১৯৪৮ সালের কথা। তখন নারায়ণগঞ্জ ছিল পূর্ব পাকিস্থানের একটি মহুকুমা শহর। মহুকুমা প্রশাসক ছিলেন মি: রহমত উল্লাহ। যিনি পশ্চিম পাকিস্থানের নাগরিক ছিলেন।
মহুকুমা প্রশাসকের অধিনস্ত এই শহরে পাকিস্থানী অনেক নাগরিক, প্রশাসনের অনেক পদে কর্মকর্তা কর্মচারী ছিলেন। ঐ সময়ে উর্দূভাষী কর্মকর্তা যারা নারায়ণগঞ্জে স্ব-পরিবারে বসবাস করতেন তাদের সন্তানদের লেখাপড়া শিখানোর কোন বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। তৎকালীন এস,ড
ি,ওরহমত উল্লাহ সাহেব নারায়ণগঞ্জের ধনাড্য ব্যবসায়ী আবদুর রহমান ভূইয়া সংক্ষেপে এআর ভূইয়ার নিকট থেকে কেল্লার এই ১.৬২ একর জায়গাটি নিয়ে একটি উর্দূভাষী মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। যার নামএস,ডি,ও সাহেবের নামানুসারে ‘রহমত উল্লাহ একাডেমী’,দেয়া হয়। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২২ বৎসর এই প্রতিষ্ঠানটি চলমান ছিল। তখন বাংলাভাষী কোন শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হতে পারত না। ১৯৭০ সালের পর উদূভাষী শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এই দেশ ত্যাগ করে। ১৯৭২ সালে দেশ স্বাধীনের পর এই বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে মুক্তিযুদ্ধত্তরকালে তাদের ব্যবহৃত অগ্নেয়স্ত্র সমূহ রাখার জন্য ব্যবহার করেন। পরবর্তিতে অত্র অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা এবং মান্যবর ব্যক্তিগণের সহায়তায় এই অঞ্চলের নারী শিক্ষার প্রতিষ্ঠানের অভাব অনুভূতি থেকে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সূচনা করেন। বিদ্যালয়ের নাম বিবি মরিয়ম নামকরন হওয়ার পেছনে ঐতিহাসিক কিছু কারণ বিদ্যমান। বিদ্যালয়ের মূল ভবনটির উত্তর পার্শ্বে বিবি মরিয়মের মাজার শোভা পাচ্ছে। জানা যায় মোঘল শাসন আমলে নবাব শায়েস্থা খানের মেয়ে বিবি মরিয়ম এই এলাকায় বসবাস করতেন। তখন শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরবর্তী অত্র অঞ্চলে একটি নৌবন্দর এবং নৌবাহিনীর দূর্গ অবস্থিত ছিল। যে দূর্গটি বিদ্যালয়ের নিকটে এখনও বিদ্যমান আছে। এই নৌবাহিনীর প্রধান সেনা নায়কের বেগম ছিলেন বিবি মরিয়ম। তিনি যথেষ্ট খোদা প্রেমিক ছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। ঐ সময়ে তার মৃত্যুর কারণে নবাবদের তত্ত্বাবধানে তার সমাধিস্থলে বিরাট পোডিয়াম নির্মিত হয় ।
বিবি মরিয়মের সমাধী সেই ১৬০০ শতাব্দীতে নির্মিত হওয়ার পর আজও ইহা শোভা বর্ধন এবং দর্শনীয় স্থান হিসেবে বাংলাদেশের সংষ্কৃতি মন্ত্রনালয়ের তত্ত্বাবধায়নে রক্ষিত হয়ে আসছে । এ ব্যাপারে তথ্যভিত্তিক সঠিক ইতিহাস আজও পাওয়া যায় না। এই মহিয়শী নারী বিবি মরিয়মের নাম অনুসারে ১৯৭২ সালে অত্র বিদ্যালয়ের নাম রাখা হয় ‘‘বিবি মরিয়ম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’’ । যাহা আজও নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরে অন্যতম নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনামের সহিত পরিচালিত হয়ে আসছে।