Department Of Philosophy - University Of Dhaka

Department Of Philosophy - University Of Dhaka The Department of Philosophy was established in 1921. The first Head of the Department was Dr.George H. The department offers a four-year B.A. course.
(1)

Langley, who later became the Vice-
Chancellor of the University of Dhaka in 1926.Included among distinguished faculty were Mr.Haridas Bhattacharyya called Darshan Sagar and Dr.
Govinda Chandra Dev. (Honours)and one-year M.A. A two-year M.Phil. programme and three year Ph.D. programme are also offered. The Dev Centre for Philosophical Studies was established in the department in 1980. The Centre r

egularly
publishes a Bengali journal called Darshan O Progati and an English journal entitled Philosophy and Progress. The departmental library and seminar facilities are available to students. Chairman :
Mrs. Latifa Begum
Designation:
Professor & Chairperson
Qualification:
B.A Hons. (Dhaka), M.A. (Dhaka)
Phone: (Office) 880-2-9661921-73 Extn. 6251, (Res.) 96760
Email: [email protected]

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিজুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সেনানিবাসের অভ্যন্তরে প্রাণ রক্ষার্থে আশ্রয় গ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গ প্রসঙ্...
22/05/2025

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সেনানিবাসের অভ্যন্তরে প্রাণ রক্ষার্থে আশ্রয় গ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গ প্রসঙ্গে সেনাবাহিনীর অবস্থান

ঢাকা, ২২ মে ২০২৫ (বৃহস্পতিবার): জুলাই আগস্ট ২০২৪ এর ছাত্র জনতার গনঅভ্যুত্থানে বিগত সরকারের পতনের পর কতিপয় কুচক্রী মহলের তৎপরতায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়। ফলশ্রুতিতে, সরকারি দপ্তর, থানাসমূহে হামলা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপর আক্রমণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, মব জাস্টিস, চুরি, ডাকাতিসহ বিবিধ বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। এ ধরনের সংবেদনশীল ও নাজুক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দেশের নাগরিকদের মনে নিরাপত্তাহীনতার জন্ম নেয়। এমতাবস্থায়, ঢাকাসহ দেশের প্রায় সকল সেনানিবাসে প্রান রক্ষার্থে কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার নাগরিকগণ আশ্রয় প্রার্থনা করেন। উদ্ভুত আকস্মিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সেনানিবাসে আশ্রয়প্রার্থীদের পরিচয় যাচাই বাছাই করার চাইতে তাদের জীবন রক্ষা করা প্রাধান্য পেয়েছিল। এ প্রেক্ষিতে, ২৪ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ০৫ জন বিচারক, ১৯ জন অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা, ৫১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাসহ বিবিধ ১২ জন ও ৫১ জন পরিবার পরিজন (স্ত্রী ও শিশু) সহ সর্বমোট ৬২৬ জনকে বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় প্রদান করা হয়েছিল। সেসময়ে শুধুমাত্র মানবিক দায়বদ্ধতার কারণে আইন বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে আশ্রয় প্রার্থীদের জীবন রক্ষা করাই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য। পরিস্থিতি উন্নয়ন সাপেক্ষে, আশ্রয় গ্রহণকারীদের বেশিরভাগই ১/২ দিনের মধ্যেই সেনানিবাস ত্যাগ করেন এবং এর মধ্যে ০৫ জনকে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ/মামলার ভিত্তিতে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়।

সেনানিবাসে অবস্থানকারী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যাপারে গত ১৮ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে আইএসপিআর এর আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং একই দিনে ১৯৩ জন ব্যক্তিবর্গের একটি তালিকা (৪৩২ জন সাধারণ পুলিশ সদস্য ও ১ জন এনএসআই সদস্য ব্যতীত) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরন করা হয়- যা ছিল একটি মীমাংসিত বিষয়। সেনানিবাসে আশ্রয়প্রার্থী এসকল ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ও জীবন রক্ষার্থে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাময়িক আশ্রয় প্রদান করা হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, তৎকালীন বিরাজমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আশ্রয়প্রার্থীদের জীবন বিপন্ন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়িয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে, জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সেনানিবাসের অভ্যন্তরে প্রাণ রক্ষার্থে আশ্রয় গ্রহণকারী ৬২৬ জন ব্যক্তিবর্গের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা (৪৩২ জন সাধারণ পুলিশ সদস্য ও ১ জন এনএসআই সদস্যসহ) এই প্রেস বিজ্ঞপ্তির সাথে সংযুক্ত করা হলো।

এমতাবস্থায়, সকলকে এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার আহবান জানানো হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও আস্থার সাথে জাতির পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।

#বাংলাদেশ #সেনাবাহিনী

05/06/2024

প্রতিযোগী -৪৪
নাম: নাযাফ ইবনাত হোসেন
শ্রেণি: অষ্টম
জেলা: নরসিংদী

23/12/2022

Motherland Bangladesh 🇧🇩

আন্তর্জাতিক রোবটিক্স অলিম্পিয়াডে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন 👏! এ বছর আইআরও-তে বাংলাদেশ জয় ...
30/12/2021

আন্তর্জাতিক রোবটিক্স অলিম্পিয়াডে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন 👏! এ বছর আইআরও-তে বাংলাদেশ জয় করেছে-
🏅চারটি স্বর্ণপদক
🥈 দুইটি রৌপ্যপদক
🥉 পাঁচটি ব্রোঞ্জপদক ও
🎖️ চারটি কারিগরি পদক!

👏Congratulations to the 🇧🇩Bangladesh Team for a tremendous performance in the International Robotics Olympiad. This year, Bangladesh won -
4️⃣Gold medals 🏅,
2️⃣Silver medals 🥈,
5️⃣Bronze medals 🥉&
4️⃣Technical medals🎖️at IRO .

Photo Credit: Bangladesh Robot Olympiad : BDRO

01/12/2020

আমরা গভীরভাবে শোকাহত --

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের খ্যাতিমান অধ্যাপক ড. হাসনা বেগম (আমাদের প্রিয় ও পরম শ্রদ্ধেয় হাসনা আপা) আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশে দর্শন পরিবারের একজন প্রথিতযশা পণ্ডিত। তিনি তাঁর মেধা, যোগ্যতা ও গভীর পাণ্ডিত্য দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দর্শন পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে শুধু দর্শন পরিবার নয়, জাতি হারালো এক কৃতি সন্তান। এমন মানুষের মৃত্যু নেই, হতে পারে না। তিনি বেঁচে থাকবেন আমাদের স্মৃতিতে, আমাদের পথচলায় তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে।

বাংলা একাডেমির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক ড: আনিসুজ্জামান স্যার এর মৃত্যুতে দর্শন বিভাগের শোক :বাংলা একাডেমির সভাপতি ও জাতীয়...
14/05/2020

বাংলা একাডেমির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক ড: আনিসুজ্জামান স্যার এর মৃত্যুতে দর্শন বিভাগের শোক :

বাংলা একাডেমির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক ড: আনিসুজ্জামান স্যার এর মৃত্যুতে দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর পক্ষে থেকে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি ।

দর্শন বিভাগ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছে ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে ।

বাংলাদেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে প্রফেসর ড: আনিসুজ্জামান ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অনাবিল সমাজ হিতৈষী, গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল চেতনা, সুশীল বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও ব্যক্তিগত মণীষা দিয়ে তিনি নিজেকে পরিণত করেছিলেন দেশের অগ্রগণ্য পুরুষে। দেশের ক্রান্তিলগ্নে তিনি জাতিকে সঠিক পথের দিশা দেখিয়েছেন বারংবার। শিক্ষা ও সংস্কৃতি প্রসারে তাঁর রয়েছে অনবদ্য ভূমিকা। তাঁর মত একজন গুণী শিক্ষাবিদের মৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।'

উল্লেখ্য, জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান (৮৪) আজ বিকালে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সাবেক শিক্ষার্থী ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।

বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে আজ ২৫ এপ্রিল শনিবার থেকে পবিত্র রমজান মাস গণনা শুরু এবং ২০ মে বুধবা...
24/04/2020

বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে আজ ২৫ এপ্রিল শনিবার থেকে পবিত্র রমজান মাস গণনা শুরু এবং ২০ মে বুধবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে

পবিত্র মাহে রমজান ১৪৪১ হিজরি ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ২০২০ খ্রিঃ সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি :

28/12/2019

১.
সম্প্রতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য সান্ধ্যকালীন কোর্স না রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন তাঁর সমাবর্তন বক্তৃতায়। ‘বাবু যত বলে পারিষদ দলে বলে তার শতগুন।’ সঙ্গে সঙ্গে মঞ্জুরি কমিশন ‘সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধ করা বাঞ্ছনীয়’ ইত্যাদি নির্দেশ দিয়ে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, সব সান্ধ্যকোর্স বন্ধ করে দেয়া কি উচিৎ হবে?’

সান্ধ্যকোর্সের বিপক্ষে আছে প্রধানত বাম ঘরানারা শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রথম যুক্তি হচ্ছে, সান্ধ্যকোর্সের কারণে দিবাকোর্সের ক্ষতি হচ্ছে। শিক্ষকেরা ঠিকঠাকমতো ক্লাস নিচ্ছেন না। ফলপ্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। দ্বিতীয় যুক্তি হচ্ছে, সান্ধ্যকোর্সের বাণিজ্যিকীকরণ হচ্ছে। সান্ধ্যকোর্স পড়িয়ে শিক্ষকেরা ফোকটে টুপাইস কামিয়ে নিচ্ছেন।’

‘সান্ধ্যকোর্সের পক্ষে আছেন যে শিক্ষকেরা, তাঁরা বলছেন, অভিযোগগুলো মিথ্যা। প্রথমত, যে সব বিভাগে সান্ধ্যকোর্স নেই, সেসব বিভাগেই সাধারণত ফল প্রকাশে বিলম্ব হয়। দ্বিতীয়ত, একেক জন শিক্ষক একেকটা কোর্স থেকে প্রতি সেমিস্টারে (৬ মাসে এক সেমিস্টার) লাখ খানেক টাকা যদি পেয়ে থাকেন, তবে প্রতি মাসে পাচ্ছেন ২০ হাজার টাকা। নিয়ম করে দেওয়া হয়েছে, কোনো শিক্ষক বছরে সর্বোচ্চ তিনটি কোর্স পড়াতে পারবেন। শিক্ষকেরা যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়ান, তবে তাঁরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াবেন। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর ক্ষেত্রেও অবশ্য নিয়ম আছে: দুইটির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয় না।

২.
সান্ধ্যকোর্সের বাণিজ্যিকীকরণের অভিযোগ অনেকটা ভর্তিপরীক্ষায় শিক্ষকদের আয়-সংক্রান্ত কুসংস্কারের মতো। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা মনে করেন, ভর্তিপরীক্ষা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেন। প্রকৃতপক্ষে যেসব শিক্ষক ভর্তিপরীক্ষার ডিউটি করেন, তাঁরা প্রতি পরীক্ষায় মাত্র ২ হাজার টাকা আয় করেন এবং পরীক্ষা হয় প্রতি বছর ৪/৫টি। যে অল্প কয়েকজন শিক্ষক ভর্তিপরীক্ষার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যাঁরা জড়িত তাঁরা কয়েক মাসের পরিশ্রমের বিনিময়ে লাখখানেক টাকা পেলেও পেতে পারেন।

একেক জন শিক্ষক প্রতি মাসে যদি নিজের যোগ্যতা ও শ্রমের বিনিময়ে দুটি কোর্স থেকে হাজার চল্লিশেক টাকা আয় করেন, সেটা কি খুব বেশি? প্রশাসনে কর্মরত ব্যক্তিদের বিবিধ উপরি আয় ও গোপন দুর্নীতি থেকে প্রাপ্ত অর্থ কিংবা ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের বিপুল আয়ের সঙ্গে তুলনা করলে শিক্ষকদের এই আয় অকিঞ্চিৎকর। তদুপরি শিক্ষকদের এই আয় নিজেদের ঘর্মজাত এবং শতভাগ হালাল।

তৃতীয়ত, আজ থেকে প্রায় এক দশক আগে, বাংলাদেশ সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বলেছিল, স্বনির্ভর হতে। স্বনির্ভর হতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দুটি রাস্তা খোলা ছিল: ১. ছাত্রবেতন বৃদ্ধি করা এবং/অথবা ২. সান্ধ্যকালীন বা সপ্তাহান্তের কোর্স চালু করা। ছাত্রবেতন বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়, কারণ তা করা হলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে তুলবে। তাদেরও যুক্তি আছে। জনকল্যাণকামী দেশে শিক্ষা কেন টাকা দিয়ে কিনতে হবে? জনগণকে শিক্ষিত করে তোলার দায়িত্ব সরকারের। সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষা অবশ্যই ‘নামমাত্র মূল্যে বিতরণ’ করতে হবে।

৩.
অনন্যোপায় হয়ে কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় রাস্তাটি বেছে নিয়েছিল, শুরু হয়েছিল সান্ধ্যকালীন কোর্স। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে কিংবা বাংলাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকোর্স নেই। যে সব বিশ্ববিদ্যালয় শহর থেকে দূরে অবস্থিত, সেখানে সান্ধ্যকোর্স পড়ানোর সুযোগই নেই। আঙ্গুরফল টক! যে শিক্ষকদের সান্ধ্যকোর্স পড়ানোর সুযোগ নেই, কিংবা যে সব শিক্ষক আর্থিকভাবে সচ্ছল, সান্ধ্যকোর্স পড়ানোর প্রয়োজন নেই, তারাই মূলত সান্ধ্যকোর্সের বিপক্ষে।

সান্ধ্যকোর্স পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের অন্যতম উৎস। সান্ধ্যকালীন কোর্স কিংবা কালিকুলামের অতিরিক্ত কোর্স থেকে যে আয় হয়, তার ৩০% ভাগ যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে। কোর্স সমন্বয়কারী ৫%, ইনস্টিটিউটের পরিচালক কিংবা বিভাগের চেয়ারম্যান ৫%, কোর্স পরিচালনার জন্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পান ৫% বিভাগ বা ইনস্টিটিউটের উন্নয়ন খাতে যায় ১০%, এবং বাকি ৪৫% পান সংশ্লিষ্ট শিক্ষক। বিভাগ ও ইনস্টিটিউটভেদে এই হার সামান্য কমবেশি হতে পারে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওভারহেড ও উন্নয়নখাতে অর্থের পরিমাণ একই থাকে।

সুতরাং কোনো কোর্সে যদি ১ লক্ষ টাকা টিউশন ফি পাওয়া যায়, ৩০,০০০ টাকা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে, পরিচালক এবং কোর্স সমন্বয়কারী প্রত্যেকে ৫,০০০ টাকা করে পান, শিক্ষক পান ৪৫,০০০ টাকা। একেকটি কোর্স ভর্তি থেকে শুরু কবে সার্টিফিকেট দেওয়া পর্যন্ত ৬ মাসের মতো লাগে এবং আগেই বলেছি, কোনো শিক্ষকই প্রতি শিক্ষাবর্ষে তিনটির বেশি কোর্স পড়াতে পারেন না নিজের বিভাগে বা ইনস্টিটিউটে। অনেক ক্ষেত্রে ৩টি কোর্স পড়ানোর মতো শিক্ষার্থী ভর্তিও হয় না।

৪.
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলোর পরিচালনা ও উন্নয়ন ব্যয়ের মূল উৎস সান্ধ্যকোর্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ। আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের কথাই ধরা যাক। প্রতি মাসে ইনস্টিটিউটের পরিচালনা ও উন্নয়ন খাতে গড়ে লাখ তিনেক টাকার কম খরচ হয় না। ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠার বছর অর্থাৎ ১৯৭৪ সাল থেকে নতুন কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করা হয়নি, কিন্তু গত ৪৫ বছরে এক তলা ইনস্টিটিউট ৪ তলা হয়েছে। সুতরাং অতিরিক্ত কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া অপরিহার্য এবং তাদের পারিশ্রমিক ইনস্টিটিউট থেকেই দেওয়া হয়। প্রায় প্রতি সপ্তাহে সেমিনার, বিভিন্ন ভাষাপ্রোগ্রামের অনুষ্ঠান, প্রকাশনা, বিভিন্ন উৎসব, দুস্থ শিক্ষার্থীদের অর্থসাহায্য, লাইব্রেরির পুস্তক ও লিসেনিং সেন্টারের যন্ত্রপাতি ক্রয়, অতিথি আপ্যায়ন, বিভিন্ন সভা পরিচালনার খরচ, ইনস্টিটিউটের ভিতরে-বাইরে মেরামত-রঙ-কসমেটিক পরিবর্তন ইত্যাদিতে প্রচুর খরচ হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হয়তো লাখ খানেক টাকা পাওয়া যায় প্রতি অর্থবছরে, যা দিয়ে ইনস্টিটিউট পরিচালনা করা অসম্ভব না হলেও কঠিন। তুমি সহ সবাইকে মনে করিয়ে দিচ্ছি দিদি, টাকার যে অঙ্কগুলো বললাম, সেগুলো কমবেশি হতে পারে। চাঁদ দেখাচ্ছি, চাঁদের দিকে তাকাও, আমার আঙ্গুল মোটা কি চিকন সে বিচার করতে যেও না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপরীক্ষা দেওয়া যায় জীবনে মাত্র একবার। যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে না কিংবা যারা পছন্দমতো কোর্সে ভর্তি হতে পারে না, তাদের অনেকেই সান্ধ্যকোর্সে ভর্তি হয়। আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠাই হয়েছিল সান্ধ্যকালীন কোর্সের জন্যে। যারা সারাদিন কাজ করে তারা বিকালে বা সন্ধ্যায় ভাষা শিখতে আসে। আমরা কোন যুক্তিতে জনগণের কর্মরত অংশকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করবো? একজন শিক্ষার্র্থী তার পছন্দমতো বিষয়ে সুযোগ না পেয়ে ধরা যাক, পালি ভাষায় ভর্তি হয়েছে। এই ছাত্র যদি বাজারে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে, এমন কোনো বিষয়, যেমন ব্যবসায় প্রশাসনে ভর্তি হতে চায়, তবে তাকে বাধা দেওয়া হবে কোন যুক্তিতে? পৃথিবীর যে কোনো সভ্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়েই যে কোনো শিক্ষার্থী একাধিক বিষয় পড়তে পারে।

৫.
এমন অনেক বিষয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়, যেমন অপরাধবিজ্ঞান, যোগাযোগ-বৈকল্য কিংবা দুর্যোগ-ব্যবস্থাপনা, যেগুলো কোনো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয় না। দুর্ভাগ্যজনক হলেও এ কথা সত্য যে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য লক্ষ্য শিক্ষা নয়, মুনাফা। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেফ সেই বিষয়গুলোই পড়ানো হয় বাজারে যেগুলোর তীব্র চাহিদা আছে। অথচ শিক্ষিত ও ওয়াকেবহাল সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে বাজারে তেমন চাহিদা নেই - এমন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব অস্বীকার করা যাবে না।

পুলিশ বিভাগের কর্মরত একজন ব্যক্তি অপরাধ-বিজ্ঞানে একটি ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা নিতে চাইতেই পারেন। বিদেশে শান্তিরক্ষা বাহিনীতে কাজ করতে ইচ্ছুক একজন সেনা কর্মকর্তার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে লেখাপড়া করার ইচ্ছা কিংবা প্রয়োজন হতেই পারে। লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কাজ করতে ইচ্ছুক, এমন একজন ব্যক্তির কাছে পাঠাগার-ব্যবস্থাপনার ডিগ্রি অপরিহার্য হয়ে ওঠা অসম্ভব কি? একজন ডাক্তারের প্রয়োজন হতে পারে স্পিচথেরাপি বিষয়ে একটি ডিগ্রি নেবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সান্ধ্যকোর্সে এ ধরনের বহু বিচিত্র বিষয়ে পাঠ দেওয়া হয়। জনগণকে শিক্ষিত ও পেশাদার করে তোলার ক্ষেত্রে সান্ধ্যকোর্সের বিকল্প আপাতত নেই।

সবার জন্যে সব ধরনের শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রকে। যে যার পছন্দ ও প্রয়োজনমতো বিষয় বেছে নেবে। পাশ্চাত্যে যে কোনো বয়সের লোক তার পছন্দ ও প্রয়োজনমতো বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পাঠ গ্রহণ করে। পাশ করে যারা একবার চলে যায়, তারাও জীবনের এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসে। জ্ঞান চিরপরিবর্তনশীল। আজ যা জানলাম, কালই তা ভুল প্রমাণিত হতে পারে। তথ্য ও বিশ্লেষণের দিক থেকে আপ-টু-ডেট থাকতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিকল্প নেই।

বাংলােদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু নাবালকদেরই প্রবেশাধিকার আছে। সাবালকদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশাধিকার দিতে রাষ্ট্র ও সমাজ রাজি নয়। নীতিনির্ধারকেরা যেহেতু কলেজ চেনেন, বিশ্ববিদ্যালয় চেনেন না, কলেজকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনাতেই তাঁরা অভ্যস্ত। কলেজের কাজ প্রধানত নাবালক পড়ানো, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ প্রধানত সাবালক পড়ানো।

৬.
সমাজের সাবালকেরা তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে যেভাবে শিক্ষকদের ঋদ্ধ করতে সক্ষম, নাবালকদের পক্ষে সেটা সম্ভব নয়। একজন শিক্ষকের সাধারণত শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান থাকে। সান্ধ্য বা স্বল্পকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীরা জীবনের সাত ঘাটে বহু স্বাদের জল খাওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিরে আসেন। তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিজেদেও জ্ঞান ঝালাই ও নবায়ন করে নেবার বহু সুযোগ থাকে। এই জ্ঞান দিবাকোর্সের শিক্ষার্থীদেরকেও ঋদ্ধ করার কথা। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয় সত্যিকার অর্থে ‘বিশ্ব বিদ্যার আলয়’ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সান্ধ্যকোর্সের অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রিয় দিনারজাদি, সান্ধ্যকোর্স জীবনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাড়িসূত্র। এই সূত্র ছিঁড়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জীবনের যোগসূত্র ছিন্ন হবে। বিদ্যার সঙ্গে সম্পর্কহীন জীবন অন্ধ, জীবনের সঙ্গে সম্পর্কহীন শিক্ষা পঙ্গু।

‘তবে একটা কথা। একজন শিক্ষকের স্বরতন্ত্রীর কম্পন-ক্ষমতারওতো একটা সীমা আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক এক বা একাধিক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুলটাইম, যদিও তারা কাগজে-কলমে অনুমতি নেয় পার্টটাইমের। পরকীয়ারত স্বামী বা স্ত্রীর মতো এরা কি নিজের পরিবারকে ফাঁকি দিচ্ছে না?’ এর উত্তরে বলা যায়: ‘ব্যতিক্রমতো থাকবেই । যারা আগুন খাবে, তারা আঙরা হাগবে। তাই বলে চোরের ভয়ে তুমি থালা বাদ দিয়ে মাটিতে ভাত খাবে?’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সঙ্গে কলেজের শিক্ষকের একটা বড় পার্থক্য আছে। আশা করা হয় যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক গবেষণা করবেন, জ্ঞানবিজ্ঞানের বিভিন্ন সাম্প্রতিক অগ্রগতি সম্পর্ক সমাজকে অবহিত করবেন, সমাজপতি ও রাষ্ট্রপরিচালকদের নিত্যনতুন ভুলত্রুটিগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরে রাষ্ট্রপরিচালনায় ও সমাজের অগ্রগতিতে ভুমিকা রাখবেন। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক যদি অর্থলোভে দিনরাত এখানে ওখানে পড়াতে থাকেন, তবে তাঁর পাঠদানের ক্ষমতা ও মানই শুধু কমবে না, তিনি একান্ত ব্যক্তিগত পড়াশোনা এবং গবেষণার জন্যে সময়ই বের করতে পারবেন না। শিক্ষকদের মনে রাখতে হবে, দিনে মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা এবং ৮ ঘণ্টা ঘুমের সময় বাদ দিলে খুব বেশি হলে ১৬ ঘণ্টা তিনি পড়ানোর নামে ধান্দাবাজি করতে পারবেন। পরিবার ও নিজেকে কিছু সময় দেবার কথা না হয় বাদ দিলাম।

৭.
জীবনে অধিকতর স্বাচ্ছন্দ্য আনা কিংবা ভবিষ্যতে অধিকতর নিরাপত্তা পাবার উদ্দেশ্যে মানুষ মাত্রেই অধিকতর আয় করতে চায়। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের শিক্ষকদের আদর্শ শিক্ষক মনে করার একটা সংস্কার বা কুসংস্কার বাংলাদেশে চালু আছে। সে যুগের শিক্ষকদের অধিকাংশ আদর্শ শিক্ষক হতে উঠতে পারতেন, কারণ সমাজ ও রাষ্ট্র তাদের আর্থিক সঙ্গতির ব্যবস্থা করতো। অভাবে স্বভাব খারাপ হয়। পঞ্চাশের দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাষক, ধরা যাক, কাজী মোতাহার হোসেন মাসে ৩০০ টাকা বেতন পেতেন। এই টাকা দিয়ে তিনি ৬ ভরি স্বর্ণ কিনতে পারতেন। এখন একজন প্রভাষক, ধরা যাক, ৩০,০০০ টাকা বেতন পান। এই টাকা দিয়ে তিনি অর্ধভরি স্বর্ণ কিনতে পারেন। এর মানে কি? ৭০ বছর পর, যখন নাকি বাংলাদেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে, তখন একজন প্রভাষককে প্রতি মাসে ১২ গুন কম বেতন দেয়া হচ্ছে। যদি উপযুক্ত বেতন দেওয়া হতো, তবে একজন প্রভাষকের বেতন হতো ৩০,০০০ গুন ১২ = ৩,৬০,০০০ টাকা বা ৪৫০০ ডলার যা আমেরিকা-কানাডায় প্রভাষকের বেতনের অর্ধেকের চেয়ে কিছুটা বেশি। এখন যেখানে ৮ম বেতন কাঠামো চলছে, সেখানে হয়তো ২০তম বেতন কাঠামো হওয়া উচিত ছিল। ইচ্ছে করেই হোক বা নিজের অজান্তেই হোক, রাষ্ট্র ১২টি বেতন কাঠামোর ট্রেন মিস করেছে। রাষ্ট্র ১২গুন ঠকিয়েছে ব্যক্তিকে, যদিও সরকার-প্রধান দাবি করেন এবং জনগণের একটি অংশ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, বাংলাদেশে আহামরি বেতন দেওয়া হচ্ছে সবাইকে।

বাংলাদেশের সরকার বা প্রশাসন যাঁরা চালান তাদের ব্যয়ের তুলনায় আয় সীমাহীন বলে তাঁরা মনে করেন, দেশে কারও কোনো অর্থকষ্ট নেই। মন্ত্রী-আমলারা জনগণের টাকায় সর্বাধুনিক গাড়িতে চড়েন এবং এদিক ওদিক যাবার সময় তাদের বাবার রাস্তা খালি করে দেওয়া হয় বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা চমৎকার, কারও কোনো পথকষ্ট নেই। অসুস্থ হলে রাষ্ট্রপতি-শিল্পপতিরা বিদেশে চিকিৎসা নিতে পারেন বলে তাঁরা বিশ্বাস করতে শুরু করেন, আমজনতাও তাঁদের মতো সুচিকিৎসা পাচ্ছে। পরের ধনে পোদ্দারী করলে যা হয় আর কী! ‘যত দিন ভবে না হবে, না হবে তোমার অবস্থা আমার সম। ইষৎ হাসিবে, শুনে না শুনিবে, বুঝে না বুঝিবে যাতনা মম!’ যতদিন (রবীন্দ্রনাথের ভাষায়) দুর্ভাগ্যে-অপমানে আমাদের সমান তুমি না হবে, ততদিন তোমাকে বোঝায় কার সাধ্য! সাত মন তেলও পুড়বে না, রাধাও নাচবে না। হায়! তুমিও বাসে-ফুটপাতে চলবে না, মেডিকেলের আউটডোরে চিকিৎসা নেবে না, তোমার ছেলেমেয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে না, আমার দুঃখের রজনীও শেষ হবে না।

৮.
আমার উচ্চমাধ্যমিক পাশ মাতামহ রেঙ্গুনে পোস্টমাস্টারের কাজ করে সংসার খরচ চালিয়ে একটা বাড়ি করে যেতে পেরেছিলেন চট্টগ্রামে নিজগ্রাম কুমিরায় (যেটি অবশ্য ১৯৭১ সালে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল পাকবাহিনী)। নিজের পাঠ্য বিষয়ে বর্তমান পৃথিবীতে যত ডিগ্রি নেওয়া সম্ভব ও উচিত্‌ সব আমার আছে। ৩০ বছর ধরে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান করেও আমার নিজের (এবং আমার অনেক সহকর্মীর) একটি থাকার জায়গা কেন নেই, যখন কিনা আমাদের আমলা, বিচারক, সেনাকর্মকর্তা বন্ধুদের বেশির ভাগের, যারা প্রায় কেউই আমার বা আমাদের মতো ডিগ্রিধারী নন, নিজের বাড়ি কিংবা এ্যাপার্টমেন্ট আছে। উল্লেখ্য যে, আমার পিতামহ ছিলেন স্কুলমাস্টার এবং তিনিও কোনো বাড়ি করে যেতে পারেননি। একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ইতিহাসের অবতারণা করার একমাত্র উদ্দেশ্য, এই একটি ব্যাপারে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যে শুভঙ্করের একটা ফাঁকি কোথাও না কোথাও আছেই।

পাশ্চাত্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সপ্তাহে ৬ ঘন্টার বেশি পড়ান না। বছরে সর্বোচ্চ ৮ মাস পড়ান তিনি, কারণ তাঁর অন্য কাজ আছে - পড়াশোনা, গবেষণা, লেখালেখি আছে। শুনেছি, বাংলাদেশে শিক্ষকদের বেতন ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে অনেক কম। একদিকে আমরা শিক্ষকদের প্রতিমাসে ১২ গুন কম বেতন দিচ্ছি, অন্যদিকে অনন্যোপায় হয়ে কোনো কোনো শিক্ষক যখন কিছু অতিরিক্ত আয়ের ব্যবস্থা করছেন, তাকে আমরা নীতিহীন বলছি, যেন রাজনীিিতবিদসহ বাংলাদেশের আর সব পেশার লোক একেকজন নীতির ধোয়া তুলসীপাতা। পঞ্চাশের দশকে এক জন প্রভাষক মাসের খরচ করেও বেতনের টাকা থেকে জমিয়ে ধানম-ীতে জমি কিনতে পারতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাষকের সংসারই চলবে না, যদি সে সান্ধ্যকোর্স কিংবা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়ায়।

রাষ্ট্র একবার শিক্ষকদের পাশ্চাত্যের মতো বেতন দিয়ে দেখুক, তারা অতিরিক্ত পড়ায় কিনা বা গবেষণায় মনোযোগী হয় কিনা। রাষ্ট্র শিক্ষককে শুধু নয়, সব পেশার লোককে ঠকাচ্ছে। শিক্ষক এখানে উদাহরণ মাত্র।

বাংলাদেশের পেটি দুর্নীতির অন্যতম উৎস আমার মতে প্রবঞ্চনামূলক বেতন-কাঠামো। বড় দুর্নীতি অবশ্যই দেশের ও সমাজের ক্ষতি করে, কিন্তু পেটি দুর্নীতি সমাজের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল করে দেয়। সব দেশে বড় দুর্নীতি আছে, কিন্তু সভ্য দেশে সাধারণত পেটি দুর্নীতি থাকে না। খুব কম সভ্য দেশেই পোস্টঅফিসের পিয়ন বকশিশের আশা করে! (চলবে)

Copyright : ড. শিশির ভট্টাচার্য্য

২৯ নভেম্বর, বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু জর্জ হ্যারিসনের ১৮তম মহাপ্রয়াণ দিবস । ২০০১ সালের এ দিনটিতে ৫৮ বছর বয়সী জর্জ হ্যারি...
28/11/2019

২৯ নভেম্বর, বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু জর্জ হ্যারিসনের ১৮তম মহাপ্রয়াণ দিবস । ২০০১ সালের এ দিনটিতে ৫৮ বছর বয়সী জর্জ হ্যারিসন মহাকালের স্রোতে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

আপনি না হলে আমরা 'বাংলাদেশ' শিরোনামে অসাধারন গানটি পেতাম না। বাংলাদেশের মানুষ বঞ্চিত হতো একজন প্রকৃত বন্ধু থেকে। আপনার প্রতি অন্তরের গভীর থেকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। বাংলাদেশ আপনাকে ভালবাসে, আপনাকে ভালবাসে কোটি কোটি বাঙালী।

জর্জ হ্যারিসন, সারা বিশ্ব কাঁপানো বিটলস ব্যান্ডের একজন সদস্য। আমাদের কাছে একজন মুক্তিযোদ্ধা। অস্ত্র হাতে নন, গীটার আর গান দিয়ে যিনি যুদ্ধ করেছিলেন তাঁর খুব দূরের বাংলাদেশের মানুষের জন্য।

"My source of inspiration has always been right here where the mood is so different because of the peace." ---- George Harrison

আজ শ্রদ্ধেয় জর্জ হ্যারিসন নেই। কিন্তু আছেন আমাদের হৃদয়ে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির অস্তিত্ব যতদিন থাকবে, তাঁর অবদান এবং ভালবাসো আমরা স্মরণ করবো।

পরম করুনাময়ের কাছে প্রার্থনা, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের প্রতি যে মমতা তিনি দেখিয়েছেন, তিনি যেন তার থেকে কোটি কোটি গুন বেশী মমতা তাঁর প্রতি দেখান। স্রষ্টা তাঁকে চির শান্তিময় স্থানে যেন আসীন করেন।

Address

Faculty Of Arts
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Department Of Philosophy - University Of Dhaka posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The University

Send a message to Department Of Philosophy - University Of Dhaka:

Share