22/03/2016
পরিশ্রম- অধ্যবসায়- সাফল্যযুগে যুগে, কালে কালে যত মানুষ বড় হয়েছেন, স্মরনীয় বরণীয় হয়েছেন– তাঁদের মধ্যে সবাই ছিলেন পরিশ্রমী। হয়তো অনেকেরই প্রতিভা ছিলো অনেক বেশি কিন্তু প্রতিভার চেয়ে পরিশ্রমই তাদেরকে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে নিয়ে যাওয়ার জন্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে।
কোনো সাফল্যের পিছনের প্রধান নিয়ামক শক্তি হলো নিরবিচ্ছিন্ন পরিশ্রম। কোনো মানুষের সাফল্য কোনোদিনই অলৌকিক ভাবে বা হঠাৎ করে আসে না। দীর্ঘ দিনের পরিশ্রম বা নিরবিচ্ছিন্ন কাজের ফলেই হয়তো হঠাৎ একদিন দেখা দেয় কাঙ্খিত সাফল্য। কাজ না করলে একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কেউই সাফল্যের মুখ দেখতে পায় না।
যে কাজই আমরা করি না কেন একদিনেই যে সাফল্য পাবো তা কিন্তু নয়। ব্যর্থতা আসতেই পারে কিন্তু হতাশ হলে চলবে না– কাজ চালিয়ে যেতেই হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না সফলতা আসে। ব্যর্থতাকে পরিশ্রম ও অধ্যবসায় দ্বারা জয় করতে হবে।
যারা ব্যর্থতার গ্লানিকে মনে রেখে কাজ বন্ধ করে না তারাই জয়ী হয়।আমি যদি কাজ না করে বসে বসে শুধু কল্পনা করি, মন ছবি করি যে আমি একদিন বড় হবো, দেশের প্রেসিডেন্ট হবো, কোটি কোটি টাকার মালিক হবো, সাহিত্যিক হবো, বৈজ্ঞানিক হবো তাহলে আমি কিছুই হতে পারবো না।
মনছবি বাস্তবায়ন করতে হলে সঠিক পদ্ধতিতে নিয়মিত কাজ করে যেতে হবে- লক্ষ্য ঠিক রেখে নিয়মিত কাজকরে যেতে হবে, লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে- সাফল্য একদিন তোমার দরজায় কড়া নাড়বেই।প্রচলিত একটি প্রবাদ আছে –“নসীবের তাবিজ গলায় দিয়ে বসে থাকলে চলবে না”।
অর্থাৎ আমার কপালে বা নসীবে যা আছে তাই হবে এরকম ভেবে বসে থাকলে কিছুই হবে না। এই পার্থিব জগতের কিছু পেতে হলে তার জন্য কাজ করতে হবে। আমাদের ভালো কিছু হলে তার জন্যে আমাদের কাজের ফলই মনে করতে হবে আর আমাদের কোনো ব্যর্থতাকে ভাগ্যের দোষ বলে মনে করলে চলবে না। সেটাকে আমাদের কর্মকেই দায়ী করতে হবে।
আমাদের ভালো মন্দ সব কিছুর জন্যে আমাদের কর্মকেই দ্বায়বদ্ধতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। তাই আমরা একবাক্যে বলতে পারি– ‘পরিশ্রমই সৌভাগ্যের চাবিকাঠি’।
কাজ করা বা করতে না পারা নিয়ে বিখ্যাত কবি কালী প্রসন্ন ঘোষ এর “পারিবো না” কবিতাটি একটু দেখি-পারিবো না এ কথাটি বলিও না আরকেন পারিবে না তাহা ভাবো এক বার,পাঁচজনে পারে যাহা,তুমিও পারিবে তাহা,পারো কি না পারো কর যতন আবারএক বারে না পারিলে দেখো শত বার।পারিবো বলে মুখ করিও না ভার,ও কথাটি মুখে যেন না শুনি তোমার,অলস অবোধ যারাকিছুই পারে না তারা,তোমায় তো দেখি নাক তাদের আকারতবে কেন পারিবো না বলো বার বার?
জলে না নামিলে কেহ শিখে না সাঁতারহাঁটিতে শিখে না কেহ না খেয়ে আছাড়,সাঁতার শিখিতে হলেআগে তবো নাম জলে,আছাড়ে করিয়া হেলা, হাঁট বার বারপারিবো বলিয়া সুখে হও আগুয়ান।।ছোট বেলার বার বার পড়া কবিতাটি যদি একবার গভীর ভাবে ভেবে দেখি তাহলে ব্যর্থতার গ্লানির কথা এর আমাদের মনে থাকবে না।কবিতাটির প্রতিটি লাইন যদি আমরা একটু মনযোগ দিয়ে পড়ি তাহলে সহজেই আমরা না পারার বিষয়টি বুঝতে পারবো
কোনো ভালো কাজ কোনো দিনই একবারে হয় না- বার বার চেষ্টার ফলেই একটি সুন্দর একটি সাফল্য আসে।কবিতাটিতে আমরা দেখি কোনো কাজে একবারেই কেউ সফল হতে পারে না্, কাজটি করার জন্যে প্রথমে নানাবার ব্যর্থতা, তারপর সফলতা আসে। বার বার ব্যর্থতাই এক সময়ে সফলতা নিয়ে আসে। ব্যর্থতার অপর পাশেই সফলতার অবস্থান।
সারা বিশ্বে প্রতিভাবান মানুষের চেয়ে পরিশ্রমী মানুষই অনেক বেশি। বিখ্যাত ব্রিটিশ বৈজ্ঞানিক মহামতি জন ডালটনকে সবাই প্রতিভাবান বলতো আর উনি নিজেকে পরিশ্রমী মানুষ হিসাবে পরিচয় দিতেন। তিনি ছিলেন একজন তাতির ছেলে। অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেতিনি তাঁর বিখ্যাত এটমিক থিওরি আবিষ্কার করেন।
আমরা সবাই জানি বিশ্ববিখ্যাত বৈজ্ঞানিক আইজ্যাক নিউটন দীর্ঘ বিশ বছর পরিশ্রম করে একটি বই লেখেন কিন্তু তাঁর প্রিয় কুকুরজলন্ত বাতি ফেলে ঐ বইখানি পুড়িয়ে ফেলে। এতে নিউটন খুবই দুঃখ পান কিন্তু তিনি দমে যান নাই। আবার বইটি লেখা শুরু করেন এবং কঠিন পরিশ্রম করে বইটি লেখা শেষ করেন।
এইভাবেই আমরা দেখতে পাই বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিগণ তাঁদের পরিশ্রমের দ্বারাই নিজেদেরকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁদের সাফল্যের মূলেই ছিলো তাঁদের পরিশ্রম ও অধ্যবসায়। আমরা একবাক্যে বলতে পারি– ‘পরিশ্রমই সৌভাগ্যের চাবিকাঠি’