18/10/2011
সিরিজ হারিয়ে জয়ের মুখ দেখল বাংলাদেশ। তৃতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে লজ্জায় ডুবিয়ে ৮ উইকেটে হারিয়েছে তারা। তখনো হাতে ছিল ১৮০ বল।
এই হারের পরও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ব্যাটিংয়ে পাঠান ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এ নিয়ে টানা তিন ওয়ানডেতে টস জিতলেন তিনি। একমাত্র টি-টোয়েন্টিতেও টস জিতে তিনি।
ব্যাট করতে নেমে ২২ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৬১ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ২০ ওভারে ২ উইকেটে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। এ নিয়ে চট্টগ্রামে টানা চার ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। ৩০ রানের মধ্যে সাজঘরে ফিরেন ইমরুল কায়েস (১১) ও শাহরিয়ার নাফীস (০)।
অবিচ্ছন্ন তৃতীয় উইকেটে তামিম ইকবাল ও মুশফিক ৩২ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে সহজ জয় এনে দেন। তামিম ৩৫ ও মুশফিক ১০ রানে অপরাজিত থাকেন। তামিম তার ৬১ বলের ইনিংসটি সাজান ৩টি চার দিয়ে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে মারলন স্যামুয়েলস ও কেমার রোচ একটি করে উইকেট নেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে এটাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বনিু রান। এর আগে ২০০৯ সালে রোসেউতে ১৯৪ রান করে তারা।
ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বনিু রানের তালিকায় এটি রয়েছে দুই নম্বরে। এর আগে ২০০৪ সালে কেপ টাউনে ৫৪ রান করে তারা। এ নিয়ে ছয়বার একশ'র কমে অলআউট হল তারা।
জিম্বাবুয়ের পর এই প্রথম কোনো দলকে ১০০ রানের নিচে আটকাতে পারল বাংলাদেশ। এর আগে এই মাঠেই জিম্বাবুয়েকে ৪৪ রানে গুড়িয়ে দেয় তারা।
কাইরন পাওয়েলের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ২৫ রান। দ্বিতীয় উইকেটে তিনি মারলন স্যামুয়েলসের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২৩ রানে জুটি গড়েন। তাদের কারণে এক পর্যায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ৩৩/১। সেখান থেকে ২৮ রান যোগ করতে শেষ ৯ উইকেট হারায় তারা।
১১তম ওভারের পঞ্চম বলে শফিউল ইসলাম ফিরিয়ে দেন আগের দুই ম্যাচে অর্ধশতক তুলে নেয়া স্যামুয়েলসকে।
পরের ওভারে বদলি বোলার হিসেবে বল করতে এসে নিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে পাওয়েল ও পোলার্ডকে ফিরিয়ে দেন নাসির হোসেন।
শফিউল-নাসির যেখানে শেষ করেন সেখান থেকেই যেন শুরু করেন সাকিব আল হাসান। একে একে তুলে নেন অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি (২), দিনেশ রামদিন (৪), কার্লোস ব্র্যাথওয়েইট (১১) ও অ্যান্থনি মার্টিনকে (১)।
পাওয়েল ছাড়া কেবল কার্লোস ব্র্যাথওয়েইটপৌঁছান দু'অঙ্কের কোঠায়। তার ইনিংসটিই সর্বনিু রানের রেকর্ড থেকে বাঁচিয়ে দেয় সফরকারীদের।
স্বাগতিক স্পিনাররাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বনাশ করেছেন। তিন স্পিনারের স্পেল এমন ১০-১-২১-৭।
অ্যান্থনি মার্টিন (১), আন্দ্রে রাসেল (২) দিনেশ রামদিন (৪), ড্যারেন স্যামি (২), ড্যারেন ব্র্যাভো (০), কাইরন পোলার্ড (০) ও ডেনজা হায়াট (৩) দ্রুত সাজঘরে ফিরে দলকে বিপদে ফেলেন।
বাংলাদেশের পক্ষে সাকিব আল হাসান ১৬ রানে নেন ৪ উইকেট। ওয়ানডেতে এটাই তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। এনিয়ে চারবার ম্যাচে চার উইকেট নিলেন তিনি।
এছাড়া নাসির হোসেন ও শফিউল ইসলাম নেন দুটি করে উইকেট। এ জন্য নাসির দেন ৩ রান। শফিউল ২১।
বাংলাদেশ দলে পরিবর্তন আনা হয়েছে চারটি। মোহাম্মদ আশরাফুল, অলক কাপালী, আব্দুর রাজ্জাক ও রুবেল হোসেন খেলেন নি। তাদের বদলে খেলছেন শাহরিয়ার নাফীস, শুভাগত হোম চৌধুরী, সোহরাওয়ার্দী শুভ ও নাজমুল হোসেন।
অন্য দিকে খেলেন নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেন্ডল সিমন্স, দেবেন্দ্র বিশু ও রবি রামপাল। তাদের বদলে খেলছেন পাওয়েল, মার্টিন ও ব্র্যাথওয়েইট।
ভেজা মাঠের কারণে খেলা নির্ধারিত সময়ের আধঘন্টা পর শুরু হয়। তবে ওভার কাটা হয়নি।
খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল দুপুর দেড়টায়।
দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামে বৃষ্টি হয়। এর আগে সকালেও হয় হাল্কা বৃষ্টি। আবহাওয়ার পুর্বাভাসে দিনের শেষভাগেও বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।