29/11/2025
দুদিন আগে কাজী আজিমউদ্দিন কলেজে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা হয়েছিল। কলেজ প্রশাসন চেষ্টা করেছিল অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে। সেখানে একটি রাজনৈতিক দলের এমপি মনোনীত প্রার্থীও উপস্থিত ছিলেন—কিন্তু তিনি জানতেনই না যে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর তিনি নিজেই আজ কলেজে এসে শিক্ষক-পরিচালনার সাথে আলাপ করেন, কেন এমনটা ঘটল, কোথায় ভুল হলো, এবং যেন ভবিষ্যতে এমন অব্যবস্থাপনা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে—এই ভুল বোঝাবুঝিকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে কিছু অসৎ ব্যক্তি কলেজের শান্ত পরিবেশ নষ্ট করার চক্রান্তে নেমেছে।
যে ছেলেটি বিভিন্ন ফেইক আইডি খুলে বারবার পোস্ট করছে, ভিডিও দিচ্ছে, শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে—সে ছাত্রসমাজের বন্ধু নয়। সে শিবিরের কর্মী, যার আসল উদ্দেশ্য আন্দোলন নয়; বরং কলেজ প্রশাসনকে বিপদে ফেলা, শিক্ষার্থীদের সামনে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা।
আমি দেখলাম—একই ব্যক্তি পাঁচ-ছয়টা ফেইক আইডি থেকে ‘আন্দোলনের ডাক’ দিয়ে যাচ্ছে। এগুলো আন্দোলনের ডাক নয়—এগুলো কৌশল, আমাদের ব্যবহার করার ফাঁদ।
বন্ধুরা, আন্দোলন তখনই হয় যখন সেটা আমাদের প্রয়োজন হয়, আমাদের অধিকার রক্ষার জন্য হয়।
কিন্তু অন্য কারও স্বার্থে, অন্য কারও পরিকল্পনায়, আমাদের নাম ব্যবহার করে আন্দোলন ডাকলে সেটা আর আন্দোলন থাকে না—সেটা হয়ে যায় শিক্ষার্থীদের আবেগকে জিম্মি করার যন্ত্র।
আজ আমরা যদি ভুল পথে হাঁটি, আগামীকাল সেই ভুলের দায় নিজেদেরই বইতে হবে।
কলেজের শান্ত পরিবেশ, পড়াশোনা, আমাদের নিরাপত্তা—এসবের বিনিময়ে কারো রাজনৈতিক লাভকে বড় করা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
আমি অনুরোধ করবো—কেউ এই ছেলের ফাঁদে পা দেবেন না। ছেলেটি একটি নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
যে আন্দোলন শিক্ষার্থীর নয়, সেটা শিক্ষার্থীর নামে হওয়া উচিত নয়।
আমরা শিক্ষার্থী—আমাদের শক্তি আমাদের জ্ঞান, আমাদের ঐক্য, আমাদের বিবেক।
কাউকে ব্যবহার করার সুযোগ দেব না।
শান্ত থাকি, সচেতন থাকি, এবং সত্য–মিথ্যা যাচাই না করে কোনো উত্তেজনামূলক পোস্টে সাড়া না দিই।
কাজী আজিমউদ্দিন কলেজ আমাদের—এটা নষ্ট করার অধিকার কারও নেই।