19/06/2026
"Dear Radioactive Ladies & Gentlemen!"
ঠিক এইভাবেই বিখ্যাত পদার্থবিদ উলফগ্যাং পাওলি ১৯৩০ সালে তার একটি চিঠির সূচনা করেছিলেন, যেখানে তিনি পদার্থবিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী আইডিয়া শেয়ার করেছিলেন তৎকালীন বিজ্ঞান মহলে!
সেই সময় পদার্থবিদরা একটি জটিল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন। সমস্যাটি ছিল বিটা ক্ষয়ের (Beta Decay) সময় শক্তির হিসাব মিলছিল না, মনে হচ্ছিল শক্তি যেন অদ্ভুতভাবে হারিয়ে যাচ্ছে! যা সরাসরি পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি 'শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি'কে লঙ্ঘন করছিল। এই নীতিকে রক্ষা করার জন্য বিজ্ঞানী পাওলি একটি দারুণ সমাধান প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে এমন একটি আধানহীন এবং অত্যন্ত নগণ্য ভরের কণা নির্গত হচ্ছে, যা আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সেই হারিয়ে যাওয়া শক্তিকে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে!
মজার ব্যাপার হলো, পাওলি নিজেই প্রথমে ভেবেছিলেন তিনি এমন এক কণার প্রস্তাব করেছেন যা কোনোদিন পরীক্ষামূলকভাবে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব!
পরবর্তীতে বিজ্ঞানী এনরিকো ফার্মি এই অদ্ভুত কণাটির নাম দেন 'নিউট্রিনো' (যার অর্থ ছোট্ট নিরপেক্ষ কণা)। পাওলির এই আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং এই অদ্ভুত মহাজাগতিক কণার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ ২৬ বছর সময় লেগেছিল। ১৯৫৬ সালে প্রথম ল্যাবরেটরিতে এর অস্তিত্ব ধরা পড়ে।
আজ ২০২৬ সালে এসে এই ভূতুড়ে কণাটি আবিষ্কারের ৭০ বছর পূর্ণ হলো! বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রায় আমরা কৃতজ্ঞ বিজ্ঞানী উলফগ্যাং পাওলির সেই 'অদ্ভুত' ও সাহসী আইডিয়াটির প্রতি, যা আমাদের মহাবিশ্বকে দেখার নজরটাই বদলে দিয়েছে।
[Reference]: Fermi National Accelerator Laboratory
📸 P.C : CERN