24/06/2022
ছাত্রজীবনে সফল হতে দরসে বিনয়, সুশৃঙ্খল ও মনোযোগী হতে হবে
- হযরত আল্লামা শোয়াইব জমিরী (দা.বা.)
-------------------------------
দেশের প্রাচীন ও বৃহত্তম ইসলামী বিদ্যাপিঠ দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রবীণ আলেম ও শাইখে সানী হযরত আল্লামা হাফেজ শুয়াইব জমিরী মিশকাত শরীফ সানীর দরসে সহস্রাধিক ছাত্রের উদ্দেশ্যে ‘আদব ও শিষ্টাচার এবং ইলম অর্জনে আত্মত্যাগ’ সম্পর্কে রত্নমাখা কিছু নসীহত পেশ করেন।
তিনি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, মনযোগ দিয়ে কথাগুলো শোন, তোমরা ইলম শিক্ষার ব্যাপারে সর্বদা নমনীয়ভাবে চলাচল করবে। নিজেকে ইলমের জন্য ওস্তাদের কাছে সম্পূর্ণ সোপর্দ করতে হবে। নিজেকে কখনো বড় মনে করবে না। আচরণে বা উচ্চারণে নিজেকে প্রজ্ঞাবান বা শ্রেষ্ঠ বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করবে না। জগতে এমন শত-সহস্র কিতাব আছে, যা তোমরা পড়নি। সুতরাং নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবার কিছু নেই। জ্ঞান আহরণের ময়দানে তুমি নিজেকে এমনভাবে মিটিয়ে দিবে, যাতে লোকসমাজ তোমার আদব, সম্মান, শ্রদ্ধায় অভিভূত হয়ে পড়ে।
আল্লামা শুয়াইব জমিরী আরো বলেন, শিক্ষাজীবনে নিজের বংশীয় মর্যাদা ভুলে যেতে হবে। বংশীয় মর্যাদা দিয়ে কি হবে যদি নিজের ভিতরে কিছু না থাকে। দেখ, একটি গোলাপ ফুল। তাকে নিয়ে লোকজন কি করে? তোমরা দেখবে অবশ্যই কোন অনর্থক বা নিম্ন কাজে গোলাপকে ব্যবহার করা হয় না। গোলাপকে মানুষ নিজের স্থানে থেকেও সুন্দর ও পরিপাটি স্থানে রাখে। তার থেকে ঘ্রান নেয়। কোমল অনুভূতি প্রকাশ করে। সৌন্দর্য উপভোগ করে।
তিনি আরো বলেন, তোমরা দেখ গোলাপটি কীভাবে নিজেকে নিম্ন মাটির মধ্যে মিটিয়ে দিয়ে নিজেকে যোগ্য রূপে বিকশিত করে তুলেছে। দেখ, গোলাপ যে গাছে জন্মায় তার নিচের দিকে তাকিয়ে দেখ। মাটিগুলো কত যত্মহীন। গাছটির চাপিাশে কত ময়লা আবর্জনা। মানুষের কত জমানো ময়লা গাছটির দিকে নিক্ষেপ করত। কত ঝড় বৃষ্টি তার উপর দিয়ে বয়ে গেল। কতজন মুল্যহীনতার কথা গাছটিকে লক্ষ্য করে বলত। কতজন তাকে উপড়ে ফেলার অভিপ্রায়ও প্রকাশ করতো। কিন্তু বেচারা বৃক্ষটি যখন নিজের শরীরে শত শত কাটা আর বক্রতা নিয়ে একটি সতেজ মসৃণ গোলাপ মানব সমাজকে উপহার দেয়, তখন মানবসমাজ গোলাপের সুবাসে মোহিত হতে একে অপরের সাথে প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হয়। সবাই ফুলটিকে নিজের করে পেতে কত কিছু করে।
ছাত্রদের উদ্দেশ্যে আল্লামা শুয়াইব জমিরী বলেন, তোমরা দেখ, সে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে যোগ্য করে তৈরি করেছেন। নিজের আমিত্বকে সে বর্জন করেছে।