05/07/2026
সূর্যের নরম আলো জানালা দিয়ে মুখে পড়তেই ঘুম ভেঙে গেলো মাইশার। বিছানা খালি!
রান্নাঘরে টুংটাং শব্দ পেয়ে তার বুকের ভেতর জমে থাকা রাগটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। এক ঝটকায় গায়ের কাথাটা সরিয়ে রান্নাঘরে চলে এলো সে।”মা!”কড়া শাসনের সুরে ডাক দিলো। মা হেসে উত্তর দিল,”ঘুম কেমন হল মাইশা মনি?”
এই আদুরে কথা শুনে মায়ের প্রতি রাগ আরো বেড়ে গেল মাইশার। মাইশার মা মিথিলা বেগম একজন স্কুল শিক্ষিকা। দুদিন ধরেই তার প্রচন্ড জ্বর।মাইশা বহুবার বলেছে কয়েক দিন স্কুল ছুটি নিতে। “সামনেই অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা, এ সময় ছুটি নিলে ছেলেপুলের পড়ালেখা কিছুই হবে না”এই অজুহাতে গত দুদিন যাবত 104 জ্বর নিয়েও স্কুল করছেন তিনি। কাল রাতে তার ব্লাড প্রেশার টাও জ্বরের সাথে পাল্লা দিয়ে কিছুটা বেড়েছিল।
তাই সকাল সকাল মাইয়ের এই আদুরে কথা শুনে মাইশার খুশি হওয়ার বদলে কিছুটা বিরক্তিই লাগছে। নিজের খেয়াল রাখবে না মানুষটা! মাইশা সকালে উঠে কলেজে যাবে বলে অসুস্থ শরীরেই নাস্তা টা বানিয়ে ফেললো।
এখন আবার বসবে ক্লাস টেস্টের খাতা দেখতে।
মাইশা মনে মনে ভাবলো খাতাগুলো দেখতে দেখতে হয়তো তার মায়ের জ্বর আবারও বাড়বে।
প্যারাসিটামল খেয়ে খাতা দেখা তিনি চালিয়ে যাবেন। কেউ কিছু বললে তার উত্তর হবে, “বাবা মেয়েরা ছেলে মেয়েদের দায়িত্ব আমাদের হাতে দিয়েছেন এই দায়িত্ব অবহেলা করলে আখেরাতে দায়ী থাকতে হবে।”
এরপরে সেই জ্বরে তপ্ত শরীর নিয়ে টিফিন গুছিয়ে স্কুলে যাবেন,ক্লাস নেবেন। ফিরে এসে মাইশার জন্য শরবত,নাস্তা বানিয়ে রাখবেন। রাতের রান্না সেরে ফেলবেন। নিজের ক্লান্তির কথা তার মনে থাকে না, মনে থাকে মাইশাটা সারাদিন কলেজ করেছে।
এগুলো মাইসা ছোট থেকেই দেখছে, বাবার অসুস্থতার কারণে পরিবারের সমস্ত দায়িত্বটাই তার মা নিয়েছিলেন। আজও একা হাতেই পরিবারকে আগলে রেখেছেন তিনি।মাইশা হঠাৎ বুঝতে পারল, ছোটবেলায় সে অবাক হতো “মা কখনো অসুস্থ হন না!” আজ বুঝল— “মা অসুস্থ হন, শুধু থেমে যান না।"