22/09/2026
সুবারেকের একটা ছাগলের খামার ছিলো। সেখানে ৩০-৩৫ টা ছাগল।
একদিন একটা ছাগলকে খোয়াড় থেকে চোর চুরি করে নিয়ে গেলো। বাকিসব ছাগল চুরি হয়ে যাওয়া ছাগলের ভাই-বোনকে বললো “তোর ভাইয়ের কি দরকার ছিলো রাতে ব্যা ব্যা করার? ব্যা ব্যা করলেতো চোর চুরি করবেই? আর মালিকের দোষ দেস কেন? মালিক কি রাতে ঘুমাবে না? খোয়াড়ের সুরক্ষায় যদি এতই টাকা খরচ করে তবে আমাদের খাবারের টাকা দিবে কে?”
আরেকদিন সুবারেকের ছেলে ও এলাকার বখাটে একটা ছাগলের একা পেয়ে যৌনকর্ম করলো। বাকিসব ছাগলে সেই ছাগলকেই বকা দিয়ে বললো, “আমরা দেখছি তুই লাফালাফি করোস। তুই লেজ নাড়াইয়া ঘাস খাইতি, আর লেজ নাড়নোর সময় খুব ভালো করে দেখলে যে কারোরই খাড়ায় যাইতে পারে। এখন মালিকের ছেলে কি জানতো যে তুই বেটা ছাগল। এইটাতেও তোর দোষ আছে?”
পাশের বাড়ির আইজুদ্দির পোষা ছাগল একদিন খামারের ছাগলদের বললো, তাদের মালিক মোটাতাজা করে বাজারে বিক্রি করবে নইলে নিজেরাই মাঝেমধ্যে রান্না করে তাদের খাবে। সুবারেকের খামারের ছাগল ব্যা ব্যা করে খুব বকা দিয়ে দিলো-“আইজুদ্দির ছাগলের কত্তবড় সাহস। মালিকের বিরুদ্ধে কথা বলে। আমাগো সুবারেক মালিক না থাকলে আমরা কি খাইতাম কই যাইতাম। বাঘ-শিয়ালে আমাদের খেয়ে ফেলতো। আমাদের রক্ষা করতো কে? আইজুদ্দির ছাগল একটা আস্ত ছাগল। ওতো ছাগলামিতেই বিশ্বাস করে না। ওর কথা শুনার কি দরকার। “
সুবারেকের পোলার বিরুদ্ধে সালিস বসবে, তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। সুবারেক এলাকার চেয়ারম্যানরে হাত করতে বাসায় ডেকে দাওয়াত খাওয়াবে- খামারের একটা মোটাতাজা ছাগল জবাই করে খাওয়ায় দিলো। খামারের ছাগলরা বললো, “এই ছাগলটা কম লাফালাফি করতো তাই শরীরে তেল ও চর্বি জমে তার শরীরের খারাপ হয়ে গেছিলো। আর কদিন পরে এমনিতেই মইরা যাইতো ওজনের কারণে। তাই মালিক সুবারেক রান্না করে খাওয়াতে ভালোই হইছে- অপচয় হয় নাই। ঐ ছাগলটারই দোষ।”
তারপর কয়েকমাস পরে কুরবানির ঈদের সময় খামারের কিছু ছাগল রেখে বাকিদের পাইকারের কাছে বিক্রি করে দিলো সুবারেক। নিজের জন্যও দুইটা ছাগল কুরবানী দিলো।
ছাগলের খামারে থাকা ছাগলরা বলতে লাগলো “ঐ ছাগলগুলো সারাবছর কিছু একটা ঘটলেই এই ব্যাখ্যা সেই ব্যাখ্যা শুনাইতো। এত ব্যাখ্যা লাগবে কেন রে? তোদের ব্যাখ্যার জন্যই মালিক বেচে দিছে। ঐ ছাগলগুলারই দোষ।”
দেশে চুরি, ডাকাতি, লুটপাট, ছিনতাই, দূর্নীতি, অপহরণ, ধর্ষণ, কোন বিরোধীতার জন্য জেলে পাঠানো হলে একদল ছাগলও বলে উঠে “ না। তোরই দোষ ছিলো!”
©