01/06/2023
হাসপাতালে মৃত্যুর মিছিলের যাত্রা আজ নতুন নয়। তবে এমন নির্মম মৃত্যু কারোরই কাম্য নয়।
আজ (২৯.০৫.২৩) বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে ইমারজেন্সি তে পরিচয়হীন ১০-১১ বছরের ছেলেটি পথচারীর সহায়তার মাধ্যমে আসে। তথ্যসূএে, মহাখালীতে নির্মানাধীন ফ্লাইওভারের ৬০ ফিট উপর থেকে আলগা দুটি রড এসে হঠাৎ নিচে পড়ে। ৬-৭ ফিট রডের একটি সামনে পড়লেও অপরটি শিশুটির মাথার পেছনে সজোরে এসে ঢুকে চোয়াল দিয়ে বেরিয়ে আসে। আমার জীবনে এত নির্মম মৃত্যুর দৃশ্য এর আগে কখনো দেখিনি। মাথায় ঢোকা অংশটুকু বাদে রডের তিন-চতুর্থাংশ ধরে ড্রিল মেশিন দিয়ে খুব সাবধানে কাটা হয়েছিলো। শিশুটির ম্যাসিভ হেমোরেজ হচ্ছিলো,গজ পিচ দিয়ে টাইট করে মাথায় ব্যান্ডেজ করা হলেও তা সব ভিজে রক্ত গড়িয়ে গড়িয়ে আসছিলো । নারভাস সিস্টেম আনস্টাবল,পালস্ খুবই স্যালো পাওয়া যাচ্ছিলো। শিশুটির দু হাতে দুটি আইভি চ্যানেল ওপেন করে কন্টিনিউয়াস নরমাল স্যালাইন চলছিলো। এতই ব্লিডিং হচ্ছিলো আমরা যারা ছিলাম কেউ পালস দেখছে,কেউ ব্যান্ডেজ করছিলো,কেউ মুখের অক্সিজেন মাস্ক বার বার ঠিক করে দিচ্ছিলো,কেউবা আবার স্যালাইন বটেল চেপে চেপে ফাস্ট রানিং ফ্লুইড দেওয়ার চেষ্টা করছিলো। শিশুটির চোখ তখনও খোলা,সে দুই একবার মাথা ঘোরানোর চেষ্টা করছিলো,কিন্তু এতখানি রড পেছনে গেথে আছে,আমরা তার মাথাটা এককাঁধ করে শুয়ে রাখার জন্য বার বার বলছি। শিশুটার রেসপন্স আসতে আসতে কমে আসছিলো,দু-তিন বার খিঁচুনি হয়ে শরীর অসাড় হয়ে যাচ্ছিলো। অক্সিজেন ও ফ্লুইড কাভারেজ দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীতে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়। পরে তারা ICU এ লাইফ সাপোর্টে শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে যায়।
সন্ধ্যার আগে নিউজ পেলাম শিশুটি মারা গেছে। ইন্না নিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন।শিশুটির লাশ এখন ঢামেকের মর্গে রাখা আছে। তার বেঁচে থাকার ৫-৬ ঘন্টার নির্মম চেষ্টার কিছু মুহূর্তের স্বাক্ষী যেন আমিও হয়ে গেলাম। এখন আচমকা কেন জানি চোখের সামনে বার বার ভেসে উঠছে সকালে ভয়াবহ দূর্ঘটনার শিকার হওয়া শিশুটির সেই করুণ দৃশ্য, কোন কাজেই মনোযোগ বসাতে পারছি না। পথচারী শিশুটির মৃত্যুর সময়ও তার পরিবারের কাউকেই পাশে পায়নি কেননা তার পরিচয় কেউই সঠিকভাবে দিতে পারে নি। মৃত্যু যে কতটা অসহায় ও সকল নির্মমতার উর্ধে শিশুটি তারই বাস্তব প্রমাণ।
শুধু এটুকুই প্রার্থনা আল্লাহ্ শিশুটিকে জান্নাতবাসী করুক,আমিন।
-ডা.মুশফিকুর রহমান