Jagannath University Physics Club

Jagannath University Physics Club Welcome to Jagannath University Physics Club (JnUPC)!

We inspire curiosity, promote scientific thinking, and build a vibrant community through seminars, workshops, competitions & outreach—exploring physics from quantum mysteries to cosmic wonders

ডার্ক ম্যাটার: একটি অদৃশ্য  জাদুকর!চলুন সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক এই ডার্ক ম্যাটার  আসলে জিনিস টা, কি! চিন্তা করো, আমাদ...
30/10/2025

ডার্ক ম্যাটার: একটি অদৃশ্য জাদুকর!

চলুন সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক এই ডার্ক ম্যাটার আসলে জিনিস টা, কি!
চিন্তা করো, আমাদের চারপাশে এমন কিছু আছে যেটা আমরা দেখতে পাই না, ছুঁতে পারি না, এমনকি আলো বা কোনো রশ্মিও যার সাথে কাজ করে না তবুও সেটা পুরো মহাবিশ্বের গঠন আর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করছে। শুনতে কি সাই-ফাই গল্পের মতো লাগছে? এটাই তাহলে ডার্ক ম্যাটার মহাবিশ্বের এক রহস্যময় উপাদান!

ডার্ক ম্যাটার হচ্ছে সেই সকল পদার্থ, যেটা আসলে যে কী ধরনের পদার্থ যা সম্পর্কে আমরা তেমন কিছুই জানি না এবং এখন পর্যন্ত এটাই এর সবচাইতে ভালো সংজ্ঞা হতে পারে! তবে হ্যাঁ, ডার্ক ম্যাটার নিয়ে অনেক জোত্যির্বিজ্ঞানী একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছেছেন। ডার্ক ম্যাটার অর্থ এটা নয় যে এটি ডার্ক অথবা অন্ধকার। ডার্ক ম্যাটার এমন একটি জিনিস যা আলো অথবা যেকোনো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন এর সাথে কোনো ধরনের মিথস্ক্রিয়া করে না । ডার্ক ম্যাটার মূলত একটি গ্রেভিটেশনাল প্রভাব. তবে মজার বিষয় হলো এই গ্রেভিটেশনাল প্রভাব আমরা সাধারণ আপেক্ষিকতা দিয়েই ব্যাখ্যা করি, কিন্তু এই প্রভাবের মূল উৎস বা “অতিরিক্ত ভর” ঠিক কোথা থেকে আসছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি

ডার্ক ম্যাটার মূলত গ্যালাক্সির উৎপত্তি এবং বিবর্তনে, গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং, গ্যালাকটিক সংঘর্ষে কসমিক বস্তুর অবস্থান, গ্যালাক্সির ক্লাস্টারদের ঘিরে গ্যালাক্সির আবর্তনের গতি, কসমিক বস্তুগুলো থেকে উৎপন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের দিক এবং গতি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।বর্তমান মহাবিশ্বের 26.8% ডার্ক মেটার দ্বারা আচ্ছাদিত।

আসুন এবার আমরা জানে নেই এই ডার্ক মেটার বিষয়টা আসলো কোথায় থেকে?

১৯৩৩ সাল নাগাদ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্রিটয জুইকি 'কমা গ্যালাক্সি ক্লাস্টার' নিয়ে গবেষণা করার সময় গ্যালাক্সি থেকে আগত দৃশ্যমান আলোর অনুপাতে ভর বের করেন। তারপর গ্যালাক্সির মহাকর্ষ বল থেকে এর ভর বের করলেন।

দেখলেন, আগের থেকে ভর বেশি আসছে। এই বাড়তি ভর কোথা থেকে এল? জুইকি এই হিসাব না পাওয়া ভরের নাম দিলেন ডার্ক ম্যাটার।

পরবর্তীতে, ষাটের দশকে জ্যোতির্বিজ্ঞানী 'ভেরা রুবিন' গ্যালাক্সির ঘূর্ণন-সম্পর্কিত একটা রিসার্চ করতে গিয়ে দেখলেন, গ্যালাক্সির কেন্দ্রের বাইরের দিকে তার ঘূর্ণন গতি যতটুকু হওয়ার কথা তার চাইতে বেশি। কতটুকু হওয়ার কথা? একটা গ্যালাক্সির মধ্যে যতটুকু ভর রয়েছে, তার মধ্যে মহাকর্ষ বল তত বেশি কাজ করে। আর মহাকর্ষ বল যত বেশি, কেন্দ্রের বাইরের দিকে তার ঘূর্ণন বল তত বেশি। রুবিন দেখলেন, সেই অনুযায়ী ঘূর্ণনগতির অনুপাতে একটা গ্যালাক্সির যথেষ্ট পরিমাণে ভর ধরা পড়ছে না। যাকে বলে 'ওজনে কম আছে', রুবিন অংক কষে সেই 'অদৃশ্য' ভরের পরিমাণ বের করলেন। সেই পরিমাণ হচ্ছে গ্যালাক্সির তথা মহাবিশ্বের প্রায় ২৭ শতাংশ। যা ফ্রিটয জুইকির দেওয়া নাম অনুসারে ডার্ক ম্যাটার নামেই আখ্যায়িত করা হয়। তাহলে কি এই পদার্থটিকে ম্যাজিশিয়ান বলে আখ্যা দেওয়াটা ভুল?

এখন প্রশ্ন আসতে পারে কি দিয়ে তৈরি এই ডার্ক ম্যাটার?

ডার্ক ম্যাটার কী দিয়ে তৈরী তা এখনও বের করা না গেলেও এইটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে আমাদের পরিচিত কোনকিছুর সাথে এর কোন মিল নেই। ইলেকট্রন, প্রোটন বা নিউট্রন নয়, ডার্ক ম্যাটার এমন কিছু দিয়েই তৈরী যা আমরা এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করতে পারি নি।

তবে, কোয়ান্টাম ফিজিক্স “এক্সিয়ন” নামে এক ধরণের পারমাণবিক কণার কথা বলে, যার বৈশিষ্ট্যের সাথে ডার্ক ম্যাটারের কিছু বৈশিষ্ট্যের মিল রয়েছে। হতে পারে ডার্ক ম্যাটার এক্সিয়ন দিয়ে তৈরী, আবার নাও হতে পারে। বিজ্ঞান এখনও উত্তর খুঁজছে।

একটি হাইপোথিসিস অনুযায়ী, ডার্ক ম্যাটার উইম্প (WIMP= Weak Interacting Massive Particle) দিয়ে তৈরী, যার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটা পদার্থের সাথে এতই দুর্বলভাবে মিথস্ক্রিয়া করে যে বিশাল ভরের কোন ডার্ক ম্যাটার আমাদের ভেতর দিয়ে অনায়াসে চলে যেতে পারবে, আমরা টেরই পাব না!

এখন আরেকটি প্যারামিটার রয়েছে যা ডার্ক ম্যাটারের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যা ডার্ক এনার্জি নামে পরিচিত। যা মহাবিশ্বের প্রায় ৭০% দখল করে আছে। এই ডার্ক এনার্জিই নাকি মহাবিশ্বকে দ্রুত প্রসারিত করছে।
আজকে এই পর্যন্তই দেখা হবে পরবর্তী কোন বৈজ্ঞানিক আলোচনায়!
সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে!

নোবেলের উইল: এক বিস্ফোরক উত্তরাধিকার১৮৮৮ সালের এক সকালে ফরাসি এক পত্রিকার শিরোনাম কাঁপিয়ে দিল ইউরোপ:“Le marchand de la ...
01/10/2025

নোবেলের উইল: এক বিস্ফোরক উত্তরাধিকার

১৮৮৮ সালের এক সকালে ফরাসি এক পত্রিকার শিরোনাম কাঁপিয়ে দিল ইউরোপ:
“Le marchand de la mort est mort”, অর্থাৎ, “মৃত্যু বণিক মারা গেছে!”
সমস্যা একটাই, মারা গিয়েছিলেন নোবেলের ভাই লুডভিগ, স্বয়ং আলফ্রেড নন। কিন্তু এই ভুল শিরোনামেই তার জীবনের মোড় ঘুরে গেল। ডিনামাইট ও সামরিক বিস্ফোরকের আবিষ্কর্তা হিসেবে তিনি সবার চোখে ছিলেন “মৃত্যুর বণিক”। সেই আতঙ্ক থেকেই জন্ম নিল এক মহৎ চিন্তা: তিনি ইতিহাসে কেমনভাবে স্মরণীয় হবেন?

• প্রায়শ্চিত্তের পুরস্কার:

নোবেল ছিলেন শুধু বিজ্ঞানী নন, ছিলেন এক বিশাল শিল্পপতি। ৩৫৫টি পেটেন্ট ও ৯০টির বেশি কারখানা থেকে অর্জিত অগাধ সম্পদ দিয়ে তিনি তার উত্তরাধিকার তৈরি করলেন। তার উইল অনুযায়ী, এই বিশাল সম্পত্তি দেখভালের জন্য তৈরি হয় নোবেল ফাউন্ডেশন, যার কাজ হলো বিনিয়োগের মুনাফা থেকে অনন্তকাল ধরে পুরস্কারের অর্থ জোগান দেওয়া। পুরস্কার প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয় সুইডেন ও নরওয়ের চারটি বিশ্বস্ত সংস্থাকে।

• কিন্তু কেন পুরস্কার? অন্য কিছু নয় কেন?

কিন্তু হাসপাতাল বা বিশ্ববিদ্যালয় না গড়ে কেন পুরস্কারের পথ বেছে নিলেন? কারণ তিনি জানতেন, একটি হাসপাতাল হাজার হাজার মানুষের সেবা করতে পারে, কিন্তু পেনিসিলিনের মতো একটি আবিষ্কার কোটি কোটি জীবন বাঁচায়। তাই তাৎক্ষণিক সাহায্যের চেয়ে তিনি এমন কিছুতে বিনিয়োগ করতে চেয়েছিলেন যা মানবজাতির জন্য দীর্ঘস্থায়ী কল্যাণ বয়ে আনবে। জাতীয়তাবাদের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি চেয়েছিলেন সারা বিশ্বের সেরা সংস্থাগুলোকে স্বীকৃতি দিতে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

• নির্বাচনের রহস্যময় গোপনীয়তা:

নোবেল পুরস্কারের জন্য আবেদন করা যায় না; এটি অর্জন করতে হয়। প্রতি বছর নোবেল কমিটিগুলো গোপনে বিশ্বের হাজার হাজার শীর্ষ বিশেষজ্ঞের কাছে মনোনয়নের জন্য আমন্ত্রণ পাঠায়। এরপর শুরু হয় মাসব্যাপী খোঁজখবর, তর্ক ও যাচাই। সবচেয়ে রহস্যময় দিক হলো পঞ্চাশ বছরের গোপনীয়তার নিয়ম, কে মনোনীত হয়েছিলেন বা কারা চূড়ান্ত তালিকায় ছিলেন, তা অর্ধশতক ধরে সিন্দুকে তালাবদ্ধ থাকে। এই কঠোর গোপনীয়তাই নোবেল পুরস্কারকে সব ধরনের রাজনৈতিক চাপ ও লবিং থেকে মুক্ত রাখে। অবশেষে, বিজয়ীর নাম ঘোষণার ঠিক আগে তাকে একটি সাধারণ ফোন কলের মাধ্যমে জানানো হয়, যে কলটি তার জীবন চিরদিনের জন্য বদলে দেয়।

• বিভাগ ও বিস্ময়কর কাহিনি:

নোবেলের উইলে ছিল পাঁচ বিভাগ: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তি (পরে অর্থনীতি যোগ হয়)। বিজয়ীরা পান স্বর্ণপদক, ডিপ্লোমা ও বিপুল পরিমাণ অর্থ।

✓ কিছু রোমাঞ্চকর তথ্য:

° কুরিদের বংশগৌরব: মেরি কুরি থেকে মেয়ে ও জামাতা, একই পরিবারে পাঁচবার নোবেল।

° প্রত্যাখ্যান: জ্যঁ-পল সার্ত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান নিতে অস্বীকার করে পুরস্কার ফিরিয়ে দেন।

° অন্যায় বঞ্চনা?: শান্তির প্রতীক মহাত্মা গান্ধী পাঁচবার মনোনীত হয়েও কখনো জেতেননি। ১৯৪৮ সালে তাকে পুরস্কার দেওয়ার আগেই হত্যা করা হলে, কমিটি সে বছর কাউকে পুরস্কার না দিয়ে জানায়, "কোনো যোগ্য জীবিত প্রার্থী ছিল না"।

° যুদ্ধের কৌশল: নাৎসিদের হাত থেকে বাঁচাতে নিলস বোর ও ম্যাক্স ফন লাউ তাঁদের স্বর্ণপদক অ্যাকোয়া রেজিয়াতে গলিয়ে লুকিয়েছিলেন।

° অনন্য কৃতিত্ব: একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে দুটি ভিন্ন বিষয়ে এককভাবে নোবেল জয়ের রেকর্ড রয়েছে লিনাস পাউলিংয়ের, একটি রসায়নে, অন্যটি শান্তিতে।

• একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক:

নোবেল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সম্মান হলেও সমালোচনা কম নয়। বিশেষত নারী ও এশিয়া-আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বের অভাব, আর “সর্বোচ্চ তিনজনের নিয়ম” আধুনিক বিজ্ঞানের দলবদ্ধ প্রকৃতিকে অবমূল্যায়ন করে। শান্তি ও সাহিত্যের পুরস্কারকেও অনেকে রাজনৈতিক প্রভাবিত মনে করেন।

• শেষকথা:

ধ্বংসের আবিষ্কারক থেকে মানবতার পুরস্কারদাতা আলফ্রেড নোবেলের উত্তরাধিকার নিঃসন্দেহে বিস্ফোরক। তবুও প্রশ্ন থেকে যায়: আজ যদি নোবেল বেঁচে থাকতেন, সমালোচনার এই ঝড় দেখে তিনি কি ভাবতেন, তার প্রায়শ্চিত্ত কি যথেষ্ট ছিল?

কখনো কী ভেবে দেখেছেন, আপনার মাথার উপরের আকাশটা নীল কেনো? হলুদ, বেগুনী বা লাল কেনো নয়? কিংবা দিনের এই নীল আকাশটাই সন্ধ্যা...
21/09/2025

কখনো কী ভেবে দেখেছেন, আপনার মাথার উপরের আকাশটা নীল কেনো? হলুদ, বেগুনী বা লাল কেনো নয়? কিংবা দিনের এই নীল আকাশটাই সন্ধ্যা বেলায় রক্তিম বর্ণ ধারণ করে কি করে? এই প্রশ্নগুলো যদি আপনাকে ভাবায়, তাহলে স্বাগতম আপনাকে, চলুন তবে, একসাথে খুঁজে বের করি আকাশের রঙের রহস্য!

চলুন প্রথমে জানার চেষ্টা করি- আকাশ আসলে কি?

সায়েন্টিফিক্যালি বললে, আকাশ বলতে আসলে কোনো কিছুর অস্তিত্বই নেই! আমাদের মাথার উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরত্ব অব্দি বায়ুমন্ডলের বিস্তার। এরপরেই অনন্ত মহাকাশ! (যদিও এটা খুবই রাফ এস্টিমেশন, প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীপৃষ্ঠের উপরে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার দূরত্ব অব্দিও বায়ুমন্ডলের অণু-পরমাণুর সামান্য অস্তিত্ব পাওয়া যায়!) আমাদের মাথার উপরে বিশাল বিস্তৃত এই বায়ুমন্ডলটাই আসলে আমাদের কাছে আকাশ!

‘আকাশ কী’ জানার পরে পরবর্তী প্রশ্নে যাওয়া যাক- আকাশের রঙ নীল কেনো?

যেহেতু আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি আকাশ বলতে কোনো ‘বস্তুর’ অস্তিত্বই নেই, তাই আকাশের রঙ থাকারও কোনো প্রশ্ন আসেনা! তাহলে শূন্যে মাথার উপরে তাকালে নীল দেখায় কেনো?

এক কথায় এর উত্তর- এই নীল রঙের জন্য দায়ী আমাদের বায়ুমন্ডল! আমরা যদি আমাদের বায়ুমন্ডলের উপাদান দেখি, তাহলে দেখতে পাব এখানে প্রায় ৭৮% নাইট্রোজেন এবং ২১% অক্সিজেন আছে! (এছাড়াও কার্বন-ডাই-অক্সাইড, আর্গন, জলীয়বাষ্প সহ আরো কিছু গ্যাস থাকে) এই সমস্ত গ্যাসের অণু মিলেই মূলত আমাদের মাথার উপরের বায়ুমন্ডলটাকে নীল বানায় যা আমরা আকাশ হিসেবে চিনি!

তাহলে এখন প্রশ্ন- বায়ুকণাগুলো বায়ুমন্ডলকে নীল বানায় কি করে?

মূলত বায়ুমন্ডলে থাকা বায়ুকণাগুলো সূর্যের আলোকে বিক্ষিপ্ত করে দেয় (আরো সহজ করে বললে, ছড়িয়ে দেয়!) সুর্যালোকের এই বিক্ষেপনের কারণেই বায়ুমন্ডল নীল দেখায়!

আমরা জানি, সূর্যের সাদা আলো আসলে সাদা নয়, বরং ৭ টি রঙের সমষ্টি (বেনীআসহকলা!)। আলোর এই রঙের তারতম্য ঘটে (অর্থাৎ বিভিন্ন রঙ সৃষ্টি হয়) মূলত বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কারণে! একেক রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যে একেক ধরণের হয়। এবং আলো যখন বিক্ষিপ্ত হয়, তখন একেক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর বিক্ষেপনের পরিমাণও ভিন্ন হয়।
যখন সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসে, তখন বায়ুকণাগুলো ( এই কণাগুলো আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তুলনায়ও অতি ক্ষুদ্র) সূর্যের আলোকে বিক্ষিপ্ত করে এবং যেহেতু সূর্যের আলোতে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো থাকে, তাই বিক্ষেপণের পরিমাণও আলাদা হয় এবং বায়ুকণা দ্বারা অপেক্ষাকৃত ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর বিক্ষেপণ বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর তুলনায় বেশি হয়!
দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের দিকে তাকালে (ছবি-০১) আপনি দেখতে পাবেন- বেগুনী এবং নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য তুলনামূলক ভাবে ছোট অপরদিকে লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বড়! যেহেতু বেগুনী এবং নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম, তাই বায়ুকণাগুলো বেগুনী ও নীল আলো বেশি পরিমাণে বিক্ষিপ্ত করে।

এখন আপনার প্রশ্ন হবে- আকাশের রঙ বেগুনী হলোনা কেনো?

এর উত্তরে দুটি বিষয় আসবে- আপনার চোখ এবং ওজোন স্তর!
প্রথমত, বায়োলজিক্যালি আমাদের চোখ বেগুনীর থেকে নীল আলোর প্রতি অনেক বেশি সংবেদনশীল। সহজ কথায়, আমরা বেগুনীর থেকে নীল রঙ অনেক ভালো দেখি! (আমরা কেনো বেগুনীর থেকে নীল আলো ভালো দেখি জানার জন্য পরবর্তী আর্টিকেলের অপেক্ষা করুন!)

দ্বিতীয়ত, বায়ুমন্ডলে ওজন স্তর নামে একটা অংশ আছে, আপনি এটাকে একটা ফিল্টার হিসেবে চিন্তা করতে পারেন। তবে এটা কোনো সাধারণ ফিল্টার নয়, বরং আলোর ফিল্টার। সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীবাসীকে ত্বকের ক্যান্সার হওয়া থেকে বাঁচানোই এর মূল কাজ! এই ওজোন স্তর অতিবেগুনী রশ্মির সাথে বেশ খানিকটা বেগুনী আলোও শোষণ করে নেয়! (কারণ অতিবেগুনী রশ্মির পরেই দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য শুরু হয়, এবং দৃশ্যমান আলোর প্রথম রঙ বেগুনী, অর্থাৎ অতিবেগুনী রশ্মির শেষ অংশের পরেই যেহেতু বেগুনী আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য তাই ওজোন স্তর অতিবেগুনীর সাথে বেশ খানিকটা বেগুনী রশ্মিও শোষণ করে ফেলে!)

এই দুই কারণেই মূলত, সূর্য থেকে আসা বেগুনী আলো বেশি বিক্ষিপ্ত হলেও (কারণ তার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নীলের থেকেও কম!) আমরা আকাশকে বেগুনী না দেখে নীল দেখি!

এবার আজকের আলোচনার শেষ অংশে যাওয়া যাক- সন্ধ্যার আকাশ লাল হয় কিকরে?

উপরের সমস্ত আলোচনার পরে, আপনার মনে হওয়া স্বাভাবিক, আকাশের রঙ আর যাই হোক, লাল হওয়া সম্ভব নয়! কারণ, লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান সব আলোর মধ্যে সবথেকে বেশি! এবং যেহেতু বায়ুকণাগুলো কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকে বেশি বিক্ষিপ্ত করে, তাই আকাশের রঙ লাল হতে পারে না।

কিন্তু, সন্ধ্যাবেলা, সূর্য যখন দিগন্তে থাকে, তখন সূর্যের আলোকে সবথেকে বেশি দূরত্ব পারি দিতে হয়। (এই দূরত্ব দুপুরবেলা যখন সূর্যের আলো সরাসরি পৃথিবীতে আসে তার প্রায় ১০ গুণ বেশি!) এই অতিরিক্ত পরিমাণ দূরত্ব পারি দিতে গিয়ে নীল আলো আরো বেশি বিক্ষিপ্ত হয়, আরো বেশি ছড়িয়ে যায়। এবং ফলস্বরুপ, আমাদের চোখে আলো পৌছোনো অব্দি নীল আলোর পরিমাণ খুবই কমে যায় এবং সেখানে তুলনামূলক বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো (যেমন- লাল, কমলা, হলুদ), যারা কম বিক্ষিপ্ত হয়, তারা থেকে যায়, আর ঠিক এই কারণেই সন্ধ্যার আকাশে আমরা লাল রঙ দেখতে পাই!

জটিলতা এড়ানোর জন্য এই আর্টিকেলে ম্যাথেমেটিকাল কোনো টার্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়নি। পরবর্তী কোনো এক আর্টিকেলে ম্যাথেমেটিকাল টার্মস, গ্রাফস ব্যবহার করে রঙিন আকাশের রহস্য উন্মোচন করা হবে!

🌌 Introduction to Theoretical Astrophysics and Cosmology 🌌Are you ready to explore the mysteries of the cosmos?Jagannath...
06/09/2025

🌌 Introduction to Theoretical Astrophysics and Cosmology 🌌

Are you ready to explore the mysteries of the cosmos?
Jagannath University Physics Club proudly presents a beginner-friendly yet insightful webinar on Cosmology on 13th September.

🔭 What’s in store?

1. What exactly is Cosmology and how does it differ from Astronomy & Astrophysics?

2. The fascinating role of Gravity and the Cosmic Microwave Background (CMB)

3. Insights from ongoing research in physics

4. Career pathways and opportunities in the field

5. Interactive Q&A session to answer your burning questions

🎯 Whether you’re just curious about the universe or planning to pursue research, this webinar is your chance to explore, learn, and connect.

📅 Date & Time: 13th September at 9:00 PM (GMT+6)
📍 Platform: Google Meet (Link will be shared soon)

✨ Don’t miss this chance to expand your horizons with us.
👉Registration Link: https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSdKLbe2Kpfi_YhagcNkz6_lB5VAX6DZW2keIU8FjFxB9JA-pA/viewform

✨ A new chapter begins!Today, the JnU Physics Club officially launched 🚀Huge thanks to everyone who participated in and ...
27/08/2025

✨ A new chapter begins!
Today, the JnU Physics Club officially launched 🚀
Huge thanks to everyone who participated in and supported our launching event & mini quiz. ❤️
Together, we move forward as a physics family! 🌟

Address

Chitranjan Avenue, Dhaka-1100
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jagannath University Physics Club posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share