08/06/2026
মা/র্কি/নী/দের NED-এর খয়রাতে পরিচালিত নেত্র নিউজের তাসনিম খলিল ২০২৪ সালে আগষ্টের পরে বলছিলো শেখ হাসিনা ফিরে আসলে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের বইগুলোর বহু থিওরি মিথ্যা হয়ে যাবে। একই কথা ছাপরিদের বুদ্ধিজীবী সলিমুল্লাহ খানও বলছিল লীগ ফিরে আসলে তার সমস্ত পড়াশুনা ব্যার্থ হয়ে যাবে...
লোকটা ঠিক করে থিওরিগুলো না পড়েই কপচাইতে বসে গেছিলো। মুখস্ত করে পরীক্ষার খাতায় উগরে দিলে যা হয় আর কি।
সমাজবিজ্ঞানের কোন থিওরি দাবী করে না ঐ থিওরি ধ্রুব সত্য। বরং সব সময়ে সব গবেষক এটা বলেন যে এটা একটা ফ্রেমওয়ার্ক এবং এ দিয়ে সব পরিস্থিতি বা ঘটনা ব্যাখ্যা করা যাবে না। এটা সমাজবিজ্ঞানের রিসার্চ মেথড কোর্স ১০১ বা ফান্ডামেন্টাল বেসিক।
সমাজ এবং রাজনীতি সদা পরিবর্তনশীল। পরিবর্তনের সাথে সাথে থিওরিগুলোতেও কম বেশি বদল আসে বা নতুন থিওরি তৈরি হয়।
ন্যাচারাল সায়েন্সের (বায়োলজি, কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স, ইত্যাদি) ক্ষেত্রে এটা আলাদা। কারন ওখানে একটা হাইপোথিসিসি থিওরিতে পরিণত হয় অনেকগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে।
যদি ১০০০ বার গবেষনাগারে পরীক্ষার পরে ৯৯৯ বার এক রেজাল্ট আসে কিন্তু আরেকবারে অন্য রেজাল্ট আসে তবেও ঐ হাইপোথিসিসকে থিওরি বলে প্রমাণিত দাবী করা হয় না।
বরং তখন আরেকবারে কেন ভিন্ন রেজাল্ট আসলো তার কারণ অনুসন্ধান করা হয়। হাইপোথিসিসটা প্রশ্ন, পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষানিরীক্ষার মধ্যে থাকে।
যেমন আপনি যদি আইনস্টাইনের থিওরি অফ রিলেটিভিটি টেস্ট করেন ১০০০ বার, তবে ১০০০ বারে একই ফলাফল আসবে।
যদি আপনি থিওরি অফ এভুলেশনকে বা বিবর্তনবাদকে যে কোন প্রকারে গবেষনাগারে টেস্ট করেন তবে ১০০০ বারে ১০০০ বার একই রেজাল্ট আসবে। যে কারনে এগুলো থিওরি হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
কিন্তু সোশ্যাল সায়েন্সে যেহেতু থিওরীগুলো গবেষনাগারে পরীক্ষা নিরীক্ষার কোন উপায় নাই তাই কোনদিন কোন সমাজবিজ্ঞানী বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দাবি করেন না তাদের কোন থিওরি ধ্রুব সত্য এবং প্রতিটা ঘটনাকে তারা একই থিওরি দিয়ে পরিপূর্ণেভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবেন।
এত দমন-নিপীড়ন, দেশী-বিদেশী এস্টাবলিশমেন্টের বাধা স্বত্ত্বেও লীগ অনবরত মিছিল করে যাচ্ছে। মিছিল এবং মানুষের সংখ্যা প্রতিদিল যেভাবে বাড়ছে তাতে এটা প্রায় অবধারিত যে সামনে আরো নেতাকর্মীরা উৎসাহিত হবেন। মিছিলে মানুষের সংখ্যা বাড়বে।
শেখ হাসিনা কবে ফিরবেন আমরা কেউ জানি না। জানতাম যদি আমরা তাসনিম খলিলের মতন বইয়ের পাতা উল্টানো গবেট এবং ডলারখোর হতাম।
তবে আসার মতন পরিস্থিতি তৈরি হতে চিরদিন যে লাগবে না এটা নিশ্চিত। এখানে এই তর্কটা হতে পারে এটা কতটা জামাত-বিএনপির দেশ পরিচালনায় ব্যার্থতা এবং কতটা আওয়ামী লীগের সফলতা। এটুকু বড়জোর।
কিন্তু আওয়ামী লীগ জাগছে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সব সময়ে একটা ঘুমন্ত দৈত্য। সবচেয়ে কম ভোট যেবার পেয়েছিল সেটা হিসাবে নিলেও সমর্থকের সংখ্যা চার থেকে প্রায় ৫ কোটির মধ্যে।
এই মানুষেরা লিল্লাহখোর না। এরা খেটে খাওয়া মানুষ। এদের পক্ষে সম্ভব না প্রতিদিন রাস্তায় গিয়ে আন্দোলন করে।
যেটা জামাত পারে কারণ তাদের একটা অভ্যন্তরীন অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা আছে যা পারস্পরিক সহযোগিতার উপরে প্রতিষ্ঠিত। তাই জামাতের প্রতিটা সদস্য রাজনীতিতে সব সময়ে একটিভ।
কিন্তু আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা আলাদা। তাদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের সংস্থান সবাইকে নিজের মতন করে ব্যাবস্থা করে নিতে হয়।
কিন্তু দমন-নিপীড়ন এদের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিচ্ছে। সরকার যদি আপোষে তাদের নিঃশ্বাস নিতে না দেয় তবে আওয়ামী সমর্থকদের যদি ৫-১০ ভাগ মানুষও যদি নিঃশ্বাসের অধিকার আদায় করার সিদ্ধান্ত নেয় তবে এদের ঠেকাতে পারে এমন শক্তি কোথাও নাই। এমনকি আমেরিকানরাও পারবে না।
উল্টো দেখা যেতে পারে মা/র্কি/নী/রা দি/ল্লী দৌড়াচ্ছে শেখ হাসিনার সাথে শীতল সম্পর্ক অবসানের আশায়। কারণ তারাও চাইবে না বাংলাদেশ পুরোপুরি চী/ন-ভা/র/ত-রা/শি/য়া ব্লকে পুরোপুরি ঢুকে যাক। তারা চাইবে শেখ হাসিনা আগের মতন নিরপেক্ষ থাকবেন।
দুনিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলো এভাবেই চলে। জিততে না পারলে চেষ্টা করে অন্তত হেরে যাতে না যায়।
-Prof,Dr.Arif
゚