26/03/2026
গেরিলা
নাসির উদ্দিন ইউসুফ পরিচালিত "গেরিলা"(২০১১) চলচ্চিত্রটি আমাদের মহান বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের চেতনাকে গভীরভাবে ধারণ করে নির্মিত একটি শক্তিশালী শিল্পকর্ম। এটি কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং ১৯৭১ সালের আত্মত্যাগ, বেদনা ও অদম্য সাহসের একটি জীবন্ত দলিল।
চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রে থাকা বিলকিস বেগম (অভিনয়ে জয়া আহসান) গ্রামবাংলার একজন সাধারণ নারীকে তুলে ধরে যার জীবন আবর্তিত হয় পরিবারকে ঘিরে। কিন্ত ১৯৭১ সালে যখন পূর্ব বাংলা বিপর্যস্ত, তখন তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায় নির্মম অত্যাচারী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। বিলকিস বুঝতে পারে যে,স্বামীর নিখোঁজ হয়ে যাওয়া কেবল তার ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়,এটি তাকে জাগিয়ে তোলে এক বৃহত্তর সত্যের মুখোমুখি যে, স্বাধীনতা ছাড়া কোনো নিরাপত্তা নেই। এই উপলব্ধিই তাকে ধীরে ধীরে গড়ে তোলে এক সাহসী গেরিলা যোদ্ধায়।
চলচ্চিত্রে শহুরে গেরিলা যুদ্ধ, গোপন অভিযান এবং প্রতিনিয়ত মৃত্যুভয়ের মধ্যেও সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তা অত্যন্ত বাস্তব ও আবেগঘনভাবে ফুটে উঠেছে। প্রতিটি মুহূর্তে ধরা পড়ার আশঙ্কা, নির্যাতনের ভয়, কিংবা মৃত্যুর সম্ভাবনা, সবকিছুকে অতিক্রম করে যোদ্ধারা এগিয়ে চলে এক স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নের দিকে।
স্বাধীনতা দিবসের প্রেক্ষাপটে এই চলচ্চিত্র বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, কারণ এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা কোনো সহজলভ্য অর্জন নয়। বিলকিসের মতো অসংখ্য সাধারণ মানুষ, যাদের নাম ইতিহাসে নেই, তাদের সাহস, ত্যাগ এবং নিঃশব্দ অবদানেই আজকের এই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।একই সঙ্গে গেরিলা নারীর ভূমিকার এক শক্তিশালী পুনঃনির্মাণ করে। বিলকিস শুধু একজন ভুক্তভোগী নন; তিনি প্রতিরোধের প্রতীক, স্বাধীনতার এক দৃঢ় কণ্ঠস্বর। তার সংগ্রাম আমাদের শেখায় কিভাবে দেশের প্রয়োজনে ব্যক্তি পরিচয়, ভয় এবং সীমাবদ্ধতা সবকিছু অতিক্রম করা সম্ভব।
সার্বিকভাবে, এই চলচ্চিত্র আমাদের স্বাধীনতা দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। এটি মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং এটি এক চলমান চেতনা, যা গড়ে উঠেছে রক্ত, ত্যাগ এবং অসীম সাহসের বিনিময়ে।