31/07/2026
জুলাই বিপ্লবে আমাদের মা বোনদের শক্তির ভূমিকা এবং প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব
২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নিয়ামক শক্তি ছিলেন আমাদের মা ও বোনেরা। জীবনের চরম অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হুমকি, টিয়ারশেল ও বুলেটের ভয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হাজার হাজার নারী সেদিন রাজপথে নেমে এসেছিলেন। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গৃহিণী—সব পেশা ও বয়সের নারীদের এই অভূতপূর্ব উপস্থিতি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করেছিল এবং সাধারণ মানুষকে সাহস জুগিয়েছিল।
কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, গণঅভ্যুত্থানের পর সেই প্রকৃত লড়াকু মা-বোনেরা আজ প্রচারের আড়ালে। যারা আন্দোলনের দিনগুলোতে কোথাও ছিলেন না, কিংবা সরকার পতনের পর রাজপথে দাঁড়িয়ে দুটো ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন—আজ তাদের অনেকেই নিজেদের বড় 'জুলাই যোদ্ধা' হিসেবে দাবি করছেন। অনেকে তো এই ত্যাগের মহিমাকে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি ও ফায়দা লোটার হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছেন।
অথচ যেসব মায়েরা সন্তান হারানোর ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন, যেসব বোনেরা টিয়ারশেলের ধোঁয়ার মধ্যেও সহযোদ্ধাদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তারা আজ কোনো আলোয় নেই।
অবশ্য তাদের একটি বড় অংশ স্বেচ্ছায় প্রচারের বাইরে চলে গেছেন। কারণ, তারা কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি, সস্তা ক্রেডিট বা ব্যক্তিগত চাওয়ার আশা নিয়ে রাজপথে নামেননি। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বৈরাচারের পতন ঘটানো এবং রাজপথে ছড়িয়ে পড়া রক্তের হোলিখেলা বন্ধ করা। সেই দাবি পূরণ হওয়ার পর তারা নীরবে আবার নিজ নিজ কাজে ও সংসারে ফিরে গেছেন।
কোনো নাম বা স্বীকৃতির মোহ ছাড়া সেদিন যারা দেশের প্রয়োজনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, সেইসব নিঃস্বার্থ মা ও বোনদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা ও অশেষ শুভকামনা।