16/10/2026
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামবিদ্বেষের চর্চা: বৈষম্য প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান
গত ৭ই অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষিকা তাসনিম সিরাজ মাহবুব ক্লাসরুমে একজন নারী শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র হিজাব-নিকাব পড়ার কারণে তাকে সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দেন এবং তাকে ক্লাসরুমে পেছনের বেঞ্চে বসার জন্য নির্দেশনা দেন। একইসাথে তিনি এটাও বলেন যে, ❝সে যে fundamentalist (সন্ত্রাসী) না এবং সে যে বোমা মারবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা তিনি পান না।❞ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করায় তিনি বলেন, ❝তোমরা কি করতে পারবা মিডিয়ার কাছে যাবা, এক্ষনি যাও ফোন করো, ভিসির কাছে যাবা যাও। আমার কিছু করতে পারবে না।❞ শ্রেণিকক্ষে তার বক্তব্যের সরাসরি অডিও রেকর্ড এবং পরবর্তীতে তাসনিম সিরাজ মাহবুব কর্তৃক এই অপরাধ অস্বীকার করতে লাইভে গিয়ে ChatGPT দেখে বক্তব্য প্রদানের ভিডিও; ইতোমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন নিউজ চ্যানেলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, ওই শিক্ষিকাকে শুধুমাত্র সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে তার দ্বারা হেনস্থা হওয়ার ঝুকি উন্মোচিত হয়ে যায়। আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নিয়মের ক্ষেত্রে আরো সচেতন হওয়া উচিত এবং আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা চাই, তাকে স্থায়ী ভাবে বহিস্কার করা হোক।
বাংলাদেশে কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষ নানা রূপে প্রতিনিয়ত সামনে আসছে। কার্যত, এই দেশের মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সামাজিক পরিসর, পেশাগত জীবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামবিদ্বেষের শিকার হয়ে আসছেন। শিক্ষার্থীদের ইসলামি নিয়মনীতির অনুসরণকে কটাক্ষ করা, প্রেজেন্টেশন নিতে অস্বীকৃতি জানানো, মার্কস কাটা ইত্যাদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষত, নারী শিক্ষার্থীরা তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় ও বোরকা-নিকাবের কারণে বৈষম্য, কটূক্তি ও হয়রানির শিকার হন বেশি। পোশাক বা বিশ্বাসের কারণে কাউকে হেয় করা, আলাদা করে দেওয়া কিংবা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ট্যাগ করার চেষ্টা, ইসলামবিদ্বেষের এমন যেকোনো প্রকাশকে আমরা দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানাই। ধর্মীয় অনুশীলনের কারণে কোনো শিক্ষার্থী সেখানে বৈষম্য, অপমান বা বিদ্বেষের শিকার হবেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত জ্ঞানচর্চা, পারস্পরিক সম্মান ও নিরাপদ পরিবেশের স্থান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামবিদ্বেষ দূরীকরণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ এবং এ ধরনের যেকোনো ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি, এসব ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা এবং কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বৈষম্যমূলক নীতি ইসলামি নিয়মনীতি অনুশীলনকারী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের নিপীড়নের পথ প্রশস্ত করে। তাঁদের প্রতি বৈষম্যকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এর পেছনে দায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও জবাবদিহির অভাব চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সাধারন শিক্ষার্থীবৃন্দ
ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিক
১৬ অক্টোবর, ২০২৬