19/10/2026
ফর্ম ফিলআপের টাকা নিয়ে আমার সঙ্গে যা হয়েছে, তা সবাইকে জানানো প্রয়োজন মনে করছি।
আবির সিনহা আমাদের মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের একজন শিক্ষার্থী। আমরা সবাই তাকে চিনি। সে আমাকে বলেছিল, বিএনপির বড় ভাইদের মাধ্যমে আমার ফর্ম ফিলআপের টাকা কিছুটা কমিয়ে দিতে পারবে। আমি ওমরাহতে ছিলাম, তাই সে আমাকে এই সাহায্য করার কথা বলেছিল। তার কথায় বিশ্বাস করে আমি তাকে মোট ১৮,০০০ টাকা দিয়েছি।
প্রথমে সে বলেছিল, ১৭,০০০ টাকার মধ্যে কাজ হয়ে যাবে। পরে জানায়, মোট ১৫,৫০০ টাকা জমা দিতে হবে, আর অতিরিক্ত ২,৫০০ টাকা লাগবে। এরপর ১৪ তারিখ রাতে আবার বলে, আরও ১,০০০ টাকা দিতে হবে, বড় ভাইকে দিতে হবে। পরে আরও ১,০০০ টাকা নেয়। সব মিলিয়ে আমার কাছ থেকে ১৮,০০০ টাকা নেওয়া হয়।
সে ১৫ তারিখে টাকা জমা দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে বিকাশে ১৫,৬৫৫ টাকা নেয় এবং বাকি টাকাও নেয়। কিন্তু আমার ফোনে ফর্ম ফিলআপের জন্য জমা হওয়ার মেসেজ আসে মাত্র ৯,৮৪৮ টাকার!
তাহলে আমার বাকি ৮,১৫২ টাকা গেল কোথায়?
ভাই, এই টাকাটা আমার কাছে মোটেও ছোট কোনো বিষয় নয়। আমি চাকরি করে বেতন পাই। এই ৮,১৫২ টাকা দিয়ে আমার পাঁচ মাসের বেতনের একটা বড় অংশের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হতো। আমি চাইলে নিজের কষ্টের উপার্জন থেকে ধীরে ধীরে ফর্ম ফিলআপের টাকা জমা দিতে পারতাম।
কিন্তু আবির আমাকে সাহায্য করার কথা বলে যে বিশ্বাস অর্জন করেছিল, সেই বিশ্বাসের প্রতিদান এভাবে দেবে, তা আমি কখনো কল্পনাও করিনি।
ভাই, বিএনপির বড় ভাইদের নাম বলে টাকা নেওয়া হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, বড় ভাইরা মানুষের উপকার করার জন্যই এগিয়ে আসেন। আমি যদি তাঁদের সাহায্য নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ২,০০০ টাকাও দিয়ে থাকি, তাহলে আমার প্রশ্ন—আমার কাছ থেকে এত টাকা নেওয়ার পরও কেন আমার ফর্ম ফিলআপের পুরো টাকা জমা হলো না?
আমি যখন বাকি টাকা ফেরত চাইতে ফোন দিই, তখন আবির বলে, আমার টাকা নাকি বড় ভাইদের কাছে। আমি যখন বলি, তাহলে বড় ভাইদের সঙ্গে কথা বলব, তখন সে আমাকে বলে, “কথা বাড়াস না, কথা বাড়ালে প্যাঁচে পড়বি।”
ভাই, আমি তো কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে যাইনি। আমি শুধু আমার নিজের কষ্টের উপার্জনের টাকা ফেরত চেয়েছি। নিজের টাকা ফেরত চাইলে যদি এমন কথা শুনতে হয়, তাহলে একজন মানুষ কার ওপর বিশ্বাস রাখবে?
আমি কাউকে ছোট করতে চাই না, কারও ক্ষতি চাই না। আমি শুধু চাই, আমার সঙ্গে যা হয়েছে, তা সবাই জানুক। আমার এই পোস্টের উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা নয়; বরং অন্য কেউ যেন এমন পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করা।
আমার সবার প্রতি অনুরোধ—নিজের ফর্ম ফিলআপের কাজ সম্ভব হলে নিজে করুন। অন্য কারও মাধ্যমে করাতে গেলে আগে ভালোভাবে যাচাই করে নেবেন। কারও কথায় বিশ্বাস করে নিজের কষ্টের উপার্জনের টাকা তুলে দেবেন না।
আবির, ৮,১৫২ টাকা হয়তো তোর কাছে সামান্য হতে পারে। কিন্তু আমার কাছে এই টাকার মূল্য আছে। আমি ছোট মানুষ, চাকরি করি, নিজের পরিশ্রমে আয় করি। আমি আবারও আয় করতে পারব, ইনশাআল্লাহ। কিন্তু কারও বিশ্বাস নিয়ে এভাবে খেলা করার যে কাজটা হয়েছে, তার বিচার আল্লাহর কাছেই দিলাম।
আমার পাওনা টাকার হিসাব আমি আল্লাহর কাছে ছেড়ে দিলাম। আল্লাহ সব দেখেন, সব জানেন।
আশা করি, ভবিষ্যতে আর কেউ যেন এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হয়।
- শাফায়েত হোসেন জীবন,
সাধারণ শিক্ষার্থী, তেজগাঁও কলেজ