গীতা পাঠশালা

গীতা পাঠশালা all saport me

15/05/2026
🌷🌷শ্রীমদ্ভাগবত ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার মধ্যে পার্থক্য কী?🌷🌷শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবত উভয়ই সনাতন ধর্মের প্রাণস্বরূপ হ...
11/05/2026

🌷🌷শ্রীমদ্ভাগবত ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার মধ্যে পার্থক্য কী?🌷🌷
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবত উভয়ই সনাতন ধর্মের প্রাণস্বরূপ হলেও এদের মধ্যে গভীর তাত্ত্বিক ও গূঢ় পার্থক্য বিদ্যমান। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. 'উপদেশ' বনাম 'উপস্থিতি'

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা হলো ভগবানের মুখনিঃসৃত বাণী বা তাঁর 'উপদেশ'। কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবত হলো স্বয়ং ভগবানের শব্দ-অবতার বা তাঁর 'স্বরূপ'।

শ্রীমদ্ভাগবতের গূঢ় শ্লোক (১/৩/৪৩):

"কৃষ্ণো স্বধামোপগতে ধর্মজ্ঞানাদিভিঃ সহ।
কলৌ নষ্টদৃশামেষ পুরাণার্কোহধুনোদিতঃ।।"

অনুবাদ: শ্রীকৃষ্ণ তাঁর নিজ ধামে (গোলোকে) ফিরে যাওয়ার সময় ধর্ম ও জ্ঞানকেও সাথে নিয়ে গেছেন। কিন্তু কলিযুগে যারা অজ্ঞানতার অন্ধকারে অন্ধ, তাদের জন্য এই শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ সূর্যের মতো উদিত হয়েছে।

কথা:

গীতা আমাদের শিখায় কীভাবে ভগবানের কাছে যেতে হবে, আর ভাগবত আমাদের দেখায় ভগবান তাঁর ভক্তের সাথে কীভাবে লীলা করেন। গীতা হলো 'আইন গ্রন্থ' , আর ভাগবত হলো 'প্রেমের রসতত্ত্ব'।

২. জ্ঞানের স্তর: স্নাতক বনাম স্নাতকোত্তর

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাকে বলা হয় সমস্ত উপনিষদের সার (গীতোপনিষদ)। এটি পারমার্থিক জীবনের প্রাথমিক ও উচ্চতর শিক্ষার ভিত্তি। অন্যদিকে শ্রীমদ্ভাগবত হলো ব্রহ্মসূত্রের অকৃত্রিম ভাষ্য এবং সমস্ত বৈদিক জ্ঞানের পরিপক্ক ফল।

শ্রীমদ্ভাগবতের শ্লোক (১/১/৩):

"নিগমকল্পতরোর্গলিতং ফলং শুকমুখাদমৃতদ্রবসংযুতম্।
পিবত ভাগবতং রসমালয়ং মুহুরহো রসিকা ভুবি ভাবুকাঃ।।"

অনুবাদ: হে রসজ্ঞ ভক্তগণ! বেদরূপ কল্পতরুর এই পরিপক্ক ফলটি (শ্রীমদ্ভাগবত) শুকদেব গোস্বামীর মুখনিঃসৃত হওয়ায় অমৃতরসে সিক্ত হয়েছে। মোক্ষ লাভের পরেও এই রস আস্বাদন করা যায়, তাই আপনারা বারবার এটি পান করুন।

কথা:

গীতায় ভগবান নিজেকে 'পরমেশ্বর' হিসেবে স্থাপন করেছেন এবং অর্জুনকে তাঁর চরণে শরণাগতির নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু ভাগবতে সেই পরমেশ্বরই ভক্তের যশোদা মায়ের কাছে বকুনি খান বা রাখাল বালকদের উচ্ছিষ্ট ফল ভক্ষণ করেন। গীতা 'ঐশ্বর্য' প্রধান, আর ভাগবত 'মাধুর্য' প্রধান।

৩. বিষয়বস্তুর ব্যাপ্তি ও প্রেক্ষাপট

গীতা কুরুক্ষেত্রের রণক্ষেত্রে ১৮টি অধ্যায়ে ৭০০ শ্লোকের মাধ্যমে কর্ম, জ্ঞান ও ভক্তির সমন্বয়। ভাগবত ১২টি স্কন্ধে ১৮,০০০ শ্লোকের মাধ্যমে সৃষ্টিতত্ত্ব থেকে শুরু করে ভগবানের দশ অবতার ও বিশেষ করে শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবন লীলার পূর্ণ বর্ণনা।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার সার কথা (১৮/৬৬):

"সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ।
অহং ত্বাং সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ।।"

অনুবাদ: সমস্ত ধর্ম ত্যাগ করে কেবল আমার শরণাগত হও। আমি তোমাকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করব। শোক করো না।

শ্রীমদ্ভাগবতের লক্ষ্য (১/১/২):

"ধর্মঃ প্রোজ্ঝিতকৈতবোঽত্র পরমো নির্মৎসরাণাং সতাং..."

অনুবাদ: এই ভাগবতে সকাম ধর্ম বা ফল লাভের আশা (কৈতব ধর্ম) সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা হয়েছে এবং কেবল নির্মৎসর (হিংসাশূন্য) মহাত্মাদের জন্য পরম সত্যের কথা বলা হয়েছে।

কথা:

গীতা যেখানে শেষ হয়েছে (শরণাগতি), ভাগবত সেখান থেকে শুরু হয়েছে। গীতা আমাদের 'পাপ-পুণ্য' ও 'কর্তব্য' শেখায়, কিন্তু ভাগবত আমাদের শেখায় কীভাবে এই জগতের সবকিছুর মায়া ত্যাগ করে ভগবানের চরণে 'অহৈতুকী ও অপ্রতিরতা' ভক্তি বা বিশুদ্ধ প্রেম লাভ করা যায়।

৪. ঐশ্বর্য বনাম মাধুর্য

গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর 'বিশ্বরূপ' প্রদর্শন করেছেন যা অর্জুনের মতো বীরকেও ভীত করে তুলেছিল (গীতা ১১তম অধ্যায়)। এটি ভগবানের অসীম শক্তি ও ক্ষমতার পরিচয়।
কিন্তু ভাগবতে শ্রীকৃষ্ণকে দেখা যায় একজন অতি সাধারণ রাখাল বালক বা প্রেমময় কিশোর হিসেবে। সেখানে ভক্তি ও প্রেমের কাছে ভগবানের ঐশ্বর্য ঢাকা পড়ে যায়।

কথা:

গীতায় শ্রীকৃষ্ণ 'শিক্ষক' (জগতগুরু), আর ভাগবতে তিনি 'রসিকশেখর' (লীলা পুরুষোত্তম)। গীতায় তিনি অর্জুনকে যুদ্ধ করতে অনুপ্রাণিত করছেন, আর ভাগবতে তিনি ভক্তদের বিরহ ও মিলনের অশ্রুতে প্লাবিত করছেন।

৫. গূঢ় সিদ্ধান্ত

মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের দর্শন অনুযায়ী--

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা হলো শ্রীকৃষ্ণের 'আজ্ঞা', আর শ্রীমদ্ভাগবত হলো শ্রীকৃষ্ণের 'হৃদয়'।

গীতায় ভগবান বলছেন— "মন্মনা ভব মদ্ভক্তো" (আমার ভক্ত হও)।

ভাগবতে দেখানো হয়েছে কীভাবে ভক্ত হতে হয় (যেমন— প্রহ্লাদ, ধ্রুব, অম্বরীষ ও গোপীগণ)।

পরিশেষ:

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা হলো আধ্যাত্মিক পথের মানচিত্র, যা বিভ্রান্ত মানুষকে সঠিক পথ দেখায়। আর শ্রীমদ্ভাগবত হলো সেই গন্তব্য বা গোলক বৃন্দাবনের রসাস্বাদন, যা মানুষকে ভগবানের অপ্রাকৃত প্রেমে নিমজ্জিত করে। গীতা না পড়লে ভাগবতের তত্ত্ব বোঝা কঠিন, আর ভাগবত না পড়লে গীতার উদ্দেশ্য (কৃষ্ণপ্রেম) পূর্ণতা পায় না।🌷🌷

#শ্রীমদ্ভাগবত #গীতা

● আগামী ১৬ই মে থেকে বিশেষ মাস পুরুষোত্তম মাস শুরু হতে যাচ্ছে। (১৬ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত )। পুরুষোত্তম মাসে যে সমস্ত ধর্...
09/05/2026

● আগামী ১৬ই মে থেকে বিশেষ মাস পুরুষোত্তম মাস শুরু হতে যাচ্ছে। (১৬ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত )। পুরুষোত্তম মাসে যে সমস্ত ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পালন করা হবে তা অন্য সকল মাস থেকে ১০ হাজার গুণফল বেশি লাভ হবে।
চলুন এই মাসে কি কি পালন করা উচিত এবং তার কি মহিমা ও পালন না করলে কি ক্ষতি হতে পারে জেনে জেনে নেই।।

❏ পুরুষোত্তম ব্রতে কি কি পালনীয় :-

১. প্রাতঃস্নান ও মঙ্গলারতি।

২. তুলসীতে জল দান।

৩. হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ।

৪. কীর্তন।

৫. শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ ও শ্রবণ।

৬. সন্ধ্যায় ভগবানকে প্ৰদীপ নিবেদন।

৭. স্তোত্র পাঠ ( চৌরাগ্রগণ্য পুরুষাষ্টকম)।

৮. বৈষ্ণব সেবা ও বৈষ্ণবদের দান দক্ষিণা করা।

৯. বিশেষ সংখ্যা ৩৩ ( রাধা কৃষ্ণের উদ্দেশ্যে ৩৩ দণ্ডবৎ প্রণাম, ৩৩ সংখ্যা প্ৰদীপ নিবেদন, ৩৩ সংখ্যা ফল ও পুষ্প প্ৰদান, ৩৩ বার মন্দির পরিক্রমা এছাড়া ভগবানের অন্যান্য সেবায় ৩৩ সংখ্যা ব্যবহার)।

১০. চারটি নিয়ম পালন (কমপক্ষে নিরামিষ খাওয়া ,নেশা না করা, জোয়া না খেলা, অবৈধ সংঘ না করা)।

❏ পুরুষোত্তম ব্রত পালনের মহিমা :-🪔🪔🪔

১. স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পরম পবিত্র বৈশাখ, কার্তিক ও মাঘ মাস অপেক্ষায় এই অধিমাসকে অধিক মহিমা প্ৰদান করেছেন এবং একে নিজ নাম "পুরুষোত্তম" দ্বারা অলংকৃত করেছেন। (পৃ: - ৭)

২. শাস্ত্রে বিভিন্ন রকমের পাপ ও দোষের প্ৰতিকার রূপে এই পুরুষোত্তম ব্রতের বিধান রয়েছে।(পৃ: ৮)

৩. ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, আমার যে সমস্ত গুণ আছে সে সমস্ত গুণ আমি এই মাসে অৰ্পণ করলাম। ( পৃ: ১৪)

৪. অন্য সকল মাসের অধিপতি বলা হয় এই মাসকে।

৫. যিনি সকল প্রকার কামনাশুন্য বা সকল কামনা যুক্ত হয়েও এ মাসের নিয়ম পালন করেন তিনি সকল কর্ম
ভস্মাসাৎ করে আমাকে প্ৰাপ্ত হন। (পৃ: ১৪)

৬. এই মাসে ভক্তদের কখনোই অপরাধ হয় না ভগবানের সেবা করতে গিয়ে। (পৃ: ১৪)

৭. এই পুরুষোত্তম মাসের যিনি ভক্তিপূর্বক আমার নাম জপ ও আমার অৰর্চন করেন তিনি ধন-পুত্রাদি লাভে পরে অবশেষে গোলোকবাসী হন। (পৃ: ১৪)

৮. পুরুষোত্তম মাস পালনে জাগতিক সুখ প্ৰদানসহ ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার যোগ্যতাও লাভ করা যায়।(পৃ:১৫)

৯. পুরুষোত্তম মাস সকল মাসের শ্রেষ্ঠ। এই মাসের মহিমার ১৬ ভাগের ১ ভাগেরও সমান নয় অন্য সকল মাসের মহিমা। (পৃ : ১৭)

১০. পুরুষোত্তমাসে মাত্র একবারও যদি কেউ পূণ্যতীর্থে স্নান করেন ১২ হাজার বছর ধরে গঙ্গাস্নানের বা বৃহস্পতি সিংহ রাশিতে প্রবেশ করলে গঙ্গা বা গোদাবরী স্নানে যে ফল লাভ হয় তা প্রাপ্ত হওয়া যায়।( পৃ : ১৭)

১১. পুরুষোত্তম মাসের স্নান, দান ও কৃষ্ণ নাম করলে সমস্ত দুঃখ দুর্দশা থেকে মুক্ত হওয়া যায় এবং সর্বসিদ্ধি লাভ ও মনোবাসনা পূরণ হয়। ( পৃ:১৭)

১২. পুরুষোত্তম ব্রত পালনের পঞ্চপান্ডবরা তাদের হারানো রাজ্য ফিরে পেল এবং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় অবশেষে ভগবদ্ধাম প্রাপ্ত হন (পৃ: ২৩)

১৩. ভক্তি ভরে পুরুষোত্তম ব্রত মাহাত্ম্য শ্রবণে সৌভাগ্য লাভ ও ভগবদ্ধাম প্ৰাপ্ত হওয়া যায়।( পৃ: ২৪)

১৪. পুরুষাত্তম ব্রত পালনের ভক্তদের সমস্ত বাসনা পূরণ হয়। ( পৃ: ২৪)

১৫. পুরুষোত্তম মাসের প্রাতঃস্নান করলে সমস্ত তীর্থ স্নানের ফল লাভ হয়।

❏ পুরুষোত্তম ব্রত পালন না করলে কি হতে পারে :-

১. পুরুষোত্তম মাসের যে সকল মহামূঢ় হরিনাম জপ-দানাদি করেন না ও সৎকৰ্ম, স্নান করেনা এবং দেব, তীর্থ ও ভক্তদের প্রতি বিদ্বেষ করে সেই সকল দুষ্ট দুর্ভাগা স্বপ্নেও কোন সুখ পায় না। (পৃ : ১৪)

২. যে সকল ব্যক্তি পুরুষোত্তম মাসের গুরুত্ব না দিয়ে নিন্দা করে সে কখনো সৌভাগ্য লাভ করতে পারেন না।( পূর্বজন্মে দ্রৌপদী মেধা ঋষির কন্যার থাকা সত্ত্বেও সে পুরুষোত্তম মাসের নিন্দা করেছিল এবং তা পালন করে নাই, তাই তার জন্য তাকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হতে হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি পুরুষোত্তম ব্রত পালনে রাজ্যসুখ ও ভগবদ্ধাম প্রাপ্ত হয়। (পৃ: ১৭-২৩)

08/05/2026

জয় গীতা
আজকের ক্লাস
মঙ্গলাচরন🙏

🌼 যেনা সংগচ্ছা উপ মা স শিক্ষাৎ।-অথর্ববেদ ৭.১২.১ 🌸আমি যার সাথে চলবো , সে যেন আমাকে উত্তম শিক্ষা দেয়।
05/05/2026

🌼 যেনা সংগচ্ছা উপ মা স শিক্ষাৎ।
-অথর্ববেদ ৭.১২.১

🌸আমি যার সাথে চলবো , সে যেন আমাকে উত্তম শিক্ষা দেয়।

🤌 মুদ্রা 🫴পূজার্চনায় মন্ত্র ও যন্ত্রের মতোই মুদ্রা (হাতের বিশেষ ভঙ্গি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুদ্রা হলো ভগবান, দেব-দেবী...
04/05/2026

🤌 মুদ্রা 🫴
পূজার্চনায় মন্ত্র ও যন্ত্রের মতোই মুদ্রা (হাতের বিশেষ ভঙ্গি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুদ্রা হলো ভগবান, দেব-দেবীর প্রীতার্থে এবং শক্তিকে জাগ্রত করার বিশেষ হাতের বিন্যাস। পূজার বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন মুদ্রা ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে দেবতাকে আবাহন ও স্থাপন করা হয়।
বিস্তারিত জানতে ছবিতে👇

🙏🙏👉তিল গাছ কে? তিল গাছের জন্ম কোথায়? পূর্ব জন্মে তিল গাছ কে ছিলো? বর্তমানে তিল গাছ আসলো কিভাবে?🌴🌴সনাতন ধর্মে তিল অত্যন্ত...
03/05/2026

🙏🙏👉তিল গাছ কে? তিল গাছের জন্ম কোথায়? পূর্ব জন্মে তিল গাছ কে ছিলো? বর্তমানে তিল গাছ আসলো কিভাবে?🌴🌴

সনাতন ধর্মে তিল অত্যন্ত পবিত্র এবং মাঙ্গলিক একটি উদ্ভিদ। এটি মূলত ভগবান বিষ্ণুর শরীর থেকে উৎপন্ন বলে গণ্য করা হয়। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. তিল গাছ কে এবং এর জন্ম কোথায়?

শাস্ত্র মতে, তিল গাছ কোনো সাধারণ উদ্ভিদ নয়, এটি ভগবান বিষ্ণুর ঘাম বা শরীরের অংশ থেকে উৎপন্ন এক দিব্য বস্তু। এর জন্ম ত্রেতা যুগে বা সৃষ্টির আদি লগ্নে ভগবান বিষ্ণুর শরীর থেকে। বিশেষ করে পিতৃপুরুষদের তৃপ্তির জন্য তিল সৃষ্টি করা হয়েছে।

২. পূর্ব জন্মে তিল গাছ কে ছিল?

পুরাণ অনুসারে, তিল গাছ কোনো অভিশপ্ত ব্যক্তি বা ঋষির রূপান্তর নয় (যেমন তুলসী গাছ বৃন্দার রূপান্তর)। বরং এটি সাক্ষাৎ ভগবান বিষ্ণুর ঘাম (ঘর্ম) থেকে উৎপন্ন। পদ্মপুরাণ অনুসারে, যখন ভগবান বিষ্ণু আসুরিক শক্তির বিনাশের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন, তখন তাঁর শরীর থেকে যে ঘাম নির্গত হয়ে পৃথিবীতে পড়েছিল, তা থেকেই তিল গাছের জন্ম হয়।

৩. বর্তমানে তিল গাছ আসলো কিভাবে?

পুরাণ মতে, সমুদ্র মন্থনের সময় বা ভগবান বিষ্ণুর বরাহ অবতার ধারণের সময় তাঁর শরীরের লোম বা ঘাম থেকে এই ওষধি পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়। এটি মর্ত্যে আসার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মানুষের পাপ মোচন এবং মৃত পূর্বপুরুষদের সদগতি প্রদান করা।

৪. বিষ্ণুপুরাণ ও পদ্মপুরাণ

বিষ্ণুপুরাণ (৩/১১/৯৩):

"তিলৈর্বিনা তু যচ্ছ্রাদ্ধং ক্বতং ভবতি ভারত।
তৎ সর্বমশুরৈর্ভোক্তং গচ্ছত্যেব ন সংশয়ঃ॥"

অনুবাদ: হে ভারত, তিল ছাড়া যে শ্রাদ্ধ করা হয়, তা রাক্ষসরা ভক্ষণ করে; পিতৃপুরুষরা তা গ্রহণ করেন না। অর্থাৎ তিল বিষ্ণুর অংশ হওয়ায় এটি আসুরিক শক্তি দূর করে।

পদ্মপুরাণ (সৃষ্টিখণ্ড):

"বিষ্ণোঃ শরীরসম্ভূতাস্তিলাঃ সর্ব্বপাপহরাঃ স্মৃতাঃ।
তিলতর্পণমাত্রেণ তৃপ্যন্তি পিতরঃ সদা॥"

অনুবাদ: তিল ভগবান বিষ্ণুর শরীর থেকে উৎপন্ন এবং সকল পাপ হরণকারী। তিল দ্বারা তর্পণ করলে পিতৃপুরুষরা চিরকাল তৃপ্ত থাকেন।

৫. বেদের মন্ত্র ও অর্থ

বেদে তিলকে ওষধি এবং যজ্ঞের প্রধান দ্রব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১. ঋগ্বেদ (১০.১৫.৬):

"আ বাচং যচ্ছ তিলতর্পণেন যা পিতৃণাং স্বধা।"

অনুবাদ: পিতৃপুরুষদের স্বধা (অন্ন) হিসেবে তিল তর্পণ দ্বারা বাক্য ও কর্মকে পবিত্র করো।

২. যজুর্বেদ (১৮.১২):

"তিলশ্চ মে মাষাশ্চ মে তিলপিঞ্জাশ্চ মে..."

অনুবাদ: যজ্ঞের মাধ্যমে তিল, মাষকলাই এবং অন্যান্য শস্য আমার (যজমানের) জীবনকে পুষ্ট ও সমৃদ্ধ করুক।

৩. সামবেদ (মন্ত্র-৫৮২):

"পবিত্রম্ তিলং বিষ্ণুদেহসম্ভূতম্।"

অনুবাদ: তিল পবিত্র এবং বিষ্ণুর দেহ থেকে উৎপন্ন, যা যজ্ঞ ও শুদ্ধিকরণে অপরিহার্য।

৪. অথর্ববেদ (১৮.৩.৬৯):

"তিলং কৃষ্ণং তিলং শ্বেতং সর্বপাপপ্রণাশনম্।"

অনুবাদ: কালো তিল এবং সাদা তিল উভয়ই সর্বপাপ নাশে সক্ষম এবং এটি মৃত আত্মার শান্তির জন্য অপরিহার্য।

৬. শাস্ত্র শ্লোক

১. স্কন্দপুরাণ:

"তিলদানাৎ পরং দানং ন ভূতো ন ভবিষ্যতি।"

অনুবাদ: তিল দানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ দান অতীতেও ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না।

২. মনুস্মৃতি (৩/২৬৭):

"তিলৈর্ব্রীহিযবৈর্মাষৈরদ্ভির্মূলফলেন বা।
দত্তেন মাসং তৃপ্যন্তি বিধিবৎ পিতরো নূণাম্॥"

অনুবাদ: শাস্ত্রবিধি মেনে তিল, ধান, যব বা জল দিয়ে তর্পণ করলে পিতৃপুরুষরা এক মাস তৃপ্ত থাকেন।

৩. গরুড় পুরাণ (২/২৯/৯):

"কুশাঃ তিলাঃ তথা দর্ভাঃ বিষ্ণুদেহসমুদ্ভবাঃ।"

অনুবাদ: কুশ এবং তিল—এগুলো ভগবান বিষ্ণুর দেহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে, তাই এরা পরম পবিত্র।

৪. বরাহ পুরাণ:

"মম ঘর্মসমুদ্ভূতাস্ তিলাঃ পুণ্যাঃ শুভপ্রদাঃ।"

অনুবাদ: (ভগবান বরাহ বলছেন) আমার ঘাম থেকে উৎপন্ন এই তিল অত্যন্ত পুণ্যময় এবং শুভ ফলদায়ক।

৫. নারদ পুরাণ:

"তিলৈঃ স্নানং তিলৈর্দানং তিলৈস্তর্পণমেব চ।"

অনুবাদ: তিল দিয়ে স্নান, তিল দান এবং তিল দিয়ে তর্পণ করলে মোক্ষ প্রাপ্তি ঘটে।

৬. ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ:

"তিলতৈলং মহৎ পুণ্যং বিষ্ণুভক্তিপ্রদায়কং।"

অনুবাদ: তিলের তেল অত্যন্ত পুণ্যময় এবং এটি ভগবান বিষ্ণুর প্রতি ভক্তি বৃদ্ধি করে।

উপসংহার:

শাস্ত্রীয় বিচারে তিল কোনো সাধারণ উদ্ভিদ নয়, এটি সরাসরি ভগবান বিষ্ণুর শরীরজাত একটি ঐশ্বরিক বস্তু। এর গুরুত্ব মূলত যজ্ঞ, শ্রাদ্ধ এবং পাপ মোচনের ক্ষেত্রে অপরিসীম। তিলকে 'অমৃত' সদৃশ মনে করা হয় যা জীবকে মোক্ষ লাভে সহায়তা করে।🌷🌷

হরেকৃষ্ণ🌸🙏

01/05/2026

গীতাময় শুভ সকাল
গাববারী গীতা স্কুল

Address

Gangharba Bazar
Kaukhali

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when গীতা পাঠশালা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share