06/16/2026
যুক্তরাজ্যের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'অফকোয়াল' (Ofqual) আইইএলটিএস পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক ত্রুটির কারণে কেমব্রিজ ইংলিশকে ৮ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকার ফলে বিশ্বব্যাপী অন্তত ৬২ হাজার ৭৯৪ জন পরীক্ষার্থী ভুল ফলাফল পেয়েছিলেন। এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেমব্রিজ ইংলিশ কর্তৃপক্ষ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষাগুলোতে এই বিপর্যয় ঘটে। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৭ লাখ আইইএলটিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের নজরে এই ত্রুটি ধরা পড়েনি।
ভুল চিহ্নিত হওয়ার পরপরই আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ (যার যৌথ মালিকানায় রয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল, আইডিপি আইইএলটিএস এবং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট) দ্রুত অফকোয়ালকে বিষয়টি অবহিত করে। এই ভুল ফলাফলের শিকার হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী।
কেমব্রিজ ইংলিশ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের দায়ভার গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ফলাফল সংশোধন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নতুন প্রযুক্তিগত সুরক্ষায় তারা ইতোমধ্যে ৬০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি ব্যয় করেছে। ত্রুটি সংশোধনের পর দেখা যায়, প্রায় ২০ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থীর সংশোধিত স্কোর আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই ত্রুটির শিকার হওয়া পরীক্ষাগুলোর মধ্যে ১ হাজার ১০৮টি ছিল যুক্তরাজ্যের ভিসা সংক্রান্ত পরীক্ষা। আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, এর মধ্যে মাত্র ৪টি ক্ষেত্রে ভুল ফলাফলের কারণে পরীক্ষার্থীদের ভিসার যোগ্যতা প্রভাবিত হয়েছিল; তবে পরবর্তীতে ওই পরীক্ষার্থীরা পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
অফকোয়ালের নির্বাহী পরিচালক (ডেলিভারি) অ্যামান্ডা সোয়ান এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, "যারা এই পরীক্ষা দিয়েছেন এবং যারা এই ফলাফলগুলো মূল্যায়ন কাজে ব্যবহার করেছেন, তারা দীর্ঘ মেয়াদে এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতার কারণে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমাদের এই বড় অঙ্কের জরিমানা মূলত সেই ব্যর্থতারই কঠোর প্রতিফলন।"
এদিকে, আইইএলটিএস-এর একজন মুখপাত্র এই অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি জানান, সমস্যাটি চিহ্নিত হওয়ার পরপরই তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ফলাফল সংশোধন ও পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরীক্ষার্থীকে অর্থ ফেরত (রিফান্ড) অথবা পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কোনো প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত ত্রুটি না ঘটে, সেজন্য প্রতিষ্ঠানটি তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বলে আশ্বস্ত করেছে।