18/08/2026
যে ক্যাম্পাস নিজেই কখনো ভাড়াটে VC চায়নি, সেই ক্যাম্পাসই এখন মার্কেটিং বিভাগকে ভাড়াটে চেয়ারম্যান উপহার দিচ্ছে, ব্যাপারটা কিউট না?!
ভাড়াটে ভিসি ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নয়নে প্রত্যাশিত রকমের সচেষ্ট থাকে না, ক্যাম্পাসের সাথে তারা মেন্টালি এবং প্রফেশনালি তেমন এঙ্গেইজড্ ও থাকে না, ক্যাম্পাসে তাদের উপস্থিতির ব্যাপার তো বাদ ই দিলাম। দীর্ঘ ৬ বছরের ক্যাম্পাস জীবনে ভিসির দেখা পেয়েছি গুণে গুণে কেবল জাতীয় দিবস এবং বিশেষ প্রোগ্রাম গুলোতে। ভাড়াটে ভিসি নিয়ে এই স্টেটমেন্ট গুলো কেউ অস্বীকার করতে পারবেন? যদি না পারেন, তাহলে এবার আসেন মার্কেটিং বিভাগের আলাপে-
২০২০ সালে বিভাগের ৫ম ব্যাচ হিসেবে যাত্রা শুরু করি, তখন মার্কেটিং বিভাগের নিজস্ব শিক্ষক সংখ্যা মাত্র ৩ জন। এখন এই বিভাগে ১১তম ব্যাচ এবং শিক্ষক সংখ্যা হয়েছে ৫ জন। COVID-19 এর কারণে প্রায় ১৮ মাস পরীক্ষা আটকে থাকা সত্ত্বেও ৫ জন শিক্ষকের ডিপার্টমেন্টে ৬ বছরে গ্রাজুয়েশন এবং পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি, এবং সেটা একাডেমিক কোনো কার্যকলাপে ফাঁকি না দিয়েই।
ক্যাম্পাসে এমন অনেক বিভাগ দেখেছি যাদের শিক্ষক সংখ্যা ২০/৩০ এর উর্ধ্বে কিন্তু তবুও একাডেমিক গতি ছিলো উল্লেখযোগ্য ভাবে শিথিল। এবং সেটা সেই বিভাগের শিক্ষার্থীরাসহ, আপনি-আমি সবাই জানি।
এত কম লোকবল নিয়েও মার্কেটিং বিভাগ যে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্যান্য বিভাগগুলোর সাথে সমান তালে (কখনো কখনো তারচেয়ে ও ভালো) এগিয়ে এসেছে এবং যাচ্ছে এটা কিভাবে সম্ভব হয়েছে? এর কারণ শিক্ষকদের বিভাগের প্রতি মেন্টালি এবং প্রফেশনালি সংযোগ ছাড়া আর কিছুই না। আমাদের বিভাগের সভাপতি এবং অন্যান্য শিক্ষকদের দায়িত্ব এবং কর্তব্যের দিক দিয়ে আপনি খুব একটা পার্থক্য খুঁজে পাবেন না, প্রয়োজন ভেদে ওনারা সবাই ই চেয়ারম্যান আবার সবাই ই সাধারণ শিক্ষক, কর্মকর্তা, এমনকি কখনো কখনো কর্মচারী ও। এই স্পিরিট আপনি ভাড়াটে সভাপতি দিয়ে দিতে পারবেন আমাদেরকে? যেখানে স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছে যে এটা একটা ব্যক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ এবং মার্কেটিং বিভাগকে পেছন থেকে ল্যাং মারার একটা অপচেষ্টা। মার্কেটিং বিভাগে যোগ্য শিক্ষক নেই সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য? তাছাড়া নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে, যোগ্যদের বঞ্চিত করে, ভাড়াটে সভাপতি নিয়োগ দিয়ে একটা এক্টিভ ডিপার্টমেন্টকে অক্ষম করার এবং ৪০০+ শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস করার জন্য যে উঠে পড়ে লেগেছেন আপনারা, সেটা কোন বৈধতায়?
ভাড়াটে VC'র বিরুদ্ধে পুরো ক্যাম্পাস একযোগে দাড়ায়, কিন্তু এসব ইন্টার্নাল ঝামেলা সবাই উপেক্ষা করে যতক্ষণ না তার নিজের স্বার্থে আঘাত লাগে, এইজন্যই ইবি স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও এখনো অনেকখানি পেছনে পড়ে আছে। সার্বিকভাবে উন্নতি চাইলে ছোট বড় সব অনিয়ম নিয়ে দলমত নির্বিশেষে সবার সোচ্চার হতে হবে। মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা, আমাদের স্নেহের জুনিয়ররা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রশ্ন তুলবে, জবাব চাইবে, এতটুকু আত্মবিশ্বাস আমাদের আছে, মার্কেটিং বিভাগের ছেলেপেলে এসব অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে বরাবরই অভ্যস্ত। তবে আপনাদের ও উচিত এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে এবং অন্তর্নিহিত অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা। নাহয় আজ আমাদের সাথে অন্যায় হচ্ছে কাল আপনার সাথে, আপনার বিভাগের সাথে হবে।
Rakib Molla
5th Batch
Dept. of Marketing
Islamic University, Kushtia.