শুধু সুবহার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। রাতুল বিষয়টা অনেক্ষণ ধরে লক্ষ করছে। আস্তে করে সজীবের কানে কানে বলল____

" এভাবে দেখিস না ডাউট করবে শালা।"

সজীব সুবহার দিকে তাকিয়েই উত্তর দিলো_____

"এতো সুন্দর কেন ও, শুধু দেখেই যেতে ইচ্ছে করে"

সুবহাও অনেকটাই খেয়াল করছে বিষয়টা কিন্তু পাত্তা দিচ্ছে না। সুবহা হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে মেহেরিনকে বলল_____

"একটু আয় তো আমার সাথে"

"কোথায়?"

"এই তো এখানেই পাশে"

"চল"

সবাই বসে র‌ইল সুবহা আর মেহেরিন ওখান থেকে একটু সাইডে গিয়ে দাঁড়ালো। তারপর সুবহা ফিসফিসিয়ে বলল_____

"সজীবের বিহেবিয়ার একটু অন্যরকম লাগে না তোর কাছে?"

"অন্য রকম মানে কেমন"

"কয়দিন আগে আমার জন্য কয়েকটা বখাটে ছেলেকে ধরে আধমরা করে দিলো আর আজ দেখ কেমন আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।"

"হ্যাঁ, ঠিক বলেছিস আমিও নোটিস করেছি বিষয়টা, আমার মনে হয় সজীব তোকে লাইক করে "

"অ্যাহ, কি বলিস এসব?"

"অ্যাহ নয় হ্যাঁ, খোঁজ নিয়ে দেখ"

"ওএমজি, যদি এটা সত্যি হয় তখন কী হবে"

"কি আর হবে, ও তোকে প্রপোজ করবে আর তুই রাজি থাকলে এক চাপবি না থাকলে দুই " বলেই মেহেরিন হা হা করে হাসতে থাকে।

"দেখ ওর দিকে তাকিয়ে কেমন ফেলফেল করে চেয়ে রয়েছে আমার দিকে।"

"দিওয়ানা বস" বলে মেহেরিন আবার হাসতে থাকে।

"ধূর বাদ দে চল "

সবাইকে ডেকে নিয়ে ক্লাসে চলে গেলো একসাথে। বাকি ক্লাস গুলো শেষ করে বাড়ি ফিরল বিকেল বেলা।

রাতের বেলা বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করতেই সজীবের কথা মনে হলো সুবহার। তারপর ভাবতে শুরু করল_____

"ওকি সত্যিই আমাকে লাইক করে। নাহলে এভাবে তাকায় কেন আমার দিকে। ক‌ই মেহেরিন, কৃষ্টি, সাদিয়া এদের দিকে তো কখনো ওইভাবে তাকাতে দেখিনি। যায় হোক আমাকে এইসব থেকে দূরে থাকতে হবে। এমনিতেই ইনায়া আপুর বিষয়টা নিয়ে সবাই খুব আপসেট হয়ে রয়েছে। আমি কারো বিশ্বাস নষ্ট করতে পারব না। বাড়ির সবাই আমাকে খুব ভরসা করে। ইনায়া আপু পালিয়ে যাওয়াতে সবাই খুব ভেঙে পড়েছে। আবার আমিও এরকম কিছু করলে সবাই খুব আঘাত পাবে। এইসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেল মেয়েটি।

*****

ওদিকে নিরব আর ইনায়ার জন্য বাসর ঘর রেডি করেছে সিজান। ইনায়া বাসর ঘরে নিরবের জন্য ওয়েট করছে। রুমের বাইরে সিজান নিরবের সাথে অনেকক্ষণ ধরে মজা করছে। দুইভাই হাহা করে হাসছে। এমন সময় ফারিয়া বেগম এসে জিজ্ঞেস করলেন_____

" কিরে তোরা বাসর ঘরের সামনে কি করিস, আর সিজান তুমি এখনো নিরবকে এখনো যেতে দাওনি কেন??"

"মম আমি নিরবকে জিজ্ঞেস করছিলাম ওর কোনো শালি আছে কিনা তাহলে আমার লাইনটাও ক্লিয়ার হয়ে যেত আর কি"বলেই হাসতে থাকে সিজান।

"তুমি খুব দুষ্টু হয়েছো সিজান , ওকে ছেড়ে দাও ইনায়া রুমে ওয়েট করে আছে অনেক্ষণ" বলেই ফারিয়া বেগম চলে গেলেন। নিরব চুপটি করে লজ্জা লজ্জা মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। নিরবের লজ্জা লজ্জা মুখ দেখে সিজান বলল_____

"হয়েছে আর লজ্জা পেতে হবে না, তুই ছেলে মেয়ে না যে লজ্জা পাবি।"

নিরব একটু হাসি হাসি মুখ নিয়ে বলল_____

"কি যে বলিস ভাই তুই।"

"আচ্ছা অনেক হয়েছে এখন যা তুই নাহলে তোর ব‌উ আমাকে মনে মনে গালি দিবে, বেস্ট অফ লাক"বলেই সিজান চলে গেল নিজের রুমে।

তারপর নিরব রুমে প্রবেশ করতেই ইনায়া বেড থেকে নেমে এসে প্রশ্ন করল_____

"তুমি আমার বাবার নাম মিথ্যা বললে কেন?"

নিরব একটু থতমত খেয়ে বলল_____

"ও কিছু না এমনিই "

"এমনি এমনি অন্য কাউকে তুমি আমার বাবা বানিয়ে দিচ্ছ আর এটা আমাকে বিশ্বাস করতে হবে "

"আসলে ইনায়া আমি তোমার থেকে একটা অনেক বড় সত্যি লুকিয়েছি, কিন্তু বিশ্বাস করো আমি যা করেছি শুধু তোমাকে নিজের করে পাওয়ার জন্য করেছি।"

"ওয়াট, কি লুকিয়েছো তুমি বলো আমাকে"

"এখন থাক না আজ আমাদের একটা বিশেষ দিন এখন এইসব না বলি।"

"না বলো আমি এখনি শুনতে চাই।"

নিরব ইনায়াকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে বলল____

" আমাকে কোনদিন ছেড়ে যেওনা প্লিজ।"

নিরবকে কান্না করতে দেখে ইনায়া আর জোর করল না। নিরবকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল_____

"আমি তোমার আছি আর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তোমার‌ই থাকবো"

চলবে........
[ কেমন লেগেছে লাইক কমেন্ট করে জানাবেন। আপনাদের লাইক কমেন্ট আমাদের আগ্ৰহ বাড়ায় ]

23/08/2026

#অদৃশ্য_প্রণয় #উপন্যাস

 #অদৃশ্য_প্রণয় পর্ব:২লেখিকা: নিপা সরকার [ অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে নামাজ শেষ করে প...
23/08/2026

#অদৃশ্য_প্রণয়
পর্ব:২
লেখিকা: নিপা সরকার

[ অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]

ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে নামাজ শেষ করে পড়তে বসলাম। আস্তে আস্তে সকাল হতে থাকলো। মামা ঘুম থেকে উঠেই প্রতিদিন সকাল সকাল মাঠে চলে যায়। আজ‌কেও তার অন্যথা হলো না। পড়াশোনার ফাঁকে যতটা পারি আমিও মামাকে মাঠের কাজে হেল্প করি। মামার দুই ছেলে মাহিম আর ফাহিম ও এক মেয়ে জারিন। মামাতো ভাই-বোন সবাই আমার ছোট। যদিও ওরা আমাকে বড় ভাইয়ের সম্মান দেয় না কিন্তু আমি ওদেরকে ছোট ভাই-বোনের মতোই স্নেহ করি।

আমি পড়া শেষ করে ঘর থেকে বাইরে বের হলাম। মামি রান্নাঘরে রান্না করছেন। আমাকে বের হতে দেখে মাহিমকে বললেন_____

"তোর বাবাকে খাবার দিতে যেতে হবে কে যাবে?"

আমি কিছু বলার আগেই মাহিম বলল_____

"আমি যেতে পারব না, আমার স্কুল যেতে হবে।"

তারপর আমি বললাম মামিকে_____

"প্রতিদিন তো আমিই যায় মামি আজ আবার মাহিম কে বলছো কেনো?"

"তুই যাস তো কি হয়েছে আমার মাথা কিনে নিয়েছিস যা গিয়ে খাবারটা দিয়ে আয়"

আমি আর কথা না বাড়িয়ে খাবারটা মাথায় নিয়ে চলে গেলাম। কিছুক্ষণ পর মাঠে পৌঁছে দেখলাম মামা রোদের মধ্যে কাজ করছেন‌।মামাকে এইভাবে দেখলে আমার খুব কষ্ট হয়। আমি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে মামার এইসব কষ্ট দূর করে দিতে চায়। মামাকে ডেকে বললাম____

"মামা অনেক বেলা হয়ে গেছে খাবারটা খেয়ে নাও"

"রেখে দে আমি খাচ্ছি পরে"

"পরে না মামা এখনি খেয়ে নাও, তারপর কাজ করো"

"ঠিক আছে বাবা দে"

মামা এসে খাবার খাওয়ার জন্য বসলেন। আমিও পাশে বসে মামাকে খাবারটা এগিয়ে দিলাম। মামা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন _____

"তুই খেয়েছিস??"

"না মামা , আমি বাড়ি গিয়ে খেয়ে নিবো "

"পাগল ছেলে আমি জানি তুই না খেয়ে আমার জন্য আগে খাবার নিয়ে এসেছিস, এই নে খা" বলেই মামা এক লুতমা ভাত আমার মুখের সামনে ধরল।

আমার চোখদুটো পানিতে ঝাপসা হয়ে আসলো । তারপর চোখদুটো দুইহাত দিয়ে মুছে খাবারটা মুখে নিলাম। মামা নিজেও খেলেন আর আমাকেও খাইয়ে দিলেন। খাওয়া শেষ করে আমিও মামার কাজে হেল্প করলাম। তারপর দুইজন একসাথে দুপুর বেলা বাড়ি ফিরলাম। বাড়ি ফেরার পর মামি আমাকে বললেন____

"তোর জন্য খাবার রাখা আছে যা গিয়ে খেয়ে নে"

"মামি আমি আর মামা মাঠে খেয়েছি, এখন আর ক্ষুধা নেয়"

"কিহ, তোর মামার খাবারে ভাগ বসিয়েছিস ওইটুকু খাবার তো তাহলে তুই সব খেয়ে নিয়েছিস"

এটা শুনে মামা অনেক রেগে গেলেন। আর মামিকে অনেক বকাঝকা করলেন। আমার খুব খারাপ লাগে আমার জন্য মামা আর মামির মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝামেলা হয়েই থাকে।

____________________________

বিকেল বেলা গ্ৰামের মাঠে গেলাম ফুটবল খেলতে। সেখানে তূর্যও এসেছে। তূর্য ছাড়াও আরও অনেক ফ্রেন্ড সেখানে উপস্থিত ছিলো। সবাই মিলে সন্ধ্যা পর্যন্ত খেলাধুলা করে বাড়ি ফিরলাম।

বাড়ি ফিরে খাওয়া দাওয়া করে পড়তে বসলাম। পরীক্ষার পড়া যেন শেষ‌ই হয় না।দরিদ্র হ‌ওয়ার কারণে বাড়িতে বিদ্যুৎ ও নেয়। বাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। জানিনা কবে এই দরিদ্রতা ঘুচবে। তারপর‌ও মামা তার সর্বোচ্চ দিয়ে সাহায্য করেন আমার পড়াশোনার জন্য। আমার মামাতো ভাই-বোন তেমন পড়াশোনা করতে চায় না। তাই মামার আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন। আমিও আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করব মামার স্বপ্ন পূরণ করার।

রাত ১:০০ টা বাজে। আমি পড়ালেখা শেষ করে ঘুমাতে গেলাম। তবে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আমার একটা অভ্যাস রয়েছে সেটা হলো সারাদিন কি হয়েছে তা ডায়রির পাতায় লিখে রাখা। ছোটো বেলা থেকেই আমার এই অভ্যাসটা রয়েছে। তবে আমার এই ডায়রি লেখার বিষয়টা শুধু তূর্য জানতো। আমার জীবনের সুখ, দুঃখ, পছন্দ, অপছন্দ, সবকিছুই আমি তূর্যর সাথে শেয়ার করি। তবে যেগুলো তূর্যর সাথেও শেয়ার করতে পারিনা সেগুলো ডায়রির সাথে শেয়ার করি। এতে আমার অনেক হালকা লাগে।

এভাবেই দিন চলতে থাকে। আমি এইচএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি।

অন্যদিকে তূর্য ওর বিদেশে বিজনেস করার খুব শখ। এইচএসসি এরপর বিদেশ চলে যাবে আমাকে ছেড়ে। আমি অনেকটা একা হয়ে যাব। কিন্তু কিছু করার নেই। আমিও চাই ও সফল হোক ওর মতো করে।

দেখতে দেখতে পরীক্ষার দিন চলেই আসলো। আগামীকাল আমার প্রথম পরীক্ষা। রাতের বেলা পড়াগুলো ভালোভাবে রিভিশন দিয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। সকাল সকাল মামা ডেকে দিলেন। আমি ঘুম থেকে উঠে নামাজ শেষ করে আরেকটু পড়তে বসলাম। ১০:০০ টায় পরীক্ষা শুরু ৯:০০টা বেজে গেছে। মামি খুব তাড়া দিচ্ছেন আমাকে যেন প্রথম পরীক্ষায় দেরি না হয়ে যায়। আমি রেডি হয়ে পরীক্ষার জন্য বেরিয়ে পড়লাম।আজ প্রথম দিন হ‌ওয়ায় মামাও আমার সাথে যাচ্ছেন।

ওদিকে তূর্য ওর বাবার সাথে পরীক্ষার সেন্টারে আসছে। ৯:৩০ বাজে আমি আর মামা পরীক্ষার সেন্টারে পৌঁছালাম। তূর্য বাইকে করে আসায় আমার আগেই পৌঁছে গেছে। আমি তূর্যকে অনেক খুঁজে বের করলাম।

তারপর দুইজন মিলে দুইজনের সিট খুঁজে বের করলাম। দুইজনের সিট আলাদা আলাদা রুমে পড়েছে। তূর্যর বাবা আমাদের বেস্ট অফ লাক জানিয়ে চলে গেলেন। কিন্তু আমার মামা থেকে গেলেন। ১০:০০ বেজে গেল আমাদের পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল।

পরীক্ষা শেষ করে বাইরে এসে দেখলাম মামা আমার জন্য ওয়েট করছেন। আমাকে আসতে দেখে দৌড়ে চলে আসলেন আমার কাছে। তারপর জিজ্ঞেস করলেন পরীক্ষা কেমন হয়েছে??

আমি বললাম _____

"আলহামদুলিল্লাহ,মামা সব‌ই কমন প্রশ্ন ছিল টেনশন করোনা।

কিছুক্ষণ পর তূর্য রুম থেকে বেরিয়ে আসলো। ওর মুখটা মলিন হয়ে রয়েছে। মুখে কোনো হাসি নেই। আমি জিজ্ঞেস করলাম প্রশ্ন কেমন ছিল?? তূর্য উত্তর দিলো জানিসই তো আমার পড়াশোনা চল যা হয়েছে হয়েছে।

তূর্য আমাকে আর মামাকে বাইকে করে বাড়ি পর্যন্ত রেখে গেল।

_______________________________

এক এক করে সব পরীক্ষা শেষ হলো আজ। পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি এসে ফ্রেশ হলাম। তারপর খাওয়া দাওয়া করে বিকেল বেলা নদীর ধারে গেলাম। তূর্য ওখানেই আসবে বলেছে। আমি কিছুক্ষণ ওয়েট করতেই তূর্য এসে পৌঁছাল। দুইজন একসাথে পাশাপাশি বসলাম নদীর পাশ ঘেঁষে। তূর্য আমাকে জিজ্ঞেস করল_____

"রেজাল্টের পর কি করবি??"

"আমার স্বপ্নের ভার্সিটির ট্রাই করব"

"ওহ আচ্ছা ঢাকা ইউনিভার্সিটি"

"হুম।আর তুই??"

"আমি তো হুশ করে চলে যাবো বিদেশ সবকিছু রেডি হয়ে গেছে।"

"বিদেশ তো যাবি বাট কোন দেশে??"

"লন্ডন, সেখানে গিয়ে আমার বিজনেস ক্রিয়েট করবো"

"আমাকে মনে পড়বে না তোর??"

"ভীষণ"

"আমি কিন্তু তোকে খুব মিস করবো যে তূর্য"

"আমার শরীর লন্ডনে থাকলেও মন সামিরের কাছেই থাকবে"

"সত্যি বলছিস"

"সত্যি, আর শোন আমি তো থাকবো না আমার ফ্যামিলিকে একটু দেখিস।"

"এটা কোনো কথা বললি তোর ফ্যামিলি কি আমার ফ্যামিলি না শালা"

"হ্যাঁ তা তো অবশ্যই"

"তাহলে আলাদা করে দেখার কথা বলা লাগবে কেন"

"ওই এমনিই রে দোস্ত"বলে কান্না করে দিলো তূর্য "

"শালা কাঁদছিস কেন বুকে আয়"বলে সামির তূর্যকে বুকে জড়িয়ে নিলো। সামিরের চোখেও পানি টলমল করছে।

কিছুক্ষণ এরকমই চললো। তারপর দুইজন সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরল।

চলবে.........

[ সময়ের অভাবে পর্বটা ছোট করে লিখলাম। এরপর থেকে বড় পর্ব দিবো ইনশাল্লাহ। সবাই লাইক কমেন্ট করে জানাবেন কেমন হয়েছে। আপনাদের লাইক কমেন্ট আমাদের আগ্ৰহ বাড়ায় ]
#অদৃশ্য_প্রণয়
#উপন্যাস


 #প্রেমরুদ্ধ পর্ব:১৩লেখিকা: নিপা সরকার [ অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]ইশায়াতের লোকজন ইনায়া আর নিরবকে নিয়ে ...
17/08/2026

#প্রেমরুদ্ধ
পর্ব:১৩
লেখিকা: নিপা সরকার

[ অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]

ইশায়াতের লোকজন ইনায়া আর নিরবকে নিয়ে জোরে গাড়ি চালাচ্ছে।ইনায়া আর নিরব গাড়ির ব্যাক সিটে বসে আছে। ইনায়া নিরবের হাত শক্ত করে ধরে রেখেছে।ভয়ে রীতিমতো মেয়েটার শরীর কাঁপছে।নিরব ইনায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল _____

"রিলাক্স, আমাদের এক হ‌ওয়া থেকে আর কেউ আটকাতে পারবে না"

কাঁপা কাঁপা গলায় ইনায়া বলল____
"আ... আমার অনেক ভ...ভয় করছে নিরব"

"আর কোনো ভয় নেই আমিতো আছি"

"ড্যাড যদি জানতে পারে আমি বাড়িতে নেই তখন কী হবে"

"যা হ‌ওয়ার হবে আর ইশায়াত তো আছেই ও সব সামলে নিবে তুমি টেনশন করোনা"

হঠাৎ করেই ড্রাইভার একটা কাজী অফিসের সামনে গাড়িটা থামালো। তারপর গাড়ি থেকে নেমে ইনায়া আর নিরবকে নিয়ে ইশায়াতের লোকেরা কাজী অফিসের মধ্যে প্রবেশ করল।

আগে থেকেই সবকিছু ঠিক করা আছে এখন শুধু বিয়ে পড়ানো হবে।ইনায়া আর নিরবকে কাজী সাহেবের সামনে বসানো হলো।

কাজী সাহেব বিয়ে পড়াচ্ছেন____
মোঃ আমজাদ চৌধুরীর পুত্র নিরব চৌধুরীর সাথে ১০লক্ষ ১টাকা দেনমোহর ধার্য করিয়া মোঃ আশিক শেহজাদের কন্যা ইনায়া শেহজাদের বিবাহের প্রস্তাব দিলাম, রাজি থাকলে বলো মা আলহামদুলিল্লাহ কবুল।

ইনায়া চুপ করে বসে রয়েছে। কাজী সাহেব তিনবার বলার পর ইনায়া বলল____

আলহামদুলিল্লাহ কবুল, কবুল, কবুল।

এক‌ইভাবে নিরবকেউ বিয়ে পড়ানো হলো। কাজী একবার বলাতেই নিরব কবুল বলে দিয়েছে।আজ আগস্টের ১৬ তারিখ ইনায়া ও নিরবের বিয়ে সম্পন্ন হলো।

______________________________

এদিকে বিয়ের মন্ডপে কাজী সাহেব ইনায়াকে নিয়ে আসার জন্য বলছেন। মাহিরা বেগম ইনায়ার রুমে গিয়ে দেখলেন রুমে কেউ নেই। মাহিরা বেগম পুরো বাড়ি খুঁজে ইনায়াকে না পেয়ে বিয়ের মন্ডপে ফিরে আসলেন। জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে নিতে আশিক শেহজাদকে বললেন পুরো বাড়ি খুঁজে দেখেছি তোমার মেয়ে কোথাও নেই। আশিক শেহজাদ চিৎকার দিয়ে বললেন_____

"ওয়াট, কী বলছো তুমি এসব"

"আমি ঠিকই বলছি।"

সবাই ইনায়াকে খুঁজতে ব্যস্ত এমন সময় আয়মান এসে বললো_____
"
বড় আব্বু আমি জানি ইনায়া আপু কোথায়।"

"জানলে বলো কোথায় ইনায়া"

মাথা নিচু করে বলল আয়মান____
"ইনায়া আপু অন্য একটা ছেলের সাথে পা... পালিয়ে গিয়েছে।"

"কিহ, আমার মেয়ে হয়ে এমন কাজ করতে পারল ইনায়া, তুমি ওকে আটকালে না কেন আয়মান।"

"আমি ছাদের উপর ছিলাম কারা যেন ইনায়া আপুকে গাড়ি করে নিয়ে চলে গেল। আমি নিচে যেতে যেতেই গাড়ি গুলো অনেক দূরে চলে গেল।"

এটুকু শুনেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল মাহিরা বেগম। ইশায়াত দৌড়ে গিয়ে মাহিরা বেগমকে কোলে তুলে নিলো। তারপর ড্রয়িং রুমে গিয়ে সোফার উপর শুইয়ে দিলো। সবাই মাহিরা বেগমকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। ইশায়াত ডক্টরকে কল করল। ডক্টর এসে ট্রিটমেন্ট করার পর মাহিরা বেগম একটু সুস্থ হয়ে উঠলেন।

আশিক শেহজাদ সবার উদ্দেশ্যে জিজ্ঞেস করলেন____

"ইনায়া কীভাবে পালালো "

আয়মান বলে উঠল____

"ইশায়াত ভাইয়া ইনায়া আপুকে হেল্প করেছে বড় আব্বু।

"ওয়াট...এসব কী শুনছি আমি ইশায়াত," ইশায়াতকে জিজ্ঞেস করলেন।

"হ্যাঁ, আমি হেল্প করেছি আমার মনে হয়েছে আমার বোন নিরবের সাথেই ভালো থাকবে।"

"ছিঃ ইশায়াত তুমি এমন একটা জঘন্য কাজ করবে তা আমি কখনোই ভাবিনি।এখন আমি ঈশান আর তার বাবাকে কি জবাব দিবো।"

সাইফ খান আশিক শেহজাদের কাছে এসে বললেন____

" আমাকে কিছু বলতে হবে না ভাই আমি জানি আপনি কেমন মানুষ, তবে আপনার মেয়ের থেকে আমি এমনটা আশা করিনি ভালো থাকবেন।" বলেই সাইফ খান তার ছেলে ঈশান ও লোকজনদের নিয়ে চলে গেলেন।সকল আত্মীয়-স্বজন ফিসফিস করছে আশিক শেহজাদের মেয়ে এমন কাজ করেছে। আশিক শেহজাদ সোফার উপর বসে কান্না করতে শুরু করলেন কান্না করতে করতে বললেন_____

"কোন ইচ্ছেটা অপূর্ণ রেখেছিলাম যে আমার ছেলে মেয়ে আমার মান সম্মান ধূলোয় মিশিয়ে দিলো।"

ইশায়াত এসে বাবার সামনে ফ্লোরে বসল। তারপর আশিক শেহজাদকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল____

"ইনায়া ওখানে ভালো থাকবে ড্যাড তুমি দেখো ," বলেই আশিক শেহজাদের হাত দুটো ধরতে গেল ইশায়াত।

কিন্তু আশিক শেহজাদ ইশায়াতের হাত দুটো ছুড়ে ফেলে দিয়ে উঠে দাড়িয়ে বললো_____

"আজ থেকে তুমি আমার ছেলে না। আর ইনায়াকে বলে দিও ওকেও আমি ত্যায্যকন্যা করলাম। আজ থেকে আমার একটাই মেয়ে আরিবা। শাহিদ শেহজাদ ও নিয়াজ শেহজাদ অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেন আশিক শেহজাদকে । কিন্তু তিনি কারো কথা শুনলেন না। রাগান্বিত হয়ে বললেন _____

"আজ থেকে তুমি আর কখনো আমার সামনে আসবেনা ইশায়াত ।" বলেই আশিক শেহজাদ নিজের রুমে চলে গেলেন।

শাহিদ শেহজাদ ও নিয়াজ শেহজাদ মেহমানদেরকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। বাড়ির ছোট বড় সবাই ড্রয়িং রুমে দাড়িয়ে রয়েছে। সুবহা মনে মনে ভাবছে_____

"আমিও তো ইনায়া আপুকে পালাতে হেল্প করেছি তাহলে আয়মান আমার নামটা কেন বড় আব্বুকে বলল না, হয়তো আয়মান আমাকে দেখতে পায়নি যাক আলহামদুলিল্লাহ।"

ইশায়াত ফ্লোর থেকে উঠে সোফায় বসল। দুই হাত থুতনি আর হাঁটুর সাথে লাগিয়ে রেখেছে।

বাড়ির সবাই নিস্তব্ধ কেউ কোনো কথা বলছে না। সবার‌ই মনের অবস্থা খারাপ। এমন সময় ইশায়াতের ফোন বেজে উঠল......

ইশায়াত ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ইশায়াতের লোক বলল____

" স্যার আপনার বোন ও দুলাভাইকে বিয়ে করিয়ে হোটেলে পৌঁছে দিয়েছি।"

"ঠিক আছে খেয়াল রেখো কখন কী লাগে।"

"ওকে স্যার"

৩ দিন পর

তিন দিন হয়ে গেছে ইনায়ার পালিয়ে যাওয়া। শেহজাদ বাড়ি এখনো ওরকম নিরব স্তব্ধ। সবাই খুব কম কথা বলছে। সবার মুখে যেন এক আকাশ পরিমাণ কালো মেঘ জড়ো হয়ে আছে। না জানি কখন ঝড়ো বাতাসে এই মেঘ সরে স্বচ্ছ আকাশের দেখা মিলবে। ইশায়াত অনেকবার তার বাবা আশিক শেহজাদের সাথে কথা বলার ট্রাই করেছে । কিন্তু আশিক শেহজাদ ক্রমশ ইশায়াতকে ইগনোর করে চলেছে।

মাহিরা বেগম অবশ্য মনে মনে চাইতেন ইনায়া যাকে পছন্দ করে বিয়েটা যেন তার সাথেই হয়। তাই তিনি একরকম মেনেই নিয়েছেন সবটা।

অফিসে কাজের চাপ বেড়েছে ‌। বিয়ের জন্য কিছুদিন ঠিকমতো অফিসের কাজ হ্যান্ডেল করতে পারেনি। তাই আজ সকালেই অফিসের উদ্দেশ্যে র‌ওনা দিয়েছে ইশায়াত।

ইশায়াত অফিস শেষ করে বিকেলে রাফসান আর সাকিবের সাথে একটা রেস্টুরেন্টে মিট করতে গেল।
রাফসান আর সাকিব রেস্টুরেন্টের বাইরে ইশায়াতের জন্য ওয়েট করছে। ইশায়াতকে বাইক নিয়ে আসতে দেখে সাকিব বলল ব্রো চলে এসেছে। ইশায়াত বাইক থামিয়ে মাথার হেলমেট খুলে বাইক থেকে নামল। তারপর তিনজন হ্যান্ডসেক করে রেস্টুরেন্টের ভিতরে ঢুকল। তিনজন একটা টেবিলে বসল ইশায়াত জিজ্ঞেস করল_____

"কী খাবি তোরা বল।"

রাফসান বলল_____

"কিছু একটা অর্ডার দে।"

ইশায়াত তিনটা কোল্ড কফি ও তিনটা চাউমিন অর্ডার করলো।

কফি খেতে খেতে রাফসান জিজ্ঞেস করল_____

"বাড়ির অবস্থা এখন কেমন ইশায়াত??"

ইশায়াতের মুখটা ভীষণ গম্ভীর হয়ে আছে। যেন অজস্র কালো মেঘ ছেয়ে আছে। মাথা নিচু করে উত্তর দিলো_____

"বাড়ির কন্ডিশন ভালো না,সবার মন খারাপ আর ড্যাড তো আমার সাথে কথাই বলছে না।"

"তাহলে এখন কী করবি??"

"কি আর করব দেখি কবে সিচুয়েশন নরমাল হয়"

মাঝখানে হাত থেকে কফি রেখে সাকিব বলল_____

" আমার মনে হয় তুই একবার আঙ্কেলের সাথে কথা বলে দেখ , বুঝিয়ে বল সবটা।"

"ট্রাই করেছি অনেকবার, তোরা তো জানিস ড্যাড কেমন রাগি, আর দেখলি তো বিয়ের দিন কত রেগে গেছিলো"

"তা তো দেখলাম‌ই"

"বাট একটা চিন্তা আমার মাথায় ঘুরছে"

"কী চিন্তা??"

"ইনায়া বাইরের ছেলের সাথে পালিয়ে যাওয়াতে ড্যাড আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে আর সুবহাকে আমি বিয়ে করতে চাইলে তখন কী হবে !!"

সবটা শুনে রাফসান আর সাকিব একসাথে বলল____

"এটা কিন্তু ঠিক বলেছিস"

রাফসান জিজ্ঞেস করল_____

"তোর ফ্যামিলি মেনে না নিলে কি করবি ব্রো তুই কি সুবহাকে ভুলে যাবি"

"প্রশ্ন‌ই আসে না, পুরো পৃথিবীর সাথে লড়াই করে হলেও আমার সুবহাকেই চাই"

"কিন্তু সুবহাকে কবে বলবি যে তুই ওকে ভালোবাসিস!?"

"বলবো বলবো, সময় হলে সব বলবো আগে সুবহা একটু ম্যাচিউর হোক নাহলে এতো বড় ধাক্কা সামলাতে পারবে না , ওকেও তো আমার জন্য ফাইট করতে হবে"

"হুম তা ঠিক "

"এখন তোদের খবর কী বল??"

সাকিব চাউমিন খেতে খেতে বলল_____

"দারুণ প্রশ্ন করেছিস রাফসান তো একটা মেয়ের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে মেয়েটা সুবহার‌ সাথেই পড়ে"

"তাই নাকি দোস্ত "ইশায়াত রাফসানের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল।

রাফসান একটু লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে বলল____

"হ্যাঁ,ব্রো মেয়েটা সুবহার‌ই বেস্ট ফ্রেন্ড"

"তাই নাকি নাম কি??

"মেহেরিন শেখ"

"তা প্রেমটা কীভাবে হলো , হাসি হাসি মুখ নিয়ে জিজ্ঞেস করল ইশায়াত।

"শালা তুই তো মাঝে মাঝে সুবহার ওপর নজর রাখতে বলিস, আর ও তো সবসময় সুবহার সাথেই থাকে কখন যে আমার নজর ওর ওপর আটকে গেছে আমি নিজেও বুঝতে পারিনি।"

"ওহ আচ্ছা প্রেমে পড়েছো তুমি আর এখন দোষ আমার " এটা শুনে সবাই হা হা হিহি করে হাসতে শুরু করল।

"ব্রো যেভাবেই হোক আমার ওই মেয়েকে চাই"

"ঠিক আছে টেনশন করিস না আমি আছি"

"ওকে ব্রো"

ইশায়াত সাকিবের দিকে তাকিয়ে বললো_____

" আর তুই কবে খুঁজে পাবি তোর প্রেয়সীকে নাকি সিঙ্গেল‌ই থেকে যাবি শালা" বলে হাসতে থাকে ইশায়াত।

সাকিব মুখটা একটু ছোট করে উত্তর দিলো_____

"তিন মাস পর আমি বিদেশ চলে যাব কোম্পানির কিছু কাজ আছে সেগুলো শেষ করে এসে বিয়ে করব।"

"ওওও শালা একদম ডিরেক্ট বিয়ে"বলেই ইশায়াত আর রাফসান হাসতে থাকে।

কিছুক্ষণ পর খাবার গুলো শেষ করে ইশায়াত বললো_____

" ঠিক আছে দোস্ত আবার অন্যদিন দেখা হবে"বলেই ইশায়াত টেবিল থেকে উঠে দাঁড়ালো।

রাফসান আর সাকিব বলে উঠলো ____

"দাঁড়া আমরাও যাবো চল "

তারপর তিনজন একসাথে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে এসে মাঝরাস্তা পর্যন্ত একসাথে আসল। তারপর যে যার মতো বাড়ি চলে গেল।

চলবে
[ কেমন লেগেছে কমেন্ট করে জানাবেন। আপনাদের লাইক কমেন্ট আমাদের আগ্ৰহ বাড়ায় ]
#প্রেমরুদ্ধ


 #অদৃশ্য_প্রণয়পর্ব:১লেখিকা: নিপা সরকার [ অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]রাত ১০:০০ টা বাজে সাইরা তার খুঁজে পাওয...
14/08/2026

#অদৃশ্য_প্রণয়
পর্ব:১
লেখিকা: নিপা সরকার

[ অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]

রাত ১০:০০ টা বাজে সাইরা তার খুঁজে পাওয়া ডাইরিটা খুলল। বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলো জ্বালিয়ে ডায়রিটা পড়ছে। ডায়রিতে লেখা ছিল আমি সারফান আদ্রিয়ান সামির এবং সাইফান সাফিন তূর্য স্কুল লাইফ থেকেই দুজন বেস্ট ফ্রেন্ড। ছোটবেলা থেকেই অনেক অভাব অনটনের মধ্যে বড় হয়েছি আমি। যখন আমার বয়স তিন বছর তখন একটা গাড়ি এ্যাক্সিডেন্টে আমার মা- বাবা মারা যান। তারপর থেকে মামার বাড়িতেই বড় হয়েছি। মামা সাজ্জাদ করিম আমাকে খুব ভালবাসলেও মামি রোকসানা বেগম কখনোই আমাকে তার সন্তানের নজরে দেখেননি। সবসময় তার সন্তানদের থেকে আমাকে আলাদা নজরে দেখেছেন। মামাতো ভাই-বোন‌ও আমাকে ভালো নজরে দেখেনি কখনো। মামার বাড়িতে নানা- নানি এবং মামাই আমাকে খুব ভালোবাসতেন। কিন্তু নানা-নানির মৃত্যুর পর মামা ছাড়া এই দুনিয়ায় আমার আর আপন কেউ নেই।

আছে বলতে একজন।সে হলো আমার কলিজার টুকরা বন্ধু সাইফান সাফিন তূর্য। মামা যেদিন প্রথম আমাকে স্কুলে নিয়ে গেছিলো। সেদিন আমি অনেক কান্না করেছিলাম। তখন তূর্য আমাকে জিজ্ঞেস করে তুমি কান্না করছো কেন??

আমি বলেছিলাম____
"মামা আমাকে রেখে চলে গেছে। আমি খুব একা।"

তখন তূর্য বলেছিল____
"তুমি একা ন‌ও আমি আছি তো তোমার সাথে আজ থেকে আমরা দুজন বন্ধু। তোমার নাম কী??"
"সারফান আদ্রিয়ান সামির, তোমার নাম কী??"
"সাইফান সাফিন তূর্য"
"আজ থেকে আমরা দুজন দুজনের বেস্ট ফ্রেন্ড"
"ঠিক আছে"

আজকের পর থেকে আমার ভালোবাসার মানুষ দুইজন আমার মামা সাজ্জাদ করিম এবং আমার বেস্ট ফ্রেন্ড সাইফান সাফিন তূর্য।

এই দুইজনকে ঘিরেই আমার জীবন অতিবাহিত হতে থাকে। কিন্তু একটা বিষয় আমাকে খুব কষ্ট দিতে থাকে। সেটা হলো আমরা গরীব হলেও তূর্যর বাবা ছিলেন একজন বিশিষ্ট বিজনেস ম্যান। যথেষ্ট টাকা পয়সার মালিক। এই একটা বিষয়ের জন্য আমি তূর্যর থেকে দূরে দূরে থাকি। কিন্তু তূর্য সবসময় আমাকে নরমাল ভাবেই ট্রিট করে কখনো হীন নজরে দেখতো না।

আজ তূর্যকে আমি আমাদের বাসায় নিয়ে আসি। বাসায় তেমন কোনো খাবার নেই। আমি তূর্যকে পান্তা ভাত সাথে কাঁচা মরিচ ও একটু লবণ দিলাম খাওয়ার জন্য। তূর্য খাবারটা খেয়ে খুব খুশি হলো কারণ ও এর আগে কখনো এরকম খাবার খায়নি।

পরেরদিন আমি স্কুলে গেলে তূর্য আমাকে ওদের বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য জোরাজুরি করে। আমি রাজী না হ‌ওয়া সত্ত্বেও আমাকে জোর করে নিয়ে যায়। ওদের তিন তলা ফ্ল্যাট বাড়ি দেখে আমি অবাক হয়ে যায়। বাড়ির ভেতর ঢুকতেই সামনে দাঁড়িয়ে তূর্যর বাবা তৌহিদুল ইসলাম। আমি সালাম দিলাম_____

"আসসালামুয়ালাইকুম আঙ্কেল"
"ওয়ালাইকুমুস সালাম বাবা"

তিনি তূর্যকে জিজ্ঞেস করেন আমি কে ?
তূর্য বলল____
"আমার বেস্ট ফ্রেন্ড সামির"
"ওহ আচ্ছা ওকে ভেতরে নিয়ে যাও"
"ঠিক আছে ড্যাড"

তূর্য আমাকে ওর মা ফারহানা বেগমের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। আন্টি আমাকে ডাইনিং টেবিলে বসিয়ে নানান রকম নাস্তা দিলেন। তারা সবাই আমাকে খুব যত্ন সহকারে আপ্যায়ন করলেন। যা দেখে আমি কান্না করতে শুরু করি। ফারহানা বেগম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন____
"তুমি কাঁদছো কেন বাবা??"
"আমার মা-বাবা কেউ নেই" বলেই আবার কান্না করতে শুরু করি আমি।
তখন ফারহানা বেগম আমাকে সান্তনা দিলেন____
"কে বলেছে তোমার মা-বাবা নেই আমরাই তোমার মা-বাবা। তুমি চাইলে আমাদের মা-বাবা বলে ডাকতে পারো।"
"সত্যি আন্টি"
"হুম বাবা সত্যি"
"মা" বলে কান্না করতে করতে আমি টেবিল থেকে উঠে ফারহানা বেগমকে জড়িয়ে ধরি। তিনি নিজের শাড়ির আঁচল দিয়ে আমার চোখের পানি মুছে দিলেন।

খানিক পর আঙ্কেল তৌহিদুল ইসলাম আমাকে কোলে নিয়ে চোখ মুছে দিয়ে বললেন আর আমিই তোমার বাবা আজ থেকে আমাকে বাবা বলে ডাকবে।

আমি চোখের পানি আটকে রাখতে পারছি না।আজকে যেন আল্লাহ আমাকে একটা নতুন পরিবার উপহার দিলেন। সেদিনের পর থেকে তূর্যর ছোট বোন আমাকে সামির ভাইয়া বলে ডাকে। একটা মিষ্টি ছোট বোন পেয়ে আমি খুব খুশি হলাম।

সেদিনের পর থেকে আমি প্রায়ই তূর্যদের বাসায় আসতাম সবার সাথে দেখা করতে।

একদিন মামি আমাকে টিফিনে পান্তা ভাত ও আলুর ভর্তা দিয়েছেন। টিফিন টাইমে তূর্য সেটা দেখে আমার টিফিন বাটি কেড়ে নিয়ে সবটুকু ভাত বাইরে ফেলে দিলো। তারপর ওর বাটি থেকে কিছুটা ভাত আর গরুর মাংস দিলো।

তূর্য বাসায় গিয়ে ওর মাকে বলায় ওর মা পরেরদিন থেকে দুইটা টিফিন দিতেন তূর্য ও আমার জন্য। দুজন সবসময় স্কুলে পাশাপাশি বসি। তূর্য পড়াশোনায় তেমন একটা ভালো না। ও বরাবরই আমার দেখে লেখে পরীক্ষায়। ক্লাসের মধ্যে টপার হলাম আমি। মামা সবসময় আমাকে ভালো করে পড়াশোনা করতে বলেন। মামার কথামতো আমি মন দিয়ে পড়াশোনা করি তারপর অন্য কিছু।

প্রতিদিন আমি ছেঁড়া জামা পরে স্কুলে যায় দেখে তূর্যর বাবা আমাকে অনেক গুলো জামা কিনে দিয়েছিলেন। আমি অবশ্য নিতে চায়নি। তিনি একরকম জোর করেই কিনে দিয়েছিলেন।

এভাবে চলতে চলতে আমরা ক্লাস ফাইভে উঠলাম। এখনো আমাদের বন্ধুত্বটা ওরকম সুন্দর রয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।

সাত বছর পর

আমি ডাইরি লিখতে খুব ভালোবাসি। তবে অনেকদিন লেখা হয়নি।

এখন আমরা ইন্টর সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। সামনে এইচ‌এসসি পরীক্ষা। পড়াশোনার অনেক চাপ। অনেকদিন যাবৎ তূর্যর সাথে দেখা হয়নি। ওকে একটা কল করি।

সামির তূর্যকে কল করল রিং হচ্ছে____
তিনবার রিং হ‌ওয়ার পর ফোনটা রিসিভ হলো।
"হ্যাঁলো দোস্ত কোথায় তুই"
"আমিতো বাড়িতে তুই কোথায়??"
"আমিতো ফিল্ডে ফুটবল খেলছি"
"সামনে পরীক্ষা একটু পড়াশোনা কর খেলাধুলা পরে করিস"
"আরেহ দোস্ত যা হয় হবে ফেইল করলে বিদেশ তো আছেই যাওয়ার জন্য।"
"এটা কোনো কথা তুই আমাকে ছেড়ে চলে যাবি।"
"তূর্যর শরীর যেখানেই থাক মন সামিরের কাছেই থাকবে।"
"না না বিদেশি মেয়েদের প্রেমে পড়ে মন তখন ওদেরকে দিয়ে দিবি শালা।" বলে একটু হাসাহাসি করল দুজন।
"না রে কোনো মেয়েই তোর জায়গা নিতে পারবে না কখনো।"
"আচ্ছা চল বিকেলে মিট করি।"
"ওকে কলেজের সামনে চলে আসিস আমি ওখানেই থাকবো।"
"ওকে রাখি তাহলে"
"হুম"

______________________________

বিকেল বেলা দুইজন মিট করলাম। আমি একটা সাইকেল নিয়ে গেলাম সেখানে। কিছুক্ষণ ওয়েট করার পর তূর্য একটা বাইক নিয়ে এসে পৌঁছাল। ওকে আসতে দেখে আমি বললাম_____
"কিরে,বাইকে করে আসছিস তাও আমার আগে পৌঁছাতে পারলি না।"
"আর বলিস না মাঝপথে জ্যামে আটকে পড়েছিলাম।"
"তো বল পড়াশোনা কতদূর?"
"আমার পড়াশোনা ভাল্লাগে না জানিস তো আমি চাই বিদেশ যেতে "
"হ্যাঁ তো বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা করবি সমস্যা কি?"
"না আমি বিদেশে যাবো টাকা ইনকাম করতে, অনেক টাকা ইনকাম করব আমার ফিউচার ব‌উয়ের জন্য "

"তোর সেই এক কথা তোকে আর আমি বোঝাতে পারলাম না তোর বাবার কি টাকা কম আছে যে তুই টাকা ইনকাম করতে যাবি তার চেয়ে ভালো করে পড়াশোনা কর"
"না আসলে আমি চাই আমার নিজের টাকা হোক, আমার বাবার টাকা দিয়ে আমি চলতে চাইনা।"
"ভালো তো, সেটা তো পড়াশোনা করেও পসিবল।"
"পড়াশোনা করার মতো আমার ওতো ধৈর্য নেই ভাই।"
"তোকে বোঝানো আমার কর্ম না যা ভালো বুঝিস কর, এখন চল চা খাওয়া যাক।"
"হ্যাঁ,চল"

দুজনে পাশের একটা চায়ের দোকানে বসে চা খেতে খেতে কিছুক্ষণ গল্প করলাম।

"সন্ধ্যা হয়ে গেছে দোস্ত আমাকে পড়তে বসতে হবে আজ বাই দেখা হবে সি ইউ।"
"তুই আর তোর পড়াশোনা ঠিক আছে যা বাই"

আমি সাইকেল করে বাড়ি এসে খাওয়ার জন্য মামির কাছে খাবার চাইলাম।মামি একটু মুখ বাঁকিয়ে
বললেন ____
"এতো দেরি করে এলি খাবার তো সব শেষ হয়ে গেছে রে সামির।"
আমার চোখদুটো ভিজে আসলো। চোখের পানিতে মামিকে ঝাপসা দেখছি। এমতাবস্থায় বললাম _____
"ঠিক আছে মামি আমার পেট ভরা আছে আজ আর খাব না"


বলেই দৌড়ে ঘরে চলে গেলাম। এরকম আজ আমার সাথে নতুন ঘটনা নয়। মামি প্রায়ই আমাকে বলেন খাবার শেষ হয়ে গেছে। আমার আর তেমন কষ্ট হয় না অভ্যাস হয়ে গেছে সবটা।

চোখে পানি নিয়ে মুচকি হাসলো সামির তারপর ক্ষুধা পেটেই পড়তে বসলো।

চলবে..........
[ কেমন লেগেছে সবাই রেসপন্স করবেন। আপনাদের লাইক কমেন্ট আমাদের আগ্ৰহ বাড়ায় ]
#অদৃশ্য_প্রণয়
#উপন্যাস


ইশায়াত আর সুবহা যখন ইনায়াকে পালাতে সাহায্য করে 😄
14/08/2026

ইশায়াত আর সুবহা যখন ইনায়াকে পালাতে সাহায্য করে 😄

বলোতো পাঠিকারা ইশায়াত যখন সুবহাকে হলুদ শাড়িতে দেখেছিল তখন ফিসফিসিয়ে কী বলেছিল☺️
13/08/2026

বলোতো পাঠিকারা ইশায়াত যখন সুবহাকে হলুদ শাড়িতে দেখেছিল তখন ফিসফিসিয়ে কী বলেছিল☺️

 #প্রেমরুদ্ধ পর্ব:১২লেখিকা: নিপা সরকার [ অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]বিয়ের দিন সকাল বেলা শেহজাদ বাড়িতে অনে...
12/08/2026

#প্রেমরুদ্ধ
পর্ব:১২
লেখিকা: নিপা সরকার

[ অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]

বিয়ের দিন সকাল বেলা শেহজাদ বাড়িতে অনেক কাজ। পুরো শেহজাদ বাড়ি আত্মীয়-পরিজনে পরিপূর্ণ। গেট থেকে শুরু করে গার্ডেন পর্যন্ত অনেক সুন্দর করে ডেকোরেশন করা হয়েছে সম্পূর্ণ শেহজাদ বাড়ি। বিভিন্ন রঙের ফুল কাপড় আর লাইট দিয়ে সাজানো হয়েছে।সবাই সবার মতো ব্যস্ত।

ইনায়াকে নিয়ে পার্লারে যাবে সুবহা হিমি ও আরিবা। ব‌উ সাজতে অনেক টাইম লাগবে তাই সকাল সকাল পার্লারে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে চার বোন। ইনায়া ফিসফিসিয়ে সুবহাকে বলল____

"আমার খুব ভয় করছে সুবহা"

"কোনো ভয় নেই ইশায়াত যখন প্রমিস করেছে তখন ও যেভাবেই হোক তোমার বিয়ে নিরব ভাইয়ার সাথেই দিবে"

"তাই যেন হয়"

"ইনশাআল্লাহ আল্লাহ ভরসা"

আরিবা আর হিমি মেকআপের জিনিস পত্র দেখতে ব্যস্ত। সুবহা বলল____

"চল নাহলে দেরি হয়ে যাবে"

তারপর চার বোন সাজের সমস্ত জিনিস পত্র নিয়ে নিচে আসলো। চারজনকে নিচে নামতে দেখে মাহিরা বেগম বললেন____

" তোরা রেডি পার্লারে যাওয়ার জন্য"

ইনায়া উত্তর দিল_____

"হ্যাঁ, আম্মু"

"ঠিক আছে চল ড্রাইভারকে বলে দেয় সাবধানে নিয়ে যেতে"

তারপর সবাই বাড়ির বাইরে আসলো গাড়ির জন্য। মাহিরা বেগম ড্রাইভারকে ডেকে বললেন____

" এদেরকে পার্লারে নিয়ে যাও,সাবধানে গাড়ি চালাবে"

"ঠিক আছে ম্যাডাম"

পাশেই ইশায়াত দাঁড়িয়ে আছে। ইনায়া চিন্তা চিন্তা মুখ নিয়ে তাকালো একবার ইশায়াতের দিকে। ইশায়াত চোখ টিপে ইশারা দিল আমি সবকিছু সামলে নিব।

সবাই গাড়িতে উঠে বসল। ড্রাইভার গাড়ি ছেড়ে দিল। ইশায়াত সবাইকে সবার কাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে আসছে ইনায়ার সাজ প্রায় শেষ। সুবহা হাসতে হাসতে বলল____

"আপু তোমাকে এতো সুন্দর লাগছে যে দুলাভাই আজ তোমার থেকে চোখ‌ই সরাতে পারবে না"

এই কথা শুনে হিমি আর আরিবা‌ও হাসতে শুরু করলো। সাজানো কমপ্লেট করে বাড়ি ফিরে আসলো ইনায়া। ইনায়া লেহেঙ্গার স্কার্ট দুই হাত দিয়ে ধরে গাড়ি থেকে নামছে। বাড়ির সবাই হা করে তাকিয়ে আছে ইনায়ার দিকে। মেরুন কালারের লেহেঙ্গাতে অনেক সুন্দর লাগছে ইনায়াকে। মাহিরা বেগম কাছে এসে বললেন____

" মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর লাগছে আমার রাজকন্যাকে কারো নজর না লাগে" বলেই নিজের চোখ থেকে একটু কাজল নিয়ে ইনায়ার হাতে নজর টিকা লাগিয়ে দিলেন।

সবাই ইনায়ার দিকে তাকিয়ে থাকলেও ইশায়াতের নজর সুবহার দিকে। সুবহা অ্যাস কালারের একটা লেহেঙ্গা পরেছে আর হালকা মেকআপ করেছে।

অন্যদিকে হিমি ইশায়াতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। কিন্তু সুবহা ব্যতীত অন্য কারো দিকে ইশায়াতের কোনো খেয়াল‌ই নেই।

চার বোন‌ই আজ লেহেঙ্গা পরেছে। সবাই বাড়ির মধ্যে চলে গেল ইনায়াকে সুবহা তার রুমে রেখে আসলো। আসার সময় সুবহা যখন ইশায়াতের রুমের সামনে তখন ইশায়াত আচমকা সুবহার হাত ধরে টেনে নিজের রুমে নিয়ে গেল। তারপর দেয়ালের সাথে চেপে ধরে বলল____

"এতো সেজেছিস কেন বিয়ে কি তোর নাকি তোর বোনের??"

"হ্যাঁ, বোনের‌ই বিয়ে তাই বলে কি আমি সাজতে পারিনা"

"না, পারিস না"

"কিন্তু কেন!?"

"তোকে এতো সুন্দর লাগছে কেউ যদি তোর প্রেমে পড়ে যায় তখন আমার কি হবে"

"তোর কি হবে মানে"

"না মানে বলছি কেউ তোর প্রেমে পড়লে তখন তো তোর‌ও বিয়ে হয়ে যাবে তখন আমি ঝগড়া, মারামারি করবো কার সাথে"

"ওহ আচ্ছা, এই বেপার"

"ইয়েস মিস"

"আরেহ, টেনশন করিস না আমি এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে করছি না এখন সর আমাকে যেতে দে বরযাত্রী চলে আসবে"

"আসলে কি হয়েছে"

"বেয়াইদের শরবত খাওয়াতে হবে না"

"খুব শখ না বেয়াইদের শরবত খাওয়ানোর"

"তা তো একটু আছেই" বলে মুচকি হাসলো সুবহা।

"মেরে একদম কান গরম করে দিবো জানিস"

"কেন কি হয়েছে," মুখ গোমড়া করে জিজ্ঞেস করল সুবহা।

"বরযাত্রী আসলে তুই রুম থেকে বের হবি না এটা আমার অর্ডার"

"পারবো না তোর অর্ডার সবসময় মানতে সর", বলে ইশায়াতকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেল সুবহা"

ইতিমধ্যে সবাই নিচে বর এসেছে বর এসেছে করে চিৎকার করছে। সুবহা ছুটে নিচে চলে গেল।

হঠাৎ করে হিমি ইশায়াতের সামনে এসে দাড়ালো। ইশায়াত জিজ্ঞেস করল____

"আমার পথ আটকালি কেন?"

"দেখোতো ইশায়াত আমার লেহেঙ্গাটা কেমন লাগছে"

"আমি জানিনা,সরে দাড়া আমাকে যেতে দে"বলেই ইশায়াত হিমিকে রেখে নিচে চলে গেল। হিমি মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে র‌ইল। সুবহা আরিবাসহ সব কাজিনরা মিলে গেটের কাছে গেল।গেটে দাঁড়িয়ে সুবহা সালাম দিল___

"আসসালামুয়ালাইকুম দুলাভাই"

ঈশান মুখে রুমাল দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঈশানের কাজিনেরা সালামের উত্তর দিলো___

"ওয়ালাইকুমুস সালাম বেয়াইন"

তারপর সুবহা বরযাত্রীদের উদ্দেশ্য বলল____

"অনেক ট্রাভেল করে এসেছেন শরবত একটু শরবত দিয়ে গলাটা ভিজিয়ে নেন।

বরযাত্রীরা সবাই একে একে শরবতের গ্লাস হাতে নিল। শরবতের গ্লাসে এক চুমুক দিতেই সবাই কুলি করে ফেলে দিলো। শরবত কোনোটা মরিচের গুঁড়াতে ঝাঁঝালো, কোনোটা লবণে বিষাক্ত, কোনোটা হলুদের গুঁড়াতে তিক্ত। কনেপক্ষের সবাই হা হা হি হি করে হাসতে শুরু করলো। বরযাত্রীর একজন বলল____

"শরবতের এতো টেস্ট কেন বেয়াইন"

"খুব টেস্ট তাইনা বেয়াই"হাসতে হাসতে বলল সুবহা আর এক গ্লাস খাবেন??"

"না না বেয়াইন পেট ভরে গেছে আপনার মুখ দেখেই"

"তাহলে এবার আমাদের পাওনাটা মিটিয়ে দিন বেয়াই"

"জ্বী বলেন আপনাদের দাবি কত??"

"বেশি না পঞ্চাশ হাজার দিলেই হবে"

"ওমা...... মাত্র পঞ্চাশ হাজার"

"মাত্র...পঞ্চাশ হাজার তাইনা, তাহলে দিয়ে দেন"

পাশে দাঁড়িয়ে ইশায়াত সবটাই দেখছে। বরযাত্রীদের সাথে সুবহাকে হেসে হেসে কথা বলতে দেখে ইশায়াত খুব‌ই রাগান্বিত হলো। তারপর সেখানে গিয়ে সুবহাকে টেনে নিয়ে এসে বলল____

"এই বেয়াই বেয়াইন খেলা কতক্ষণ চলবে?"

"এইতো টাকাটা নিয়ে নিই"

"কত টাকা লাগবে তোর আমি দিয়ে দিবো এখন শেষ কর তোর এই রঙ তামাশা আমার সহ্য হচ্ছে না "

"তোমার কেন জ্বলে রে বন্ধু তোমার কেন জ্বলে " বলে সুবহা হি হি করে হাসতে থাকে। সুবহাকে হাসতে দেখে ইশায়াত আরও রেগে যায়। তারপর বরযাত্রীদের থেকে দশ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। দশ হাজার টাকা সুবহার হাতে দিয়ে বলল____

"বাকিটা আমি পরে দিয়ে দিবো।"

____________________________

সন্ধ্যার সময় ইশায়াত ফোনে নিরবের সাথে কথা বলছে। সারাদিন অনেকবার কল করেছে নিরব। ইশায়াত বলল____

"আপনি একদম চিন্তা করবেন না আমার লোকেরা সঠিক সময় আপনাকে নিয়ে চলে আসবে তারপর যা যা বলেছি তাই তাই করবেন"

ওপাশ থেকে কি বললো শোনা গেল না। তারপর ইশায়াত ফোনটা প্যান্টের পকেটে রেখে লোকজনের সাথে কথা বলতে ব্যস্ত হলো।

বরযাত্রীদেরকে তাদের যথা স্থানে বসানো হয়েছে। এবং বরকে তার জায়গায় বসানো হয়েছে।

ইশায়াত অনেক্ষণ ধরে লক্ষ করছে বরযাত্রীর একজন ছেলে সুবহার পেছন পেছন ঘুর ঘুর করছে। বিয়েতে সুবহার ভার্সিটির ফ্রেন্ডরাও এসেছে। সুবহা গার্ডেনে একটা টেবিলে বসে সজীব, রাতুল,মেহেরিন, সাদিয়া কৃষ্টি এদের সাথে গল্প করছে। ইশায়াত হঠাৎ করে ছেলেটার সামনে গেল। তারপর জিজ্ঞেস করল _____

"কী হয়েছে ভাই সুবহার পেছন পেছন ঘুর ঘুর করছো কেন??"

"না মানে কিছু না "

"ঐ কিছু না তেই যেন থাকে কিছুতে গেলে প্রবলেম আছে "

"সরি ভাই"

"হুম "

তারপর ছেলেটা চলে গেল। সুবহা আড় চোখে দেখল সবটাই।

একটু পরে বিয়ে পড়ানো হবে। ইশায়াত তার লোকেদের একটা কল করে বাড়ির পিছনের গেটে আসতে বলল নিরবকে নিয়ে। তারপর ইনায়ার রুমে গেল। সেখানে হিমি আরিবা ইনায়ার সাথে বসে আছে। ইশায়াতকে দেখে ইনায়া আতকে উঠে বেড থেকে উঠে দাঁড়ালো। ইশায়াত হিমি ও আরিবার উদ্দেশ্যে বলল____

"তোরা বাইরে যা আপুর সাথে আমার কিছু পার্সোনাল কথা আছে"

হিমি আর আরিবা কথা না বাড়িয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। ইশায়াত চটজলদি দরজা লক করে ইনায়ার কাছে গিয়ে বলল_____

"সবকিছু ফিট করা আছে আমি যখন তোকে ইশারা দিবো আমার পেছন পেছন চলে আসবি। "

"আমার ভীষণ ভয় করছে ইশায়াত"

"ভয় নেই আমি আছি , আমি সব সামলে নিব"

"হুম"

তারপর ইশায়াত রুম থেকে বেরোনোর জন্য দরজা খুলেই দেখে হিমি দরজায় কান পেতে আছে। ইশায়াত খুব বিরক্তির সাথে বলল____

"তোর এই স্বভাবগুলো কি কখনো চেন্জ হবে না।"বলেই ইশায়াত চলে গেল। হিমি ওখানে দাঁড়িয়ে র‌ইল। হঠাৎ মিলি বেগম সেখানে এসে বললেন ____

"এখানে পিলারের মতো দাঁড়িয়ে না থেকে ইশায়াতের পিছনে তো টাইম দিতে পারিস কাজে দিবে"

"ইশায়াত আমাকে পাত্তাই দেয় না"

"তা কেন দিবে কীভাবে ছেলেদের নিজের কন্ট্রোলে আনতে হয় আমার মেয়ে হয়েও শিখতে পারলি না। তোর মতো বয়সে হাজারটা ছেলের ক্রাশ ছিলাম আমি।"

"রাখো তো তোমার আজেবাজে কথা "

"আজেবাজে কথা না দেখেছিস তোর বাবা কেমন আমার কথাই উঠে আর বসে "

"বাদ দাও আমি নিচে গেলাম।"বলেই হিমি নিচে বিয়ের মন্ডপে চলে গেল। সবাই বরকে নিয়ে বিয়ের মন্ডপে যেতে ব্যস্ত। এদিকে ইশায়াত সুবহাকে ইশারা দিলো। সুবহা একটু ও দেরি না করে ইশায়াতের ইশারা মতো বাড়ির মধ্যে চলে গেল। যেহেতু সকাল থেকে বাড়ি ডেকোরেশনের কাজ ইশায়াত সামলাচ্ছে তাই ইচ্ছে করেই ইশায়াত বাড়ির পেছনের গেটের দিকটা অন্ধকার রেখেছে। যাতে কেউ কিছু দেখতে না পায়। অন্ধকারের মধ্যে কালো রঙের শার্ট প্যান্ট পরা ইশায়াতের সাতজন লোক দাঁড়িয়ে রয়েছে। সাথে দুইটা গাড়ি। প্রথম গাড়িটার মধ্যে নিরব বর সেজে বসে রয়েছে।

ইশায়াত হঠাৎ করে পুরো বাড়িটা কিছুক্ষণের জন্য অন্ধকার করে দিলো। সুবহা চুপি চুপি ইনায়ার রুমে গিয়ে ইনায়াকে নিয়ে পেছনের দরজার দিকে গেল। বাড়ির সবাই বিয়ের মন্ডপে থাকাই একটু সুবিধায় হলো। অন্ধকারের মধ্যে ইনায়াকে পেছনের দরজা দিয়ে বের করে দিলো ইশায়াত আর সুবহা। কিন্তু এ্যাক্সিডেন্টালি ছাদের ওপর থেকে সবটাই দেখতে পেলো আয়মান। তারপর আবার বিয়ের মন্ডপে চলে গেল ইশায়াত সুবহা যাতে কেউ তাদের না দেখতে পেয়ে কোনোকিছু ডাউট না করে।

এতক্ষণে আশিক শেহজাদ ইশায়াত ইশায়াত করে চিৎকার করছে। ইশায়াত আশিক শেহজাদের কাছে গিয়ে____

"ইয়েস,ড্যাড বলো"

"বলো মানে কী ইশায়াত পুরো বাড়ি অন্ধকার দেখতে পাচ্ছ না যাও গিয়ে দেখো কোথায় কী প্রবলেম হয়েছে!"

"ওকে ড্যাড আমি দেখছি"বলেই ইশায়াত মেইন সুইচের কাছে গিয়ে সেটা অন করে দিলো। ততক্ষণে ইশায়াতের লোকেরা নিরব আর ইনায়াকে নিয়ে চলে গেছে।

চলবে..........
[ সবাই বেশি বেশি লাইক কমেন্ট করবেন নাহলে গল্প লেখার আগ্ৰহ হারিয়ে যায়। আপনাদের লাইক কমেন্ট আমাদের আগ্ৰহ বাড়ায় ]
#প্রেমরুদ্ধ
#উপন্যাস


Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when উপন্যাসী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share