22/08/2024
#ভারতের_বাঁধ
এক নজরে জেনে নিন, বাংলাদেশের উজানে ভারতের বাঁধসমূহ এবং সেগুলোর অবস্থান ও প্রভাব:
১. ফারাক্কা বাঁধ/ব্যারেজ:
অবস্থান: পশ্চিমবঙ্গ, গঙ্গা নদী
প্রভাব: পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, যা বর্ষাকালে বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকটের কারণ হয়। রাজশাহী, কুষ্টিয়া, এবং মেহেরপুর জেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২. টিপাইমুখ বাঁধ
অবস্থান: মণিপুর, বরাক নদী
প্রভাব: সুরমা-কুশিয়ারা নদীতে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি করে, যা সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় ব্যাপক ক্ষতি করে। এছাড়াও, নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।
৩. গজলডোবা বাঁধ
অবস্থান: পশ্চিমবঙ্গ, তিস্তা নদী
প্রভাব: তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, যা রংপুর, লালমনিরহাট, এবং কুড়িগ্রাম জেলায় বন্যা সৃষ্টি করে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকটের কারণ হয়।
৪. ধুবরী বাঁধ
অবস্থান: আসাম, ব্রহ্মপুত্র নদী
প্রভাব: ব্রহ্মপুত্র নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, যা ময়মনসিংহ এবং জামালপুর জেলায় তীব্র বন্যা সৃষ্টি করে।
৫. পোখরা বাঁধ
অবস্থান: পশ্চিমবঙ্গ, মহানন্দা নদী
প্রভাব: মহানন্দা নদীতে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি করে, যা পঞ্চগড় এবং ঠাকুরগাঁও জেলায় ব্যাপক ক্ষতি করে।
৬. করণফুলী বাঁধ
অবস্থান: ত্রিপুরা, কর্ণফুলী নদী
প্রভাব: চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্ণফুলী নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, যা আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
৭. কংসাবতি বাঁধ
অবস্থান: পশ্চিমবঙ্গ, কংসাবতি নদী
প্রভাব: বাঁধটি কংসাবতি নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, যা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বন্যার কারণ হতে পারে।
৮. বড়দা বাঁধ
অবস্থান: গুজরাট, বড়দা নদী
প্রভাব: বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, যা আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
৯. শোন নদীর বাঁধ
অবস্থান: বিহার, শোন নদী
প্রভাব: শোন নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, যা বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে বন্যার কারণ হতে পারে।
১০. জালঢাকা বাঁধ
অবস্থান: পশ্চিমবঙ্গ, জালঢাকা নদী
প্রভাব: জালঢাকা নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, যা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বাড়ায় এবং কৃষি জমির ক্ষতি করে।
১১. টেহরি বাঁধ :
এই বাঁধ গঙ্গা নদীর ওপর অবস্থিত, যা শেরপুর, জামালপুর, এবং ময়মনসিংহ জেলার ওপর প্রভাব ফেলে। বর্ষাকালে বাঁধ থেকে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিলে এই জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
১২. ইন্দিরা সাগর বাঁধ :
নর্মদা নদীর ওপর নির্মিত এই বাঁধ থেকে ছেড়ে দেওয়া পানি বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নীলফামারী, দিনাজপুর, এবং ঠাকুরগাঁও জেলায় বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।
১৩. আলমাটি বাঁধ :
কৃষ্ণা নদীর ওপর অবস্থিত এই বাঁধ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, সাতক্ষীরা, এবং যশোর জেলার নদীগুলোর পানির প্রবাহে প্রভাব ফেলে, যা বর্ষাকালে বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
১৪. উকাই বাঁধ :
তাপি নদীর ওপর নির্মিত উকাই বাঁধের প্রভাব বাংলাদেশে পঞ্চগড় এবং ঠাকুরগাঁও জেলায় পড়ে। এই বাঁধ থেকে ছেড়ে দেওয়া অতিরিক্ত পানি তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর পানি প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়, যা বন্যার কারণ হতে পারে।
▪️পুনশ্চ:
জলবণ্টন এবং বাঁধ ব্যবস্থাপনা একটি আন্তর্দেশীয় ইস্যু, যা আন্তর্জাতিক আইন এবং ন্যায্যতার ওপর নির্ভরশীল। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা পানি চুক্তির মতো কিছু চুক্তি থাকলেও, ভারতের বাঁধগুলোর অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে যে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়, তা এই চুক্তির লঙ্ঘন। এই ধরনের পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়, কারণ এর ফলে মানুষের জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি হয়।
এই অবস্থার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিবাদ জানানো এখন সময়ের দাবী।
প্রথমত, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমাদের সরকারকে ভারতের সঙ্গে জলবণ্টন চুক্তির পুনঃমূল্যায়ন করতে হবে এবং এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য একটি কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, এই সমস্যা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
সর্বোপরি এখন সময় এসেছে, পররাষ্ট্রনীতির আংশিক পরিবর্তন ও পরিমার্জনের!
আর সকলের সাথে বন্ধুত্ব নয়; বরং বন্ধুদের সাথে বন্ধুত্ব এবং শত্রুদের সাথে শত্রুতা বা এড়িয়ে চলাই আমাদের নীতি হওয়া উচিত।