05/06/2026
“পদ্মায় আবারও বাস ডুবিতে ৩০ জনের প্রাণহানি!”
জাস্ট ভাবেন, আজ অল্পের জন্য এমন একটা ভয়াবহ হেডলাইন থেকে আমরা বেঁচে গেছি!
গত রোজার ঈদের কথা মনে আছে আপনাদের?
এই দৌলতদিয়া ঘাটেই ফেরিতে ওঠার সময় বাস নদীতে পড়ে গিয়ে ২৬টা তাজা প্রাণ শেষ হয়ে গিয়েছিল। ওই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির পর সরকার দারুণ একটা ডিসিশন নেয়- ফেরিতে বাস ওঠার আগে সব যাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে বাস থেকে নেমে যেতে হবে।
আজ কোরবানির ঈদের পর ঢাকা ফেরার পথে ঠিক সেম ঘটনা ঘটলো। ফেরিতে উঠতে গিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেল আস্ত একটা বাস! কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আজ কারো কিচ্ছু হয়নি।
কেন জানেন?
কারণ আমাদের নৌপুলিশ আগেই সব যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে দিয়েছিল।
কিন্তু সবচেয়ে অবাক করা আর হতাশার ব্যাপার কী জানেন?
অনেকেই আজ বাস থেকে নামতেই চাচ্ছিলেন না! পুলিশের সাথে রীতিমতো তর্ক, বিরক্তি- শেষে পুলিশ একপ্রকার জোর করেই তাদের নামাতে বাধ্য হয়েছে।
একবার চিন্তা করেন, নিজেদের জীবনের ঝুঁকির কথা জেনেও আমরা কতটা কেয়ারলেস!
সরকারকে বিশাল একটা থ্যাংকস এমন একটা যুগান্তকারী ডিসিশনের জন্য। আর বিগ স্যালুট আমাদের নৌপুলিশকে যারা মানুষের এত বিরক্তি আর ঘ্যানঘ্যানানি ইগনোর করে আজ অন্তত কয়েক ডজন জীবন বাঁচিয়েছেন।
সত্যি বলতে Prevention is better than cure - আজকের ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
কিন্তু ভাই-ব্রাদার, শুধু সরকার আইন করলে আর পুলিশ পাহারা দিলে তো হবে না- নিজেদেরও তো একটু আক্কেল থাকা লাগবে, তাই না?
নিজের জীবনের দাম নিজে না বুঝলে কেউ আপনাকে বাঁচাতে পারবে না।
একটু আরামের জন্য নিজের জীবনটাকে এভাবে নদীর পানিতে ভাসিয়ে দেবেন না প্লিজ।
তবে হ্যাঁ, কর্তৃপক্ষের কাছে আমার একটা সিরিয়াস প্রশ্ন আছে।
একই রুটে, একই ঘাটে বারবার কেন এই সেম এক্সিডেন্ট হচ্ছে?
ঘাটের র্যাম্পের সমস্যা? নাকি ড্রাইভারদের দোষ?
এই ব্যাপারটা ঠিকমতো ইনভেস্টিগেশন হওয়া খুব দরকার।