13/05/2026
গতকাল রাতে আমরা যারা প্রক্টর অফিসে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রত্যক্ষ করেছি, বিশ্বাস করেন প্রত্যেকটা মানুষ ট্রমাটাইজড।
ঘটনার ২ মিনিটের একটা সিসিটিভি ফুটেজ আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে বিভীষিকাময়, ভয়ানক এবং জঘন্যতম এক্সপেরিয়েন্সটা দিয়েছে।
অনেকেই জানতে চাচ্ছেন মূল ঘটনা কী?
ঘটনার ১৩ ঘন্টা হয়ে গেলেও এটা লিখে ওঠার মতো সাহস পাচ্ছি না। তাও সবাইকে আলাদাভাবে যেহেতু জানানো সম্ভব না, চেষ্টা করছি গুছিয়ে লেখার৷
রাত ১১ টা ১০ বা এর আশেপাশের সময়ে সাদা টিশার্ট এবং কালো প্যান্ট পরা এক যুবক ভিকটিম নারী শিক্ষার্থীর পিছু নেয় সালাম-বরকত হল সংলগ্ন "জামাইর দোকান" এরিয়া থেকে।
পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল এবং আল-বেরুনী এক্সটেনশনের বাস্কেটবল গ্রাউন্ডের মাঝামাঝি রাস্তায় এলে, ক্রিমিনালের অস্বাভাবিক গতিবিধি লক্ষ্য করে উক্ত নারী শিক্ষার্থী জানতে চান যুবকটি ক্যাম্পাসের কিনা।
পরিচিত হতে চাইলে, ক্রিমিনাল উত্তর দেয়, সে জাবি-৪৮ ব্যাচ। এই পুরো কনভারসেশনের ডিউরেশন ৪০ সেকেন্ডের কাছাকাছি।
এরইমধ্যে পেছন থেকে ক্রিমিনাল, ভিকটিমের খুব কাছাকাছি চলে আসে। এবং ২-৩ সেকেন্ডের ব্যবধানে, ১১.১৩ এর দিকে কোনোকিছু আন্দাজ করা বা বুঝে ওঠার আগেই, পেছন থেকে একটা নাইলনের জাল সর্বশক্তি দিয়ে ভিকটিমের গলায় পেঁচিয়ে ফেলে।
খুবই এগ্রেসিভলি পেছন থেকে গলায় পেঁচানো নাইলনের নেট টেনে টেনে, মুখে হাত দিয়ে শ্বাস রোধ করে মেয়েটাকে পাশের ঝোঁপের ভেতরে টেনে-হিচড়ে নিয়ে যায় ক্রিমিনাল।
ক্রিমিনালের ইনটেশন ক্লিয়ারলি "হ`**`ত্যা এবং ধ'_--র্ষ--_ণ'"।
ভিকটিমের ভাষ্য অনুযায়ী আর এক সেকেন্ডও এই অবস্থায় থাকলে, নিশ্চিত "মৃ_--_ত্যু" হতো। তার নিঃশ্বাস একেবারেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। বাঁচার জন্য তখন তিনি ক্রিমিনালকে বলেন, সে যা চায়, ভিকটিম দিবে। কিন্তু প্রাণটা যেন কেড়ে না নেয়।
তখন কিছুটা আশ্বস্ত হয়ে, ক্রিমিনাল মুখ থেকে হাত সরায় এবং গলার বাঁধন কিছুটা শিথিল করে। সাথে সাথে মেয়েটা "হেল্প হেল্প" বলে চিৎকার করে ওঠে।
এবং দুঃখের বিষয় হচ্ছে, ৩ টা বাইক, ১ টা রিকশা পাশ থেকে চলে গিয়েছে৷ তারা এই শব্দ শুনে তাকিয়েছেও ঝোঁপের দিকে। কিন্তু কেউই এগিয়ে আসেনি।
মেয়েটার গগনবিদারী চিৎকার, বাঁচার আকুতি ওখানে ফুটেজ দেখা প্রত্যেকটা মানুষকে কাঁদিয়েছে। হে আল্লাহ! কী অসহায় মুহূর্ত!
এরপর ১১.১৫ তে ভিকটিম ধ্বস্তাধস্তি করে এক পর্যায়ে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয় এবং কোনোমতে মেইন রাস্তায় এসে দাঁড়ায়।
এরপর ওই বাইকগুলো ফিরে আসে এবং ভিকটিমকে প্রক্টর অফিস ও মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়।
পরবর্তীতে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিসে জমায়েত হই।এবং সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে ক্রিমিনালকে আইডেন্টিফাই করা যায়।
সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট, আলোক-স্বল্পতা, অবাধ বহিরাগত প্রবেশ, জবাবদিহিতার অভাব, নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা বা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা- সবকিছুই প্রচন্ড হতাশ করে।
তবে, এই হতাশার মাঝেও, শান্তি এটুকুই:
ভিকটিম আমার দেখা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী, সাহসী আর বুদ্ধিমতী মানুষ। No words can express her courage.
I'm so proud of you, my Girl!
এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা থাকবো। প্রশ্ন করবো। লড়াই করবো আমাদের বোনের জন্য।
আসেন লড়াইটা একসাথে করি। নাহয় আজ উক্ত ভিকটিম, কাল আমি, পরশু আপনি বা আপনার কোনো বান্ধবী/বোন/মা/প্রেমিকা হবো এই নরপিশাচদের শিকার।
এই ঘটনার সুরাহা না হলে, "জাহাঙ্গীরনগর মেয়েদের জন্য স্বর্গ " এই ন্যারেটিভটা আর এক্সিস্টই করবে না!
বিঃদ্রঃ ভিকটিমের প্রাইভেসিকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়েছি আমরা। এই সম্মানটা আপনারাও জানাবেন বলেই আমি বিশ্বাস রাখি। নাম, ব্যাচ, ডিপার্টমেন্ট এগুলো কেউ সামনে আইনেন না প্লিজ।
-Mirza Saki, BGE 49