22/04/2026
- সম্প্রীতির বন্ধনে, স্মৃতির রঙে—পুরকৌশলের মহাভোজ, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
— Let the Legacy Continue.
পুরকৌশলের মহাভোজ -- ২০২০ সিরিজের জন্য এটি শুধু একটি নাম নয়, বরং এক গভীর আবেগের প্রতিচ্ছবি।
প্রথমবার যখন বিদায়ী ব্যাচের (১৯ সিরিজ) ভাই-আপুদের জন্য এই আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তখন তা ছিল অনেকটা আকাশ-কুসুম কল্পনার মতো। কারণ, রুয়েটে তখন পর্যন্ত কোনো ডিপার্টমেন্ট নাইট ছাড়া এত বড় পরিসরে—প্রায় ৯০০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে—এমন আয়োজন কখনো হয়নি। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার ছিল, পুরো ব্যবস্থাপনাই ছিল বিদায়ী ব্যাচের ইমিডিয়েট জুনিয়রদের (২০ সিরিজের) হাতে।
সিনিয়রদের কাছে পৌঁছানো—হলের রুমে রুমে গিয়ে, ক্লাসরুমে, মেইল কিংবা ফোনের মাধ্যমে দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া; একই সঙ্গে জুনিয়রদের মাঝে প্রোগ্রামের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেওয়া এবং স্যারদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা—সবকিছুই ছিল বড় একটি দায়িত্বের অংশ। এছাড়াও প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ব্যাচের মধ্যে সমন্বয় সাধন, নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং আয়োজনটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার নিরন্তর চেষ্টা—এই সবকিছুর সম্মিলিত প্রয়াসই ধীরে ধীরে অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিলো।
শুধু তাই নয়—প্রোগ্রামের কয়েকদিন আগে গরু-খাসি কিনে এনে শো-ডাউন করার উত্তেজনা থেকে শুরু করে, প্রোগ্রামের দিন নিজ হাতে স্যার, সিনিয়র ও জুনিয়রদের খাবার পরিবেশন এবং নানা গেমস ও আয়োজন—সবকিছু মিলিয়ে এটি ছিল সত্যিই এক জমজমাট ও বর্ণিল আয়োজন।
এরই ধারাবাহিকতায় এবার আয়োজন করা হলো পুরকৌশলের মহাভোজ ২.০—যেখানে আমরা নিজেরাই বিদায়ী ব্যাচ, আর পুরো আয়োজনের দায়িত্বে আমাদের স্নেহের ২১ সিরিজ। আমাদের জন্য এটি কতটা আবেগঘন একটি মুহূর্ত, তা ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন।
অনেকদিন ধরেই আমরা মজা করে বলতাম—“কি ছোট ভাই, দাঁতে তো শান দেওয়া দরকার!” আর ওরাও চুপচাপ কিন্তু নিরলসভাবে প্রস্তুতি নিয়ে যাচ্ছিলো। তবে পাঁচটি সিরিজের সময়সূচি একসাথে মিলিয়ে নেওয়া মোটেও সহজ কাজ ছিল না। আমরা গতবার যেভাবে আয়োজন করেছিলাম, ওরাও ঠিক সেই পথ ধরেই এগিয়েছে। কিন্তু এবারের আয়োজনে তাদের আগের চেয়েও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিভিন্ন দিক থেকে অসহযোগিতার ইঙ্গিত, এমনকি প্রোগ্রামটি থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও ছিল—তবুও সব বাধা পেরিয়ে তারা এগিয়ে গেছে দৃঢ়ভাবে।
এজন্য আমাদের সম্মানিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা—তাদের অবিচল সমর্থন ও সহযোগিতাই সব বাধাকে ম্লান করে দিয়েছে, যার ফলে ২১ সিরিজ সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে প্রোগ্রামটি সম্পন্ন করতে পেরেছে।
গতদিনের প্রোগ্রাম নিয়ে যতই বলা হোক, কমই বলা হবে। এটি ছিল একটি অসাধারণ, সুসংগঠিত এবং হৃদয়ছোঁয়া আয়োজন। পুরো প্রোগ্রামটি এত সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য ২১ সিরিজকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ।
বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতি, যারা এই আয়োজনকে সফল করতে নিরলস পরিশ্রম করেছে। শো-ডাউন, রান্না, পরিবেশন থেকে শুরু করে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা—প্রতিটি দিকই ছিল সুচারু ও প্রশংসনীয়। তোদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও ভালোবাসাই এই আয়োজনকে শুধু একটি প্রোগ্রামে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং এটিকে রূপ দিয়েছে এক চিরস্মরণীয় অভিজ্ঞতায়।
সবশেষে, এই আয়োজনকে সফল করে তুলতে ২১ সিরিজের পাশাপাশি ২২, ২৩ ও ২৪ সিরিজের সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও ভালোবাসা। আমরা প্রত্যাশা করি, এই প্রোগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকবে এবং প্রতিটি বিদায়ী ব্যাচের জন্য বারবার ফিরে আসবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, এ ধরনের আয়োজন শুধু খাওয়া-দাওয়া বা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে, সিনিয়র-জুনিয়রদের মাঝে বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে। পাশাপাশি একাডেমিক চাপ থেকে সাময়িক মুক্তি দিয়ে মানসিক স্বস্তি এনে দেয় এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও মজবুত করে।
-- সম্প্রীতির বন্ধনে, স্মৃতির রঙে—পুরকৌশলের মহাভোজ, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
“Long Live Civil Engineering — Let the Legacy Continue.
Thank You Dear Juniors - CE 21 Series
& Take Love - 22, 23, 24 Series ❤️