05/05/2026
প্রায় ২.৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থায়নে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং অত্যাধুনিক তেল শোধনাগার নির্মানের জন্য আলোচনা শুরু করেছে বিএনপি সরকার।
যেখানে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (IDB) প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে।
এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের তেল উৎপাদনের ক্যাপাসিটি বর্তমানের প্রায় দ্বিগুনেরও বেশি ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
বর্তমান ক্যাপাসিটি= ১.৫ মিলিয়ন টন।
ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রস্তাবিত ক্যাপাসিটি= ৩ মিলিয়ন টন।
টোটাল তেল প্রডাকশন= ৪.৫ মিলিয়ন টন।
ফলাফল, দেশীয় তেল উৎপাদন ২০% থেকে বেড়ে ৫০-৬০% পর্যন্ত পৌছে যাবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-২ বাস্তবায়িত হলে, প্রতি বছরে জ্বালানি তেল আমদানি কমবে ২-৩ মিলিয়ন টন।
সরাসরি সাশ্রয় করা সম্ভব প্রায় ১.৫ - ২.৫ বিলিয়ন ডলার।
এ প্রকল্প হতে সরকার ম্যাসিভ আয় করবে তেল বিক্রি করে।নতুন রিফাইনারির মোট আয় বছরে প্রায় ৩ হতে ৫ বিলিয়ন।ডলার ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভবিষ্যতে যদি ইস্টার্ন রিফাইনারি-৩ নির্মানের দিকে সরকার আগায় দেশের তেল প্রডাকশন ক্যাপাসিটি ১০০% পৌছে যাবে।
সহজে! পেট্রোল, ডিজেলের জন্য আমাদের আর অন্য কারো ওপর নির্ভর করে থাকতে হবেনা।আমাদের তেল আমরা নিজেরাই উৎপাদন করবো।
আরও বড় ব্যাপার, এসব তেল শোধনাগারে জ্বালানি তেল ব্যতীত আরও অনেক বাই প্রডাক্ট তৈরী হয়।আমাদের দেশে অনেক নতুন প্রডাকশন ইউনিট বসানোর যায়গা খুলে যাবে।
এই যে দেখেন, এখন LPG গ্যাস যে মানুষ ব্যবহার করে এটা ম্যাক্সিমাম আমদানি করতে হয়।সিলিন্ডারের দাম কত বেশি খেয়াল করসেন? সেখানে LPG হচ্ছে এসব রিফাইনারির বাই প্রডাক্ট।মানে মেইন প্রডাক্ট না কিন্তু।
তেল শোধনের সময় এই প্রডাক্টগুলাও বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়।বিভিন্ন বাই প্রডাক্ট আছে যেমন–
★LPG, ন্যাফথা, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল, সালফার, পেট্রকেমিক্যাল ফিডস্টক।
★যদি ERL-2 বছরে ৩ মিলিয়ন টন ক্রুড তেল রিফাইনিং করে সেখান থেকে প্রায় ৩-৬ লাখ টন বাই প্রডাক্ট পাওয়া সম্ভব প্রতি বছর যার বাজার মুল্য ১২০-৪৮০ মিলিয়ন ডলার।
ইন্টারেস্টিং বিষয়, এতোদিন আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড এর জ্বালানি তৈরী হতো না।
★ERL-2 প্রজেক্টে খুব শক্তভাবে Euro-5 মানদণ্ড বেধে দেয়া হয়েছে যার ফলে আমাদের ফুয়েলের মান এতই ভালো হবে ভবিষ্যতে যদি কোনোদিন জ্বালানি সারপ্লাস ঘটে এই তেল সরাসরি ইউরোপে রপ্তানি করা সম্ভব।
একই কাজ এখন ইন্ডিয়া করতেছে।রাশিয়ান ক্রুড তেল ক্রয় শোধন করে সরাসরি ইউরোপীয় মার্কেটে বিক্রি করে বিলিয়ন ডলার মুনাফা কামাইতেছে।
জ্বালানি সেক্টরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখতে পাবে বাংলাদেশ; ইনশাআল্লাহ্।