30/10/2025
ডার্ক ম্যাটার: একটি অদৃশ্য জাদুকর!
চলুন সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক এই ডার্ক ম্যাটার আসলে জিনিস টা, কি!
চিন্তা করো, আমাদের চারপাশে এমন কিছু আছে যেটা আমরা দেখতে পাই না, ছুঁতে পারি না, এমনকি আলো বা কোনো রশ্মিও যার সাথে কাজ করে না তবুও সেটা পুরো মহাবিশ্বের গঠন আর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করছে। শুনতে কি সাই-ফাই গল্পের মতো লাগছে? এটাই তাহলে ডার্ক ম্যাটার মহাবিশ্বের এক রহস্যময় উপাদান!
ডার্ক ম্যাটার হচ্ছে সেই সকল পদার্থ, যেটা আসলে যে কী ধরনের পদার্থ যা সম্পর্কে আমরা তেমন কিছুই জানি না এবং এখন পর্যন্ত এটাই এর সবচাইতে ভালো সংজ্ঞা হতে পারে! তবে হ্যাঁ, ডার্ক ম্যাটার নিয়ে অনেক জোত্যির্বিজ্ঞানী একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছেছেন। ডার্ক ম্যাটার অর্থ এটা নয় যে এটি ডার্ক অথবা অন্ধকার। ডার্ক ম্যাটার এমন একটি জিনিস যা আলো অথবা যেকোনো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন এর সাথে কোনো ধরনের মিথস্ক্রিয়া করে না । ডার্ক ম্যাটার মূলত একটি গ্রেভিটেশনাল প্রভাব. তবে মজার বিষয় হলো এই গ্রেভিটেশনাল প্রভাব আমরা সাধারণ আপেক্ষিকতা দিয়েই ব্যাখ্যা করি, কিন্তু এই প্রভাবের মূল উৎস বা “অতিরিক্ত ভর” ঠিক কোথা থেকে আসছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি
ডার্ক ম্যাটার মূলত গ্যালাক্সির উৎপত্তি এবং বিবর্তনে, গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং, গ্যালাকটিক সংঘর্ষে কসমিক বস্তুর অবস্থান, গ্যালাক্সির ক্লাস্টারদের ঘিরে গ্যালাক্সির আবর্তনের গতি, কসমিক বস্তুগুলো থেকে উৎপন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের দিক এবং গতি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।বর্তমান মহাবিশ্বের 26.8% ডার্ক মেটার দ্বারা আচ্ছাদিত।
আসুন এবার আমরা জানে নেই এই ডার্ক মেটার বিষয়টা আসলো কোথায় থেকে?
১৯৩৩ সাল নাগাদ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্রিটয জুইকি 'কমা গ্যালাক্সি ক্লাস্টার' নিয়ে গবেষণা করার সময় গ্যালাক্সি থেকে আগত দৃশ্যমান আলোর অনুপাতে ভর বের করেন। তারপর গ্যালাক্সির মহাকর্ষ বল থেকে এর ভর বের করলেন।
দেখলেন, আগের থেকে ভর বেশি আসছে। এই বাড়তি ভর কোথা থেকে এল? জুইকি এই হিসাব না পাওয়া ভরের নাম দিলেন ডার্ক ম্যাটার।
পরবর্তীতে, ষাটের দশকে জ্যোতির্বিজ্ঞানী 'ভেরা রুবিন' গ্যালাক্সির ঘূর্ণন-সম্পর্কিত একটা রিসার্চ করতে গিয়ে দেখলেন, গ্যালাক্সির কেন্দ্রের বাইরের দিকে তার ঘূর্ণন গতি যতটুকু হওয়ার কথা তার চাইতে বেশি। কতটুকু হওয়ার কথা? একটা গ্যালাক্সির মধ্যে যতটুকু ভর রয়েছে, তার মধ্যে মহাকর্ষ বল তত বেশি কাজ করে। আর মহাকর্ষ বল যত বেশি, কেন্দ্রের বাইরের দিকে তার ঘূর্ণন বল তত বেশি। রুবিন দেখলেন, সেই অনুযায়ী ঘূর্ণনগতির অনুপাতে একটা গ্যালাক্সির যথেষ্ট পরিমাণে ভর ধরা পড়ছে না। যাকে বলে 'ওজনে কম আছে', রুবিন অংক কষে সেই 'অদৃশ্য' ভরের পরিমাণ বের করলেন। সেই পরিমাণ হচ্ছে গ্যালাক্সির তথা মহাবিশ্বের প্রায় ২৭ শতাংশ। যা ফ্রিটয জুইকির দেওয়া নাম অনুসারে ডার্ক ম্যাটার নামেই আখ্যায়িত করা হয়। তাহলে কি এই পদার্থটিকে ম্যাজিশিয়ান বলে আখ্যা দেওয়াটা ভুল?
এখন প্রশ্ন আসতে পারে কি দিয়ে তৈরি এই ডার্ক ম্যাটার?
ডার্ক ম্যাটার কী দিয়ে তৈরী তা এখনও বের করা না গেলেও এইটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে আমাদের পরিচিত কোনকিছুর সাথে এর কোন মিল নেই। ইলেকট্রন, প্রোটন বা নিউট্রন নয়, ডার্ক ম্যাটার এমন কিছু দিয়েই তৈরী যা আমরা এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করতে পারি নি।
তবে, কোয়ান্টাম ফিজিক্স “এক্সিয়ন” নামে এক ধরণের পারমাণবিক কণার কথা বলে, যার বৈশিষ্ট্যের সাথে ডার্ক ম্যাটারের কিছু বৈশিষ্ট্যের মিল রয়েছে। হতে পারে ডার্ক ম্যাটার এক্সিয়ন দিয়ে তৈরী, আবার নাও হতে পারে। বিজ্ঞান এখনও উত্তর খুঁজছে।
একটি হাইপোথিসিস অনুযায়ী, ডার্ক ম্যাটার উইম্প (WIMP= Weak Interacting Massive Particle) দিয়ে তৈরী, যার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটা পদার্থের সাথে এতই দুর্বলভাবে মিথস্ক্রিয়া করে যে বিশাল ভরের কোন ডার্ক ম্যাটার আমাদের ভেতর দিয়ে অনায়াসে চলে যেতে পারবে, আমরা টেরই পাব না!
এখন আরেকটি প্যারামিটার রয়েছে যা ডার্ক ম্যাটারের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যা ডার্ক এনার্জি নামে পরিচিত। যা মহাবিশ্বের প্রায় ৭০% দখল করে আছে। এই ডার্ক এনার্জিই নাকি মহাবিশ্বকে দ্রুত প্রসারিত করছে।
আজকে এই পর্যন্তই দেখা হবে পরবর্তী কোন বৈজ্ঞানিক আলোচনায়!
সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে!