31/12/2025
ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রথা বিলুপ্তের সুপারিশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেশের বিদ্যমান ৪টি পাবলিক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোকে সংশ্লিষ্ট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি বা ইনস্টিটিউট হিসেবে পুনর্গঠনের মাধ্যমে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর করা হবে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী—
১) ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ
প্রস্তাবিত ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টি: কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়
অথবা বিকল্প ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
২) সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ
প্রস্তাবিত ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টি: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
অথবা বিকল্প ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট: সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
৩) ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ
প্রস্তাবিত ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
অথবা বিকল্প ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টি: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
৪) বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ
প্রস্তাবিত ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
অথবা বিকল্প ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং ডিগ্রির স্বীকৃতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উক্ত প্রস্তাবনা খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়েছে শিক্ষা সচিব।
সোর্সঃ শিক্ষা মন্ত্রনালয়
কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ
ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহে (ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বরিশাল ও সিলেট) বিদ্যমান সংকটসমূহ সনাক্তপূর্বক কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ নিম্নরূপ:
৬.১ কমিটির পর্যবেক্ষণ
কলেজগুলোতে শিক্ষকের তীব্র সংকট রয়েছে এবং শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি ও সময়সাপেক্ষ। বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উচ্চ শিক্ষায় পাঠদানের জন্য যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ প্রদান সম্ভব নয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে কলেজগুলোতে শিক্ষকের সংকট অব্যাহত রয়েছে। প্রথমত, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বৈত ব্যবস্থাপনা বিদ্যমান সমস্যাগুলোকে তীব্রতর করেছে। ফলে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। কলেজগুলোতে ল্যাবে জনবল সংকট এবং বিদ্যমান জনবলের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের অভাবের কারণে ল্যাব সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা সম্ভবপর হচ্ছে না। বিদ্যমান সংকটগুলোর কারণে কলেজগুলোর একাডেমিক প্রোগ্রামগুলোর IEB স্বীকৃতি নেই।
৬.২ কমিটির সুপারিশ
উপরিক্ত বিষয়াদি এবং উল্লিখিত বিদ্যমান সংকট বিশ্লেষণ করে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে অর্থাৎ দ্বৈত পরিচালনা ব্যবস্থা হতে স্থানান্তরপূর্বক কলেজসমূহকে নিম্নোক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর "ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি" হিসেবে একক প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাঠামোর অধীনে পরিচালনার জন্য সুপারিশ করা হলো। নিম্নের বর্ণনানুযায়ী কলেজগুলো নিকটবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইনস্টিটিউট হিসেবে পরিচালনা করা যেতে পারে। এছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে
ইনস্টিটিউটগুলোর প্রধানের পদবী হবে পরিচালক। এক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনস্থ "বাংলাদেশ কলেজ অফ লেদার টেকনোলজি" হতে "ইনস্টিটিউট অফ লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়" এ রূপান্তরের মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে।
এক্ষেত্রে প্রস্তাবিত "ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি" উপরোক্ত টেবিলে বর্ণিত স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের আওতায় পরিচালিত হবে।
বিবেচ্য ০৪ টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে উপরোক্ত টেবিলে উল্লিখিত সুপারিশ মোতাবেক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত "ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি" এ রূপান্তর করার ক্ষেত্রে নতুন অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী শিক্ষকসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং গবেষণার মানোন্নয়নসহ শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
কলেজগুলোকে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর "ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি" তে রূপান্তর করে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারি অর্থাৎ প্রয়োজনীয় জনবলের নিয়োগ, প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সামগ্রিক পরিচালনা ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি নিয়মানুযায়ী পরিচালিত করার সুপারিশ করা হলো।
৬.৩ ইনস্টিটিউটভুক্ত প্রতিটি বিভাগে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নিয়মানুযায়ী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সংখ্যা নির্ধারণ করে নিয়োগ প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হলো।
৬.৪ প্রতিটি ল্যাবে বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতাসম্পন্ন জনবল থাকতে হবে।
৬.৫ কলেজগুলো প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি হিসেবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতের ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হলো।
৬.৬ কলেজগুলোর বিদ্যমান ভূমি, অবকাঠামোসহ সকল সম্পদ উপরোক্ত বর্ণিত প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়কে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে।
৬.৭ প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ইনস্টিটিউট পরিচালনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আগামী ০১ (এক) বছর সময়ের মধ্যে সম্পাদনের জন্য সুপারিশ করা হলো।
৬.৮ বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে Naval Architecture এর জন্য পৃথক ভবন এবং পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি রয়েছে। এমতাবস্থায়, বর্ণিত কলেজের Naval Architecture এর বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত ইনস্টিটিউটে/ফ্যাকাল্টিতে Naval Architecture বিভাগ চালু করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করা হলো।
৬.৯ কলেজগুলোতে বিদ্যমান জনবল (শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারি) এর যোগ্যতা ও দক্ষতা যাচাইকরণের মাধ্যমে আত্তীকরণ নীতিমালা অনুসরণ করে আত্তীকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হলো।
৬.১০ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি প্রদানের জন্য উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করলেও প্রতিবারেই শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে পারে নাই। ইতোপূর্বের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহে (রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা ও ঢাকা) বিভিন্ন সংকটের উদ্ভব হওয়ায় প্রথমে কলেজ হতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (বিআইটি) এবং পরবর্তীতে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়েছে। একইভাবে আলোচ্য ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহে (ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বরিশাল ও সিলেট) গুণগত শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ করতে পারছে না। কলেজগুলোতে শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণে অধিদপ্তরের সীমাবদ্ধতা, দৃষ্টিহীনতা এবং দীর্ঘসূত্রিতা পরিলক্ষিত হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বিষয়ভিত্তিক ল্যাবের প্রয়োজনীয় পরীক্ষণ বিবেচনা করে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ অভিমতের ঘাটতি থাকার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়েছে।
এছাড়াও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর নতুন আরো চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি প্রদানের জন্য উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে সফল না হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। এমতাবস্থায়, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর-কে ভবিষ্যতে স্নাতক পর্যায়ের আর কোনো প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা না করার সুপারিশ করা হলো।
৬.১১ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় খাগড়াছড়ি, নড়াইল, নওগাঁ এবং ঠাকুরগাঁও জেলার প্রত্যেক জেলার জেলা সদরে ০১ টি করে নতুনভাবে প্রস্তাবিত ০৪ টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন প্রকল্প সমাপ্তির পর এগুলোকে "ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ" এর পরিবর্তে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় আধুনিক কারিকুলাম অনুসরনপূর্বক "পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট" হিসেবে পরিচালনা করা যেতে পারে।
স্বাক্ষরিত
(অধ্যাপক ড. মো. বাশির উদ্দিন) ২৩.১১.২৫
ইইই বিভাগ, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি
ও
সদস্য, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংস্কার আন্দোলনের দাবিসমূহের যৌক্তিকতা পরীক্ষান্তে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটি
(অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মাসুদ) ২৫/১১/২৫
আইপিই বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)
ও
সদস্য, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংস্কার আন্দোলনের দাবিসমূহের যৌক্তিকতা পরীক্ষান্তে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটি
(অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন) ২৭.১১.২৫
উপাচার্য, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর
ও
সদস্য, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংস্কার আন্দোলনের দাবিসমূহের যৌক্তিকতা পরীক্ষান্তে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটি
(অধ্যাপক ড. এম. রিজওয়ান খান) ২৩/১১/২৫
অধ্যাপক, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
ও
সদস্য, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংস্কার আন্দোলনের দাবিসমূহের যৌক্তিকতা পরীক্ষান্তে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটি
(অধ্যাপক ডঃ মোঃ সাইদুর রহমান) ২৫/১১/২০২৫
সদস্য, ইউজিসি
ও
আহ্বায়ক, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংস্কার আন্দোলনের দাবিসমূহের যৌক্তিকতা পরীক্ষান্তে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটি
মতবিনিময় সভার প্রাপ্ত তথ্যসমূহ
ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহের (ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বরিশাল ও সিলেট) সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের সাথে মতবিনিময় সভায় কলেজসমূহের একাডেমিক ও প্রশাসনিকসহ সামগ্রিক বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্যসমূহ নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:
৪.১ শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রাপ্ত অভিযোগসমূহ
৪.১.১ কলেজগুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার গুণগত মান সন্তোষজনক নয়। এছাড়াও, কোনো কলেজেই অধ্যাপক পদে শিক্ষক নেই। সিনিয়র পর্যায়ের শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়াও কলেজগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারির ঘাটতি রয়েছে।
৪.১.২ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনস্থ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহ এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসমূহে শিক্ষক নিয়োগ বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়, যা দীর্ঘসময়ব্যাপী ও জটিল প্রক্রিয়া। তদুপরি, শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা এবং পদোন্নতি ও পদোন্নয়ন নীতিমালা যথাযথ ও কার্যকরী না হওয়ায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহে পর্যাপ্ত যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রত্যাশিত মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম বজায় রাখা যাচ্ছেনা।
৪.১.৩ কলেজগুলোতে শ্রেণীকক্ষ, বিষয় ভিত্তিক প্রয়োজনীয় ল্যাব ও যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধাসহ আবাসিক হল এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। কারিগরি বিষয়গুলো ল্যাব ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ছাড়াই শুধুমাত্র মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন সমাপ্ত হচ্ছে। এছাড়াও কলেজগুলোতে পর্যাপ্ত গবেষণা সুবিধা নেই। বিদ্যমান ল্যাবগুলোতে টেকনিক্যাল জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ ল্যাব টেকনিশিয়ান/অপারেটর অর্থাৎ ল্যাবে দক্ষ লোকবলের সংকট রয়েছে।
৪.১.৪ ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট এর অধিভুক্ত। কলেজগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীরা কোনো প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হলে তার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান প্রাপ্তি প্রায়শই সম্ভব হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও কলেজ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা পরিলক্ষিত হয়। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরভুক্ত কলেজগুলোর একাডেমিক ও প্রশাসনিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে উদাসিনতা ও দীর্ঘসূত্রিতাসহ অন্যান্য কারণে শিক্ষার্থীদের নিকট প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়হীনতা অনুভূত হয়।
৪.১.৫ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কনফারেন্স পেপার কিংবা জার্নাল প্রকাশনায় এবং দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে প্রদর্শিত কলেজসমূহের নাম সেখানে প্রদর্শিত হয় না। কলেজগুলোর IEB (The Institution of Engineers, Bangladesh) অ্যাক্রিডিটেশন নেই। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করার পরেও আইইবি এর সদস্য হতে পারেন না। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
৪.১.৬ কলেজগুলোতে নির্দিষ্ট কোনো একাডেমিক ক্যালেন্ডার নেই। এছাড়াও কলেজগুলোকে প্রতিটি সেমিস্টারের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে ৩-৪ মাস সময় লাগে। একটি সেমিস্টার সম্পন্ন করে অন্য সেমিস্টারের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় অনেক পরে শিক্ষার্থীগণ তাদের পূর্বের সেমিস্টারের ফলাফল জানতে পারে। এর ফলে কোনো শিক্ষার্থী যদি একটি অথবা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে থাকে সেটি চলমান সেমিস্টারের একেবারে শেষে জানতে পারে। ফলশ্রুতিতে অকৃতকার্য বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যায় না এবং চলমান সেমিস্টারের বিষয়গুলোর প্রস্তুতির উপরও প্রভাব পড়ে। এরপরে ফলাফল খারাপ হলে শিক্ষার্থীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
৪.১.৭ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কেন্দ্রীয়ভাবে বাজেট গ্রহণ করে। পরবর্তীতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর অধীনস্থ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে বাজেট বন্টন করে। বাজেট বন্টনের ক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহকে পর্যাপ্ত বাজেট প্রদান করা হয়না। বাজেট বন্টনের ক্ষেত্রে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসমূহ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের নিকট বিশেষ গুরুত্ব পায়।
৪.১.৮ কলেজগুলো শিক্ষার্থীদের নিকট হতে অতিরিক্ত ফি গ্রহণ করে। শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন খাতে প্রতি সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের নিকট হতে জনপ্রতি বেশ কিছু অতিরিক্ত ফি গ্রহণ করা হয়। গত কিছুদিন পূর্বে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রদের আবাসিক হলের ইউটিলিটি লাইন (বিদ্যুৎ ও গ্যাস) কেটে দেওয়ায় বকেয়া ইউটিলিটি বিল শিক্ষার্থীদের নিকট হতে হল ফি বৃদ্ধি এর মাধ্যমে গ্রহণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়াও কলেজগুলোতে প্রয়োজনীয় বাজেটের অভাবে কারণে আবাসিক হলগুলোতে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ধীরগতিতে হয়।
৪.২ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রাপ্ত তথ্যসমূহ
৪.২.১ কলেজসমূহে শিক্ষক এবং কর্মকর্তা ও দক্ষ কর্মচারির সংকট রয়েছে। স্থায়ী পদসমূহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় হতে অনুমোদিত হলে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে নিয়োগ প্রদানের জন্য পত্র প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সার্কুলার ও নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের সকল কার্যক্রম সম্পাদন করে নিয়োগ প্রদান করে থাকে। প্রক্রিয়াগুলো সময়সাপেক্ষ হওয়ায় শিক্ষক নিয়োগ বিলম্ব হয়।
কলেজগুলো কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্পের মাধ্যমে স্থাপিত হয়েছে। প্রকল্প চলাকালীন সময়ে অর্গানোগ্রাম এবং নিয়োগবিধি প্রস্তুত করে চূড়ান্ত অনুমোদন গ্রহণে বিলম্ব হয়েছে। প্রকল্প হতে কলেজসমূহে যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়। ফলে প্রকল্প সমাপ্ত হলে কলেজসমূহে স্থায়ী পদ সৃজন না করেই বিভাগ চালু করে শিক্ষার্থী ভর্তি গ্রহণ করা হয়। এসময় প্রকল্প খাত হতে অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হয় এবং কলেজসমূহে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত পলিটেকনিক হতে কিছু শিক্ষককে সাময়িকভাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব ও প্রেষণে প্রদান করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়। কিন্তু বর্তমানে পলিটেকনিক হতে কলেজে কোনো শিক্ষককে বদলী করে পদায়ন করা হয় না। শুধুমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহের শিক্ষকগণের আন্তঃকলেজ বদলী করা হয়। ৪.২.২ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহ পরিচালনার জন্য আলাদা সেল/কাঠামো আছে কিনা সেই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় এবং কলেজগুলো মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
এই বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপস্থিত কর্মকর্তাগন জানান যে, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহ পরিচালনার জন্য আলাদা কোনো সেল/কাঠামো নেই। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহ অধিদপ্তরের একই ডেস্ক হতে পরিচালিত হয়। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্গানোগ্রাম পরিবর্তনের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। কলেজগুলো মনিটরিং কার্যক্রম কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিস হতে পরিচালনা করা হয় বলে সভায় জানানো হয়। ৪.২.৩ আলোচনায় ইতোপূর্বে স্থাপিত চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর (রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম ও ঢাকা) বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। একইভাবে চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলো (রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম ও ঢাকা) একাধিক প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হত। উল্লিখিত চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম নিকটবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এর মাধ্যমে, প্রশাসনিক কার্যক্রম শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর মাধ্যমে, শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম পাবলিক সার্ভিস কমিশন-এর মাধ্যমে এবং অবকাঠামোগত কার্যক্রম গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। কিন্তু একাধিক প্রশাসনের কারণে সমন্বয়হীনতার কারণে, শিক্ষক সংকটের কারণে এক সেশন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করাসহ বিভিন্ন ধরণের জটিলতার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বর্ণিত কলেজগুলোর সমন্বয়ে ১৯৮৬ সালে বিআইটি (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি) গঠিত হয় এবং পরবর্তীতে ২০০৩ সালে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়।
আলোচনায় উঠে আসে যে, বিআইটি বা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পূর্বে উক্ত ৪টি কলেজও ঠিক একই ধরণের সংকটের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপস্থিত কর্মকর্তাগণ জানান যে, প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে প্রকল্পের দলিলে (DPP) ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ হিসেবে পরিচালনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহ (ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বরিশাল ও সিলেট) স্থাপনের পূর্বে ইতোপূর্বের চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (বর্তমান কুয়েট, চুয়েট, রুয়েট ও ডুয়েট) অভিজ্ঞতা ও সংকটগুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন ছিল বলে কমিটির সদস্যগণ অভিমত প্রকাশ করেন। কারণ পূর্বের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সংকটগুলোর সাথে বর্তমান ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহের সংকটসমূহের মিল লক্ষ্য করা যায়।
৪.২.৪ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনাকালে জানা যায় স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি, সিভিল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটার সায়েন্স, এ্যারোনটিক্যাল, জেনেটিক, এনভায়রনমেন্টাল, ইলেকট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন এবং কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে দক্ষ প্রকৌশলী তৈরি, দেশে-বিদেশে প্রকৌশল ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা পূরণ এবং গবেষণার ক্ষেত্র সৃষ্টির লক্ষে প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামোসহ নতুনভাবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় খাগড়াছড়ি, নড়াইল, নওগাঁ এবং ঠাকুরগাঁও জেলার প্রত্যেক জেলার জেলা সদরে ০১ টি করে নতুনভাবে আরো ০৪ টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের জন্য ২০১৮ সালে আরো একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত প্রকল্পের কার্যক্রম জুন ২০২৮ সালে সমাপ্ত হবে।
শুনানিকালে ০৪ টি নতুনভাবে স্থাপিতব্য ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মধ্যে তিনটি কলেজ ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের এবং একটি কলেজ এইচএসসি পাশকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি প্রদানের জন্য স্থাপন করা হচ্ছে। এই ০৪ টি নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে প্রতি বছর ৭২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবে। একনেক সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক উক্ত কলেজসমূহ বুয়েটের অধিভুক্ত থাকবে এবং একাডেমিক মাস্টারপ্লান ও অবকাঠামো উন্নয়নের কার্যক্রম বুয়েট সম্পাদন করবে। পরবর্তীতে বুয়েট হতে কলেজসমূহকে অধিভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়।
৪.২.৫ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহে যুক্তিসঙ্গত/আনুপাতিক ভাবে সুষমভাবে বন্টন করা হয় নাকি এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপস্থিত কর্মকর্তাগন জানান যে, প্রয়োজনীয় বাজেটের জন্য কলেজসমূহের অধ্যক্ষগণের নিকট হতে চাহিদা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। চাহিত বাজেট হতে ক্ষেত্র বিশেষে সংকোচন করে বাজেট প্রদান করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই অর্থ বরাদ্দ প্রদান করা হয়ে থাকে। প্রয়োজন হলে Revised Budget এর মাধ্যমেও অর্থ বরাদ্দ করা হয়। অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহে যুক্তিসঙ্গত/আনুপাতিক ভাবে
সুষমভাবে বন্টন করা হয় বলে সভায় জানানো হয়।
সভায় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বিল বকেয়া থাকার কারণে বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপস্থিত কর্মকর্তাগণের নিকট জানতে চাওয়া হলে তারা জানান যে পূর্ববর্তী অধ্যক্ষ বিদ্যুৎ বিলের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেটের পরিমাণ সঠিকভাবে নির্ধারণ করেন নাই। এর ফলে বাজেট সংকটের কারণে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তী বছরের বাজেটে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ উল্লেখ ছাড়াই বাজেট বরাদ্দ চাওয়া হয়। এর কারণে এই ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল।
৪.২.৬ বিদ্যমান সমস্যা উত্তোরণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপস্থিত কর্মকর্তাগন জানান যে, উক্ত বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট এর সাথে আলোচনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
৪.৩ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহের (ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বরিশাল ও সিলেট) অধ্যক্ষগণের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রাপ্ত তথ্যসমূহ
৪.৩.১ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলো ২০১১-১৯ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে কার্যক্রম শুরু করে। কলেজগুলো কার্যক্রম আরম্ভ করলেও ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে স্থায়ীভাবে প্রথম শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হয়। কলেজের কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট হতে কিছু শিক্ষককে অতিরিক্ত দায়িত্ব ও প্রেষণে সংযুক্ত করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়। এছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ হতে বিভিন্ন কলেজ হতে নন-ডিপার্টমেন্ট এর শিক্ষকদেরও একইভাবে সংযুক্ত করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। যদিও বর্তমানে সংযুক্ত শিক্ষকগণকে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হতে তাদের পূর্ববর্তী কর্মস্থলে সংযুক্ত করা হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় হয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে নিয়োগ প্রদানের চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হলে পিএসসি হতে কলেজসমূহের জন্য একত্রে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোনো কলেজের নাম উল্লেখ থাকে না। কিন্তু যখন বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপিত হয় উক্ত সময়ে কলেজটি নতুন হওয়ায় শুধুমাত্র একবার বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের জন্য নির্দিষ্ট করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। যেহেতু ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহে শিক্ষকগণকে আন্তঃকলেজ বদলি করা হয় সেক্ষেত্রে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে নিয়োগকৃত শিক্ষক উক্ত নিয়মের আওতাভুক্ত হওয়ায় তাদেরকেও পরবর্তী সময়ে অন্য ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়।
৪.৩.২ কলেজসমূহে শিক্ষকের সংকট রয়েছে। কলেজসমূহে অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সকল শিক্ষকের পদ পূর্ণ নেই। ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ জানান যে, অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী ৪৪ (চুয়াল্লিশ) টি পদের বিপরীতে স্থায়ী নিয়োগকৃত শিক্ষকের সংখ্যা রয়েছে ১৮ (আঠার) টি। সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ এই বিষয়ে জানান যে, অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শুধুমাত্র ০৪ (চার) টি স্থায়ী পদ রয়েছে। এই চারটি পদের মধ্যে ০১ জন সহযোগী অধ্যাপক, ০১ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ০২ টি প্রভাষক পদ রয়েছে কিন্তু কোনো অধ্যাপক পদ নেই। এই ০৪ (চার) টি স্থায়ী পদের মধ্যে ০২ (দুই) জন শিক্ষককে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এই ০২ (দুই) জন শিক্ষক কলেজে ০৫ (পাঁচ) টি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি আরো জানান যে, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রায় কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও অর্গানোগ্রামে শিক্ষকের জন্য স্থায়ী পদের সংখ্যা অন্যান্য কলেজের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।
শিক্ষক সংকটের কারণে মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষকের সংকট থাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করা ব্যক্তিদের অস্থায়ীভাবে নিয়োগ প্রদান করে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। অস্থায়ী শিক্ষকগণের বিএসসি পর্যায়ের ফলাফল এবং কিছু ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান করা হয়। অস্থায়ীভাবে নিয়োগকৃত শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের কাঙ্খিত পর্যায়ে পাঠদানের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য জটিল ও অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অস্থায়ী শিক্ষকগণকে প্রদান করা হয় না। শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অস্থায়ী শিক্ষকগণের মূল্যায়ন গ্রহণ করা হয়। যদি মূল্যায়ন ফলাফল আশানুরূপ না হয় সেই ক্ষেত্রে তাদের পরিবর্তন করা হয়। অস্থায়ী শিক্ষকগণের বেতন শিক্ষার্থীদের সেমিনার এবং কলেজের অতিথি শিক্ষকের খাত থেকে প্রদান করা হয়।
৪.৩.৩ কলেজে ল্যাবের বর্তমান যন্ত্রপাতি ও সুবিধার এবং অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে জানানো হয় যে, ল্যাবে যথেষ্ট পরিমাণ যন্ত্রপাতি রয়েছে। কলেজসমূহে ল্যাব সুবিধা অত্যন্ত ভালো। ল্যাবের যন্ত্রপাতি ও সুযোগ-সুবিধার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকে। ল্যাবের যন্ত্রপাতি ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কোনো সংকট নেই। শুধুমাত্র ল্যাব পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবলের সংকট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ল্যাব টেকনিশিয়ানসহ অন্যান্য জনবল থাকলেও কলেজসমূহে ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ল্যাব অ্যাসিসটেন্টদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে।
৪.৩.৪ শিক্ষার্থীদের বর্তমান আন্দোলনের সূত্রপাতের বিষয়ে অধ্যক্ষগণ জানায় যে, সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের একজন শিক্ষার্থীর নিকট নকল পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীর নিকট পাওয়া গেলে নিয়মানুযায়ী সেই বিষয়ে রিপোর্ট করা হয়। শিক্ষার্থী পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষা হল থেকে বেরিয়ে গিয়ে আবাসিক হলে গিয়ে আত্মহনন করেন। বিষয়টি অবগতির পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ে ওই শিক্ষার্থীটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। যদিও পরবর্তীতে শিক্ষার্থী মৃত ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থী সুইসাইড নোটে জানায় যে, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় শুধুমাত্র শিক্ষা ব্যবস্থা দায়ী। শিক্ষা ব্যবস্থাকে দায়ী করায় বিষয়টি নিয়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলন পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কলেজে ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীর আত্মহননের বিষয়ে পরবর্তীতে কলেজে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়াও আন্দোলনসহ সামগ্রিক বিষয়ে সমাধানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন মহোদয়ের সাথে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবীসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি দাবী হচ্ছে যেহেতু কলেজগুলোতে পাঠদান কার্যক্রম সম্পাদন করা হয় তাই কলেজসমূহ স্বতন্ত্রভাবে প্রশ্ন প্রণয়ন করবে। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে প্রশ্ন প্রণয়ন কমিটির মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়ে থাকে।
৪.৩.৫ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময়সীমার বিষয়ে জানানো হয় যে, পরীক্ষা ফলাফল প্রকাশে আনুমানিক ৩-৪ মাস সময়ের প্রয়োজন। কারণ হিসেবে জানানো হয় যে, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের জন্য ০২ (দুই) জন পরীক্ষক এর নিকট প্রেরণ করা হয়। প্রতি ক্ষেত্রে পরীক্ষা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খাতা প্রেরণ করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে পরীক্ষক এর নিকট খাতা প্রেরণ করা হয়।
পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময়সীমা কমিয়ে আনার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনার সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিটি কলেজের কোর্স গ্রহণকারী শিক্ষককে প্রথম পরীক্ষক হিসেবে খাতা মূল্যায়নের জন্য কলেজ হতে সরাসরি খাতা প্রদান করা হবে। প্রথম পরীক্ষক খাতা মূল্যায়ন শেষে কলেজ হতে সরাসরি খাতা মূল্যায়নের জন্য দ্বিতীয় পরীক্ষকের নিকট প্রেরণ করবে। এতে ফলাফল প্রকাশের সময় কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
৪.৩.৬ কলেজসমূহ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর হতে প্রয়োজনীয় বাজেট প্রাপ্তির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এই বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষগণ জানান যে কলেজসমূহ হতে প্রতি বছর প্রয়োজনীয় বাজেট চেয়ে চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর অর্থ মন্ত্রণালয় হতে বাজেট প্রাপ্তি সাপেক্ষে কলেজসমূহে বাজেট বরাদ্দ করে। এক্ষেত্রে কলেজসমূহ হতে চাহিত বাজেটের সামান্য অংশ কর্তন করে বাজেট বরাদ্দ করে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে পরিচালন বাজেট তেমন কর্তন না করলেও উন্নয়ন বাজেটে কিছু কর্তন করা হয়।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। এই বিষয়ে অধ্যক্ষ জানান যে, এই খাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ পাওয়া যায় নাই। পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় এই সমস্যার উদ্ভব হয়েছিল।
বাজেট ফেরত প্রদানের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অধ্যক্ষগণ জানান যে, অনেক সময় টেন্ডার এর সম্পূর্ণ কার্যক্রম অর্থবছরের মধ্যে সম্পন্ন না হওয়ায় অল্প কিছু বাজেট ফেরত প্রদান করা হয়।
৪.৩.৭ কলেজসমূহে উদ্ভুত সংকট এবং সংকট নিরসনে কলেজ অধ্যক্ষগণের পরামর্শ প্রদানের জন্য আহ্বান করা হলে কলেজ অধ্যক্ষগণ জানান যে, কলেজগুলোতে শিক্ষকের তীব্র সংকট থাকার কারণে মান সম্মত শিক্ষা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না। অধ্যক্ষগণ আরো জানান যে, কলেজসমূহে শিক্ষক নিয়োগের সম্পূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগে। এর ফলে চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষক প্রাপ্তি সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও অনেক সময় সেমিস্টারের মধ্য সময়ে শিক্ষকগণকে বদলি করা হয়। এর ফলে চলমান কোর্সগুলোর ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই সমস্যার সমাধানের জন্য অর্গানোগ্রাম প্রয়োজনীয় সংশোধন করা প্রয়োজন। এছাড়াও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
অধ্যক্ষগণ আরো উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র শিক্ষক সংকট দূর হলেই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হবে না। এর সাথে কলেজগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন (হল এর সুযোগ সুবিধার উন্নয়ন, চিকিৎসা সেবা, যানবাহন সেবা, অ্যাম্বু