18/04/2026
যাত্রাবাড়ীর শায়েখ সম্পর্কে এই ঘটনাটি নিশ্চয়ই আপনি জানতেন না।
যাত্রাবাড়ীর শায়খ বলতে লাগলেন, শাহ সাহেব, তুমি তো রমযানের পূর্বে আসার পর পাকিস্তান আর গেলে না।
মুরুব্বিরা আমাকে বিবাহ করানোর জন্য আমার উস্তাদ মাওলানা দৌলত আলী রহ.-এর নিকটে নিয়ে গেলেন। তিনি বললেন, মাহমুদকে তো আমি আমার মেয়ে দিতে চাই। মুরুব্বিরা বাড়িতে গিয়ে সলাপরামর্শ করে শুভ কাজটা সমাধা করে দিলেন। সেটা ছিল শাবান মাস। বিয়ের পর আমার শ্বশুর আব্বা উস্তাদে মুহতারাম বললেন, বাবা মাহমুদ, আমি তোমাকে আমার মেয়েটা আগ্রহ ভরে এজন্য দিয়েছি যে, তুমি একজন মেধাবী হাফেয আর আমার মেয়েটা হাফেযা। তাকে কিতাবাদি পড়াতে পারিনি। তাই ভূমি তার হিফযটা যেন ইয়াদ রাখতে পারে, এর খেয়াল করবে, আর সময়-সুযোগ মতো কিছু কিতাবাদি পড়াবে।
শুনে আমি তো হতভম্ব। আমি যে হাফেয না, এটা কীভাবে বলি! এটা বলতে আমার গায়রতে লাগল।
আমার শ্বশুর আব্বা আর আহলিয়ার নিকট আমি যে হাফেয না এটা বুঝতে না দিয়ে বিশেষ বিশেষ কিছু আয়াত মুখস্থ করে নিলাম। সকাল বেলায় আহলিয়ার সামনে আয়াতগুলো প্রশ্নাকারে পেশ করলাম আর তিনি তার মতো জবাব দিয়ে গেলেন। তারা তো বুঝে নিলেন, আমি পাক্কা হাফেয; কিন্তু আমি হাফেয না বলে সংকোচবোধ করতে লাগলাম।
এভাবে দু-তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ভাবলাম, আর দেরি করা ঠিক হবে না। কবে যে আহলিয়া বলে ফেলেন, এবার আমি প্রশ্ন করব আর আপনি জবাব দেবেন। তখন আমার অবস্থাটা কী হবে? তাই ঠিক করলাম, তাড়াতাড়ি পাকিস্তান চলে যাই আর হিফযের কাজটা সমাধা করে ফেলি।
রমযানের আগের দিন নিউটাউনে গিয়ে আল্লামা বিন্নুরী রহ.-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম।
আমাকে দেখে তিনি বললেন, মাহমুদ, আমি তোমার পেছনে তারাবি পড়ব: তোমার তেলাওয়াত বেশ ভালো লাগে। এবার তো আমার ওপর পাহাড় এসে পড়ল। কী করা যায়?
উপায় একটাই, প্রতিদিন এক পারা করে সারাদিন ইয়াদ করে রাত্রিবেলায় আল্লামা বিন্নুরী রহ.-এর সামনে শুনিয়ে দেওয়া। বাধ্য হয়ে তাই করলাম। প্রতিদিন মেহনত করে এক পারা ইয়াদ করি আর তারাবিতে শোনাতে থাকি। এভাবে আল্লাহ পাকের মেহেরবানিতে রমযানের শেষ দিনে আমার হিফয সমাপ্ত হয়ে গেল। সেবার রমযানও ছিল ত্রিশটি। এটাকে আমি আল্লাহ পাকের একটা বিশেষ মেহেরবানি বলে মনে করি।
যাত্রাবাড়ী শায়খের কথায় শাহ সাহেব রহ, উৎফুল্ল হয়ে বললেন, তোমাকে হাফেয বানানোর জন্য এটাই ছিল গায়েবি ফয়সালা। তুমি তো ইতিহাস গড়ে ফেলেছ।
স্মারক গ্রন্থ
পৃষ্ঠা -৪২৭/৮