01/08/2026
মিথ্যা তহমত (অপবাদ) অত্যন্ত বড় গুনাহ। কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে।
কোরআনের আলোকে
১. সূরা আন-নূর (২৪:১৫-১৬)
"তোমরা একে মুখে মুখে প্রচার করছিলে এবং যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান ছিল না, তা বলছিলে। তোমরা এটিকে তুচ্ছ মনে করেছিলে, অথচ আল্লাহর কাছে এটি ছিল মহাগুরুতর।"
এই আয়াতে প্রমাণ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়ানোকে গুরুতর অপরাধ বলা হয়েছে।
২. সূরা আন-নূর (২৪:২৩)
"যারা সৎ, পবিত্র ও ঈমানদার নারীদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত; তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।"
৩. সূরা আল-হুজুরাত (৪৯:১২)
"অনেক ধারণা থেকে বিরত থাকো। নিশ্চয়ই কিছু ধারণা গুনাহ।"
অর্থাৎ, প্রমাণ ছাড়া সন্দেহ বা অভিযোগ করাও নিষিদ্ধ।
হাদিসের আলোকে
মুহাম্মদ বলেছেন:
"যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের বিরুদ্ধে এমন দোষ আরোপ করে যা তার মধ্যে নেই, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের এমন স্থানে রাখবেন, যতক্ষণ না সে তার কথা থেকে ফিরে আসে।"
— সুনান আবু দাউদ
আরও একটি হাদিসে এসেছে:
"মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।"
— সহিহ আল-বুখারী ও সহিহ মুসলিম
যদি কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়ে থাকে
আল্লাহর কাছে আন্তরিক তওবা করতে হবে।
যার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে, তার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে (যদি এতে আরও বড় ক্ষতি না হয়)।
অপবাদ ছড়িয়ে থাকলে যথাসাধ্য তা সংশোধন করতে হবে এবং সত্য প্রকাশ করতে হবে।
ভবিষ্যতে প্রমাণ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না করার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে।
ইসলামে মানুষের সম্মান (ইজ্জত) অত্যন্ত মূল্যবান। তাই মিথ্যা তহমত, গীবত ও অপবাদ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য।