18/07/2025
গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা হলো আর ইবিতে স্লোগান হলো"আমার ভাইয়ের ওপর হামলা কেন?প্রশাসন বিচার চাই।"অথচ সেদিনই এক বাস হেল্পার আমার ক্যাম্পাসের আপুর গায়ে হাত তুললো কিন্তু কোন সাধারণ শিক্ষার্থী প্রশাসনের কাছে বিচার চাইলো না,আন্দোলন,মিছিল করলো না।
সেদিন এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা হলো আর রাস্তা ব্লক করে বসে পড়লাম।অথচ,গতকাল পুকুরে লাশ ভেসে উঠলো কিন্তু আমরা এখনো পর্যন্ত কিছুই করলাম না,করতে পারলাম না।
তাহলে কি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়া অন্য কেও নিরাপদে থাকতে পারে না?রাজনীতি না করলে তার জন্য আমরা বিচার চাইতে পারি না?প্রশাসন কি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জন্যই?
এবার ইবির প্রশাসন আর পরিবেশ নিয়ে একটু বলি।
আমাদের একটা নিজস্ব থানা আছে।Oh my God সিরিয়াসলি নিজস্ব?এরকম করে যারা অবাক হয়ে যান আর গর্ব করেন তাদের বলতেছি এটা নিয়ে গর্ব করার কিছুই নেই।এই থানায় কয়েকজন কনস্টেবল ছাড়া কিছুই নাই।যদি থাকতোই তাহলে ৫টায় লাশ ভেসে ওঠার পর কুষ্টিয়া থেকে ৭টায় পুলিশ আসা লাগতো না।নাকি এখানে আসার জন্য অনুমতি চাওয়ার পর কেও বাধা দিয়েছে?
আর আমাদের প্রক্টর সাহেব?ইয়া মারহাবা!
চেতনা বিক্রি আর গুপ্ত বৈঠক করায় খুবই পটু।সেদিন ছাত্রী হেনস্তার ঘটনায় রাত ১২টা পর্যন্ত গোপন বৈঠকে অভিযুক্তকে জামাই আদর করলেন।আর পুকুরে লাশ ভেসে উঠার ২ঘন্টা পরও উনার খোঁজ নেই।অথচ উনি নাকি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার অভিভাবক।তাকে এতো বড় একটা গাড়ি দেওয়া হয়েছে রাতের বেলা মেডিকেলে গিয়ে ফটোশুট করতে?একটা মানুষ এতো ক্যামেরা সিকার কিভাবে হয় বুঝি না।জেনে রাখুন,মেয়েদের হল ৬টায় বন্ধ করে দেওয়াকেই নিরাপত্তা বলে না মাননীয় প্রক্টর সাহেব!আপনার ওপির যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তার কতটকু পালন করেছেন তা একটু গভীর রাতে ভেবে দেখুন।
এবার আসি কেন্দ্রীয় প্রশাসনে(ভিসি,প্রো-ভিসি,ট্রেজারার)।আপনারা তো মাশাল্লাহ খুবই ধার্মিক,কেন্দ্রীয় মসজিদে খুতবা পড়া ছাড়া দায়িত্ব গ্রহণ করেন না।তাহলে একটা মানুষের লাশ পুকুরে ভেসে উঠলো কিন্তু কোন বিবৃতি নেই কেন?নাকি আপনাদের কানে পৌছায়নি?বিকাল ৫টার ঘটনায় রাত ৯টায় জনসংযোগ দফতর থেকে একটা দায়সারা বিবৃতি দিয়ে নিজেদের দায়মুক্ত করে নিলেন?আপনারা তো গাল খেঁচে ক্যামেরার সামনে খুব নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলেন।কিন্তু কোথায় সেই নিরাপত্তা? চোখে তো কারোর পড়ে না।সুষ্ঠু তদন্ত হবে এমন কোন বিবৃতি দিলেন না কেন? নিজেদের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে তাই?
এতোকিছুর পরেও আমরা ইবিয়ান'রা নিশ্চুপ,এমন চুপ যেন কিচ্ছু হয়নি।রাজনৈতিক ভাইয়ের গায়ে হাত তুললে রক্ত গরম হয়ে যায়,রক্তে আগুন লেগে যায় কিন্তু নিজের অধিকার আদায়ে রক্ত কিভাবে ঠান্ডা থাকে?সেদিন রাজনৈতিক অভিভাবকদের ওপর হামলা হলো ৩টায়,আর ৫টায় আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী হয়ে স্লোগান দিলাম রক্তে আগুন লেগেছে।কিন্তু আজ কেন সাধারণ শিক্ষার্থী নেই ক্যাম্পাসে?আজ কেন একজনও আন্দোলন করি না?আজ কেন আমার ভাইয়ের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করি না?রাজনৈতিক ভাইয়ের জন্য সাধারণ শিক্ষার্থী আছে,পলিটিক্যাল পার্টি আছে কিন্তু যার লাশ ভেসে উঠলো তার জন্য কেও নেই?
আপনারা বলেন,ঢাবি স্বৈরতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান।কিন্তু আমি তো মনে করি এটা শোনা তাদের জন্য গর্বের।সকল অধিকার আর নিরাপত্তা তাদেরই প্রাপ্য। কারণ তারা অধিকার আদায়ে সোচ্চার/সচেতন।
হৃদয়
ল'এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট
২০২১-২২