15/08/2026
অনুসন্ধানী পোস্ট। শেয়ার করে জানিয়ে দিন।কেউ হয়তো আছেন এখনো জিবীত।
আমার দাদু স্বর্ণকমল আচার্য ছিলেন বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেটের হবিগঞ্জের সন্তান।দাদু দিদা আজ ভীষণ ইচ্ছে করে তাদের জন্মভিটার একটি ছবি বা ভিডিও দেখবার....
আমার দাদুর বাবা ও মায়ের নাম: পার্বতী চরণ আচার্য ও প্রমোদময়ী দেবী।দাদুর দাদুর নাম (পার্বতী চরণের বাবা): মহানন্দ আচার্য।দাদুর দাদুর বাবার নাম (মহানন্দের বাবা): নিত্যানন্দ আচার্য।আমাদের বাড়ির ঠিকানা ছিল তৎকালীন পূর্ববঙ্গের বৃহত্তর সিলেটের
গ্রাম: খাড়িয়া
থানা: বাহুবল
মহকুমা :হবিগঞ্জ
খাড়িয়া গ্রামের সবচেয়ে বড় পুকুরের ধারেই ছিল আমাদের বাড়ি।৪৭ এর কিছু আগে যখন রায়ট চলছিল, তখন আমার দাদু ভারতে চলে এসেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন আমার ঠাকুরমা এবং দাদুর ছোট বোন।
আমরা ৯০-এর দশকের বাচ্চারা লোডশেডিংয়ের সময় দাদু-ঠাকুরমার গল্পের ঝুলি থেকে গল্প শোনা এবং সেই গল্পগুলোকে মনে মনে দৃশ্যায়ন করা—এটাই ছিল আমাদের অন্যতম প্রিয় কাজ।
কত সন্ধ্যায় যে আমরা মাদুর পেতে বসে দাদুর গ্রামের গল্প শুনতাম—খাল-বিল থেকে মাছ ধরা, দাদুর মায়ের হাতের অপূর্ব স্বাদের রান্না, সেই সময় দুর্গাপুজোয় অনেক কষ্ট করে নতুন জামা বানিয়ে পরা, বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়, শৈশব থেকে কৈশোরের নানা গল্প—সবই শুনতাম মুগ্ধ হয়ে।
আজও সেই রাতগুলোর গল্পের সাক্ষী হয়ে আছে চাঁদ-তারারা।
গল্পের শেষে দাদুর একটি কথাই থাকত—“র কী যাইতে পারমু বইন।” এই কথাটি বলার পর দাদু আর আমার দুজনের চোখ দিয়েই জল গড়িয়ে পড়ত।
এই কথাগুলো লিখতে গিয়েও আমার কান্না পাচ্ছে।
এখন মনে হয়, দাদু যখন বেঁচে ছিলেন, তখন যদি একবার অন্তত দাদুকে তাঁর গ্রামের বাড়িটা দেখিয়ে নিয়ে আসতে পারতাম!
আজও অবসর সময়ে দাদুর গল্পগুলো মনে পড়ে। সেই গল্পের মাধ্যমে মনের মধ্যে যে দাদুর গ্রামের বাড়িটাকে কল্পনা করতাম, সেই বাড়িটা আজ খুব দেখতে ইচ্ছে হয়।
একদিন হঠাৎই ফেসবুকে বঙ্গ ভিটা পেজটি চোখে পড়ে। সেখানে দেখলাম, এপার বাংলা ও ওপার বাংলার অনেক মানুষ বছরের পর বছর বিচ্ছেদের পরেও বঙ্গ ভিটার মাধ্যমে আবার একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন।
আমি জানি না, বঙ্গ ভিটার মাধ্যমে আমার দাদুর সেই বাড়িটির কোনো খোঁজ পাব কি না। যদি পাই, তাহলে বঙ্গ ভিটার কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
আর বঙ্গ ভিটা পেজটি যেন আরও এগিয়ে যায়—এই শুভকামনা রইল।
শতাব্দী আচার্য্য
ভারত
থেকে
https://www.facebook.com/share/18dcBR3jna/