08/11/2021
বগুড়া টু ঢাকা বাস ভাড়া এখন ৩৫০ থেকে বাড়িয়ে ৪৫০ টাকা করা হইছে। আবার প্রতিটি নিয়োগ পরীক্ষায় তো অসম্ভব টাকা দিয়ে তো দরখাস্ত করা হচ্ছেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বেকারদের আরো কিভাবে মারা যায়, সেটাই দেখেন।😢😢😢
"স্বাধীনতার পর থেকে ঢাকাকেন্দ্রিক চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় যে সনাতন ব্যবস্থা ছিল, তা-ই রয়ে গেছে এখনো। তবে বিসিএস ও বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ধাপে ধাপে জেলা শহরগুলোতে অনুষ্ঠিত হয়। বাদ বাকি সব নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায়। ফলে দেখা যাচ্ছে, যাঁর বাড়ি তেঁতুলিয়া কিংবা টেকনাফে শুধু পরীক্ষার জন্য তাঁকে ঢাকায় আসতে হচ্ছে। কেউ হোটেলে, বোর্ডিংয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে বা পরিচিত বন্ধুবান্ধব বা স্বজনের বাসায় ওঠেন। নারীদের ক্ষেত্রে ঘটে আরও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
এমন সব বেকারদের কাছ থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা আয় করে নিয়োগকারী প্রতিটা প্রতিষ্ঠান। মাত্র দুই-তিনটি পদের জন্য কেন কয়েক হাজার জনের কাছে আবেদন ফি নেওয়া হবে? সম্প্রতি একটি ব্যাংকের ৮০টি পদের জন্য পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬০ হাজার। বেকারদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে এটা কি একরকম ব্যবসা ফাঁদা নয়? অনেক সময় অনেক পদ খালি থাকলেও সার্কুলেশন দেওয়া হয় কয়েকটি পদের জন্য, পরবর্তীতে বাকি পদের জন্য আবার সার্কুলেশন দেওয়া হয়। আবেদনপত্র বিক্রি করেই কোটিপতি বনে যান তারা।
প্রতি সপ্তাহে লাখ লাখ তরুণের রাজধানীতে আসা–যাওয়া ও থাকা–খাওয়ার খরচ, সময় ও শক্তির কী বিপুল অপচয়! চাকরিপ্রার্থীদের এমন সব দুর্ভোগ, বিড়ম্বনা ও মানসিক যন্ত্রণার ‘ঘোড়দৌড়’ দেখে ভাবি, যে তরুণেরা একদিন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, তাঁরাই কি না এমন অবহেলিত এ রাষ্ট্রে!
স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর হয়ে গেল। এখনো কেন পুরো দেশ থেকে বেকার তরুণদের ঢাকা শহরে নিয়ে আসতে হবে নিয়োগ পরীক্ষা দেওয়ার জন্য, তা–ও প্রতি সপ্তাহে। মহাকাশে আমাদের স্যাটেলাইট চলে গেল, পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল হয়ে যায়, পরীক্ষার গাইডে সেসবের তথ্য মুখস্থও করেন চাকরিপ্রার্থীরা। কিন্তু নিজ জেলায় বসে পরীক্ষা দেওয়ার একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এত দিনেও গড়ে উঠল না। এমনও ঘটনা ঘটেছে, প্রশ্নফাঁসের কারণে একই পরীক্ষা দুইবার দিতে ঢাকায় আসতে হয়েছে দেশের আরেক প্রান্ত থেকে। এসব কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে বিপুলসংখ্যক বেকার যুবক ঢাকা উঠে আসেন, গলি-ঘুপচিতে মেস ভাড়া নিয়ে খেয়ে না–খেয়ে জব গাইডে মুখ গুঁজে থাকেন। প্রচণ্ড যানজটে স্থবির হয়ে আসা শহর ঢাকারও কি বাড়তি এ জনসংখ্যার ভার বইতে হয় না?"