27/04/2023
বিয়ে সমাচার:
আমি এবং আমার বড় বোন পিঠাপিঠি ছিলাম। আমার উচ্চতা একটু বেশী এবং ছোট বেলা থেকে একটু নাদুসনুদুস থাকার কারণে আমাকেই বড় মনে হতো। আমাদের পরিবার ছিল কঠোরভাবে ধর্মীয় বিষয় আশয় মানা পরিবার। আমাদের ফেমিলির মেয়েদের সাবালক হবার পর থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসা শুরু হতো। আমাদের গ্ৰোথ একটু ভালো হওয়ায় অষ্টম শ্রেনী থেকেই আম্মা আব্বার কাছে অনবরত আমাদের বিয়ের সম্বন্ধ আসতে থাকতো। তবে আমাদের পরিবার ধর্মান্ধ ছিলনা বা কোন সামাজিক কু নিতীর পৃষ্ঠপোষকতাও করা হতো না। আব্বা আম্মা যোগ্য বা অযোগ্য যে কোন বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যারা আসতো তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে দেখছি। ওনাদের আপ্পায়নের জন্য প্রায় প্রতি সপ্তাহে আমাদের বাসায় পোলাও রোষ্ট রান্না হতো। আব্বা আম্মা খুব কৌশলে মেহেমানদারী করার পর বুঝিয়ে সম্বন্ধ গুলো বিদায় দিত। এসব প্রস্তাবের কারনে যে আমাদের পড়াশোনার একটু ডিস্টার্ব হতো না , তা বলা যাবেনা। কিন্তু আমরা এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছিলাম। মনে হতো মেয়ে বড় হলে বুঝি এমনি হয়।
অতঃপর আমার বড়বোনের বিয়ে হয় ডিগ্ৰী প্রথম বর্ষে পড়া কালীন একজন সরকারি প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তার সাথে ,তিনি ডাক্তার Mohammed Shahedur Rahman Khan । অবশ্য আমার বোন বিয়ের পর দুলাভাই এর উৎসাহে ডিগ্ৰী পাশ করেন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
আমার বিয়ে হয়েছিল ফার্স্ট প্রফের আগে,সেকেন্ড ইয়ারে থাকতে, তিনিও একজন সরকারি ডাক্তার ছিলেন। আমার হাসবেন্ডও আমাকে পড়াশোনায় ব্যপক সহযোগিতা করেন। আমার আজকের যদি কোন সফলতা থাকে তাতে ওনার অবদান অনস্বীকার্য।
আমাদের ইয়ারে মেডিকেলে ভর্তির পূর্বেই দুজন মেয়ে বিবাহিত ছিল। একজনের একটা বেবিও ছিল। অন্যজন মেডিকেলে পড়া অবস্থায় দুটি বাচ্চা হয়। আর বেশ অনেক জনের ডাক্তার হবার পূর্বেই বিয়ে হয়। আলহামদুলিল্লাহ সবাই এখন বেশ সুখেই আছেন। মেডিকেল লাইফে বাচ্চা হয়ে গেলে পড়াশোনা করতে একটু কষ্ট হয় বা ফেমিলি সাপোর্ট লাগে। তবে কেউ বিয়ে করে পস্তাতে দেখিনি। আসলে মানুষ যখন যৌবন প্রাপ্ত হন তখনই অপজিট সেক্সের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। সে কারনে আমাদের অনেকেরই প্রেম ভালোবাসার একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। কারন হরমোনাল চেন্জের কারনে প্রাকৃতিক স্বাভাবিক নিয়মে যৌন চাহিদা,বা অপজিট সেক্সের প্রতি আগ্ৰহ তৈরি হয়। অনেক যুবক যুবতী ইসলামের দৃষ্টিতে যা ভ্যাবিচার তেমন সম্পর্কেও লিপ্ত হন।তো এমন পরিস্থিতিতে যারা কঠোরভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম নন তারা কবিরা গুনাহ করে ফেলেন। আমাদের সমাজের এখন এমন অবস্থা যে, প্রেম করা বা এসব কবিরা গুনাহ করা একটা স্বাভাবিক বিষয়ে দাঁড়িয়েছে। যত সমস্যা বিয়েতে। বিয়ে হলেই তো সংসার নামের একটা দ্বায়িত্ব কাঁধে চলে আসে। আমরা এনজয় করতে চাই , কিন্তু দ্বায়িত্ব নিতে রাজি না।
অথচ যে কোন ধর্মে বিয়ে হলোএকটা ধর্মীয় ও সামাজিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে যুবক যুবতীর প্রাকৃতিক চাহিদা গুলো পুরন করার পাশাপাশি সমাজে একটা সুন্দর ভারসাম্য পূর্ণ পরিবেশের ব্যবস্থা হয়। কিন্তু এসব আলোচনায় আমরা বিব্রত বোধ করি। আমরা সবই বুঝি কিন্তু বিয়েকে বিভিন্ন সামাজিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে এমন কঠিন করে ফেলেছি যে ,আমাদের কাছে বিয়ে একটা মূর্তিমান আতংক।
এ ধরনের পরিস্থিতির পরিবর্তন আসা জরুরী।
Dr Taslima Begum
SBMC 22nd