31/08/2017
ইমাম বুখারী (রহ.) এমনিতেই ইমাম বুখারী
হন নাই (ঘটনাটি পড়ুনঃ)
ইমাম বুখারী রাহ. এক শায়খের নিকট হাজির
হলেন। তিনি সম্ভবত বাগদাদের একজন
মুহাদ্দিস ছিলেন।
একদিন শায়খ দেখলেন, মুহাম্মাদ ইবনে
ইসমাঈল (ইমাম বুখারী) দরসে অনুপস্থিত।
এমন অনেক ছাত্র থাকে যারা কখনো দরসে
থাকে, কখনো থাকে না। কিন্তু ইমাম
বুখারী ওই সকল তালিবে ইলমের
অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা সময়ের আগেই
দরসে উপস্থিত হয় এবং সর্বদা সামনের
সারিতে থাকে। যাদের অনুপস্থিতি
উস্তাদ কল্পনাও করতে পারেন না। তো
হঠাৎ একদিন তাকে অনুপস্থিত দেখে
উস্তাদ ভাবলেন, হয়তো কোনো অসুবিধা
হয়েছে। পরের দিন শায়খ দরসে এসে
দেখলেন, আজও তিনি অনুপস্থিত। শায়খ
চিন্তিত হলেন সে কি অসুস্থ হয়ে পড়েছে
কিংবা অন্য কোনো সমস্যা দেখা
দিয়েছে! সে তো না আসার মতো ছাত্র নয়।
তো শায়খ একজনকে পাঠালেন, খোঁজ নাও
সে কেন দরসে আসছে না।
মসজিদের নিকটে একটি ছোট হুজরায় ইমাম
বুখারী থাকতেন। সেই তালিবে ইলম গিয়ে
দরজায় কড়া নাড়ল।
ভিতর থেকে আওয়াজ এল, কে? কেন
এসেছেন?
সেই তালিবে ইলম বলল, একটু বাইরে আসুন,
শায়খ আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন।
ইমাম বুখারী বললেন, ভাই! আমি বাইরে
আসতে অপারগ। আপনি ওখান থেকেই বলুন
কেন এসেছেন?
আগন্তুক বললেন, আপনি কেন দরসে আসছেন
না? আপনি যদি অসুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে
আমরা আপনার সেবা-শুশ্রূষা করব। অন্য
কোনো সমস্যা থাকলে তা দূর করার
চেষ্টা করব। আপনার অনুপস্থিতির কারণে
শায়খ অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়েছেন।
তার বারংবার পীড়াপীড়ির পর ইমাম বুখারী
বললেন, পরিধানের একটি মাত্র কাপড় ছিল
যা ধুয়ে ধুয়ে পরিধান করতাম। কিন্তু এখন
তা বিভিন্ন জায়গায় এতই ছিড়ে গিয়েছে
যে, সতর আবৃত রাখা সম্ভব নয়। তাই আমি
অপারগ হয়ে ঘরে বসে আছি।
চিন্তা করুন, কী অবস্থার মধ্য দিয়ে ইমাম
বুখারী ইলম হাসিল করেছেন। এমনি এমনি
ইমাম বুখারী হওয়া যায় না এবং এমনি এমনি
জগৎ কাউকে ইমাম ও মুকাতাদা হিসেবে
গ্রহণ করে না।
—শায়খুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানী
(দা.বা.) সাহেব