Jamia Islamia Rowjatul Quran

Jamia Islamia Rowjatul Quran দেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ জামিয়া ইসলামিয়া র‌ওজাতুল কুরআন খিলগাঁও, ঢাকা। (it's an Arabic University)
(2)

24/08/2026

আল্লাহ তাআলা যেসব গুণের অধিকারী মুমিনদের জন্য জান্নাতুল ফেরদৌসের সুসংবাদ দিয়েছেন।

আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি অত্যন্ত বিদ্বেষী ছিল। সে মানুষের মধ্যে নবীজি ﷺ-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচা...
23/08/2026

আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি অত্যন্ত বিদ্বেষী ছিল। সে মানুষের মধ্যে নবীজি ﷺ-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করত এবং নানা ধরনের কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করত।

আল্লাহ তাআলা সূরা লাহাবে তাকে “হাম্মালাতাল হাতাব” অর্থাৎ “লাকড়ি বহনকারী” বলে উল্লেখ করেছেন।

সে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর চলার পথে কাঁটাযুক্ত ডালপালা ও লাকড়ি ফেলে রাখত, যাতে নবীজি ﷺ কষ্ট পান। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ফিতনা ও অপপ্রচার ছড়াত।

সূরা লাহাব নাজিল হওয়ার পর একদিন উম্মে জামিল প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে উঠল। সে হাতে একটি পাথর নিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে খুঁজতে বের হলো। তার উদ্দেশ্য ছিল, সুযোগ পেলে সেই পাথর দিয়ে নবীজি ﷺ-কে আঘাত করা।

সে কাবা শরিফের কাছে এসে দেখল, রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত আবু বকর (রা.)-এর সঙ্গে বসে আছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দেখতে পেল না।

সে শুধু হযরত আবু বকর (রা.)-কে দেখতে পেল এবং জিজ্ঞেস করল,

“হে আবু বকর! তোমার সঙ্গী কোথায়? আমি শুনেছি, তিনি আমাকে নিয়ে কথা বলেছেন। আমি তাকে পেলে এই পাথর দিয়ে আঘাত করব!”

সে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নাম “মুহাম্মদ” না বলে ব্যঙ্গ করে “মুজাম্মাম” (নিন্দিত) বলছিল।

হযরত আবু বকর (রা.) চুপ করে রইলেন। তিনি অবাক হয়ে ভাবছিলেন, নবীজি ﷺ তো তার একেবারে সামনে বসে আছেন, অথচ সে তাঁকে দেখতে পাচ্ছে না!

উম্মে জামিল কিছুক্ষণ খুঁজে নবীজি ﷺ-কে না পেয়ে চলে গেল।

সে চলে যাওয়ার পর আবু বকর (রা.) বললেন,

“ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে কি আপনাকে দেখতে পায়নি?”

রাসূলুল্লাহ ﷺ মুচকি হেসে বললেন,

“না। আল্লাহ তাকে আমার থেকে আড়াল করে রেখেছিলেন।”

এরপর নবীজি ﷺ বললেন,

“তুমি কি শুনোনি, সে আমাকে কী নামে ডাকছিল? সে আমাকে ‘মুজাম্মাম’ বলছিল। অথচ আমি তো ‘মুহাম্মদ’। আল্লাহ আমাকে তার মুখের কথার অনিষ্ট থেকেও রক্ষা করেছেন।”

আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবী ﷺ-কে শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেকে এভাবেই রক্ষা করতেন।

মানুষ যতই ষড়যন্ত্র করুক, আল্লাহ যাকে রক্ষা করেন, তাকে কেউ ক্ষতি করতে পারে না।

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিরুদ্ধে উম্মে জামিল ও তার স্বামী আবু লাহাব যতই অপমান ও ষড়যন্ত্র করেছিল, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছেন এবং নিজের নবীকে সম্মানিত করেছেন।

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

দোয়া কবুল হতে দেরি হলে...এক বুযুর্গ বলেন,তুমি যখন সংকটের সময় আন্তরিকভাবে দোয়া করো, আর দীর্ঘদিনেও যখন স্বস্তি বা মুক্তি আ...
18/08/2026

দোয়া কবুল হতে দেরি হলে...

এক বুযুর্গ বলেন,তুমি যখন সংকটের সময় আন্তরিকভাবে দোয়া করো, আর দীর্ঘদিনেও যখন স্বস্তি বা মুক্তি আসে না, তখন হয়তো মনে হতে থাকে,

“আমার ভুল-ত্রুটির কারণে আল্লাহ আমাকে শাস্তি দিচ্ছেন; আমার জন্য দোয়া কবুল হওয়ার দরজা হয়তো চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।”

এই কঠিন অনুভূতি ধীরে ধীরে তোমার আশা কেড়ে নেয়। একসময় তুমি দোয়া করা এবং চেষ্টা করাও ছেড়ে দাও।

কিন্তু আল্লাহ তোমার প্রতি এতটাই দয়ালু যে, তিনি তোমার সঙ্গে প্রতিশোধের মতো আচরণ করবেন, এমনটা ভাবা উচিত নয়।

যদি পাপের কারণে দোয়া কবুল হওয়া বন্ধ হয়ে যেত, তাহলে পৃথিবীতে এমন কেউ থাকত না, যে আল্লাহর অনুগ্রহে রিজিক পেত।

মুক্তি পেতে দেরি হওয়া তোমার বিশ্বাসের পরীক্ষা; একই সঙ্গে এটি তোমার হৃদয়কে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার একটি সুযোগ।

তাই হাত তুলে দোয়া করতে থাকো। কারণ যে সত্তা তোমার কষ্টের মাঝেও তোমার হৃদয়ে দোয়ার আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করেছেন, তিনিই তোমাকে দান করতে চান।

তিনি তোমার জন্য এমন সময়েই তোমার কষ্ট দূর করবেন, যে সময়টি তোমার জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর।

একবার এক মরুচারী বেদুইন বনী সুলাইম গোত্র থেকে আসছিল। সে একটি 'দব্ব' (মরুভূমির এক ধরনের বড় সরীসৃপ) ধরে তার কাপড়ের ভাঁজে ক...
13/08/2026

একবার এক মরুচারী বেদুইন বনী সুলাইম গোত্র থেকে আসছিল। সে একটি 'দব্ব' (মরুভূমির এক ধরনের বড় সরীসৃপ) ধরে তার কাপড়ের ভাঁজে করে নিয়ে যাচ্ছিল।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে দেখে সে তাঁর নবুওয়াত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করল এবং বলল, "লাত ও উয্যার কসম! আমি আপনার ওপর ততক্ষণ ঈমান আনব না, যতক্ষণ না এই প্রাণীটি আপনার ওপর ঈমান আনে"।

রাসূল (সা.) সরীসৃপটিকে লক্ষ্য করে ডাক দিলেন, "হে দব্ব!" অমনি আল্লাহর এক মহিমা প্রকাশ পেল। প্রাণীটি মানুষের মতো স্পষ্ট আরবি ভাষায় উচ্চস্বরে উত্তর দিল, "লাব্বাইক ওয়া সা'দাইক, হে বিশ্বজাহানের রবের রাসূল!"

নবীজি (সা.) তখন প্রাণীটিকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কার ইবাদত করো?" সে উত্তর দিল, "আমি সেই মহান সত্তার ইবাদত করি যার আরশ আসমানে এবং যার রাজত্ব জমিনে..."।

এরপর নবীজি ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, "আমি কে?" প্রাণীটি সাক্ষ্য দিয়ে বলল, "আপনি হলেন বিশ্বজাহানের রবের প্রেরিত রাসূল এবং সর্বশেষ নবী। যে আপনার কথা মেনে নিল সে সফল হলো, আর যে আপনাকে অস্বীকার করল সে ধ্বংস হলো"।

নিজের চোখের সামনে একটি বন্য প্রাণীর এই অবিশ্বাস্য সাক্ষ্য দেখে বেদুইন বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে যায়। সে তখনই কালিমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করে এবং বলে,

"আল্লাহর কসম! আমি যখন আপনার কাছে এসেছিলাম, তখন আপনি ছিলেন আমার কাছে সবচেয়ে অপ্রিয়। কিন্তু এখন আপনি আমার নিজের জীবনের চেয়েও বেশি প্রিয় হয়ে গেলেন"।

মহাবিশ্বের প্রতিটি ক্ষুদ্র সৃষ্টিও আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.)-এর সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে অবগত ছিল এবং আল্লাহর নির্দেশে তারা তাঁর সত্যতার সাক্ষ্য দিত।

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ❤️

ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম মহিমান্বিত ও অলৌকিক ঘটনা হলো ‘আশহাবে ফিল’ (হস্তীবাহিনীর ঘটনা)। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রিয় নব...
11/08/2026

ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম মহিমান্বিত ও অলৌকিক ঘটনা হলো ‘আশহাবে ফিল’ (হস্তীবাহিনীর ঘটনা)। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর জন্মবর্ষ, অর্থাৎ ‘আমুল ফিল’ এ এই ঘটনা সংঘটিত হয়। এটি পবিত্র কাবা শরিফের মর্যাদা এবং মহান আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরতের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

ইয়েমেনের শাসক আবরাহা লক্ষ্য করল যে সমগ্র আরবের মানুষ কাবা শরিফের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পোষণ করে এবং সেখানে সমবেত হয়। তাই সে ইয়েমেনে একটি বিশাল গির্জা নির্মাণ করে কাবার বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইল। কিন্তু সে উদ্দেশ্যে ব্যর্থ হয়ে কাবা শরিফ ধ্বংস করার সংকল্পে এক বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে মক্কার দিকে অগ্রসর হয়। তার বাহিনীতে যুদ্ধের হাতি থাকায় এ ঘটনাটি ইতিহাসে **‘হস্তীবাহিনীর ঘটনা’ নামে পরিচিত।

সে সময় মক্কার নেতা এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব (রহ.)মক্কার অধিবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলেন। তিনি কাবা শরিফের রক্ষণাবেক্ষণের দায় মহান আল্লাহর ওপর সোপর্দ করে তাঁর সাহায্য কামনা করেন।

অতঃপর মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম কুদরতের প্রকাশ ঘটান। পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা ঝাঁকে ঝাঁকে আবাবিল পাখি প্রেরণ করেন। তারা সিজ্জিল (পোড়ামাটির) পাথর নিক্ষেপ করে এবং আল্লাহ তাআলা আবরাহার বাহিনীকে এমনভাবে ধ্বংস করে দেন যে তারা চিবানো শস্যের খড়ের মতো পরিণত হয়।

এই ঘটনার স্মরণে মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে সূরা আল-ফিল নাজিল করেছেন। এই ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয়— আল্লাহ তাআলাই তাঁর ঘরের প্রকৃত রক্ষক। মানুষের শক্তি, ক্ষমতা ও অহংকার কখনোই আল্লাহর ইচ্ছার ওপর বিজয়ী হতে পারে না।

মদিনায় একজন সাহাবি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বাস করতেন। তাঁর বাড়ি ছিল মসজিদে নববী থেকে বেশ দূরে। তবুও তিনি প্রতিটি ওয়াক্তে...
09/08/2026

মদিনায় একজন সাহাবি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বাস করতেন। তাঁর বাড়ি ছিল মসজিদে নববী থেকে বেশ দূরে। তবুও তিনি প্রতিটি ওয়াক্তে হেঁটে এসে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পেছনে জামাতে নামাজ আদায় করতেন।

একদিন উবাই ইবন কা'ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন,
“ভাই, আপনার বাড়ি তো অনেক দূরে। দুপুরের রোদও প্রচণ্ড, আবার রাতে অন্ধকারও থাকে। আপনি যদি একটি গাধা (বাহন) কিনে নেন, তাহলে আসা-যাওয়া অনেক সহজ হবে।”
সাহাবি উত্তর দিলেন,

“ আমি চাই না আমার বাড়ি মসজিদের কাছে হোক! ”
ঘটনাটি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কানে পৌঁছালে তিনি সেই সাহাবিকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন। সাহাবি বললেন,
“হে আল্লাহর রাসুল! আমি চাই, মসজিদে আসা-যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য আল্লাহ আমাকে সওয়াব দান করুন।”

তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাকে সুসংবাদ দিয়ে বললেন,
“আল্লাহ তোমাকে সেই সওয়াবই দান করবেন, যার আশা তুমি করেছ।”
যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কষ্ট স্বীকার করে, আল্লাহ তার সেই কষ্টকে অমূল্য সওয়াবে পরিণত করেন।

তাই মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপকে ছোট মনে করবেন না, হয়তো সেই পদক্ষেপই কিয়ামতের দিন আপনার নাজাতের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ।
(সুনানে আবু দাউদ, শু‘আবুল ঈমান)

আল্লাহ কাউকে জ্ঞান দেন, কিন্তু সম্পদ দেন না। আবার কাউকে সম্পদ দেন, কিন্তু জ্ঞান দেন না। তবে আল্লাহর কিছু বিশেষ বান্দা আছ...
04/08/2026

আল্লাহ কাউকে জ্ঞান দেন, কিন্তু সম্পদ দেন না। আবার কাউকে সম্পদ দেন, কিন্তু জ্ঞান দেন না। তবে আল্লাহর কিছু বিশেষ বান্দা আছেন, যাদের তিনি জ্ঞান ও সম্পদ—উভয় নিয়ামতই দান করেন।

এমনই একজন ছিলেন ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.)। তিনি ছিলেন তাঁর যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম, মুহাদ্দিস, ফকিহ এবং একই সঙ্গে একজন সফল ব্যবসায়ী। জ্ঞান ও সম্পদের অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল তাঁর জীবনে।

ইমাম ইবনুল মুবারক (রহ.) প্রায়ই রাক্কা শহরে যাতায়াত করতেন। সেখানে একটি মুসাফিরখানায় অবস্থান করতেন। এক যুবক নিয়মিত তাঁর খেদমত করত এবং আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর সেবা করত।

একবার তিনি রাক্কায় এসে যুবকটিকে দেখতে পেলেন না। জরুরি কাজে অন্যত্র চলে যাওয়ার পর ফিরে এসে তার খোঁজ নিলে জানতে পারলেন, দশ হাজার দিরহাম ঋণের কারণে যুবকটি কারাগারে বন্দী।

এ কথা শুনে তিনি নিঃশব্দে সেই পাওনাদারের খোঁজ বের করলেন। তারপর নিজের অর্থ থেকে দশ হাজার দিরহাম পরিশোধ করে যুবকটির ঋণ সম্পূর্ণ শোধ করে দিলেন। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। তিনি পাওনাদারকে কঠোরভাবে বলে দিলেন, যতদিন তিনি জীবিত থাকবেন, ততদিন যেন কেউ এ ঘটনার কথা না জানে।

এরপর তিনি নীরবে সেখান থেকে চলে গেলেন।

কিছুদিন পর মুক্তি পাওয়া যুবকটি শহরের বাইরে ইবনুল মুবারক (রহ.)-এর সাক্ষাৎ পেল। তাঁকে দেখে ইমাম এমন আচরণ করলেন, যেন কিছুই জানেন না।

তিনি বললেন,
“আরে! এতদিন কোথায় ছিলে? তোমাকে তো অনেক দিন দেখা যায় না!”

যুবকটি বলল,
“হে আবু আব্দুর রহমান! ঋণের কারণে আমি কারাগারে বন্দী ছিলাম।”

ইমাম অবাক হওয়ার ভান করে বললেন,
“তাহলে মুক্তি পেলে কীভাবে?”

যুবকটি বলল,
“জানি না কে তিনি। একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি আমার পুরো ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছেন। আল্লাহই তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।”

ইমাম ইবনুল মুবারক (রহ.) শুধু বললেন,
“আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো।”

সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী বিষয় হলো—ইমাম ইবনুল মুবারক (রহ.) জীবিত থাকা অবস্থায় যুবকটি কখনো জানতে পারেনি কে তার ঋণ পরিশোধ করেছিল। পরবর্তীতে তাঁর ইন্তেকালের পর মানুষ জানতে পারে, সেই মহানুভব ব্যক্তি ছিলেন স্বয়ং ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.)।

🌸 এই ঘটনার শিক্ষা

মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নয়, বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করাই হলো প্রকৃত ইখলাস। গোপনে করা একটি নেক আমল আল্লাহর কাছে কত মূল্যবান হতে পারে, ইমাম ইবনুল মুবারক (রহ.)-এর জীবন তার উজ্জ্বল উদাহরণ।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।”

আল্লাহভীতি, বিনয়, ইখলাস ও গোপন নেক আমলের মধ্যেই একজন মুমিনের প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশ পায়।

🤲 আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে মানুষের প্রশংসার জন্য নয়, বরং শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নেক আমল করার তাওফীক দান করুন। আমিন।

এক ব্যক্তি প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করতেন। কিন্তু যতই পড়তেন, তেমন কিছুই মুখস্থ রাখতে পারতেন না।একদিন তাঁর ছোট ছেলে জিজ্...
01/08/2026

এক ব্যক্তি প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করতেন। কিন্তু যতই পড়তেন, তেমন কিছুই মুখস্থ রাখতে পারতেন না।

একদিন তাঁর ছোট ছেলে জিজ্ঞেস করল,

“আব্বু, আপনি প্রতিদিন কুরআন পড়েন, কিন্তু কিছুই তো মনে রাখতে পারেন না। তাহলে এত পড়ে লাভ কী?”

বাবা বললেন,

“তোমাকে পরে উত্তর দেব। আগে এই কয়লা বহনের ঝুড়িটা নিয়ে সমুদ্র থেকে পানি ভরে নিয়ে এসো।”

বাবার কথা শুনে ছেলেটি অবাক হলেও পানি আনতে সমুদ্রের পাড়ে গেল।

ঝুড়িতে পানি ভরে দৌড়ে বাবার কাছে আসতেই সব পানি ঝরে গেল।

ছেলে বলল,

“এটা অসম্ভব!”

বাবা বললেন,

“আরেকবার চেষ্টা করো।”

ছেলেটি আবার গেল।

তারপর তৃতীয়বার, চতুর্থবার, পঞ্চমবার...

প্রতিবারই একই ঘটনা। পানি ঝুড়িতে থাকল না।

অবশেষে ক্লান্ত হয়ে সে বলল,

“আব্বু, এই ঝুড়িতে পানি আনা কখনোই সম্ভব নয়।”

বাবা তখন জিজ্ঞেস করলেন,

“একবার ঝুড়িটার দিকে ভালো করে তাকাও তো। কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছ?”

ছেলেটি কয়লার ঝুড়ির দিকে তাকিয়ে বলল,

“হ্যাঁ! আগে তো এটা কয়লার কালিতে একেবারে নোংরা ছিল। এখন পুরো ঝকঝকে পরিষ্কার হয়ে গেছে!”

বাবা তখন বললেন,

“কুরআনও ঠিক এমনই। হয়তো সব আয়াত তোমার মুখস্থ হবে না, সব অর্থও মনে থাকবে না। কিন্তু প্রতিদিন কুরআন পড়তে পড়তে তোমার হৃদয় পরিষ্কার হবে, চরিত্র সুন্দর হবে, অন্তর নরম হবে, আর আল্লাহর দিকে ফিরে আসা সহজ হবে।”

“যেমন সমুদ্রের পানি ঝুড়িতে রইল না, কিন্তু ঝুড়িটাকে পরিষ্কার করে দিল, তেমনি কুরআনের প্রতিটি তিলাওয়াত আমাদের হৃদয়কে ধুয়ে-মুছে পবিত্র করে দেয়।”

আল্লাহ তা'আলা কুরআনকে আমাদের অন্তরের বসন্ত, বক্ষের প্রশান্তি এবং দুঃখ-কষ্ট দূর করার উপায় বানিয়ে দিন।

আমীন।

30/07/2026

কুরআন পড়ার ফজিলত !

#ইসলামিক_শিক্ষা #জান্নাতুল_ফিরদাউস #কুরআন #ইসলামিক_লেকচার #ইসলামিক_ভিডিও #মুমিন

দোয়া'ই আপনার ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারে।
30/07/2026

দোয়া'ই আপনার ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারে।

Address

২১৯ সিপাহীবাগ, খিলগাঁও, ঢাকা, Dhaka
Khilgaon
1219

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jamia Islamia Rowjatul Quran posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The University

Send a message to Jamia Islamia Rowjatul Quran:

Shortcuts

Share