27/01/2019
ঢাবির অনুষ্ঠানে বক্তারা
কর আদায়ে জরুরি রাজস্ব সংস্কার কমিশন
যুগান্তর রিপোর্ট
২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
অর্থনীতির আকার যেভাবে বাড়ছে সে অনুসারে দেশে কর আদায় বাড়ছে না। জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) অনুপাতে বিশ্বের যেসব দেশে কম কর আদায় হয় এর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বর্তমানে জিডিপির অনুপাতে কর আদায় ১০ শতাংশের কম। কিন্তু ভারতে কর আদায় প্রায় ২৭ শতাংশ। তাই আগামীতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে কর আদায়। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নতুন কোর্স ‘মাস্টারস অব অ্যাকাউন্টেন্সি ইন ট্যাক্সেশন’ প্রোগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব বলেন। এ সময় তারা কর আদায় বাড়াতে রাজস্ব সংস্কার কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন।
কোর্সের পরিচালক ড. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ, ঢাবির বিজনেস স্ট্যাডিজ ফ্যাকাল্টির ডিন প্রফেসর শিবলি রোবাইয়াতুল ইসলাম, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাসের এজাজ বিজয় এবং ঢাবির অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রিয়াজুর রহমান চৌধুরী। ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, অর্থনীতির সূচকগুলো এগিয়ে যাচ্ছে। ১০ বছরে বিশ্বে যে পাঁচটি দেশ প্রবৃদ্ধির দিক থেকে এগিয়ে গেছে, বাংলাদেশ এর মধ্যে অন্যতম। কিন্তু ওই অনুপাতে দেশে কর আদায় কম। বিশেষ করে জিডিপির তুলনায় কর আদায় ১০ শতাংশের কম। কিন্তু পাকিস্তানে তা ১০ দশমিক ৫ শতাংশ, নেপালে ১৭ শতাংশ এবং ভারতে ২৭ শতাংশ। তিনি বলেন, দেশে এক কোটি ২৫ লাখ মানুষের মাথা পিছু গড় আয় পাঁচ হাজার ডলারের উপরে। আর ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১০ শতাংশও কর দিলে দেশে করদাতা হওয়া উচিত এক কোটি ৬০ লাখ। তিনি আরও বলেন, কর আদায় করতে না পারাটা সমাজের ব্যর্থতা। এর সঙ্গে রাজনীতি ও আমলাতন্ত্র জড়িত। তিনি আরও বলেন, করের ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়ন ও আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ জরুরি। তার মতে, করের হার কমিয়ে আওতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মামলার ক্ষেত্রে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে টাকা আদায় করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, বর্তমানে দেশের পাঁচ কোটি মানুষের বয়স ১৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এটি দেশের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনার। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া উচিত। তবে দেশে বিনিয়োগ বাড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, তিন বছর আগে ফরেন লোন পোর্টফোলিও ছিল ২০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু ২৪ মাসে তিনটি দেশ ও দুটি সংস্থা ৪০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- চীন, ভারত, জাপান, বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত চালিকাশক্তি। দেশের ৮০ শতাংশ বিনিয়োগ আসে বেসরকারি খাত থেকে। আর বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসার খরচ কমানো জরুরি। নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, কর আদায়ের ক্ষেত্রে কিছু কিছু জায়গায় স্বার্থের দ্বন্দ্ব রয়েছে। যেমন- অনেক সংসদ সদস্য রয়েছেন, যারা ব্যবসা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়াও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর মতো কোম্পানির বোর্ডে আছেন। এটি যৌক্তিক নয়। করের ক্ষেত্রে দুর্নীতি কমাতে রাজস্ব সংস্কার কমিশন গঠনের পক্ষে তিনি মত দেন।
ড. মিজানুর রহমান বলেন, দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়েছে। বর্তমানে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এক হাজার ৮০০ ডলার। এ ছাড়াও স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে যাচ্ছে দেশ। তবে সেভাবে দক্ষ জনবল বাড়েনি। বিদেশ থেকে লোকজন এসে এ দেশে উচ্চ বেতনে চাকরি করছেন। এতে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে দক্ষতার অভাবে বিশাল জনগোষ্ঠী বেকার থাকছে। এ ঘাটতি পূরণে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে পেশাদারদের সুবিধার্থে দেশে প্রথম এ ধরনের প্রোগ্রাম চালু করল ঢাবি। ড. মিজান আরও বলেন, এ কোর্স করলে একজন শিক্ষার্থীর অডিট, আয়কর, ভ্যাট, কাস্টমস, ব্যাংকিং, শেয়ারবাজার এবং কর আইনের মতো টেকনিক্যাল বিষয়ে দক্ষতা বাড়বে। এতে সহজে তারা পেশাগত কাজে উন্নতি করতে পারবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের রাজস্ব খাতের উন্নয়নে এ ‘মাস্টার অব অ্যাকাউন্টেন্সি ইন ট্যাক্সেশন’ কোর্স প্রণয়ন করেছে ঢাবি। প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এআইএস) বিভাগের আওতায় এ কোর্স চালু হয়। দুই বছর মেয়াদি এ কোর্সে রাজস্ব নিয়ে কাজ করে এ সংক্রান্ত সরকারি কর্মকর্তা, কর আইনজীবী, বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের আরও উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফারের জন্য কাজ করছে ঢাবি।
অর্থনীতির আকার যেভাবে বাড়ছে সে অনুসারে দেশে কর আদায় বাড়ছে না। জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) অনুপাতে বিশ্বের যেসব দেশে ...