25/11/2025
এক নজরে রাসূলুল্লাহ সা. এর সৌন্দর্য::
নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেহ মোবারক::
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এত সৌন্দর্যময় ছিলেন, মনে হত তার দেহ রুপা দ্বারা গঠিত। (আল জামিউস সগীর-৬৪৫২)
1. মাথা মোবারক,
মাথা মোবারক তুলনামূলক বড় ছিল। দেখতে খুব সুন্দর লাগত। ( তিরমিজি-৩৬৩৭).
2. চুল মোবারক,
চুল ঘন ছিলো। (মুসনাদ-৯৪৪).
3. চুল কেমন দেখতে?
অধিক কোকড়ানো না, আবার একবারে লম্বা ছিলোনা। (মুসলিম-২৩৪৭)
তাহলে কেমন ছিল?
তার চুল মোবারক ঈষৎ ঢেউ খেলানো ছিল। (আল জামিউস সগীর-২৪৫৭)
যদি অনায়েসে সিথি এসে যেত তাহলে সিথি কাটতেন, অন্যথায় ইচ্ছে করে সিথি কাটতেন না,
(আল জামিউস সগীর ৬৪৫৭)
চুল এবং দাড়ির সামনের অংশ সাদা হয়ে গিয়েছিল। তিনি যখন তেল দিতেন (সাদা) চুল তখন দেখা যেত না, আর যখন চুল অগোছালো হত তখন (সাদা) দেখা যেত। সহিহ মুসলিম-৫৯৭৮)
4. চুলের পরিমাপ,
কানের অর্ধেক পর্যন্ত ঝুলানো ছিল।
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চুল তাঁর দু’ কানের অর্ধেক পর্যন্ত ঝুলানো ছিল।
(সহিহ মুসলিম-৫৯৬৩)
দু’কান ও দু’কাঁধের মাঝ পর্যন্ত।
ক্বাতাদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) -কে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর চুল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর চুল মধ্যম ধরনের ছিল- না একেবারে সোজা, না বেশী কোঁকড়ানো। আর তা ছিল দু’কান ও দু’কাঁধের মাঝ পর্যন্ত।
(সহিহ বুখারী- ৫৯০৫)
কাঁধ পর্যন্ত লম্বা হতো।
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর চুল (কখনও) কাঁধ পর্যন্ত লম্বা হতো।
(সহিহ বুখারী-৫৯০৪)
5. চেহারা মোবারক,
উদাহরণ-১
বারাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর চেহারা ছিল মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সুন্দর এবং তিনি ছিলেন সর্বোত্তম আখলাকের অধিকারী। তিনি বেশি লম্বাও ছিলেন না এবং বেঁটেও ছিলেন না।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৫৪৯
উদাহরণ-২
তাঁর মুখাবয়ব সম্পূর্ণ গোলাকার ছিল না, বরং কিছুটা গোলাকার ছিল।
তিরমিজি-৩৬৩৮
উদাহরণ-৩
জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ..তাঁর দাড়ি প্রচুর ঘন ছিল। জনৈক লোক বলল, তাঁর চেহারা ছিল তরবারির ন্যায়। জাবির (রাঃ) বললেন, না, তাঁর চেহারা ছিল সূর্য ও চন্দ্রের ন্যায় (উজ্জ্বল) গোলাকার। এটির রং ছিল তাঁর গায়ের রংয়ের মতো।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৫৯৭৮
উদাহরণ-৪
জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেনঃ এক জোছনা রাতে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাকিয়ে দেখলাম। তাঁর পরনে ছিল একজোড়া লাল রং-এর পোশাক। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে এবং চাঁদের দিকে তাকাতে লাগলাম। তিনিই আমার কাছে চাঁদের চাইতে অধিক সুন্দর মনে হল।
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৮১১
উদাহরণ-৫
তাঁর চেহারা মোবারক পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল ছিল। (আল জামিউস সগীর-৬৪৭৫)
6. কপাল মোবারক,
ললাট ছিল প্রশস্ত। (জামিউস সগীর-৬৪৭৫)
7. ভ্রু মোবারক,
ভ্রুদ্বয় বক্র, সরু ও ঘন ছিল। উভয় ভ্রু পৃথক পৃথক ছিল, একটি অপরটির সাথে সংযোজিত ছিল না। ভ্রুদ্বয়ের মাঝে একটি রগ ছিল রাগ যাকে স্ফিত করে তুলত। (জামিউস সগীর)
8. চোখ মোবারক
ডাগর চোখ বিশিষ্ট (আদাবুল মুফরাদ-৯৮৮)
চোখের মনি কালো ছিল। (তিরমিজি-৩৬৩৮)।
চোখ দু’টি ছিল লাল (চোখের কিনারা ছিল দীর্ঘ)।
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৩৬৪৬
জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ
আমি তাঁর দিকে তাকালে মনে হত তিনি উভয় চোখে সুরমা লাগিয়েছেন। অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চোখে সুরমা লাগানো থাকত না।
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৩৬৪৫
9. নাক মোবারক,
তাঁর নাক মোবারক কিছুটা উচুঁ ছিল, তাতে একটা নুর চমকাতো। (জামিউস সগীর)
10. গাল মোবারক,
গাল মোবারক সমান ছিল। (জামিউস সগীর)
11. দাঁত মোবারক,
সামনের দন্তরাজিতে কিছুটা ফাকা ছিল। (জামিউস সগীর)।
12. থুথু মোবারক
উদাহরণ-১
সাহ্ল ইব্নু সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
খাইবারের যুদ্ধে একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আগামীকাল সকালে আমি এমন এক লোকের হাতে ঝাণ্ডা তুলে দেব যার হাতে আল্লাহ খাইবারে বিজয় দান করবেন যে আল্লাহ এবং তাঁর রসূলকে ভালবাসে এবং যাকে আল্লাহ এবং তাঁর রসূল ভালবাসেন।
সাহ্ল (রাঃ) বলেন, মুসলিমগণ এ জল্পনায় রাত কাটালো যে, তাদের মধ্যে কাকে দেয়া হবে এ ঝাণ্ডা। সকালে সবাই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসলেন, আর প্রত্যেকেই তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করছিলেন।
তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, 'আলী ইবনু আবূ ত্বলিব (রাঃ) কোথায়? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! তিনি তো চক্ষুরোগে আক্রান্ত। তিনি বললেন, তার কাছে লোক পাঠাও। সে মতে তাঁকে আনা হল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার উভয় চোখে থুথু লাগিয়ে তার জন্য দু'আ করলেন। ফলে চোখ এমন ভাল হয়ে গেল যেন কখনো চোখে কোন রোগই ছিল না। এরপর তিনি তার হাতে ঝাণ্ডা প্রদান করলেন। তখন 'আলী (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! তারা আমাদের মতো (মুসলিম) না হওয়া পর্যন্ত আমি তাদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাব। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি বর্তমান অবস্থায়ই তাদের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে হাজির হও, এরপর তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহবান করো, আল্লাহ্র অধিকার প্রদানে তাদের প্রতি যে দায়িত্ব বর্তায় সে সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত কর। কারণ আল্লাহ্র কসম! তোমার দাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ যদি মাত্র একজন মানুষকেও হিদায়াত দেন তাহলে তা তোমার জন্য লাল রঙের (মূল্যবান) উটের মালিক হওয়ার চেয়ে উত্তম।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪২১০
উদাহরণ-২
নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পানিভর্তি বালতি আনা হলো, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখান থেকে পানি পান করলেন, অতঃপর কুলি করে মুখ থেকে পানি ফেললেন সেখান থেকে মেশক আম্বরের ঘ্রাণ আসতে লাগল। (মুসনাদে আহমাদ-১৮৮৩৮) তেরো,
13. দাড়ি মোবারক,
ঘন দাড়ি. (আল জামিউস সগীর).
14. গর্দান মোবারক,
তাঁর গর্দান মোবারক মুতির মত সুন্দর এবং খোলা রুপার মত উজ্জ্বল। (আল জামিউস সগীর)
15. পিঠ মোবারক:
আমি তাঁর পিঠের উপরিভাগে কবুতরের ডিম সদৃশ নুবূওয়াতের মোহর দেখেছি। (সহিহ মুসলিম)
16. বুক মোবারক,
বুক প্রশস্ত ছিল। (জামিউস সগীর)
17.
বক্ষদেশ থেকে নাভি পর্যন্ত লোমের সরু রেখা ছিল। (জামিউস সগীর)
18. পেট,
পেট বুক সমান ছিল। (জামিউস সগীর)
আলী রাঃ এর বক্তব্য।
আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) না অতি লম্বা ছিলেন আর না (অতি) বেঁটে ছিলেন। তাঁর দু’হাত ও দু’পা ছিল মাংসল, মাথা ছিল আকারে বৃহৎ এবং হাড়ের গ্রন্থিসমূহ ছিল স্থূল ও শক্তিশালী। তাঁর বুক হতে নাভি অবধি প্রলম্বিত ফুরফুরে পশমের একটি রেখা ছিল। চলার সময় তিনি সম্মুখের দিকে ঝুঁকে হাঁটতেন, যেন তিনি ঢালবিশিষ্ট জায়গা দিয়ে হেঁটে চলছেন। আমি তাঁর পূর্বে কিংবা তাঁর পরে আর কাউকে তাঁর মতো দেখিনি।
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৩৬৩৭