14/12/2023
বিয়ের আড়াই বছর পূর্ন হওয়ার পর যখন জানতে পারলাম। আমার স্বামী রিফাত একটা নারীর সাথে গভীরভাবে পরকীয়াতে আসক্ত। তখন আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি উঠে যাওয়ার অতিক্রম।
লোকটাকে তো আমি ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম।।যার ফল পেতে হলো এমন সরূপ। মনের ভেতর এক তীব্র গতিতে যন্ত্রণা গ্রাস করে যাচ্ছে আমাকে । তবে এটা কিসের যন্ত্রণা সেটা কেবল আমি নিজেই টের পাচ্ছি। কাউকে ধোঁকা দেওয়া কষ্টের প্রতিক্রিয়া বুঝি এমন হয় সেটা জানতাম না। মনের ভেতর এক অচিন পাখির উদ্ভবের আনাগোনা অবশ্যম্ভাবী হয়ে আছে। যেটা চাতক পাখি মত ভু করে উঠছে।
আমি বিন্দু। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। যখন ক্লাস দশম শ্রেনীতে উত্তীর্ণ হই। তখন থেকেই বাবা মা বিয়ের জন্য পাত্র দেখা শুরু করে। কিন্তু আমি যে রিফাতকে ভালোবাসি। তাই কিছু না ভেবেই পালিয়ে যাই। তারপর বিয়ে করি দুজন। আমাদের বিয়েটা ছিলো লাভ ম্যারেড।পালিয়ে বিয়ে করেছিলাম। আসলে রিফাতের চোখে আমার জন্য যে ভালোবাসার প্রবনতা দেখেছিলাম সেই ভালোবাসার জোরে পরিবার আত্মীয় স্বজনদের মুখে চুন কালির দাগ লাগিয়ে ছোটে যাই তার কাছে। কিন্তু বিয়ের তিন বছর পর কে জানতো রিফাতের ভালোবাসা মুখোশের আড়ালে বিমূর্ততার এক ছাপ স্পষ্ট জমে আছে যার আকৃতি এমন বিষাক্ত। চোখের পাতা দুটো জ্বলে যাচ্ছে কিন্তু একফোঁটা পানিও বাদ মানছে না। আমার ঠাই কোথায়,কোথায় যাব কার কাছে। পরিবারকে যে সেই তিন বছর আগেই কবর দিয়ে এসেছি নিজের কাছে। আপন বলতে শুধু রিফাতই ছিলো এক মাত্র।
কত সুন্দরভাবে দুজন মিলে একটা সংসার তৈরি করেছিলাম। যেখানে ছিলো শুধু ভালোবাসার এক বিশাল বর্ণহীন পাহার। কিন্তু রিফাত সেটা এভাবে ভেঙ্গে দিবে ভাবতেও পারিনি। আজ বুঝতে পারছি কেন যে এত দিন বাচ্চা নিতে চাই তো না। হয়তো তার এই সম্পর্ক অনেক আগে থেকেই যার কারনে বাচ্চার কথা বল্লে সে অনেক রেগে যেত। বলতো তুমি ছোট এখন বাচ্চা নিতে হবে না। এখন বুঝতে পারছি আমি কেবল তার কাছে এতদিন বিছানার সঙ্গী ছিলাম। ভাবতেই বুকের ভেতরটা কষ্টে ফেটে যাচ্ছে।
কিন্তু এখন আমার হাতে কি করার আছে।আমি তো পরিবারের কাছে বোধয় মরে গেছি। আমার উপায় কি। সুইসাইড করব??
না আমি তো কোনো ভুল কিছু করিনি যার কারনে আমাকে সুইসাইডের পথ বেছে নিতে হবে। আমার জীবনের উপসংহার কি সেটা এখনো পর্যন্ত জানা বাকি রয়েছে। তবে এখনই যদি সুইসাইডের পথ বেছে নেই তাহলে আমার জীবনের উপসংহার কি হবে সেটা জানা মুশকিল।কারন সুইসাইড কখনো জীবনের উপসংহ